খেলাঘর পর্ব-১১

0
826
খেলাঘর পর্ব-১১
খেলাঘর পর্ব-১১

খেলাঘর পর্ব-১১
লেখা-সুলতানা ইতি

তোমাদের যেমন ইচ্ছে,,
ফাতেমা বেগম চলে গেলো
মিথিলা আবার বইয়ের দিকে মনোযোগ দিলো,কিন্তু কিছুতেই বইতে মন বসাতে পারেনি, বার বার বইয়ের পাতায় যেন ইহানের নিঃস্বপাপ মুখটা ভেসে উঠছে, এমন সময় নির্ঝরিণী এসে বল্লো
– আপু আমার দুলা ভাই কি কাল সত্যি আসছে?

মিথিলা বিরক্তি নিয়ে নির্ঝরিণীর দিকে তাকিয়ে বল্লো,
– নির্ঝর , কে তোর দুলা ভাই

নির্ঝরিণী – কেনো কাল যে আসবে সে দুলা ভাই নয় কি?

মিথিলা ভ্রু কুঁচকে বল্লো
– দেখতে আসলেই কি বিয়ে হয়ে যায়

নির্ঝরিণী – তা ঠিক, কিন্তু আপু আমার মন কি বলছে জানো,

মিথিলা নির্ঝরিণীর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে

নির্ঝরিণী একটু থেমে আবার বল্লো
– আমার মন বলছে তোমার এখানেই বিয়ে হবে

মিথিলা- তোর এমন মনে হওয়ার কারন?

নির্ঝরিণী – কারন জানি না, তবে মনে হলো আর কি

মিথিলা- শুন তোকে একটা কথা বলি তুই না পড়া শুনা বাদ দিয়ে দে,বটতলায় জ্যোতিস বিদ্যা নিয়ে বস,,খুব অল্প সময়ে ফেমাস হয়ে যাবি

নির্ঝরিণী মুখ ভার করে বল্লো
– আপু তুমি সব সময় কেনো এমন করো আমার সাথে,আয়ান কে তো ঠিক ই আদর করো

এমন সময় আয়ানের এন্ট্রি
আয়ান- জানিস কেনো তোকে সবাই আদর করে না,,কারন তোকে তো রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছে তাই

নির্ঝরিণীর চোখে টলমল পানি
যেন একটু টোকা দিলিয়ে টপ করে ঝরে পড়বে
– ঠিক আছে আব্বু আজ আসুক আমি আব্বুকে বলবো এই বলে নির্ঝরিণী দূত পা ফেলে বেরিয়ে গেলো,

মিথিলা- আয়ান কি দরকার ছিলো তোর এই রকম করার

আয়ান- আপ্পি ভালো হয়েছে কাঁদুক একটু হি হি হি

মিথিলা-পাগলী টা তো সত্যি ভেবে নিয়েছে

আয়ান- বুদ্ধি শুদ্ধি মোটে ও নেই।

মিথিলা- যাই হোক তুই কিছু বলবি?

আয়ান- ম্যাথ এর একটা সাপ্টার বুঝতেছি না,একটু বুঝিয়ে দিবি

মিথিলা- ঠিক আছে চল

রাতে মাসুম ফারুকি বাসায় আসতেই নির্ঝরিণী কেঁদে কেঁদে নালিশ করলো
মাসুম ফারুকি তখন খুব টায়ার্ড ছিলো,,মেয়ের এই ছেলে মানুষী দেখে হাসবে না কিছু বলবে ভেবে পাচ্ছে না

আয়ান এসে হাসতে হাসতে বল্লো
– বাবা সত্যি টা বলো,ওকে তো আমরা
হাসপাতাল থেকে এনেছি তাই না

মাসুম ফারুকি ছেলে কে ধমক দিতে যাবে, তার আগেই নির্ঝরিণী বল্লো।
– বাবা দেখো ও মিথ্যা বলছে একবার বলছে রাস্তায় আবার বলছে হাসপাতালে,তুমি বল্লো সত্যি টা কি।

মাসুম ফারুকি- পাগলী মেয়ে, তুই আমার মেয়ে ঐ দুষ্টুর কথা শুনিস না তো

নির্ঝরিণী, বাবাকে ঝড়িয়ে ধরে হেসে ফেল্লো
– বাবা কতোদিন তোমায় কাছে পাই না বলো,এতো ব্যাস্ত কিসের তুমি

ফারুকি সাহেব একটা নিশ্বাস ফেলে বল্লো মারে সব বুঝবি আগে বড় হয়ে নে

আয়ান- আব্বু মেয়ে কে আদর দিলে হবে না মা ডাকছে তাড়া তাড়ি এসো

পরদিন সকালেই মিথিলারা সবাই ব্যাস্ত
ফাতেমা বেগম নির্ঝরিণী কে বল্লো,
-শুন নির্ঝর ঘর টা ভালো করে গুছিয়ে রাখবি,, কতো বড় ঘর থেকে আমার মিথি কে দেখতে আসছে জানিস

নির্ঝরিণী – মা উনারা দুপুরের পরে আসবে এতো ব্যাস্ত হচ্ছো কেনো এখন

ফাতেমা বেগম- সর তো সব কাজে তোর ফাঁকি বাজি,,যা গিয়ে দেখ মিথিলা কি করছে,

নির্ঝরিণী উঠে গেলো, মিথিলার কাছে
-আপু একটা ফ্যাস প্যাক বানিয়েছি একটু খানি মুখে লাগিয়ে নে,দেখবি ফ্রেশ ফ্রেশ লাগবে

মিথিলা – উহ নির্ঝরিণী যাহ তো এই সব চাঁই পাস আমি লাগাইনা

নির্ঝরিণী – ওকে আমি লাগাই, কিন্তু এর পর যদি বর পক্ষ তোর বদলে আমাকে পছন্দ করে তখন চোখে তেল দিয়ে কাঁদতে পারবি না বলে দিলাম

মিথিকা মুচকি হেসে বল্লো
– ঠিক আছে আব্বুকে বলবো তোকে আগে বিয়ে দিতে, আর আজকের ছেলেটা কে যদি তোর পছন্দ হয় তা হলে এর সাথে ই তোর বিয়ে হবে

নির্ঝরিণী হাসছে মিথিলার কথা শুনে

বিকেলে মেহমানরা চলে আসে
মাসুম ফারুকি তাদের বসতে দিলো

মাসুম ফারুকি- ইয়ে মানে আপনাদের ছেলে আসেনি

ছেলের বাবা আতাহার চৌধুরী দুঃখিত হয়ে বল্লো
– আসলে আমরা খুবই লজ্জিত,আপনাদের কাছে আর ক্ষমাপ্রার্থি, আমার ছেলে আসার কথা ছিলো কিন্তু জরুরী মিটিং এ আটকে পড়েছে তাই আসতে পারেনি, কিন্তু সে তার মাকে পাঠিয়েছে বলে দিয়েছে মায়ের পছন্দ হলে ই হলো,

মাসুম ফারুকি- আলহামদুলিল্লাহ
এর পরে আমাদের কোন কথা থাকতে পারে না,

আয়মন চৌধুরী ছেলের মা কিছু বলতে যাবে তখন ই
ফাতেমা বেগম আড়াল থেকে মাসুম ফারুকি কে ডেকে নিয়ে গেলেন

মাসুম ফারুকি আসতেই
ফাতেমা বেগম বললেন
– তুমি পাগল হয়ে গেছো নাকি,আমাদের মেয়ে ছেলে কে দেখেনি,এখানে ছেলে মায়ের পছন্দ বিয়ে করবে এটা কেমন কথা,এ যুগের ছেলে রা কি এমন হয়,আমার কেমন জানি খটকা লাগছে

মাসুম ফারুকি- তুমি এতো চিন্তা করো না হয়তো ছেলে সত্যি খুব ভালো হবে, আমার মন বলছে
ফাতেমা বেগম তোমার যা ইচ্ছে করো,

মাসুম ফারুকি আর কোন কথা বল্লো না, বসার ঘরে আবার ফিরে গেলো

মিসেস আয়মন চৌধুরী মাসুম ফারুকি কে বল্লো মেয়ে কে তো আমরা আগেই দেখেছি,এখন আর নতুন করে দেখতে হবে না, আপনি মেয়ে কে ডাকুন আমি আজ ই আমার বউ মাকে চেইন পরিয়ে রাখতে চাই

মাসুম ফারুকি- কিন্তু, ছেলে মেয়ে কেউ কাউকে দেখেনি,বিয়ের পাকা কথা বলা কি ঠিক হবে

আতাহার চৌধুরী- আমরা ছেলের ছবি সংগে এনেছি, ছেলে আসতেই ছেয়েছিলো কিন্তু জরুরী মিটিং এর কারনে আসতে পারেনি, বেয়াই আপনি আর অমত করবেন না আমার উপর বিশ্বাস রাখুন,আপনার মেয়ে খুব মিষ্টি আমি তাকে দেখেছি আমার কোন মেয়ে নেই,বউ মা হয়ে নয় মেয়ে হয়ে থাকবে আপনার মেয়ে আমার বাড়িতে

মাসুম ফারুকি- আলহামদুলিল্লাহ,, ঠিক আছে আমি আমার মিথিলা মাকে নিয়ে আসছি আপনারা বসুন

মিসেস আয়মন চৌধুরী- বেয়াই সাহেব আমি যাচ্ছি বউ মাকে নিয়ে আসতে,আপনারা বরং কথা বলুন

মিথিলার রুমে নির্ঝরিণী মিথিলার কানের কাছে গুন গুন করছে শাড়ি পরার জন্য

মিথিলার একটাই কথা শাড়ি সে পরবে না,, আজ শাড়ি পরলে নিজেকে বড্ড অপরাধি মনে হবে, সেদিন ইহান কতো রিকুয়েস্ট করেছিলো,,এই সব ভেবেই মিথিলা শাড়ি পরেনি

নির্ঝরিণী – যাহ আপু কি ভেবেছিলাম আর কি হলো?

মিথিলা – কি হয়েছে

নির্ঝরিণী – সকাল থেকে রুপচর্চা করেছি কতো কি করেছি,যদি দুলাভাই আমার দিকে একটু নজর দেয় এখন শুনছি উনি আসে ই নি

মিথিলা- আহ হারে,কি করবি এখন….

এমন সময় মিসেস আয়মন মিথিলাদের রুমে প্রবেশ করলো

– কি কথা হচ্ছে দু বোনের মাঝে
মিথিলা তাড়া তাড়ি করে মাথায় ওড়না টেনে দিয়ে পাশে সরে গেলো

নির্ঝরিণী – আন্টি বসুন
মিসেস আয়মন মিথিলার মাথা থেকে ওড়না সরিয়ে বল্লো,মাকে কেউ লজ্জা পায়, আমি ও তো তোমার আরেক মা হতে চাই,
শুনো মা প্রথম দেখেই তোমার মাঝে আমি মেয়ে মেয়ে গন্ধ পেয়েছি তাই আর দেরি করিনি,আমার তো কোন মেয়ে নেই তাই তোমাকেই আমার লাগবে

মিথিলা কিছুই বল্লো না,

মিসেস আয়মন, একটি ডায়মন্ড হার পরিয়ে দিলো মিথিলার গলায়, আমি আমার মেয়েকে এই হার দিয়ে দোয়া করে গেলাম,,

নির্ঝরিণী – আরেহ আন্টি, আপনি একা কথা বলেই যাচ্ছেন আমাকে ও কিছু বলার সুযোগ দিন

মিথিলা ইশারা করে চুপ করতে বল্লো নির্ঝরিণী কে

মিসেস আয়মন- বলো মা তুমি কি বলবে

নির্ঝরিণী – আমি আর কি বলবো আপনি তো সব বলেই দিয়েছেন, হি হি হি,তবু ও বলছি দুলা ভাই আসেনি কেনো

মিসেস আয়মন কিছু বলার আগেই ফাতেমা বেগম সেখানে এলো,,
– কিছু মনে করবেন না আপা মেয়েটা আমার এই রকম ই

মিসেস আয়মন- না না কি যে বলেন আমি বুঝতে ফেরেছি,আসো মা বসার ঘরে এসো, এই বলে মিসেস আয়মন মিথিলাকে নিয়ে গেলো,
আতাহার চৌধুরী আর মাসুম ফারুকির কাছে,

মিথিলার উপস্থিতিতে বিয়ে সামনের মাসের পনেরো তারিখে ঠিক হয়

আতাহার চৌধুরী – বল্লো আমার একটাই ছেলে,তার বিয়েতে কোন কিছুর কমতি যেন না থাকে তাই এতো লম্বা সময় নিলাম মিঃ ফারুকি,আপনাদের কোন আপত্তি নেই তো।

মাসুম ফারুকি – না,না, আমাদের কোন আপত্তি নেই কি বলো জিমির আম্মু,মাসুম ফারুকি স্ত্রী ফাতেমা কে লক্ষ করে কথা টা বললেন

ফাতেমা বেগম- তা ঠিক আছে,কিন্তু বিয়ের আগে একবার ছেলে মেয়ের দেখা দেখির ব্যাপার টা সেরে ফেললে ভালো হয়

মিসেস আয়মন- ঠিক আছে সময় করে এর মাঝে আমি একবার ছেলে কে পাঠিয়ে দিবো

আতাহার চৌধুরী- তা হলে আমরা আজ উঠি,,আতাহার চৌধুরী আর মিসেস আয়মন বেরিয়ে গেলো,গাড়িতে বসে আতাহার চৌধুরী বললো
-তোমার ছেলে কে বুঝাও মুন, ঐ ডিসকো মেয়েকে আর যাই হোক বাড়ির বউ করা যায় না

আতাহার চোধুরী আয়মন চৌধুরী কে ভালোবেসে মুন বলে ডাকে সেই বিয়ের পর থেকে তাদের মাঝে এই চুক্তি হয়,আজ অব্দি এক বিন্দু ভালোবাসার অভাব দেখা দেয়নি তাদের মাঝে

মিসেস আয়মন- তুমি চিন্তা করো না,ছেলে আর যাই করুক আমার কথার অবাধ্য হবে না,একবার বিয়েটা হয়ে যাক দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে

to be continue
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন