খেলাঘর

0
551
খেলাঘর
খেলাঘর

খেলাঘর…..
লেখা-সুলতানা ইতি
পর্ব-৮

মিথিলা স্টাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার চোখের কোনে পানি চিক চিক করছে
অরনি ভাংগা গলায় বল্লো
– মিথি কিছু বল

অরনির কথায় মিথিলা সম্বিত ফিরে আসে
মিথিলা কঠোর কন্ঠে বল্লো
– ইহান কি করছিস কি তুই,তুই জানিস তুই কতো টা ভুল পথে হাটছিস

ইহান- আমি জানতে চাই না,আমি শুধু তোকে চাই মিথিলা
মিথিলা- এ সম্ভব নয়

ইহান- কেনো সম্ভব নয় বল?
ইহান পাগলের মতো করে বল্লো,ওহ তুই ভয় করছিস এই ভেবে যে আমার বাবা মা আমাদের মেনে নিবে না তাই তো,তুই বিশ্বাস কর আমার কথার বিরুদ্ধে আব্বু আম্মু একটা কথা ও বলবে না

মিথিলা – তা নয় ইহান,তুই এখন আবেগে ভাসছিস, ভালোবাসা কি বুঝিস না,তোর মনে প্রেম জেগেছে, আর কোন প্রেম কখনো স্থায়ী হয় না

ইহান- আচ্ছা যা মেনে নিলাম তোর কথা,, কিন্তু প্রেম থেকেই ভালোবাসা সৃষ্টি হয়

মিথিলা- হয় না ইহান

ইহান- প্লিজ এমন করিস না তোকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না,

মিথিলা- এখন প্রথম কয়দিন কষ্ট হবে তার পর যখন তোর মন থেকে প্রেম অনুভূতিটা উবে যাবে তখন দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে

ইহান কঠোর কন্ঠে বল্লো
– তুই কি বুঝাতে চাইছিস মিথি, আমার ভালোবাসা ক্ষনিকের, কিছুদিন পর আর থাকবে না তাই তো

মিথিলা- হুম ঠিক তাই
—ঠাসসসসস ইহান শরিরে সব শক্তি দিয়ে মিথিলা কে থাপ্পড় মারে
মিথিলা টাল সামলাতে না ফেরে পড়ে যায়

অরনিরা কেউ ই এই রকম পরিস্থির জন্য প্রস্তুত ছিলো না আকস্মিক এমন হওয়াতে সবাই বিমূঢ় হয়ে গেলো

মিথিলা উঠে দাড়ালো, বাম গাল্টা প্রচণ্ড ঝলছে
মিথিলা- তুই আমাকে হাজার টা থাপ্পড় দিলে ও আমার কথার কোন পরিবর্তন হবে না, এই বলে মিথিলা পিছনে ফিরে দাড়ালো চলে যাওয়ার জন্য

ইহান মিথিলার হাত ধরে ফ্লোরে বসে পড়লো
প্লিজ মিথি মাফ করে দে আমাকে আমি তোকে থাপ্পড় মারতে চাইনি, তুই কেনো আমার ভালোবাসা কে সন্দেহ করছিস বল, ভালোবাসি তোকে

মিথিলা- হাত ছাড় ইহান

ইহান তবুও হাত ধরে রাখলো
– হাত ছাড় বলছি মিথিলা ঝাটকা দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নিলো আমি আবার বলছি, আবেগি হয়ে লাভ নেই

ইহান উঠে দাড়ালো
-তুই আমাকে বলছিস আমি আবেগ দিয়ে চলি? আমার বয়স টা আবেগের?
খুব বেশি বুঝিস তুই না,কয়েকটা বই ঘাটা ঘাটি করে খুব জ্ঞানী হয়ে গেছিস তাই না….

মিথিলা- প্লিজ আমি তোর লেকচার শুনতে চাই না,
মিথিলা আর এক মুহুর্ত ও দাড়ালো না হন হন করে হেটে বেরিয়ে গেলো

ইহান মাথা নিচু করে বসে পড়লো
অরনি ইহানের কাধে হাত রাখলো,শান্তনার স্বরে বল্লো
– ভেঙে পড়িস না ইহু নিজেকে শক্ত কর,সামনে আর ও অনেক সময় আছে মিথিলা একদিন না একদিন তোকে ঠিক ই বুঝবে

ইহান কান্না কন্ঠে বল্লো
– অনেক স্বপ্ন নিয়ে ওর দিকে হাত বাড়িয়েছি ও এভাবে আমার হাত টা ফিরিয়ে দিতে পারলো?
আমার ভালোবাসা নাকি ক্ষনিকের ও এতো দিনে আমাকে এই জানলো?

অরনি- ভাবিস না সব ঠিক হয়ে যাবে
ইহান চোখ মুছে বল্লো, অরু মিথির গালটা লাল হয়ে গেছিলো আমি তখন দেখলাম,একটু ঠান্ডাবরফ দিলে ভালো হতো

অরনি- তুই ভাবিস না সাম্মি আর রাহি ওর পিছু পিছু গেছে,ওরা ঠিক কিছু ব্যাবস্থা করবে

ইহান-ওরা আছে মিথির সাথে আচ্ছা আমি একটা ফোন করি,তখন মাথা ঠিক ছিলো না তাই ও ভাবে

অরনি- এতো টেনশন নিস না,ফোন করে দেখ ওরা কোথায়

মিথিলা বের হতেই রাহিরা
মিথিলার পিছু নিলো
– সাম্মি মিথিলা দাড়া কথা শুন
মিথিলা না দাঁড়িয়ে একটা রিক্সা ডেকে উঠে পড়লো
রিক্সা চলছে

রাহি- এই মিথি টা যে কি বুঝি না,ইহান অনেক মেয়ের স্বপ্নের পুরুষ, আর সেই ইহানকে মিথিলা রিজেক্ট করলো?

সাম্মি- আর বলিস না মিথিলা একটু বেশি বাড়া বাড়ি করছে এবার

রাহি -চলতো মিথিলার বাসায় যাবো
সাম্মি- হুম চল

সাম্মি আর রাহি মিথিলাদের
বাসায় এসে কলিংবেল দিয়ে যাচ্ছে অনেক্ষন থেকে কিন্তু মিথিলা দরজা খুলছে না
প্রায় বিশ মিনিট সময় কেটে গেলো,,

মিথিলা ভালো করে চোখে মুখে পানি দিয়ে মুখ মুছে তার পর দরজা খুলতে গেলো,,মিথিলা যে কেঁদেছে এটা রাহিদের বুঝতে দিতে চায় না

মিথিলা দরজা খুলতেই
সাম্মিরা বিতরে ডুকে গেলো
রাহি- এতোক্ষন দরজা খুলছিলিনা কেনো,জানিস কতো ভয় পেয়েছি গেছিলাম

মিথিলা- ওয়াশ রুমে ছিলাম,,তোরা কিছু বলবি,মিথিলা এমন ভাবে কথা বলছে যেন কিছুই হয়নি

সাম্মি- তোর ভাব দেখে মনেই হচ্ছে না, একটু আগে তুই বিরাট কান্ড ঘটিয়ে এসেছিস

মিথিলা একটু চুপ করে শান্ত কন্ঠে বল্লো
একটু আগে যা ঘটেছে তা অতিত হয়ে গেছে সুতরাং তা নিয়ে মাথা না ঘামানো ই উচিত

রাহি- তুই ইহান কে কষ্ট দিয়ে এতো স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছিস

মিথিলা- আমি কাউকে কষ্ট দিইনি কেউ যদি সেচ্ছায় কষ্ট কে ডেকে আনে তা হলে আমার কিছু করারর নেই

রাহি- ও তোর সাথে টাইমপাস করতে চায়নি,তোকে বিয়ে করতে ছেয়েছে, এ যুগে কয়টা ছেলে এ ভাবে বিয়ের প্রপোজাল দেয়,তুই বল

মিথিলা- তা হলে তোরা এটা ও যেনে রাখ,এই যুগের মানুষ খুবই ফাষ্ট, এরা প্রেম করে সময় নষ্ট করে না, বিয়ের মতো পবিত্র সম্পর্ক নিয়ে পুতুল খেলতে পছন্দ করে

সাম্মি- কিন্তু ইহান সবার থেকে আলাদা

মিথিলা- তোরা আমাকে ও তো সবার থেকে আলাদা বলিস,প্লিজ দোস্ত তোরা আমার বন্ধু,কারো চামচামি করিস না আমার কাছে এসে

রাহি অনেক টা রেগে বল্লো
– সাম্মি চল এখানে থেকে কোন লাভ নেই
রাহি আর সাম্মি চলে গেলে
মিথিলা স্টাডি রুমে বসে খুব কান্না করে,
আমি. আমি কি করবো. আমার কিচ্ছু করার নেই ইহান প্লিজ তুই আমাকে ভুল বুঝিস না,,কাঁদতে কাঁদতে পাগলের মতো কথা গুলো বলছে মিথিলা
সেদিন সন্ধ্যা বেলা মিথিলার বাবা মা গ্রাম থেকে ফিরে আসে
মিথিলা- বাবা এতো তাড়া তাড়ি চলে এলে যে,তোমাদের তো আর ও কয়েকদিন থাকার কথা ছিলো
মাসুম ফারুকি কিছু বলার আগে ফাতেমা বেগম বল্লো
– তোর বাবা আমাদের থাকতে দিলো কই,তুই বাসায় একা,এই চিন্তায় উনার ঘুম হচ্ছিলো না

মাসুম ফারুকি- মিথিলাকে কাছে টেনে বল্লো,বস মা,কতো দিন তোকে দেখিনি

মিথিলা-মাত্র তো তিন দিন বাবা

মাসুম ফারুকি- হা তাই তো তিন দিন তোকে দেখিনা,ভাভা যায়
নির্ঝরিণী – হা হা সব আদর মেঝো মেয়েকে দাও, আমার জন্য কিচ্ছু রেখো না
ফাতেমা বেগম বল্লো বাপ বেটি ঢং গুলো পকেটে রেখে খেতে এসো,

নির্ঝরিণী- একদম জব্দ হয়েছে,
সবাই ডাইনিং এ গিয়ে বসলো

কিছুদিন পরে মিথিলাদের পরিক্ষার রেজাল্ট বের হয়

বরাবরের মতো এবার ও মিথিলা সবার প্রথম হয়েছে

নির্ঝরিণী – আপ্পি তুই এতো ভালো রেজাল্ট করেছিস তাই আমি তোর জন্য, একটা ডিম ভাজি করে এনেছি নিজ হাতে,হি হি হিহি

মিথিলা- তো,হাসছিস কেনো

নির্ঝরিণী – তুই যে কখনো এক্সাম এ ডিম পাসনি তাই আমি তোর জন্য দয়া করে ডিম এনেছি,নে খেয়ে বল কেমন হয়েছে

মিথিলা- ডিম ভাজি খেতে ডিম ভাজির মতোই হবে,রেখে যা পরে খাবো

এর মাঝে আয়ান এসে গেলো
মিথিলা- ঐ তো আরেকজন এসেছে, কিছু বলবেন

আয়ান হেসে বল্লো
– কিছু বলবো না কিছু দিবো
মিথিলা- কি?

আয়ান- আমি যে তোর একটি মাত্র ভাই,তোর এই সাকসেস এ ভিষন খুশি তাই তোর জন্য আমার ছোট্ট উপহার,আয়ান পকেট একটি কলম বের করে দিলো মিথিলা কে

মিথিলা- কলম টা তো বেশ,আমার ভাইকে আমি ধন্যবাদ দিবো না,সত্যিকার ভাইয়ের মতো কাজ করেছে ভাইটি

আয়ান-তোর পছন্দ হয়েছে আপি
মিথিলা- খুব

আয়ান- বাবা যে টিপিনের জন্য টাকা দিতো সেখান থেকে কিছু টাকা বাছিয়ে কিনেছি ভালো হয়নি বল

আয়ানের কথা শুনে মিথিলার চোখে পানি চলে আসে গভীর মমতায় ভাইকে বুকে ঝড়িয়ে নেয় মিথিলা,
– খুব ভালো হয়েছে, আমি খুব খুশি হয়েছি

নির্ঝরিণী – ওহ শুধু ভাইকে আদর করবে আমাকে করবে না,কারন আমি তো কিছু আনতে পারিনি

মিথিলা আরেক হাত দিয়ে নির্ঝরিণী কে কাছে টেনে নিলো

আয়ান- এখানে ও তোর হিংসে তোর হিংসার জ্বালায় বাছিনা আর

*
ইহান মিথিলা এবার ও সবার প্রথম হয়েছে,,একবার ফোন করে কংগ্রাচুলেশনস জানানো দরকার

ইহান মোবাইল বের করলো কল দেয়ার জন্য
এই সময় নায়া এসে বল্লো
– ইহান কি করছিস তুই তাড়া তাড়ি রেডি হয়ে নে, আমি একটু পর বের হবো

ইহান নায়া কে দেখে মোবাইল আবার পকেটে রেখে দিলো
নায়া – কাকে ফোন করছিলি
ইহান- কাউকে না

নায়া- ওহ আমার ভাবি কে ফোন করছিস

ইহান- আপিইই,তুই ও না

নায়া- দাড়া মোম কে বলছি

মোম মোম, ড্যাড কই তোমরা বলতে বলতে নায়া ইহানের রুম থেকে বেরিয়ে যায়

to be continue
ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন