প্রত্যাখান_পর্ব(১৩)

 প্রত্যাখান_পর্ব(১৩)
 প্রত্যাখান_পর্ব(১৩)

প্রত্যাখান_পর্ব(১৩)

লেখা- অনামিকা ইসলাম ‘অন্তরা’

লাবণ্যকে নিয়ে যখন বাড়ি পৌঁছালাম তখন রাত্রি সাড়ে দশটার মতো বাজে।

রুমে প্রবেশ করেই আমার চক্ষু চড়কগাছ।

ফুলে ফুলে সজ্জিত রুমটির চতুর্দিকে গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো।

বিছানায়ও একই রকম ভাবে লাল টকটকে গোলাপের পাপড়িগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

কে বা কারা এই কাজ করেছে জানি না আমি।

রাত্রে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষে মামাতো বোন কনা এবং চাচাতো লিমা এসেছিলো লাবণ্যকে নিয়ে।

সাথে ছিলো কাজীনের বউ লিপি ভাবি।

লাবণ্যকে খাটের একপাশে বসিয়ে ভাবি ওর কানে কানে কিছু একটা বলে।

মুহূর্তেই লজ্জায় রাঙা হয়ে যায় লাবণ্যর পুরো মুখ।

তারপর আমার দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যজনক হাসি দিয়ে ননদদের সাথে নিয়ে চলে যান ওনি বাহিরে।

ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ালাম আমি।

যখন ফিরলাম তখনো লাবণ্য পূর্বের ন্যায় পা দুলিয়ে বিছানার একপাশে বসে।

প্রশ্ন করলাম, ‘কি ব্যাপার? সারারাত কি এভাবে বসে থাকার পন করে এসেছো নাকি?’

অনেকটা ঝাঁঝালো গলার প্রশ্নটা ছিলো। চটজলদি ছুটে আসলো সে আমার দিকে।

পা ছুঁয়ে সালাম করে নিলো। তারপর দুজনে মিলে একসাথে নামাজটা আদায় করে নিলাম।

বিয়ের মতো পবিত্র রাত্রিতেও অনেকগুলো তিক্ত কথা শুনিয়েছিলাম আমি লাবণ্যকে।

নিশ্চুপ লাবণ্য মাথা নিচু করে বসেছিলো শুধু।

নেহাৎ’ই পুরুষত্বের ডাকে সাড়া দিতে সে রাতে ওর সাথে মিলিত হই আমি।

স্থাপন করি শারীরিক সম্পর্ক।

‘দিনে পড়াশোনা+বাবা মায়ের দেখাশোনা,

একটুখানি গল্প গুজব,

কাজের বুয়ার সাথে হাতে হাতে রান্নার কাজে সাহায্য করা আর রাতে আলো নেভালে আমার শারীরিক চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়া,

এগুলোই ছিলো ওর দৈনন্দিন রুটিনের তালিকায়।

‘ এর বাইরেও যে আলাদা একটা জীবন আছে, সেটা আমি ভাবতাম না। ভাবতে চাইতামও না।

আমি প্রায়ই লক্ষ্য করতাম, ‘মা আমায় কিছু একটা বলার জন্য আমার কাছে ছুটে আসতো, সময় চাইতো।

আমি মা’কে কোন পাত্তায় দিতাম না৷ এড়িয়ে যেতাম।

এমন ভাব করতাম যেন আমার কোন সময়ই নেই অফিসের কাজ ছাড়া অন্য কোথাও মন দেয়া।

ব্যর্থ মনোরথ নিয়ে মা আমার ফিরে যেতো নিজ রুমে।’

এভাবেই চলে যায় অনেকগুলো দিন, মাস, বছর।

ফোর্থ ইয়ারে উত্তীর্ণ হয় লাবণ্য। স্যারদের কঠোর নির্দেশ,

‘প্রথমদিকে নিয়মিতই ক্লাস করা চাই।’ লাবণ্যকেও তাই প্রত্যেহ ভার্সিটিতে যেতে হতো।

যথারীতি সেদিনও লাবণ্য ভার্সিটিতে যায়। ব্যবসায়ের কাজে আমাকে যেতে হয়েছিলো নরসিংদী।

ফেরার পথে একটা অদৃশ্য টানে লাবণ্যদের বাসায় গেলাম সবার সাথে দেখা করে আসার জন্য।

বিদায় নিয়ে চলে আসছিলাম। পথবেধে দাঁড়ায় লাবণ্যর ভাবি ‘হেনা’।

অনেকটা ভেঁজা গলায় বিশেষ দরকারের কথা বলে আমার কাছে তিনি একটু সময় চাইলেন।

সময় দিলাম। আমার ভাবনার আকাশে কালো মেঘ জমে সেদিনই হেনা ভাবির কথা শুনে।

ভেতরটা আমার ডুকরে কেঁদে ওঠে।

চোখে নামে অকাল শ্রাবণ।

আমার বিরুদ্ধে, লাবণ্যর সাথে এতকাল করে আসা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আমার মন।

আমি জানতাম না ঘটনার পরও ঘটনা থাকে, থাকে নাটকের ওপর নাটকীয়তা।

যেই লাবণ্যকে লোভী,

স্বস্তা অপবাদে এতকাল নিজের মনের থেকে দুরে সরে রেখেছিলাম,

সেই লাবণ্য যে এভাবে আমাকে আমার বিবেকের কাছে অপরাধী বানিয়ে দিবে,

কখনো ভাবিনি আমি।

চিৎকার করতে চেয়েও আমি পারছিলাম না। গলার ভেতর দলার ন্যায় কিছু একটা কুন্ডলী পাকিয়ে ছিলো।

তা সত্ত্বেও কান্না জড়ানো গলায় অনেকটা উঁচু স্বরে প্রশ্ন করি ভাবিকে, ‘

এতবড় সত্যিটা কেন আপনারা আমার থেকে গোপন রেখেছিলেন?

কেন আগে জানাননি? কেন? কেন? কেন?’ চলবে….