ফাগুণের নবধারা পর্ব- ৫

0
86
ফাগুণের নবধারা পর্ব- ৫
ফাগুণের নবধারা পর্ব- ৫

ফাগুণের নবধারা
পর্ব- ৫

শাহাজাদী হুমাশা।

ইদানীং রুকুর মন খারাপ থাকে খুব।কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হয়না।সারাদিন সে শুধু উপন্যাসের বইয়ে ডুবে থাকে।ক্ষুধাও কমে গিয়েছে।বাচ্চাটাও দুষ্টু হয়েছে বেশ।শুধু পেটেই নাড়ানাড়ি। রুকু তার অনাগত সন্তানের সাথে কথা বলে।
আরো আশ্চর্য ব্যাপার হলো রুকু চোখ বন্ধ করে আবিদের চেহারাটা দেখতে চায়।আবিদের চেহারা তার কল্পনার ঘরে উঁকি দেয়। আবিদের হাতে এক দেবশিশু দেখা যায়।কিন্তু সেটা তার মৃত স্বামী আবিদ নয়। সে তার কল্পনা থেকে বেড়িয়ে এসে হাসফাস করতে থাকে।সে যখন কল্পনায় আবিদের জায়গায় অন্য আবিদকে দেখে তার পেটের শিশুটাও তার অস্তিত্ব জানান দেয়।

রুকুর ডিলেভারির এখনো এক সপ্তাহ বাকি।আজ আমিনা বেগম বাদে বাসার সবাই শপিং এ গিয়েছে।রুকুর অনাগত সন্তানের জন্যও শপিং করতে হবে।প্রধান উপলক্ষ নাভিদ আর সুমুর বিয়ে।নাভিদ ইদানীং অফিসের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সুমুকে সময় দিতে পারছেনা খুব একটা। এ নিয়ে সুমুর মাথা ব্যথা নেই সে একাই একশ। তাই নিজে নিজেই শপিং করছে। নতুন সংসারের জন্য তার বহু প্ল্যান।আজ রুকুর শাশুড়ি আর নিহার দাদীও গিয়েছেন শপিং এ।তাদের দুজনের মধ্যে আলাদা ভাব হয়েছে।বুড়ো বয়সে সই পাতিয়েছেন দুজন।নিহার দাদীর এর পেছনে একটি উদ্দেশ্য রয়েছে।তিনি তার বড় পুত্রের জন্য পাত্রী খুঁজছেন।সে ক্ষেত্রে তার পুত্রের জন্য ইলমাকে যোগ্য বলে মনে হয়েছে।যদিও বয়সের গ্যাপটা বেশি তাতে কি? সুখী হতে বয়স লাগেনা।তিনি সুযোগ খুঁজছেন কখন ইলমা আর আবিদের ব্যাপারে কথাটা বলবেন সবাইকে।

নিহা আবিদের পিঠের উপর বসে আছে।আবিদ পুশ আপ দিচ্ছে।নিহা সেটা কাউন্ট করছে।
-৮৮, ৮৯,৯০, ৯১… আব্বু?
– জ্বি।
– মামণি কে তুমি কতটা ভালোবাসো?
নিহার প্রশ্ন শুনে আবিদ থ হয়ে যায়।রুকুর কথা বলছে তার কন্যা সেটা বুঝতে বেশিক্ষণ লাগেনি তার।
নিহাকে পিঠ থেকে নামতে বলে আবিদ। নিহা নামতেই চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে সে ম্যাট এর উপর।নিহা ঝাপিয়ে পড়ে বাবার বুকে।আবিদ নিহাকে জড়িয়ে ধরেই বলে-
উনি তোমার মামণি না নিহা।তোমার মামণি নেই।
– তাহলে মামণি যে বললো সে তোমাকে ভালোবাসে আর তুমি তাকে, আর আমার একটা ছোট ভাই নিয়ে আসবে তোমরা।
নিহার কথায় আবিদের মেজাজ খিচড়ে যায়।নিহাকে কিছু না বলেই আবিদের বাথরুমে ঢুকে শাওয়ার অন করে দেয়।ঠান্ডা পানির নিচে দাড়িয়ে থেকে অনেক কিছু চিন্তা করে সে। শেষ পর্যন্ত সে ঠিক করে রুকুকে কিছু কঠিন কথা শুনাবে।আর নিহাকে রুকুর কাছে যেতে বারণ করবে।

গোসল সেরে চেইঞ্জ করে আবিদ নিহাকে নিয়ে রুকুদের দরজার সামনে দাঁড়াতেই চিৎকারের শব্দ পায়।ভড়কে যায় আবিদ। কলিং বেল চাপতেই।রুকুদের বাসার কাজের মেয়েটা দরজা খুলে দেয়।আবিদ ভিতরে ঢুকে দেখে রুকু সোফায় বসেই চিৎকার করছে। তার চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে ব্যাথায়।আমিনা বেগম মানে রুকুর মা তাকে ধৈর্য ধরতে বলছেন।এম্বুল্যান্স ডেকেছেন তিনি।নাভিদকে বলেছেন চলে আসতে।রুকুর ওয়াটার ব্যাংক ব্রেক হয়েছে।অবস্থা বেগাতিক।তিনি নিজেও বুঝতেছেন না কি করবেন।সময়ের আগেই এমনটা হলো।আবিদ আর দাড়িয়ে থাকতে না পেরে নিহাকে রুকুর মায়ের কাছে দিয়ে রুকুকে কোলে নিয়ে দরজা দিয়ে বের হলো।লিফটে উঠতেই রুকুর মা কাজের মেয়েটাকে দরজা লক করতে বলে তিনিও পারসটা নিয়ে নিহাকে সাথে নিয়ে বের হলেন।নিহা কিছু বুঝতেছেনা কি হচ্ছে! আবিদের টি-শার্ট খামছে ধরে আর্তনাদ করছে রুকু।এ ব্যাথা সহ্য করার মত না।
আবিদের হাতের কিছু যায়গা কেটে গিয়েছে রুকুর জন্য। সে দিকে সে ভ্রুক্ষেপ না করে রুকুকে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে ড্রাইভার কে হাসপাতালে নিতে বললো।আর সে রুকুর পাশে গিয়ে বসলো।আমিনা বেগম ড্রাইভারের পাশের সিটে নিহাকে নিয়ে বসলেন।তিনি ড্রাইভারকে হাসপাতালের ঠিকানা দিলেন যেখানে রুকুকে এডমিট করার কথা।তিনি সবাইকে ফোন করে হাসপাতালে আসতে বললেন।রুকু ঘোরের মাঝে চলে যাচ্ছে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বিপদ। তাই আবিদ রুকুর সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে।

– রুকু তোমার বেবিটা আসতে চলেছে তোমার কাছে একটু অপেক্ষা করতে হবে।ধৈর্য ধরো।
– আবিদ আমার বাচ্চাটার কিছু হবেনাতো?
– কিচ্ছু হবেনা। আমি আছিতো।তোমার মাও আছে।সব ঠিক হবে।রিল্যাক্স।
– আমার কষ্ট হচ্ছে।আমাদের বেবিটা সুস্থ হবেতো? আমি বাঁচবোতো?
রুকুর কথা শুনে আবিদের হার্টবিট মিস করে কয়েকটা।সে মাথা ঠান্ডা রাখার যথেষ্ট চেষ্টা করে। কিন্তু রুকুর শেষ কথাটা তার মনেও ভয় ঢুকিয়ে দেয়।রুকু না বাঁচলে তার কি হবে? নিহার কি হবে? রুকুকে বাঁচতে হবেই।

তাড়াহুড়ো করে নাভিদ অফিস থেকে বের হয়। আমিনা বেগমের কথামত সে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।জ্যামে আটকা পড়ায় পৌছাতে দেরি হচ্ছে তার।জ্যাম ছাড়তেই। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সামনে এগুতেই একটা ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়।বিকট আওয়াজে গগণ কেঁপে ওঠে।ভিড় জমে যায় মুহূর্তেই।

সুমু সহ সবাই হাসপাতালে যচ্ছে।রুকু্র অবস্থা ভালোনা বেশি।সুমুর ফোনে এ সময়ে নাভিদের কল আসে।ভয়ে মুসরে যায় সুমু।কে জানে কেমন সংবাদ আসবে।ভয়ে ভয়ে রিসিভ করতেই স্তব্ধ হয়ে যায় সুমু। চিৎকার করার আগেই জ্ঞান হারায়।সবাই অবাক হয়ে যায় সুমুর অবস্থা দেখে।নিঝুম সুমুর ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে নাভিদের কল। সে ফোন কানে নিয়ে হ্যালো বলতেই বুঝে যায় কি হয়েছে।কাউকে কিছু বলেনা সে।

চলবে…..