প্রত্যাখান_পর্ব(১১)

প্রত্যাখান_পর্ব(১১)
প্রত্যাখান_পর্ব(১১)

প্রত্যাখান_পর্ব(১১)

লেখা- অনামিকা ইসলাম ‘অন্তরা’

সে রাতে অজানা কারণে ঘুম চোখে আসেনি আমার। অবশ্য খাতির যত্নের কোন অন্ত ছিল না ওদের।

অনেকটা জামাই আদর বলা চলে। সকালে মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে।

হাতে একটা লুঙ্গি ধরিয়ে দিয়ে জানান দেন,

দ্রুত গোসল সেরে নাস্তার টেবিলে আয়।

মায়ের কথামতো সুবোধ বালকের ন্যায় চুপটি করে গোসলখানায় চলে গেলাম।

গোসলখানা থেকে ফিরে সোজা নাস্তার টেবিলে।

সকালেও আমাকে ঘিরে ওদের আপ্যায়নের শেষ ছিলো না।

এমনভাবে দৌঁড়াদৌঁড়ি করে আমাকে খাওয়াচ্ছিলো যেন আমি তাদের নতুন জামাই আর এটা আমার শ্বশুরবাড়ি।

কোথাও একটু কম পড়লেই বদনাম রটে যাবে।

ব্রেকফাস্ট শেষে যাচ্ছিলাম রুমের দিকে।

সম্মুখে এসে দাঁড়ায় বাবা।

হাতে ৩০হাজার টাকার মতো ধরিয়ে দিয়ে ধীর গলায় জানান,

সুমনরা মার্কেটে যাচ্ছে। তুমিও যাও। আর হ্যাঁ! আঁখিকেও সাথে করে নিও।

কিন্তু বাবা আমি….

পুরো কথা বলতে পারিনি। চটজলদি বাবার জবাব,

একে তো বিয়ে বাড়ি।

তারউপর তোমার এই বেশভূষা।

কিরকম দেখা যায় না ব্যাপারটা? বাবার কথায় লজ্জা পেলাম ভিষণ।

সত্যিই তো! আমি তো এখনো লুঙ্গি পরেই হাঁটাচলা করছি।

কথা বাড়ালাম না আর।

লুঙ্গি পাল্টে বাসা থেকে নিয়ে আসা পাজামা-পাঞ্জাবি পরে নিলাম।

কাজিনদের সাথে নিয়ে বেরিয়ে পরলাম কেনাকাটার উদ্দেশ্যে…

. — সুমন! এসব কি কিনেছিস তুই? —

কি কিনলাম? — মায়ের জন্য শাড়ি ঠিক আছে।

কিন্তু এ লাল লেহেঙ্গা, চুড়ি কার জন্য কিনলি? —

সে তুই বুঝবি না। চুপ থাক। — ওহ, আচ্ছা! –(নিশ্চুপ সুমন) —

আতিক দেখি! তোর হাতে এসব কি? কিসব বক্সটক্স কিনে আনছিস!

— এগুলোতে কিছু স্বর্ণালংকার আছে। — মানে???

— মানে সুবর্ণ নাকি প্রফুল্ল! কি যেন নাম মেয়েটির?

ঐ যে কাকিমার বান্ধবীর মেয়ে হয়… — লাবণ্য!!!

— হ্যাঁ, লাবণ্য! কাকিমা এগুলো লাবণ্যর জন্য কিনেছে।

— উপহার? — কিছুটা সেরকমই।

— ওহ, আচ্ছা! গাড়ি থেকে নেমে বাড়িতে ঢুকতে না ঢুকতেই ঘটে যায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

লাবণ্যকে গোসল করানো হচ্ছিলো উঠোনে। আমরা বাড়িতে ঢুকতেই শুরু হয়ে যায় পানি ছুড়াছুঁড়ি।

আমার কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার হাত থেকে শপিং ব্যাপটা টান দিয়ে নিয়ে কাজিনরা দেয় ভোঁ দৌঁড়।

সে যাত্রায় ওরা রক্ষা পেলেও আমি পাইনি। কোথা থেকে যেন দু’তিনজন মহিলা বদনা ভর্তি পানি নিয়ে এসে ভিঁজিয়ে দেয় আমাকে।

একজন তো পুরো বালতি ভর্তি পানি এনে আমার মাথায় ঢেলে দেয়।

ভাগ্যিস! হাতে শপিং ব্যাগ ছিলো না।

থাকলে নির্ঘাত আমার সাথে সাথে সেগুলোরও নাজেহাল দশা হতো।

কাকভেঁজা আমি যখন রুমে প্রবেশ করি তখন আমাকে দেখে কাজিনরা হাসাহাসিতে মেতে ওঠে।

এ হাসি সে হাসি নয়। হাসতে হাসতে মাটিতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় ওদের।

কিচ্ছু বলিনি আমি। সদ্য কিনে আনা তোয়ালে এবং পাজামা-পাঞ্জাবি হাতে চলে যাই গোসলখানার দিকে।

ফিরে আসি মিনিট দশেক পর’ই।

সবাই কিরকম ‘থ’ হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে।

ওদের তাকানোর ধরন দেখে মনে হচ্ছিল আমি কোন ভিন গ্রহের প্রাণী ভুল করে ওদের গ্রহে চলে আসছি।

কিছু একটা বলতে যাবো তখনই পেছন থেকে বুড়ো দাদুর গলা ভেসে আসে।

বাব্বাহ! জামাই তো দেখি একদম তৈরি…

চলবে…