প্রত্যাখান_পর্ব(১০)

প্রত্যাখান_পর্ব(১০)
প্রত্যাখান_পর্ব(১০)

প্রত্যাখান_পর্ব(১০)

লেখা- অনামিকা ইসলাম ‘অন্তরা’

ঘোরের মধ্যে ডুবে গিয়েছিলাম আমি। ঘোর কাটে মহিলাদের হাসির আওয়াজে। আমাকে দেখে লাবণ্যর ভেঁজা শরীরটা হলুদের শাড়ি দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। প্রচন্ড এক লজ্জায় সে স্থান ছেড়ে চলে আসার সময় ধাক্কা খাই পিচ্চি এক মেয়ের সাথে। আমার দিকে শরবতের গ্লাস এগিয়ে দেয় সে। নিঃশব্দেে এক নিশ্বাসে গ্লাস পানিশূন্য করে ফেলি। আমাকে ঘিরে আবারো হাসিতে মেতে ওঠে কাজিন’রা। ওদের কর্মকাণ্ড যতই দেখছিলাম বেশ অবাক হচ্ছিলাম আমি। বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল এত হাসির কারণ কি? সে স্থান ছেড়ে দ্রুত চলে যাওয়ার সময় দূর্ঘটনাবশত পা পিছলে পড়ে যাই মাটিতে। কিছুক্ষণ আগেই ঠিক এ স্থান থেকে লাবণ্যকে গোসল করে রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। শরীর কাদামাটিতে ভরে যায় আমার। এ এক বিশ্রী অবস্থা। খবর শুনে ছুটে আসে মা। জানান দেন, ‘দ্যাখ! বাড়ির উঠোনেই তেতুল গাছ। তার উপর আজ শনিবার। বিয়ে বাড়ি এটা। কি হতে কি হয়ে যায় তার কোন ইয়ত্তা নেই। তাই বলি কি গোসলটা করে নে বাবা! মায়ের অন্ধবিশ্বাস এবং সারা গায়ে লেপ্টে থাকা কাদা মাটির দরুন অগত্যা সে রাতে আমায় গোসলটা করতে হয়েছিল। গোসল করে পড়লাম আরেক মহা ঝামেলায়। আমার সাথে কোন জামা কাপড় ছিলো না গোসল শেষে যেটা পরে নিবো। এদিকে কেউ একজন আমায় কোথা থেকে জানি একটা লুঙ্গি, গামছা দিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। আল্লাহ! শেষে কি না আমায় লুঙ্গি পরে ঘুরতে হবে বিয়ে বাড়িতে! কি করবো! এ ছাড়া বিকল্প কোন রাস্তাও দেখতে পাচ্ছিলাম না কোন। একপ্রকার বাধ্য হয়ে লুঙ্গিটা তাই পরে নিতে হলো আমায়। পরনে লুঙ্গি আর শরীরে গামছা জড়িয়ে আমি যখন রুমে যাই তখন হাসাহাসির একটা রোল পড়ে যায় কাজিনদের মধ্যে। তাদের কথোকপথনগুলো এমন ছিল- রুবেলঃ- হাউ ফানি! আমাগো শুভ্র লুঙ্গি পড়েছে। আতিকঃ- কি কিউট লাগছেরে ভাই তোকে। একদম ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতই… লিমাঃ- আতিক্যা দ্যাখ! শুভ্র’রে ট্যাগ কইরা ওর লুঙ্গি পরনে অবস্থায় ছবি দিয়েছিলাম। ৪মিনিটে ৩৯৮ রিয়েক্ট…. সুমনঃ- ভাই তুই লুঙ্গি পরছোস ভালা কথা৷ নিচে হাফপ্যান্ট পরছোস তো…! মানে বুঝস তো! একটা দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। চেঁচিয়ে ওঠি আমি। চুপ হয়ে যায় সবাই। এরকম সময়ই দরজায় কড়া নাড়ে কেউ। লজ্জায় দ্রুত বারান্দার দিকে চলে যাই আমি। সোফা ওঠে দাঁড়ায় লিমা। এগিয়ে যায় দরজা’র দিকে। — আপু তুমি? (অবাক লিমা) — জ্বী, (লাজুক লাবণ্য) — আসো। রুমে আসো। — না মানে এ শার্ট আর প্যান্ট’টা দেয়ার ছিল ওনাকে। — শুভ্র বারান্দায়। তুমি যাও দিয়ে আসো… — আআআমি? — হ্যাঁ, যাও…. ভীরু পায়ে লাবণ্য এগিয়ে আসে বারান্দায় দাঁড়ানো আমার দিকে। পেছন থেকে ধীর গলায় ডেকে ওঠে আমায়, শুনছেন? একে তো লুঙ্গি পরনে তার উপর খালি গা। লজ্জায় প্রায় মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তথাপি তাকাতে হলো পেছনে। নিঃশব্দে হাতে রাখা প্যান্ট-শার্ট’টা আমার দিকে এগিয়ে দেয় লাবণ্য। মাথা নিচু রাখা অবস্থায় সেটা গ্রহন করে ‘জ্বী, আচ্ছা’ বললাম আমি। গা থেকে গামছা খুলে রাখলাম বারান্দায় রাখা চেয়ারে। শার্ট গায়ে দিতে যাবো ওমনি পিছু ফিরে তাকায় লাবণ্য। এগিয়ে আসে আমার দিকে। এবারো লজ্জায় মাটিতে মিশে যাওয়ার উপক্রম আমার। তা সত্ত্বেও প্রশ্ন করলাম, Any problem? লাবণ্য আমার দিকে গোসলখানায় ফেলে আসা মোবাইলটা এগিয়ে দেয়…. চলবে….