প্রত্যাখান_পর্ব(০৮)

প্রত্যাখান_পর্ব(০৮)
প্রত্যাখান_পর্ব(০৮)

প্রত্যাখান_পর্ব(০৮)

লেখা- অনামিকা ইসলাম ‘অন্তরা

লাবণ্যর সাথে আমার সমস্ত বাঁধন ছিন্ন হয়ে যায়। ভেবেছিলাম ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু নাহ! ঘটনার ওপর ঘটনা থাকে৷ থাকে নাটকের ওপর নাটকীয়তা। লাবণ্যর বিয়ে ঠিক হয় জনৈক ভদ্রলোক তথা ঐ দুই সন্তানের জনকের সাথে। বিয়ের দাওয়াত দিতে আসে স্বয়ং লাবণ্যর বাবা। লাবণ্যকে ভিষণ ভালোবাসতো মা। তারউপর মায়ের দূরসম্পর্কের বোন ছিলো লাবণ্যর মা। আর সে টানেই হয়তো বা বিয়ের দাওয়াতটা সানন্দে গ্রহন করে নেন তিনি। লাবণ্যকে পুত্রবধূ করে আনার প্রবল ইচ্ছেটা ভেতরে ধামাচাপা দিয়ে আশা বোনটিকে সাথে নিয়ে নির্ধারিত দিনের দু’দিন আগেই মা নরসিংদী পৌঁছে। ঘনিয়ে আসে কাঙ্খিত দিন। নির্ধারিত দিনের চেয়ে একটু দেরীতে বরপক্ষ আসে। যেখানে মেহমান আসার কথা ছিল একশো, সেখানে হাতা গুনা মাত্র ১৫,২০জন লোক নিয়ে ওরা হাজির হয়। পাত্রের মুখখানা অমাবস্যার অন্ধকারের ন্যায় কালো ছিল। দেখে মনে হচ্ছিলো, কেউ যেন তাকে বন্দুকের মুখে বিয়ে পরানোর জন্য নিয়ে এসেছে। বিয়ে পরানোর তাড়াটা ওদের এতটাই জরুরী ছিলো যে, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে, মুখে কিছু না দিয়ে বিয়ে পরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ওরা। এ নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয় এলাকার মানুষজনদের মধ্যে। সেটা দেখে স্বয়ং লাবণ্যর চাচা ঘোষনা দেন, আপনারা আগে কিছু মুখে দিবেন তারপর বিয়ে। ওরা সে বুঝ মানতে নারাজ। ভাবখানা এমন যেন পারলে মেয়েকে ধরে নিয়ে যায়। কনে পক্ষের মেয়েদের তীব্র প্রতিবাদ, আমাদের মেয়েদের সাজ এখনো কমপ্লিট হয়নি। আর সে সাজ কমপ্লিট হওয়ার আগে কোন বিয়ে নয়। দাঁতে দাঁত চেপে মিনিট ত্রিশেক অপেক্ষা করে বরপক্ষ। রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে বসে থাকা স্বয়ং বর মশাই এবার ওঠে দাঁড়ায় চরম উত্তেজিত অবস্থায়। সু্যোগের আশায় ঘাপটি মেরে বসে থাকা লাবণ্যর ভাবি পর্দার আড়াল থেকে মুখ বের করে জানান দেয়, কোথায় এরকম নয়তো ওনারা ফেসে যাচ্ছেন কোথাও? হেনার কথায় গর্জে ওঠে বর। উত্তেজিত গলায় জানায়, হ্যাঁ, ফেসে গেছি আমরা। প্রথম বিয়ে ছাড়াও আমি আরো একটা বিয়ে করেছিলাম। ডিভোর্স হয়নি আমাদের। ঐ পক্ষেরও ২মেয়ে আছে আমার। বিয়ে করার আগে প্রথমা স্ত্রীর যে অনুমতিটা নিতে হয় সেটা নেয়ার প্রয়োজন মনে করিনি আমি। আমার নামে তাই থানায় মামলা দায়ের করেছে আমার স্ত্রী। বিষয়টা এখানে আসার মিনিট ত্রিশেক আগেই আমরা পাই। তা সত্ত্বেও আপনাদের মেয়ের কথা ভেবে আমি বিয়ে করতে এসেছি। তবে আর নয়৷ এই মুহূর্তে আমার নিজের জীবন বাঁচানোটাই শ্রেয়। কেননা, আমরা খবর পেয়েছি যেকোন মুহূর্তে আইনের লোক এখানে চলে আসতে পারে। ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে যায় সবাই। বসা থেকে ওঠে দাঁড়ায় আগত মুরুব্বীয়ান। হৈ-হুল্লোড় পড়ে যায় এলাকায়। অফিসে বসে বোর হচ্ছিলাম আমি। ভালো লাগছিলো না একদম৷ অস্থির অস্থির লাগছিলো ভেতরে। কল দিলাম বোন আশাকে। জানি না বোন আমার সে কল সজ্ঞানে রিসিভ করেছে কি না। করলেও কথা কেন বলছিলো না। লাউডস্পিকার বাড়াতে গিয়ে টের পাই ওপাশে বিশাল হট্টগোল চলছে। মিনিট খানেকের জন্য সাক্ষী হই একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির। পরে কলটা কেটে যায়। এদিকে অস্থিরতায় আমার পুরো শরীর ঘামছিল। কলের ওপর কল দিতে থাকি। ঘন্টা খানেক পর বোন আমার কল রিসিভ করে জানায়, লাবণ্যর বিয়েটা ভেঙ্গে গেছে। বিয়ের আসর থেকে পুলিশ পাত্র এবং তার তিন বাবা চাচাকে সাথে ঐ জনৈকা ভদ্রমহিলা তথা ফুপ্পিকে ধরে নিয়ে যায় থানায়। কিছু সময়ের ব্যাপারে প্রাণচঞ্চল বাড়িটা নিরব, নিস্তব্ধ পরিবেশে রূপ নেয়। লাবণ্যর মা ঘন ঘন মূর্ছা যাচ্ছিল। অসুস্থ ভাই আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাবা করে স্ট্রোক। চলবে….