প্রত্যাখান_পর্ব(০৭)

প্রত্যাখান_পর্ব(০৭)
প্রত্যাখান_পর্ব(০৭)

প্রত্যাখান_পর্ব(০৭)

লেখা- অনামিকা ইসলাম ‘অন্তরা

কৌতূহলী মন বারংবার জানতে চাচ্ছিলো ভদ্রমহিলা কোন সে বিয়ের ইঙ্গিত দিলো? সত্যিই কি তাহলে আগে লাবণ্যর বিয়ে হয়েছিলো? কিংবা বিয়েটা যদি হয়েও থাকে তাহলে সেটা তো আমাদের জানার কথা। বিশেষ করে আমার মায়ের তো এ বিষয়ে জানাটা জরুরী ছিল। তবে কি ওরা বিষয়টাকে ধামাচাপা দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিলো? উফ, নাহ! আর ভাবতে পারছি না৷ এরকমভাবে ওরা আমাদের ঠকাতে চাইবে এটা যে কল্পনারও অতীত। মনের অদম্য কৌতূহল মেটাতে লাবণ্যদের সদ্য নির্মিত রুমটাতে ঢুকলাম। লাবণ্য তখন চুপটি করে জানালার গ্রিল ধরে বাহিরের পানে তাকিয়ে। আমার আওয়াজে ওর সে দৃষ্টির ব্যাঘাত ঘটে৷ পিছু ফিরে তাকায় লাবণ্য। অতঃপর পুনঃবার দৃষ্টি নিয়ে যায় বাহিরে। নিঃশব্দে লাবন্যর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম আমি। প্রশ্নটা করার কথা ভাবতেই ভেতরে কম্পনের সৃষ্টি হয় আমার। তথাপি মিটিয়েই ফেললাম অদম্য সে কৌতূহল। প্রশ্ন করলাম, লাবণ্য তুমি বিবাহিতা? লাবণ্যর ছোট্ট জবাব, হ্যাঁ! ডিভোর্সি। আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম৷ উলট-পালট হয়ে যায় ভেতরে। দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে আসে। চোখে ঝাপসা দেখা শুরু করি। চোখ থেকে অনবরত অশ্রুজল গড়িয়ে পড়তে থাকে নিচে। চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে এলে জীবনের রঙ জলের মতোই হয় বুঝি? জানি না এরপর লাবণ্য আর কোন কথা বলেছিলো কি না! আর বললেও ঠিক কি বলেছিলো?! শুধু এটুকু জানি- ঝাপসা দৃষ্টি নিয়ে আমি তখনই সেখান থেকে বেরিয়ে আসি। লাবণ্যর বাবা-মা, ভাই-ভাবির থেকে বিদায় নিয়ে ঢাকায় নিজ বাসায় চলে আসি। রাতে ঘুম হচ্ছিলো না। অচেনা এক কষ্ট ভেতরটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিলো। আমি সইতেও পারছিলাম না, কারো সাথে শেয়ার করতেও পারছিলাম না। সেদিনের পর থেকে কেন জানি না নিজেকে, নিজের অনুভূতিগুলোকে অসুস্থ মনে হতে লাগলো। ঘৃণা হচ্ছিলো, বড্ড ঘৃণা হচ্ছিলো নিজের প্রতি। প্রতিবারই মানুষ চিনতে ভুল করি আমি। মিতুর থেকে ঠক-প্রবঞ্চনায় কোন অংশে কম ছিল না লাবণ্য। বরং একটু বেশীই এগিয়ে ছিলো সে। এমনভাবে কেউ কাউকে ঠকাতে পারে সেটা লাবণ্যর সাথে পরিচয় না হলে আমি বোধ হয় জানতেই পারতাম না। দিন দিন অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছিলাম আমি। প্রথম প্রেমের দুঃখজনক পরিণতির পরও ভালোবেসেছিলাম লাবণ্যকে। কষ্ট হচ্ছিল যার মায়ায় জড়িয়ে নিজেকে পুনঃবার গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলাম সেই লাবণ্য আমায় চরমভাবে ফাঁকি দিলো! হে বিধাতা! বলে দাও তুমি। আমি কাকে বিশ্বাস করবো? চার দেয়ালের ভেতরের ঐ চিৎকার আমার কাছেই ফিরে আসে প্রতিধ্বনিত হয়ে। নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হচ্ছিলো। এরকমই মুহূর্তে এক বিকেলে কল করে লাবণ্য। নাম্বারটা খেয়াল না করেই রিসিভ করি কল। ওপাশ থেকে ভেসে আসে সুমিষ্ট কন্ঠস্বর, আসসালামু আলাইকুম। শরীরে আগুন ধরে যায় আমার। প্রচন্ড এক অভিমানে সালাম না দিয়েই কলটা কেটে দেই। শুরু হয় লাবণ্যর একের পর এক কল দেয়া৷ এক সন্ধ্যায় বিরক্ত হয়ে লাবণ্যর কলটা রিসিভ করেই বসি। সালাম দেয় লাবণ্য। জবাব না দিয়ে অনর্গল কথা বলা শুরু করি। এক নিশ্বাসে অনেকগুলো তিক্ত কথা শুনিয়ে দেই লাবণ্যকে। কথাগুলো শুনার পরও ফোনের ওপাশে মিনিট পাঁচেক চুপ করে ছিলো লাবণ্য। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কলটা কেটে দেয়। চলবে…