প্রত্যাখান_পর্ব(০৪)

প্রত্যাখান_পর্ব(০৪)
প্রত্যাখান_পর্ব(০৪)

প্রত্যাখান_পর্ব(০৪)

লেখা- অনামিকা ইসলাম ‘অন্তরা

সকালে অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হয়। আসবো? কন্ঠ শুনে বুঝতে পারলাম দরজায় লাবণ্য দাঁড়িয়ে। পেছনে না তাকিয়েই তাই জবাব দিলাম, আসো। নিঃশব্দে লাবণ্য আমার পাশে এসে দাঁড়ায়। আয়নার ভেতর দিয়েই দৃষ্টি যায় ওর দিকে। চোখ মুখ স্বাভাবিক। কেউ দেখলে বলতেই পারবে না এখন, গতকাল রাতে এই মেয়েটি প্রচন্ড এক অভিমানে হো হো করে কেঁদেছে। গায়ে সুগন্ধি পারফিউম মাখা শেষে ওর দিকে ফিরে তাকালাম। তারপর? লেখাপড়া কেমন চলছে? ভালো। ছোট্ট করে ওর জবাব। ব্যাগটা হাতে নিতে নিতে অতি ব্যস্ততার সহিত প্রশ্ন করলাম, কিছু বলবে? নিচের দিকে তাকানো অবস্থায় ওর জবাব, আমার কিছু কেনাকাটা করতে হবে। আন্টি বলেছে আপনার সাথে… পুরো কথা বলতে পারেনি লাবণ্য। তার আগেই আমার ঝটপট জবাব, অফিসের কাজে দু’দিনের জন্য ঢাকার বাহিরে যেতে হবে। আমাকে তাই এখনই বের হতে হচ্ছে। আশা কোচিং থেকে ফিরলে তুমি বরং ও’কে নিয়ে যেও। জবাবে ‘ওহ, আচ্ছা’ বলে নিঃশব্দে রুম ত্যাগ করে লাবণ্য। ২দিন পর — অফিসের কাজ শেষে ঢাকায় নিজ বাসায় ফিরতেই দেখি ব্যলকনিতে কারো জন্য গভীর প্রতীক্ষায় মা দাঁড়িয়ে। ‘কি হলো মা! এভাবে দাঁড়িয়ে আছ যে? কারো জন্য অপেক্ষা করছো কি?’ চটজলদি মায়ের জবাব, ফ্ল্যাট কেনার ব্যাপারে তোর বাবা গিয়েছিল মালিকের সাথে কথা বলতে। দেখ্, না! এতো রাত হয়ে গেছে। এখনো তো ফিরলো না…. পেছন থেকে জড়িয়ে ধরি মাকে। হাসোজ্জল মুখে বলে ওঠি, ওহ, মা! তোমাদের ভালোবাসা দেখলে না আমার বড্ড হিংসে হয়। এত বয়স হয়েছে, এখনো তোমাদের ভালোবাসা কমেনি! সামান্য চোখের আড়াল হতেই একজন আরেকজনের জন্য উতলা হয়ে….. পুরো কথা বলতে পারিনি। তার আগেই মা আমার কান টেনে ধরে। খুব হিংসে হয় না? দাঁড়া তোর বাবাকে বলে তাড়াতাড়ি বাড়িতে নতুন বউ নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছি…… নতুন বউ! কথাটা বলতেই দরজার সম্মুখে এসে দাঁড়ায় লাবণ্য। আমাকে দেখে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয় সে। অন্য দিকে তাকিয়ে মা’কে জানান দেয়, টেবিলে খাবার দিয়েছি আন্টি, খেতে আসুন…. লাবণ্য চলে গেলে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য মা এবং আমি দু’জনেই ড্রয়িংরুমের দিকে রওনা দিলাম। রাতের খাবার শেষে রুমে এসে বিছানায় গা’টা এলিয়ে দিয়েছিলাম। ভেতরে প্রবেশ করে পাশে এসে বসে মা। — কিরে! ঘুমাসনি? — এইতো, আয়োজন চলছে। — তারপর, বললি না তো কি করবো?! — কি করবে মানে? তোমাদের টাকা, থাকবেও তোমরা। এখানে আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছো এসব? — আমরা আর কতদিন থাকবো! তারপর তো তুই’ই…. — মা! খুব খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু! একদম বাজে কথা বলবে না… — আচ্ছা, এটা বল তোর ফ্লাটটা পছন্দ হয়েছে কি না! — অনেক। — ভেবে বলছিস তো?! — এত ভাবাভাবির কি আছে মা? বিগত অনেকগুলো বছর যাবৎ আমরা তো এখানেই আছি, তাই না? স্বভাবতই মায়া জমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আর সেই মায়ার টানেই হয়তো বা তোমরা বাকি জীবনটা এখানেই কাটাতে চাচ্ছো। ভালো কথা। অতি উত্তম সিদ্ধান্ত। কিনে ফেলো। — তারপরও তোর’ও তো একটা…. — মা, তোমাদের পছন্দ’ই আমার পছন্দ। — আলহামদুলিল্লাহ! — হুম। — আচ্ছা, ঘুমা তবে। চাকরি জীবন থেকে অবসর গ্রহন করেছে বাবা। চাকরির শেষ টাকা দিয়ে বাবা এই ফ্ল্যাট কিনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আমরাও সানন্দে তাই বাবার সিদ্ধান্তকে সাদুবাদ জানালাম। চলবে….