অবেলায় ভালোবাসা পর্ব-১৬

0
136
অবেলায় ভালোবাসা পর্ব-১৬
অবেলায় ভালোবাসা পর্ব-১৬

অবেলায় ভালোবাসা পর্ব-১৬

 

লেখা –সুলতানা ইতি

 

চলো আজকের এই দিন টা স্বরনীয় করে রাখতে তোমাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাবো
গাইথি- কোথায় সে জায়গা
চুহেস- গেলেই দেখতে পাবে
গাইথি- আমাদের বিয়ের কথা বলতে যাবেন না
চুহেস- দাড়াও একটা ব্যাবস্থা করে আসি, তুমি এখান থেকে একটু নড়বে না কেমন

এই বলে গাইথিকে কোন কথার সুযোগ না দিয়ে চুহেস বাসা থেকে বেরিয়ে যায়,, আবার বিশ মিনিট পর ফিরে আসে,
গাইথি- কোথায় গিয়েছেন?

চুহেস মুচকি হেসে বল্লো গিয়েছি এক জায়গায়,এখন চলো আমার সাথে
এই বলে গাইথিকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তার হাত ধরে টেনে নিয়ে গাড়িতে বসালো,
ড্রাইভিং সিটের পাশে বসলো গাইথি,চুহেস ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্ট্রাট করলো,,

সাইমুম দের ড্রইং রুমে বসে আছে সাইমুম, সাইমুমের মা আয়শা বেগম, সাইমুমের বোন জেরীন
সবার প্রথমে জেরীন ই বল্লো
– ভাইয়া এই গাইথি ভাবি তোকে এই রকম এড়িয়ে চলে কেনো, সে কি তোকে পছন্দ করে না
সাইমুম- বলতে পারছি নারে, এই তো আজ ওকে আমি অফার করলাম ঘুরতে যাবো,সে একদম রিজেক্ট করে দিলো,একটা দিন ও সে আমার সাথে কাটাতে চায়না,আর আমি কিনা আমেরিকাতে আমার সব কাজ ফেলে বাংলাদেশে পড়ে আছি,তা ও ওর জন্য

আয়শা বেগম- তা যা বলেছিস, গাইথি মেয়েটা এমনি খুব ভালো,

জেরীন – মা তুমি গাইথি কে ভালো বলছো কিসের ভিত্তিতে,

আয়শা বেগম- শ্রুতি আর আমরা পাশা পাশি থাকি,কতো ভালো আচার আচরণ মেয়েটার, তাই তো শ্রুতি কে বললাম তার কোন বোন থাকলে আমার সাইমুমের জন্য নিয়ে আসতাম,আর সে ও তার বোনের কথা বলে,তখন শ্রুতির মুখে শুনে যতো টা না ভালো ভেবেছি এখন গাইথি কে দেখে আর ও ভালো মেয়ে মনে হচ্ছে

জেরীন- কিছু মনে করোনা,মা,আমার মনে গাইথি বিয়েতে রাজি নয়

সাইমুম- তোর এই মনে হওয়ার কারন কি

জেরীন- দেখিস না,গাইথি তোর সাথে কথা বলাতো দূরে থাক,আমি গেলে ও আমাকে ও ইগনোর করে

আয়শা বেগম- কিন্তু সেই রকম কিছু হলে
ও বলছে না কেনো তার ফ্যামেলী কে

মায়ের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে সাইমুম বল্লো
– আমার মনে হয় গাইথি লজ্জা পায় আমাদের

জেরীন- হবে হয়তো, বলে উঠে চলে গেলো

আয়শা বেগম- একটু চিন্তিত ভঙ্গীতে বল্লো,আচ্ছা দেখ শেষ পর্যন্ত কি হয়,আমি যায় তোর বাবাকে একটা মেসেজ করতে হবে তোর বিয়েতে কি কি মার্কেট করা হবে,এই নিয়ে,
উনি চায় উনার একমাত্র ছেলের বিয়ের সব কিনা কাটা আমেরিকা থেকে করতে
এই বলে আয়শা বেগম উঠে যায়

সাইমুম যেমন ছিলো তেমন ই বসে আছে,,,ভাবছে সে,গাইথির এই ইগনোরেন্স আমি আর নিতে পারছি না,কি ভাবে কেমন করে জানি না,ওকে ভালোবেসে ফেলেছি আমি,
আমার কল্পনার সব টা ঝুড়ে এখন গাইথি ছাড়া কেউ নেই,ও যদি শেষে গিয়ে বিয়েটা করতে রাজি না হয় তা হলে….
এতোটুকু ভেবেই সাইমুম উঠে দাঁড়ালো নাহ আর ভাবতে পারছি না,,বুকের বিতর কেমন জানি করছে


চুহেস দের গাড়ি চলছে তো চলছে গাইথি বিরক্ত হয়ে গেলো,
– আমরা কিন্তু শহর থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি, আমরা যাচ্ছি কোথায়

চুহেস মুচকি হেসে বল্লো
– ভয় করছে তোমার

গাইথি- উফফ ঢং করবেন না তো,বলুন কোথায় যাচ্ছি

চুহেস- আর দশ মিনিট ধৈর্য্য ধরে বসো নিজে ই বুঝতে পারবে

কিছুক্ষন পর গাড়ি টা থেমে গেলো, চুহেস গাড়ি থেকে নেমে বল্লো
– নেমে পড়ো আমরা এসে গেছি

গাইথি ধুরু ধুরু বুকে গাড়ি থেকে নেমে বল্লো,এতো একটা জংগল বাড়ি, আপনি আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন কেনো

চুজেস মুচকি হেসে বল্লো-
সাইন বোর্ডের নাম টা দেখোতো
গাইথি দেখলো লেখা আছে ‘নেইজিনের নীড় ‘
গাইথি -এটা কি?

চুহেস- এখন তুমি বলো,এর অর্থ কি হতে পারে,ভাবতে থাকো তুমি,আর চলো বিতরে যাই

বিতরে গিয়ে তো গাইথির ধারনা পালটে গেলো বাইরে থেকে জংগল মনে হলে ও বিতর থেকে একদম ই জংগল মনে হচ্ছে না,, একটা সবুজ নদী বলা যেতে পারে,তবে এই রকম অদ্ভুত জংলি গাছ দিয়ে বাড়িটা সাজানো দেখে গাইথি একটু অবাক হলো

চুহেস- কি পছন্দ হয়েছে
গাইথি- এটা আপনার বাড়ি
চুহেস- হুম, মন খারাপ থাকলে একা সময় গুলো এখানে এসে কাটাই
এই বাড়ির কথা নিহার ও জানে না,খুব গোপনে কাজ টা আমি সম্পূর্ণ করি

গাইথি- আমি তো জেনে গেলাম
চুহেস দু পা পিছিয়ে গাইথির হাত ধরে বল্লো,এখন বাড়িটা তোমার ও তাই তোমাকে নিয়ে আসলাম,

গাইথি – ঐ ঝোপের বিতরে কি আছে, মনে হচ্ছে খুব অন্ধকার সেখানে

চুহেস- চলো দেখবে
গাইথি ঝোপের বিতর টা দেখে অবাক, বাইর থেকে দেখতে যতটা ভয়ানক অন্ধকার মনে হয়েছিলো, বিতরে ঠিক ততটা ই মনোরম দৃশ্য,
একটা ছোট টেবিল কয়েকটা চেয়ার, টেবিলের মাঝখানে অসাধারণ একটা টব

গাইথি- ওয়াও আপনার এই বাড়িটা সত্যি অসাধারণ, চলুন মূল ভবন টা দেখবো

চুহেস – ঠিক আছে,তবে এখন নয়,চলো তোমাকে আমার প্রিয় একটা জায়গা দেখাই

গাইথি অবাক হয়ে বল্লো
– এই পুরো বাড়ি টা ই তো আপনার প্রিয়ো,এর পরে ও আর প্রিয়ো আছে

চুহেস চলো ই না সব দেখবে,চুহেস গাইথিকে নিয়ে পুকুর পাড়ে গেলো

গাইথি- ওয়াও এখানে পুকুর ও আছে,

চুহেস -চলো নৌকায় উঠি
চুহেস আর গাইথি নৌকায় করে মাঝ পুকুরে যায়

গাইথি- এই পুকুরে কয়েকটা কচরি ফেনা থাকলে ভালো হতো,এই সময় কচরি ফেনাতে ফুল হয় আর ফুল গুলো পুকুরের সুন্দর্য দশগুন বাড়িয়ে দিতো,বলে গাইথি নৌকার এক প্রান্তে পানিতে পা ডুবিয়ে বসলো

চুহেস- ঠিক আছে এর পরের বার আসলে কচরি ফেনা ও দেখতে পাবে

গাইথি- সত্যি আপনার পছন্দের তুলনা হয়না,,পুরো বাড়িটা ই অসাধারণ, যে কারো মন ভালো করার মন্ত্র দিয়ে সাঝানো এই বাড়ি
গাইথি কথা বলতে বলতে এক সময় নিরব হয়ে যায়

চুহেস চুপ থেকে গাইথির নিরাবতা উপভোগ করছে
কিছুক্ষন পর গাইথি কথা বল্লো –
একটা কথা জানতে আমার খুব ইচ্ছে,কিন্তু আমি এ ও জানি আমার প্রশ্ন টা শুনলে আপনার মন খারাপ হবে তবুও কৌতহুল থেকে প্রশ্ন টা করতে হচ্ছে

চুহেস- এতো দ্বিধা করছো কেনো বাবুই, তোমার প্রশ্ন যতো ই কঠিন হোক আমি উত্তর দিবো

গাইথি একটু গম্ভীর হয়ে বল্লো
– খালি হাতে আপনি বাড়ি ছেড়ে ছিলেন, বলতে গেলে এক কাপড়ে, তা হলে এতো কিছু করলেন কি করে

গাইথির প্রশ্ন শুনে চুহেস একটা নিশ্বাস নিলো,তার পর বল্লো হুম প্রশ্ন টা তোমার মনে আসবে এটা স্বাভাবিক, তবে এর উত্তর টা ও খুব স্বাভাবিক, বলতে পারো তোমার প্রশ্নের মতো ই,,
সেদিন বড় জেঠুর কথা গুলো আমার খুব গায়ে লেগেছিলো,নিজেই নিজেকে বললাম আমার তো কেউ নেই, আমি এখানে না পড়ে থেকে অন্য কোথায় ও গেলে আমার একা জীবন ভালো ভাবেই কাটবে,বাবা মায়ের সাথে ঘুরতে এসে রাস্তার পাশে রাত কাটানো কতো ছেলেকেই দেখেছি,তাদের তো জীবন চলে যাচ্ছে,সেদিন আমি ও এই রকম একটা জীবনের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ি,,

একটা বাসে উঠে পড়ি বাস টা কোথায় যাবে আমি জানি না জিজ্ঞাস ও করিনি, কারন আমার তো কোন গন্তব্য ছিলো না, বাসের টিকেট নেই এই জন্য সারা পথ দাঁড়িয়ে ছিলাম,যখন গাড়িটা থামলো তখন বুঝলাম গাড়িটা ঢাকা এলো
গোলাপবাগ আসতেই একজন মহিলা নেমে গেলো,আমি ভাবলাম তার সিটে যদি একটু বসা যায়, সেই আসায় ঘুরে দাড়ালাম সিটের দিকে, দেখলাম একটা ব্যাগ,
মহিলাদের হাত ব্যাগ, আমি বুঝেছি ব্যাগটা ঐ মহিলার আমি ব্যাগ টা নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে পড়ি উদ্দেশ্য ব্যাগের মালিকের কাছে যাওয়া,
আমি বাস থেকে নেমে দেখি একটু দূরে মহিলাটি দাঁড়িয়ে আছে, আমি মহিলাটির কাছে গিয়ে বললাম
– আন্টি এই ব্যাগটা কি আপনার,
আন্টি ব্যাগের দিকে এক নজর তাকিয়ে আমার দিকে নজর দিলো বল্লো –
হা ব্যাগটা আমার মনে হয় ভুলে সিটে ফেলে এসেছি তাই না

আমি বললাম জ্বী,দেখুন ব্যাগের বিতর সব ঠিক আছে কি না,

আন্টি একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল, যে ব্যাগ টা ফিরিয়ে দিতে পারে সে ব্যাগের কোন কিছুই আড়াল করবে না,
তুমি কোথায় যাবে বাবা

আমি আন্টি কে কিছু বলিনি,আন্টি নিজেই বল্লো বুঝেছি বাড়িতে বাব মা বকা দিয়েছে বলে পালিয়ে এসেছো তাই তো,
একটু পর আমার ছেলে আমাকে এখান থেকে নিতে আসবে,তুমি কি আমার সাথে যাবে
আমি কিছুই বলতে পারলাম না
যেখানে পুটপাতে থাকার জন্য এলাম সেখানে আল্লাহ হয়তো আমকে থাকার জন্য একটা ব্যাবস্থা করে দিলো,
সেদিন আন্টির সাথে আন্টির বাসায় আসি, উনার ছেলে আমাকে খুব একটা ভালো চোখে দেখতো না,
না দেখা ই উচিত,যেখানে বর্তমানে মানুষ মানুষকে না না ভাবে ধোকায় ফেলতে ব্যাস্ত সেখানে উনি কেনো আমাকে ভালো চোখে দেখতে যাবে, আন্টি আমাকে খুব আদর করতেন

আমাকে তিনি বলতেন তুমি চিকির কথায় কিছু মনে করো না বাবা,ও একটু এমন ই

আমি বললাম না আন্টি আমি এখানে ভালো ভাবে থাকতে পারছি এটা ই অনেক বড়ো
আন্টি আমাকে বল্লো,এতো আন্টি আন্টি করিস না তো,কেমন পর পর লাগে খালাম্মা বলবি বুঝলি,আমার ছেলেটা ও হয়েছে এক রকম,কি সব বলে

রাবেয়া খালাম্মা সেদিন আমার সম্পর্কে সব কিছু জিজ্ঞাস করে,সব শুনার পর উনি বলে আজ তোমার বাবা মা থাকলে তোমার ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল হতো,
যাই হোক আমার বাসায় অনেক মানুষ আছে কাজ করার জন্য তোমাকে কাজ করতে হবে না,তোমাকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিবো,পড়াশুনা করবে
সেদিন আমি রাবেয়া খালার কথা শুনে খুব বিস্মিত হই, যেখানে আপন মানুষ পর করে দেয়,সেখানে অজানা মহিলাটা এতো কাছে টেনে নিলো

আন্টির কথা মতো পড়া শুরু করি এস এস সি এক্সামের পর আন্টির কথা মতো বিজনেস বিষয়ক পড়া শুনা শুরু করি, তত দিনে আন্টির ছেলে চিকি ফ্রান্সে চলে যায়,
আমার পড়াশুনা শেষ খালাম্মা তার ছেলে কে জানায়,
চিকি তখন তাদের এখান কার অফিসে এমডির আসনে আমাকে বসতে বলে, উনাদের সব কিছু দেখা শুনা করছি সব ভালো ভাবেই চলছে

হঠ্যাৎ একদিন খালাম্মা এসে জানায় তিনি ফ্রান্সে চলে যাবে তার ছেলের কাছে, আমি সেদিন খুব কান্না করেছি,খালাম্মা সেদিন নিহার কে আমার জন্য এনে দেয় বলে আজ থেকে এ তোমার সব ভালো মন্দের খেয়াল রাখবে বলতে পারো এ তোমার সেক্রেটারি, আন্টি চলে যায়,

নিজের প্রচেষ্টা তে আমি মেহেরা ফ্যাশন শো গড়ে তুলি,,তার পর থেকে ই আর আমাকে পিছনে তাকাতে হয়নি,

চুহেস থেমে যেতেই গাইথি বল্লো
– বাবা সত্যি আপনার উপর অনেক অন্যায় করেছে,
চুহেস আমি সে সব ভাবি না গাইথি,,আল্লাহ যে রাবেয়া খালাম্মার মতো একজন মা মিলিয়ে দিয়েছে আমাকে এটা ই অনেক,

চুহেস গাইথির দিকে তাকিয়ে বল্লো একি তুমি কাদছো
গাইথি- কই না তো

চুহেস আমার কাছে লুকিয়ো না,আমার কোন অভিযোগ নেই তোমার বাবার প্রতি, যদি অভিযোগ থাকতো তা হলে আমাদের দুজনের পথ এক হতো না

গাইথি – এক হলো আর কই,আপনি তো এখন ও বাবা আর ভাইয়া কে কিছুই বলেন নি

চুহেস মুখ টিপে হাসলো বল্লো,
– আমার হয়ে সব কথা নিহার বলবে,বলতে পারো ঘটকের কাজ টা নিহার করবে

গাইথি- ভীতু একটা নিজে বলতে পারে না আবার ঘটক ধরেছে

to be continue

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here