অবেলায় ভালোবাসা পর্ব-১১

0
108
অবেলায় ভালোবাসা পর্ব-১১
অবেলায় ভালোবাসা পর্ব-১১

অবেলায় ভালোবাসা পর্ব-১১

 

লেখা –সুলতানা ইতি

 

চুহেস তো আমাদের কোন সুযোগ ই দিচ্ছে না

নিহার – সুযোগ টা আপনাদের করে নিতে হবে সে জন্য চুহেস স্যারের কাছা কাছি থাকলে ভালো হতো।

আদনান- আমার জন্য কোন প্রব্লেম নেই আমার তো এখানে ই থাকতে হয়, এখন, বাবা,আর গাইথি কি বলে সেটা ই বড় কথা

আহমদ মেহেরা- এই বয়সে এসে নিজেকে খুব অপরাধি মনে হচ্ছে,কি করবো বুঝতেছি না

গাইথি- আমার মনে হয় থাকা উচিত,তবে এখানে নয়,ভাইয়া তুমি আলাদা একটা বাসা বাড়া করো আমরা সেখানে গিয়ে উঠবো,কারো বাসায় এ ভাবে থাকতে কেমন জানি লাগে

ঐশী- ঠিক বলেছিস তুই গাইথি, তোর ভাইয়া চাকরি যেহেতু ঢাকায় করে সেহেতু কোন প্রব্লেম আছে বলে মনে হয় না

নিহার- ঠিক আছে,আপ্নারা যা ভালো বুঝেন, নিহার বেরিয়ে গেলো

চুহেস বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে, ভাবছে বাবুইর কথা চোখে চোখ পড়ার পর বাবুইর লজ্জা মাখা চাহনি টা বার বার মনের পাতায় ভাসছে, খুব ইচ্ছে করে বাবুই কে বলতে,যাসনে আমাকে ছেড়ে আমি যে খুব ই তৃষ্ণাত্ব, ভালোবাসার তৃষ্ণা যে অনেক বেশি, কিন্তু বলতে ছেয়ে বলতে পারি না,ও যে আমার নয়,

এর মাঝে নিহার এসে চুহেসের পাশে দাঁড়ায়
নিহার- স্যার কি ভাবছেন

চুহেস- কিছু না,,তুমি যাও আমার জন্য এক মগ কফি নিয়ে ছাদে এসো, আমি যাচ্ছি,

নিহার-ঠিক আছে বলে বেরিয়ে যায়,কিচেনে না গিয়ে গাইথি কে গিয়ে বলে
ম্যাডাম,স্যার ছাদের উপরে, আপনি এক মগ কফি করে নিয়ে যান তার জন্য

গাইথি খুশি হয়ে বল্লো
– উনি কি আমাকে নিয়ে যেতে বলেছেন
নিহার কিছু বল্লো না
শুধু বল্লো তাড়া তাড়ি যান

গাইথি যেন খুশিতে ডান্স করতে ইচ্ছে করছে, তার পর নিজেকে সামলে নিয়ে কিচেনে গিয়ে কফি করে,ছাদের দিকে যায়,গিয়ে দেখে চুহেস গিটার হাতে রেলিং ধরে দাড়িয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে

গাইথি চুহেসের পাশে যেয়ে হালকা করে গলাটা কেশে নিলো
চুহেস চমকে উঠে ভ্রু কুঁচকে পাশে তাকিয়ে বলে
– তুমি?

গাইথি- আপনার কফি

চুহেস- তুমি কেনো আনলে? নিহার কে তো আনতে বলেছিলাম

গাইথি- বলে ছিলেন, কিন্তু উনি কি যেন একটা কাজে আটকা পড়েছে তাই আমি নিয়ে এলাম,কেনো আমি কি নিয়ে আসতে পারি না?

চুহেস কোন কথা বল্লো না,কি বা বলবে সত্যি ও ছেয়েছে বাবুই তার জন্য কফি করে নিয়ে আসুক,

গাইথি ভাবছে এখন ও আগের সেই চাহনি,ভ্রু কুঁচকে তাকানো, এই তাকানো দেখে ছোট বেলায় কত ভয় পেতাম, এখন ভয়ের বদলে প্রেমে পড়লাম,

এ ভাবে দুজনে কিছুক্ষন ভাবনায় ডুবে থেকে নিরাবতা ভাংলো গাইথি
– কিছু বলছেন না যে

চুহেস- কি বলবো

গাইথি- সেটা ও কি আমি বলে দিবো

চুহেস- তোমরা যাচ্ছো কখন

চুহেসের মুখে কথা টা শুনে গাইথির হাসি খুশি মুখ টা মলিন হয়ে গেলো,তা হলে কি, চুহেস চায় আমরা এখানে না থাকি,তবু গাইথি নিজেকে সামলে নিয়ে বল্লো
– আমরা যাচ্ছি না

চুহেস গাইথির কথা শুনে এক্সাইটেড হয়ে বল্লো
– সত্যি, সত্যি তোমরা যাচ্ছো না এখানে থাকবে

চুহেসের এই এক্সাইডমেন্ট দেখে গাইথি মনে মনে অনেক খুশি, তার পর বল্লো
– আমরা এখানে থাকছি না তবে ঢাকা থেকে ও যাচ্ছি না, ভাইয়া কে বলেছি ফ্ল্যাট খুঁজতে, ভালো ফ্ল্যা ফেলে চলে যাবো এখন থেকে

গাইথির কথা শুনে চুহেসের খুশি টা উবে গেলো
কিছুক্ষন আনমনা হয়ে গেলো তার পর নিজেকে সামলে নিলো,এই ভেবে যে কত দূরেই বা আর যাচ্ছে,চোখের সামনে না থাকুক,এক শহরে তো থাকবো,

তার পর গাইথি কে উদ্দেশ্য করে বল্লো
– হঠ্যাৎ শহরে থাকার ইচ্ছে হলো কেনো

গাইথি- মিশমির জন্য মিশমি ভাইয়া কে ছেড়ে কিছুতেই যাবে না তাই, এই সিদ্ধান্ত

চুহেস- কেন তোমার থাকতে ইচ্ছে করে না?

গাইথি এই প্রশ্নের উত্তর দিলো না,কথা গুরিয়ে বল্লো
– কফি কেমন হয়েছে? এই প্রথম নিজ হাতে কিছু একটা করলাম, তা ও আপনার জন্য

চুহেস কফির মগে চুমুক দিতে দিতে বল্লো
– ভালো, কিন্ত মনে মনে বল্লো,(আহ মনে হচ্ছে না নতুন হাতের তৈরী,মনে হচ্ছে ফাকা হাতের কফি) তার পর বল্লো কেনো বাড়িতে সব কাজ কে করে

গাইথি- কে আবার ভাবি করে আমার কাজ মিশমি কে সামলানো

চুহেস- ওহ আগে আগে বুঝি বাচ্ছা সামলানোর ট্রেনিং নিচ্ছো,ঠোঁটে দুষ্টুমির হাসি তার

গাইথি লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে গুরে দাঁড়িয়ে বল্লো
– আপনি বুঝি গিটার বাজাতে পারেন

চুহেস- না, তেমন পাকা হাত না আমার,কাজ না থাকলে রোজ বিকেলে ছাদে উঠে,বেসুরে সুর তুলি

গাইথি- বেসুরে কেনো
চুহেস- আমার যে নিজের কোন সুর নেই

গাইথি কিছু বল্লো না,ছাদের উপর গোলাপ বাগানের দিকে ছেয়ে আছে।
আর কিছু বলার ইচ্ছে হলো না

তার পর বল্লো
– আপনি এ ভাবে রেলিং ধরে কতোক্ষন থাকবেন,

চুহেস- রাত দশটা,তার পর রুমে যাবো

গাইথি- ডিনার কখন করেন

চুহেস- রাত দশটার পরে
গাইথি কি যেন ভাবলো তার পর বল্লো ঠিক আছে আমি তা হলে যাই,
গাইথি চলে গেলো চুহেস আবার ভাবনার জগতে ডুবে গেলো, যদি এ ভাবে ই আমার বাবুই কে খাচায় ভরে রাখতে পারতাম,দিন শেষে ক্লান্ত শরির নিয়ে গল্প করে ক্লান্তি দূর করার একজন সংগি হতো, তার পর চুহেস গিটারে সুর তুলে আনমনা হয়ে গেয়ে উঠলো “”একটু শিতল ছায়া তুমি ক্লান্ত পথের শেষে হাত বাড়িয়ে ডাকো আমায় ঘুম পাড়ানির দেশে””

গাইথি নিচে এসেই কিচেনে ডুকলো,তার আগে নিহারের সাথে দু মিনিট কথা বল্লো,এই চুহেস কি পছন্দ করে এই নিয়ে

নিহার একটু অবাক হলো গাইথির কথা শুনে পরোক্ষনে ঠোটের কোনে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠলো,

গাইথি কিচেনে গিয়ে,রান্না শুরু করলো তা ও আবার রেসিপি দেখে,মনে খুব ভয়, রান্না যদি ঠিক ঠাক না হয় তা হলে মান সম্মান কিচ্ছু থাকবে না,,
তা ও রান্না টা খুব কঠিন,গাইথি মনে মনে বল্লো কঠিন হলে আমার প্রব্লেম নেই, ঝাল বিপ বিরিয়ানি, খেয়েছি অনেক কিন্তু রান্না করেছি এই প্রথম,চুহেসের পছন্দের খাবার এটা মনে মনে কথা বলতে বলতে গাইথি রান্না শেষ করলো,

টেবিলে খাবার সাজিয়ে গাইথি সবাইকে ডাকলো,চুহেস ছাড়া বাকি সবাই খেতে এসেছে
ঐশী- জীবনে প্রথম বার গাইথির রান্না খাবো আজ, আমার তো তর সইছে না এই বলে খেতে বসে গেলো

গাইথি নিহার কে বল্লো আপনার স্যার আসবে না
নিহার-স্যার তো এতো তাড়া তাড়ি খায় না,স্যারের খাবার টা পরে রুমে দিয়ে আসলে ই হবে, সবাই খাওয়া শুরু করলো

আদনান – কিরে তুই যে এতো ভালো রান্না পারিস,আগে জানতাম না তো

ঐশী- জানবে কি করে আগে কি এই বাসায় এসেছি নাকি, কথা টা বলে মুখ টিপে হাসলো ঐশী

নিহার- ঠিক বলেছেন, মেয়েদের এই একটা অসিম ক্ষমতা,ভালো রান্না করে খাইয়ে অনেক প্রশংসা কুড়িয়ে নিতে পারে কিন্তু ছেলেরা তা পারে না

গল্পের মাঝে সবার খাওয়া শেষ হলো
গাইথি চুহেসের জন্য টেবিলে খাবার সাজিয়ে রাখলো,ইচ্ছে করে ই খাবার টা রুমে দেয়নি

রাত এগারো টার পরে চুহেস নিহার কে ডেকে বল্লো
– নিহার আজ কি খাবার রান্না হয়নি নাকি আমার রুমে এখন ও খাবার এলো না যে

গাইথি ডাইনিং রুম থেকে বল্লো,খাবার তো দু ঘন্টা আগে হয়েছে,আপনি আসলে খেতে পারবেন

চুহেস- আমি রাতের খাবার রুমে বসে খাই, সো বুয়া খালা কে দিয়ে খাবার টা রুমে পাঠিয়ে দাও,

গাইথি উঠে গেলো ডাইনিং রুম থেকে
গিয়ে চুহেস কে বল্লো
– এই যে কি সমস্যা আপনার,সে কখন থেকে খাবার নিয়ে বসে আছি,এখন বলছেন খাবার রুমে দিতে,নতুন বর নাকি আপনি, ওখানে গিয়ে সবার সাথে খেতে লজ্জা করছে

চুহেস- বাহ দু দিন হয়নি এসেছো এর মধ্যে এতো সাহস হয়ে গেলো তোমার,আমার বাড়ি আমি যেখানে ইচ্ছে সেখানে খাবো তাতে কার কি

গাইথি চুহেসের কথা শুনে কান্না করে দিলো,ওহ তাই তো আসলে আমি ভুলে গিয়েছিলাম,এটা আপনার বাড়ি আমার এখানে কথা বলার কোন অধিকার নেই
গাইথি চোখ মুছে সেখান থেকে দূত পা ফেলে নিজের রুমে চলে আসে

to be continue

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here