Angry_Husband Season_2___Part_10

Angry_Husband
Season_2___Part_10
Written by Avantika Anha
মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলো আমার। কারণ পাশে কেমন একটা ডাক শুনতে পাচ্ছিলাম। ভয় পেয়ে আরাভকে ডাক দিতে লাগলাম।
আরাভ- কি হইছে এতো রাতে ডাকছো কেনো?
আমি- আমার ভয় করছে।
আরাভ- কেনো কি হলো? এখানেও ভুতের ভয় পাইলা নাকি?
আমি- হুম। দেখেন বাইরে কিসের জানি শব্দ হচ্ছে।
.
আরাভ কিছুক্ষণ মনোযোগ দিয়ে শুনে হাসতে শুরু করে দিলো।
আমি- ভুতের মতো হাসছেন কেনো?
আরাভ- শিয়াল ডাকছে।
আমি- ও আচ্ছা। ওমা গো শিয়াল মানে আশে পাশে ভুত আছে?
আরাভ- আরে না।
আমি- আম্মু আমার ভয় লাগছে।
.
এইটা বলে আমি আরাভের আরও কাছাকাছি গেলাম।
আমি- এখন কি হবে? ভুউউউত। (আরাভের একটা হাত ধরে ফেললাম)
আরাভ- আরে ভয় পাইয়ো না তো।
আমি- আমার ভয় লাগতেছে খুব।
আরাভ- আমি আছি তো।
.
এমন সময় হোটেলের লাইট গুলোও অফ হয়ে গেলো।
আরাভ- দাড়াও খোঁজ নিয়ে আসছি।
আমি- না আপনি কোথাও যাবেন না। আমিও যাবো আপনার সাথে।
আরাভ- আরে দেখো পুরো হোটেলে লাইট অফ হয়ে গেছে। হোচট খেলে কি হবে?
আমি- জানি না আমি যাবো আপনার সাথে।
আরাভ- আচ্ছা চলো। ফোনের লাইটই সম্বল।
.
আমি আরাভের হাত ধরে এগিয়ে গেলাম। আমাদের মতো অনেকে বের হয়ে এসেছে। পুরো হোটেলেই ইলেক্ট্রিসিটি নাই। আমি আরাভের হাত অনেক শক্ত করে ধরে আছি। আরাভ ভালো করেই বুঝেছে যে আমি ভয় পাচ্ছি। নিজে গিয়ে শুনলাম কি একটা প্রব্লেম হইছে। সকালের আগে ঠিক হবে না। ইলেক্ট্রিক মেকানিক আসবে এখনি জরুরীভাবে ডাকা হয়েছে। সবাইকে অপেক্ষা করতে বলা হলো। রুমে বসে আর কি করবো এই ভেবে আমি আরাভকে বললাম বাইরে হাঁটি একটু। আরাভ প্রথমে রাজী না হলেও পরে রাজী হলো। মাঝরাতে বাইরে কখনো হাঁটি নি। এটাও প্রথম অনুভূতি। এই এতো ঘুরতে আসাটাও প্রথম অনুভূতির মতো। কারণ আমি কোনোদিন এতোদূরে ঘুরতে আসি নি। প্রথম একবার কক্সবাজার যেতে চেয়েছিলাম। টাকাও ম্যানেজ কিন্তু আম্মু আমাকে যেতে দিবে না এতোদূর একা একা।
আরাভ- কি চুপচাপ যে।
আমি- রাতে অন্ধকার আকাশের সৌন্দর্য অনেক বেশি তাই না। চাঁদটাও দারুণ লাগছে।
আরাভ- হুমম। কিন্তু তোমাকে তো ভুতের মতোই লাগছে।
আমি- কিহ? কেমনে কি?
আরাভ- এলোমেলো চুলে।
আমি- আপনি কি জানেন একসময় এক কাজিন আমার এলোমেলো চুল নিয়া কবিতা লিখছিলো আর বলেছিলো আমাকে এলোমেলো চুলে দারুণ লাগে।
আরাভ- তোমাকে কিভাবে দেখলো?
আমি- কাজিনটা আমাদের বাড়িতে ঘুরতে আসছিলো তখন ওর বোন আমার রুমে ছিলো। ওকে ডাকতে এসেই দেখেছিলো। আমার দূর সম্পর্কের কাজিন হয়।
আরাভ- ওহ। আজকের পর এলোমেলো চুলে কারো সামনে যাবা না। মাথা ঢেকে ফেলো।
আমি- হিহি পোড়া পোড়া গন্ধ।
আরাভ- যা বলছি করো। (একটু জোড়েই বললো)
আমি- ঢাকতেছি। এতো রাগার দরকার নাই। বাচ্চা মেয়ে
আমি।
আরাভ- ন্যাকামি করবা না।
আমি- ফাইন আমি থাকবোই না। আমি গেলাম রুমে।
.
আমার রাগ উঠে গেছে। যখন তখন বকে কেনো আমাকে? আমি কি করছি। একটুতেই রাগে। চারপাশে কিছু মানুষও ছিলো। ওরা কি ভাবছিলো। খালি বকে আমাকে। এই ভেবে আমি অন্ধকারেই হোটেলের দিকে চলে গেলাম। কিন্তু যাবো কোনদিকে জানি? হঠাৎ করে রুম কোনদিকে তা ভুলে গেলাম। আল্লাহ আমি যাবো কই? প্রচুর ভয় পেয়ে গেছিলাম। তাই না জেনেই একপাশের সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেলাম। কিন্তু মনে হচ্ছে ভুল দিকে চলে আসলাম। ভয়ে পুরা লাল হয়ে যাচ্ছিলাম আমি। হাটতে হাটতে দেখলাম সামনে এক দিকে কোয়েকটা ছেলে ড্রিংক করছে। এটা দেখে উল্টা দিকে দৌড় মারলাম। তাড়াহুড়া করে আবার কোন পাশে গেলাম জানি না। এবার কোনো কোনো দিকে হালকা আলো দেখতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু আমি যে হারায় গেছি তা বুঝছিলাম। এতোই ভয় লাগছিলো যে মনে হচ্ছিলো এটা একটা দুঃস্বপ্ন। নিজের উপর রাগ উঠছিলো কেনো যে চলে আসলাম। ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে কোনদিক যাচ্ছিলাম জানি না। হঠাৎ করে আবার সিড়ি পেলাম কিন্তু নিচে নামে দেখি ওইদিক আরো অন্ধকার। আমি কোনদিক যাবো বুঝছিলাম না। আমি যে কই আছি এটাও জানি না। ফোন সাথে না নেওয়ায় রাস্তাও পাচ্ছিলাম না। তাই হাটতে হাটতে কোনদিক জানি চলে আসলাম। হঠাৎ কে জানি আমার হাত ধরে টান দিলো আর আমার হাত গালে চলে গেলো। কারণ আমি থাপ্পড় খেয়েছি। এই থাপ্পড়ের সাথে আমি গভীরভাবে পরিচিত। হুম আরাভই থাপ্পড় মেরেছে।
আরাভ- তুমি কি পাগল? কে যায় এভাবে? কখন থেকে খুঁজে যাচ্ছি। কোন পাগল হোটেলের পিছন সাইডে আসে? আমি ভাগ্যিস একবার দেখতে এলাম। নইলে যাইতা যে কই আল্লাহ জানেন ? কি হলো কানে কথা যায় না? কথা বলো না কেনো? ইচ্ছা করছে তোমাকে আমি আরও কয়েকটা থাপ্পড় মারি।
.
আমি কিছু না বলেই ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম। ও কিছু বলছে না। আমি ওকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। আমি কাঁদতেই ছিলাম। আরাভ এখনো কিছু বলছে না। হঠাৎ ও নিজেও আমাকে জড়িয়ে ধরলো। তার কিছু সময় পর আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমার চোখ মুছে দিলো।
আমি- সরি। আধরলাম। জানতাম না। আমার না খুব ভয় করছিলো। (ভয়ে ভয়ে সব কথা বলছিলাম। সেই সাথে কাঁদার ফলে শব্দ গুলোও থেমে থেমে বের হচ্ছিলো)
আরাভ- চুপ একদম চুপ বাদ দেও। ভয় লাগে নি একা যেতে।
আমি- অনেক ভয় লেগেছে।
.
এই বলে আবার কেঁদে আরাভকে জড়িয়ে ধরলাম।
আরাভ- সত্যি পাগলি। কি এখন কি ঘরে যাবা?
আমি- হুম। আপনি আমার হাত ধরে থাকুন ছাড়বেন না কিন্তু আমার না ভয় করছে।
আরাভ- মরে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ছাড়বো না।
আমি- মরবেন না। আমি এখানে থাকবো না রুমে চলেন।
আরাভ- আচ্ছা। তোমার ফোন কই?
আমি- আনি নি।
আরাভ- ও আচ্ছা কল দিছিলাম। কিন্তু ধরো নাই।
আমি- আমার কাছে তো ছিলোই না।
.
আমি আর আরাভ রুমে চলে গেলাম। আরাভের কাধে মাথা দিয়েই বলতে লাগলাম কি কি হলো কেমন কেমন হলো। নিজেকে ওর পাশে বড্ড সুরক্ষিত লাগছিলো। আমি জানে গেছি ভালো করেই যে আমি আরাভকে ভালোবাসি। আরাভ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলো। আরাভ যে অনেক কেয়ারফুল আজকাল আমি ভালো করেই বুঝতেছি। আমি ঘুমিয়েই পড়লাম।
আরাভ- কি হলো কথা বলছো না যে?
.
আমার জবাব না পেয়ে আলো আমার দিকে দিয়ে দেখলো আমি ঘুমিয়ে গেছি। আরাভও আমার মায়ায় জড়িয়ে গেছে। কিন্তু ওর রাগটা অনেক বেশি যার প্রমাণ সে আমার গালে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। গাল লাল হয়ে আছে। ও আমার গালে হালকা স্পর্শ দিয়ে আমার কপালে কিস করলো। নিজেও হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়লো ব্যালকোনির সোফায় হেলানি দিয়ে। সকালে একটু দেরিতেই ঘুম ভাঙলো আমার। আমি নড়ে উঠতেই আরাভেরও ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আমার আবার ঘুম থেকে উঠে মাথা বেশি চলে। কারণ আমি ঘুমের ঘোরেও কিছু না কিছু ভাবি। আরাভকে নিজের ভালোবাসার কথাটা বলবো। কিন্তু এতো স্পেশাল একটা জিনিস যে আমাকে স্পেশাল ভাবেই বলতে হবে এটা ভাবছিলাম। কিভাবে করবো ? এখান থেকে যাওয়ার আগেই নাকি যাওয়ার পরে এটা ভাবছিলাম। ভাবলাম স্পেশিয়াল জিনিসটা যাওয়ার পরেই করবো। মিমির সাথে আলোচনা করে প্লান করবো তারপর করবো নে প্রপোজ এটাই ভাবছিলাম।
আরাভ- কি ঘুমের ঘোর কি কাটে নি?
আমি- কাটছে। কিন্তু একটা জিনিস ভাবছি।
আরাভ- কি?
আমি- আপনি আর আমি তো বর বউ তাই না। আমরা আমাদের লাইফ এর সব একে অপরকে জানাই নাই এখনো তাই নায
আরাভ- হুম তা ঠিক।
আমি- তাহলে চলেন বলি একে অপরকে। আমি একবার আম্মুর এক সেট ভেঙ্গে ফেলছিলাম পরে দোষ প্রেয়সির ঘাড়ে চাপাইছি।
আরাভ- আমার এমন কিছু নাই। আমি সবসময় স্বীকার করি।
আমি- ….(আমি অন্যান্য বিভিন্ন জিনিস বললাম।)
আরাভ- একবার এক মেয়ে আমার নামে মিথ্যে নালিশ দিছিলো। আমি শাস্তি পেয়েছিলাম। ওর কিছুদিন পর ছুটির সময় আমি ওকে কাঁদায় ফেলে দৌড় দিছিলাম। ও আমাকে দেখে নি।
আমি- হিহি আপনিও ফাজিল তাইলে। আমি তো একবার একদল ছেলের গায়ে পানি ঢেলে দিছিলাম। কারণ ওরা এক মেয়েকে জ্বালাচ্ছিলো।
আারাভ- ফাজিল ঠিক না। আমার সাথে কেউ কিছু করলে আমি তাকে ছাড়ি না।
আমি- কোনো মেয়ে আপনাকে‌ লাইন মারে নি? আই মিন হাত কাটে নি অথবা পাগলামি।
আরাভ- এক কাজিন অনেক বাজে কাজ করেছিলো।
আমি- কি?
আরাভ- ও আমাকে লিপ কিস করতে ট্রাই করেছিলো।
আমি- ওই বান্দরনি টা কে ? আপনাকে কিস করতে আইবো কেনো? লুচু মাইয়া।
আরাভ- বউ না করলে তো করবেই।
আমি- না আপনাকে কিস করলে আমি করবো ও কেনো? যতো কিস লাগবে আমি দিবো আপনি না।
আরাভ- তাই নাকি ।
.
এমা আমি কি বলে ফেললাম। অনেক লজ্জা পেয়ে গেলাম। কিছু না বলেই বাথরুমে দৌড় দিলাম। ফ্রেশ হয়ে এসে আরাভের দিকে তাকাচ্ছিলাম না। কিন্তু অনেক লজ্জা পাচ্ছিলাম। আরাভ আমার এই অবস্থা দেখে মুচকি হাসছিলো।
.
চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here