Angry_Husband Season_2___Part_7

Angry_Husband Season_2___Part_7
Angry_Husband Season_2___Part_7

Angry_Husband
Season_2___Part_7
Written by Avantika Anha
পরেরদিন….
সকালে..
ঘুম থেকে উঠে দেখি আরাভ আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে।আরাভের ঘুমন্ত মুখটা দেখে কেউ বলতেই পারবে না এই ছেলে এতো রাগী। ইচ্ছা করছিলো আমার যে, ওরে একটু…
.
কি পাঠক কি ভাবেন? হিহি ইচ্ছা করছিলো ওর গাল দুইটা টানি। যেই ভাবা সেই কাজ। আস্তে আস্তে আরাভের গাল টানতে লাগলাম। কিন্তু সেটা আর বেশি সময় হলো না। ওর ঘুম ভেঙ্গে গেলো। আমি পুরাই ভয় পেয়ে গেলাম কি হবে ? এই ভেবে যে, আরাভ আমারে কি যে করবে। ওর ঘুম এত্ত পাতলা কেনো? এসব প্রশ্নই মাথায় ঘুরছিলো।
আরাভ- কি করছো?
আমি- গাল টানি।
আরাভ- কেনো?
আমি- না মানে সরি।
আরাভ- সরি বললে তো হবে না।
আমি- মারবেন না প্লিজ।
আরাভ- মারবো কেনো?
আমি- না এর আগে একটা বাচ্চার গাল টানছিলাম। সে আমাকে কামড় দিছে। সেইইই ব্যাথা পাইছিলাম।
আরাভ- হাহাহা। (হাসতে লাগলো)
আমি- হাসেন কেনো? ব্যাথা পাইছিলাম আর আপনার মজা লাগে।
আরাভ- একটা বাচ্চার কাছে কামড় খাও হাহা। আর সামান্য কামড়ে ব্যাথা। হাহাহা
আমি- ব্যাথা কেমন দেখবেন? খাড়ান।(এই বলে আমি আরাভের গলার কাছে একটা কামড় বসিয়ে দিলাম)
.
আরাভ থতমত হয়ে গেলো।
আরাভ- কামড় দিলা কেনো?
আমি- হিহি। আপনি হাসলেন কেনো?
আরাভ- দাড়াও এবার আমি মজা দেখাচ্ছি। (আরাভ এক হাত দিয়ে আমার মুখ আটকে ধরলো। আরেক হাত দিয়ে আমাকে ওর আরও কাছে নিয়ে গিয়ে আমারো গলায় কি কামড় বসালো।)
আমি- এ্যা এ্যা এ্যা (কাঁদতে লাগলাম। কারণ আমার লেগেছে)
আরাভ- কাঁদো কেনো?
আমি- আপনি পঁচা।
আরাভ- হাহা তুমি যে কাঁমড় দিলা।
আমি- হুহ। আরও দিবো। (এই বলে ওর ঘাড়ে আরেকটা কামড় দিয়ে ওখান থেকে পালালাম)
.
তারপর ও যেখানে একা ছিলো সেখানে আমি যাচ্ছিলাম না।
খাবার টেবিলে দেখলাম ওয় কলার দিয়ে শার্ট পড়েছে। এতে ওর ঘাড় আর গলা কিছুটা ঢেকে গেছে। কিন্তু তবুও গলার টা দেখা যাচ্ছে। এই দেখে আমি হাসা শুরু করলাম। কাপলদের কেনো যে পাশাপাশি বসতে হয়। আমি ওড়না দিয়ে গলাটা পেচিয়ে রাখছি।
আম্মু- কি রে এভাবে ওড়না নিলি যে। গলা ব্যাথা নাকি ?
আমি- না আম্মু। স্টাইল আর কি। (মিথ্যা বললাম)
আরাভ- (বুঝে গেছি কেনো এমন করে ওড়না নিয়েছে)
আম্মু- তুই আর তোর স্টাইল হায় রে।
আমি- হুহ।
প্রেয়সি- (কানের কাছে এসে বললো…) আপু কি ঢাকো লাভ বাইট নাকি?
আমি- চুপ।
প্রেয়সি- ভাইয়ারও গলায় দেখতেছি যে।
আমি- বেশি দেখা শুরু করছিস।
আম্মু- তোরা কি ফুসফুস করতেছিস?
আমি- না মা কিছু না।
প্রেয়সি- না আম্মু আপুর..
ও কিছু বলার আগেই আমি ওর মুখ চেপে কানে কানে বললাম, “তোরে গিফ্ট দিমু চুপ কর।” ও আর কিছু বললো না। কথা ঘুরিয়ে নিলো।
.
আরাভ- কি হইছে? (জিগাইলো আস্তে)
আমি- ও বুঝে ফেলছে কামড়ের দাগ।
আরাভ- সব দোষ তোমার। লজ্জার অবস্থা।
আমি- দুরর বাদ দেন। আমরা কি পর নারী পুরুষ। কি হবে? (আস্তে আস্তে বললাম)
আরাভ- জবাব দিলো না। আরকি কোনো জবাবই খুঁজে পেলো না লজ্জায়।
.
.
দুপুর ১২ টায়….
আমি মিমির সাথে কথা বলছিলাম ফোনে, এমন সময় আরাভ আসলো কিন্তু আমি ওকে দেখলাম না। আমি আর মিমি সবদময় একে অপরকে বাবু,জানু,সোনা করেই কথা বলি তাই সেভাবেই কথা বলছিলাম। আরাভ জানতো না আমি মিমির সাথে কথা বলছি…
আমি- বাবু আই মিস ইউ।
মিমি- মিস ইউ টু গো। বিয়ের পর তো ভুলেই গেলি।
আমি- না গো তোমাকে কি ভুলি নাকি? শুনো আজ বাড়ি এসো । ঘুরতে যাবো।
মিমি- তোর বর যাবে?
আমি- না যাস্ট ইউ এন মি। ওকে বাই। ওয়েট করছি।
.
আরাভ ভাবছে কার সাথে এতো কথা। আর এরকম কথা কেনো। আমি এইদিকে ফোনে কথা বলে গোসলে গেলাম। আরাভ কিছুটা রেগে যাচ্ছে। যে কার সাথে এমন কথা। ওর মাঝে কিউরিসিটিও হচ্ছে যে, কে সে? ও একবার এগিয়ে যাচ্ছিলো ফোনের কাছে আরেকবার পিছিয়ে যাচ্ছিলো। গিয়ে ফোন হাতে নিলো। কিন্তু দেখে ফোন লক করা। রাগ উঠে গেলো। কিন্তু কি করবে ও? সোজা তো আর বলতে পারবে না ও যে কে ফোন করছে জানবে ও। ওর মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। অপেক্ষা করতে লাগলো আমার বাইরে আসার। আমি গোসল শেষে বাইরে আসতেই ও আমার কাছে আসলো…
আমি- কি হইছে আর আপনার হাতে আমার ফোন কেনো?
আরাভ- না মানে পাস টা দেও তো। আমার ব্যালেন্স শেষ কল করবো একটা জরুরী।
আমি- ও দেন। (পাস টাইপ করে ওরে দিলাম)
.
আমি চলে গেলাম ছাদে চুল শুকাতে। এদিকে আরাভ ফোনের কললিস্টে গিয়ে দেখে মিমির নাম। এটা দেখে নিজের প্রতি একটা লজ্জাবোধ আসলো। কিন্তু কিছু বললো না। পরে আমাকে অনেকগুলো কিটক্যাট দিয়েছিলো। কিন্তু কেনো দিলো জানলাম না।
.
সেদিন মিমি আসলো। অন্যান্য ফ্রেন্ডরা আসলো। মজায় মজায় নিজের বাড়িতে কিছুদিন কাটালাম। তারপর আরাভ আর আমি ওর বাড়িতে ফিরে গেলাম। আমরা হানিমুনে কোথাও গেলাম না। কারণ আমার ভার্সিটির ছুটি শেষ হয়ে গেছিলো। সময় যেতে লাগলো। ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমি ভার্সিটি যেতে লাগলাম। আমি ভার্সিটিতে থাকতাম আর আরাভ অফিসে। যাওয়ার আগে ও আমাকে দিয়ে যেতো আর নিয়েও আসতো ও।
.
একদিন আমি বাহিরে অপেক্ষা করছিলাম আরাভের। আমার ব্যাচের এক বন্ধু বাইক নিয়ে সামনে এলো।
রাফি- কি রে জিজু কই?
আমি- জানি না আইতেছি মে বি।
রাফি- আহা বিয়া কতো মজার। আমার যে কবে হবে?
আমি- হালা আগে বড় হ। শুন তো আমার লাইগা একটা আইসক্রিম আন।
রাফি- টাকা নাই।
আমি- হালা ফকির। যা আন।
রাফি- খাড়া।
আমি- দুইটা আনিস। আমি কিপটা না। একটা তোরেও খাওয়ামু।
রাফি- হ বরের টাকায় লাফাচ্ছিস। আগে তুই আরও বেশি কিপটা ছিলি।
আমি- টাকা ফিরায় দে হালা।
রাফি- মজা করলাম দোস্ত আনতাছি।
.
রাফি আইসক্রিম আনলো। আমি আর রাফি দাড়ায় খাচ্ছিলাম। আর গল্প করছিলাম। মাঝে মাঝে হাসাহাসিও করছিলাম। এমন সময় আরাভ এলো। আমি অন্যের সাথে এতো হাসাহাসি করছি এটা দেখে ও জ্বলতে লাগলো সেই সাথে রেগেও গেলো। আমি আরাভকে দেখে রাফিকে বাই বলে গাড়িতে উঠলাম। আরাভ লাল হয়ে গেছে রাগে। আর ড্রাইভ করতে লাগলো। এদিকে আমি বুঝতেছিলাম না ওয় রাগলো কেনো?
আমি- রাগেন কেনো?
আরাভ- (জবাব দিলো না)
আমি- কি হলো রেগে আছেন যে?
আরাভ- ওই ছেলেটা কে?
আমি- ফ্রেন্ড।
আরাভ- এতো চিপকু কেনো?
আমি- ওমা জ্বলছে নাকি ? প্রেমে পড়ে গেলেন আমার?
আরাভ- (কিছু বললো না। কারণ জবাব জানা নাই)
আমি- ওকে ওকে আমি আর‌ মিশবো না। ব্যাপার না জ্বলিয়েন না মি. হাজবেন্ড।
আরাভ- কবে এক্সাম তোমার? (কথা ঘুরাতে)
আমি- এইতো সামনের মাসে।
আরাভ- পড়া কেমন হচ্ছে?
আমি- মোটামোটি।
আরাভ- আজ থেকে রাতে পড়তে বসাবো আমি তোমাকে।
আমি- এ্যা
আরাভ- হ্যা।
আমি- না
আরাভ- কেনো (কিছুটা শক্ত ভয়েসে)
আমি- আচ্ছা পড়াইয়েন।
.
রাতে…..
আরাভ পড়াতে বসলো। ওয় পড়াচ্ছে আমি কিছু বুঝছি। আবার কিছু বুঝি না। কিন্তু চুপচাপ।
আরাভ- বলো এটা মুখস্ত।
আমি- বলতে বলতে ভুলে গেলাম।
আরাভ- কান ধরে উঠা বসা করো।
আমি- কিইইইই?
আরাভ- জ্বী।
আমি- না না না।
আরাভ- কান ধরবা নাকি স্কেল দিয়ে মার খাবা।
আমি- যাচ্ছি যাচ্ছি।
.
আমি কান ধরে উঠা বসা করতে লাগলাম। এদিকে আমাকে দেখে আরাভ হাসতে লাগলো।
আমি- শয়তান পোলা। আমাকে কান ধরায়। আমারো দিন আসবে। দেখে নিবো। বাজে মানুষ। রাক্ষস কোথাকার। ভ্যাম্পায়ার আমার রক্ত খাইস পঁচা। (এইসব বলতে বলতে কান ধরে উঠাবসা করতে লাগলাম)
আরাভ- আর কিছু
আমি- (ওর দিকে তাকিয়ে দেখি রেগে গেছে) না না।
আরাভ- আরও ৫০ বার উঠা বসা করো।
আমি- কিহ?
আরাভ- জ্বী।
.
বাধ্য হয়ে করতেই হলো। এবার মনে মনে ওরে গালি দিতে লাগলাম। নইলে শুনলে আমাকে আবার শাস্তি দিবে ওয়। তারপর পড়তে পড়তে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। আরাভ তাকিয়ে দেখে আমি ঘুমিয়ে গেছি। ও মুচকি হাসতে লাগলো। বলতে লাগলো “পাগলি শাস্তি পেয়ে ঘুমায় গেলো। গুড নাইট” আমাকে ঠিক করে শুঁইয়ে দিলো।
.
এক্সাম শেষে…..
একদিন আমি আরাভের অফিসে গেলাম ওর জন্য টিফিন নিয়ে। গিয়ে দেখি একটা মেয়ে পড়ে যেতে ধরেছিলো আরাভ ওর কোমড় ধরে আটকালো। রেগে গেলাম।
আমি রুমে ঢুকেই…
আমি- ওই মাইয়া ফিল্মি স্টাইলে ঝুলে আছো কেনো উনার সাথে?
.
মেয়েটা উঠে দাড়ালো…
মেয়েটি- তোমার কি? এটা স্যার আর আমার ব্যাপার তুমি কে?
আরাভ- আনহা চুপ।
আমি- কেনো চুপ করবো। এই শাকচুন্নিটা কে? আর এতো চিপকে কেনো? আর আপনি ধরলেন কেনো?
মেয়েটি- স্যার ইনি কে?
আমি- আমি কে মানে? ওই তুই এখনো উনার পাশে দাড়িয়ে কেনো? সরে যা । (এই বলে মেয়েটাকে ঢাক্কা দিলাম)
আরাভ- (রেগে আমাকে থাপ্পর দিলো) কেমন বিহেভ এটা? ও অফিসে নিউ আমি কাজ শিখাচ্ছিলাম। পড়ে যেতে ধরেছিলো তাই এমন করে আটকিয়েছি। ওর মাথায় লাগলে কি হতো?
আমি- ও ভালো। থাকুন ওকে নিয়ে। এই নিন আপনার খাবার। শখ করে বানিয়ে আনছিলাম। এখন এই পেত্নির হাতেই খান। আমি থাকবো না। গেলাম।
.
এই বলে আমি ওই মেয়েটাকে আরেকবার ঢাক্কা দিয়ে চলে এলাম ওখান থেকে। ওর জন্য আমি থাপ্পর খাইছি ওরে ছাড়বো কেমনে?
.
আরাভ আমাকে আটকাতে চাইলো কিন্তু আমি চলে আসলাম তাড়াতাড়ি। ও অফিসে ফিরে এলো। ওই ক্যাবিনে তখনও মেঘ নামের মেয়েটা দাড়িয়ে ছিলো। ও বুঝলোও না কি হলো? ও আসলে জানে না আরাভের বউ আমি।
আরাভ ক্যাবিনে যেতেই…
মেঘ- স্যার ওই পাগল করে মেয়েটা কে?
আরাভ- কাকে পাগল বললে? (রাগী লুকে)
মেঘ- না মানে ওই মেয়েটাকে।
আরাভ- হাউ ডেয়ার ইউ। সি ইজ মাই ওয়াইফ। তোমার সাহস তো কম না ওকে পাগল বলো।
মেঘ- না মানে সরি স্যার আমি জানতাম না। আই মিন উনি এতো ক্ষ্যাত বিহেভ করলো। তাই আরকি।
আরাভ- হোয়াট? তোমার চাকরি শেষ। গেট আউট। আনহার ব্যাপারে কিছু বলবা না। সে মিসেস আরাভ আহমেদ। ওকে?
মেঘ- স্যার সরি। চাকরি থেকে বের করবেন না প্লিজ।
আরাভ- গেট আউট।
.
মেঘের চাকরি চলে গেলো। আরাভ কাজ গুছিয়ে বাড়িতে গেলো। গিয়ে দেখে আনহা ঘরে নাই। সেই সাথে ওর সব জিনিসও নাই। আরাভ ভয় পেয়ে গেলো। এই ভেবে আনহা কই গেছে?
.
ও ওর মায়ের ঘরে গেলো। গিয়ে দেখে আমার (আনহার) সব জিনিস ওর মায়ের ঘরেই।আর আনহা ওর মায়ের কোলে মাথা রেখে আছে। আরাভ রুমে যেতেই…
আমি- মা এই ছেলেকে বের করে দেন।
মা- আরাভ তুই ওকে কষ্ট দিয়েছিস?
আরাভ- মা এমন কিছু না।
আমি- মা ও আমাকে মারছে। ওকে গেট আউট করেন।
আরাভ- ওকে ফাইন আমি যাচ্ছি। (কিছুটা রেগে)
.
আরাভ চলে গেলো ওর ঘরে।
.
চলবে……

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here