গল্পটা নিশ্চুপ বালিকা’র (দ্বিতীয় অংশ)

গল্পটা নিশ্চুপ বালিকা’র (দ্বিতীয় অংশ)
গল্পটা নিশ্চুপ বালিকা’র (দ্বিতীয় অংশ)

গল্পটা নিশ্চুপ বালিকা’র

(দ্বিতীয় অংশ)

রচনা- অনামিকা ইসলাম ‘অন্তরা’

বাসা’য় ফিরে ক্লান্ত দেহটাকে সোফা’য় এলিয়ে দিয়েছিল নীলিমা। রুমে ঢুকে বাসা’র আন্টি। আন্টিকে দেখে সোফায় শুয়া থেকে উঠে বসে নীলিমা। সালাম দেয়। ‘আসসালামু আলাইলুম, আন্টি!’ স্মিতহাস্যে সালামের জবাব দেয় মহিলা’টি। ‘ওয়ালাইকুম আসসালাম। তা কেমন কাটলো মা ভার্সিটির প্রথম দিন….!’ নীলিমা’র জবাব, আলহামদুলিল্লাহ আন্টি! বেশ ভালো… আচ্ছা, তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো। আমি চা দিচ্ছি। কথাটি বলেই কিচেনের দিকে পা বাড়ায় আন্টি। বিকেলে বাসার ছোট বাচ্চাদের সাথে খেলাধূলা করছিল নীলিমা। রুমে এসে উপস্থিত হয় আন্টি। কিছুক্ষণ চুপচাপ বিছানা’র এককোণে বসে থাকার পর মুখ খুলেন তিনি। প্রশ্ন করেন, তারপর?! কি করলে? কিছুই তো জানালে না… ফ্লোর থেকে উঠে দাঁড়ায় নীলিমা। অসহায় মুখে আন্টির মুখের দিকে তাকায় সে। আন্টি আবারো বলা শুরু করেন, কথাটা বলতে আমার নিজের কাছেই লজ্জা লাগতেছে কিন্তু কি করবো? আসলে মা আমাদের বাসা’টা তো দেখছো! ছোট্ট একটা বাসা। এই ছোট্ট বাসার মধ্যে তোমার আংকেল আমি, সিয়াম(০৫), আর পিচ্চিকে নিয়ে থাকা’টাই খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে তুমি…(….)….??? নীলিমা নিশ্চুপ। আন্টি আবারো বলতে শুরু করেন, ‘হ্যাঁ, মানলাম তুমি ফ্লোরেই থাকো। কিন্তু এভাবে আর কত দিন?’ দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে নীলিমা। জ্বী, আন্টি! বুঝতে পারছি। আর এটাও বুঝতে পারছি আপনাদের আমি খুব ঝামেলা’য় ফেলে দিয়েছি। আচ্ছা, দেখি কালকে কলেজে গিয়ে আশেপাশে কোথাও বাসা পাই কি না…! পরদিন ক্যাম্পাসে নিজ ডিপার্টমেন্টের কিছু মেয়েদের সাথে মাঠের মধ্যিখানে বসে নীলিমা। ক্লাসমেট’রা সবাই যেখানে গল্প-গুজব আর হাসি আনন্দে মেতে উঠেছে নীলিমা সেখানে সেই আড্ডা’র মাঝে থেকেও ডায়েরী নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। এদিকে শুভ্র? বসে আছে ক্লাসে কিন্তু একটুও মনোযোগ নেই স্যারে’র লেকচারের দিকে। মন পড়ে আছে অন্য কোথাও। ক্লাসে বসেও গভীর ভাবনা’য় মগ্ন শুভ্র।নজর এড়ায় না তাসনিয়া’র। শুভ্র’র থেকে ক্ষাণিকটা দুরে বসে স্যারের লেকচার শুনছিল সে। সেখান থেকে’ই ডাক দেয় শুভ্র’কে। ‘ শুভ্র, এই শুভ্র, শুভ্র…..’ সাড়া নেই শুভ্র’র। দুর থেকে এগিয়ে এসে, পাশে বসে তাসনিয়া। ধাক্কা দেয় শুভ্র’কে। চমকে উঠে পাশে তাকায় শুভ্র। ‘ তুই?’ — জ্বী, আমি! তা সম্রাট শাহজাহান কার কল্পনা’য় বিভোর আপনি? — কিসের কল্পনা?! — ন্যাকা সাজবেন না একদম। আমাকে এটা বলুন যে আপনি বাহিরে কেন তাকাচ্ছিস বার বার? কেউ আছে নাকি? — আশ্চর্য! কে থাকবে? — না মানে রুবেল বলল আপনি নাকি ১ম বর্ষের এক মেয়েকে দেখে ফিদা হয়ে গেছিলেন? — আমরা এখন ক্লাসে আছি তাসনিয়া। তাই দয়া কর। মুখে একটু তালা লাগা। — বলুন না সম্রাট শাহজাহান! মেয়েটি দেখতে কি রকম? — তাসনিয়া তুই চুপ করবি? নাকি… — কি করবেন? মারবেন? বেশ তো! তাই করেন। তারপরও তো আপনি আমার মুখ বন্ধ করতে পারবেন না সম্রাট শাহজাহান! তাসনিয়া’র উঁচু গলা’র কথা স্যারের কান অবধি পৌঁছতে খুব বেশী সময় নেয়নি। রাগান্বিত স্বরে শুভ্র’র দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করেন স্যার, আমার অর্থনীতি ক্লাসে ইতিহাসের আলোচনা করছে কে? কার এতবড় সাহস? ভদ্র বালকের ন্যায় শুভ্র তাসনিয়া’র দিকে ইঙ্গিত করে। বলে দেয়, ‘স্যার! আমি নয়, তাসনিয়া…’ রাগান্বিত দৃষ্টিতে স্যার তাসনিয়া’র দিকে তাকায়। তাসনিয়া বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। কিছু একটা বলতে যাবে তার আগেই স্যারের জবাব, ‘বের হও ক্লাস থেকে। এই মুহূর্তে বের হয়ে যাও আমার ক্লাস থেকে।’ তাসনিয়া চলে যায়। যাওয়া’র আগে শাসিয়ে যায় শুভ্র’কে। ‘বাহিরে আয়! তোর খবর আছে।’ ক্লাস শেষে কাঙ্খিত স্থানে গিয়ে হাজির হয় শুভ্র এবং তার বন্ধু’রা। প্রতিদিনের সেই নির্ধারিত স্থানে গিয়ে বসে। বাঁচাল তাসনিয়া গাল ফুলিয়ে সে স্থানে আগে থেকেই বসে। শুভ্র’কে দেখে ক্ষাণিকটা সরে গিয়ে বসার জন্য জায়গা করে দেয়। সবাই গল্পে মশগুল। শুধু তাসনিয়া’য় চুপচাপ বসে নিচের দিকে তাকিয়ে। ধাক্কা দেয় রুবেল। ‘কি ব্যাপার তাসু বেবি! কি হলো তোমার?’ ক্ষাণিকটা নড়ে বসে তাসনিয়া। এর ছাড়া কিচ্ছু বলেনি। গল্প থামিয়ে ফিরে তাকায় নিপা। ডাক দেয় সে’ও। ‘তাসু?! এই তাসু! কথা বলছিস না কেন? জবাব দেয় না তাসনিয়া। এবার ধাক্কা দেয় শুভ্র। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরে যায় তাসনিয়া। প্রচন্ড রাগে ফুসে উঠে সে। এই তুই আমায় ধাক্কা দিয়েছিস কেন? তোর সাহস কিভাবে হলো আমায় ধাক্কা দেয়ার? মারামারি, কথা কাটাকাটিতে মেতে উঠে শুভ্র এবং তাসনিয়া। চেঁচিয়ে উঠে সুমাইয়া। ঐ মোবাইলের পোকা আতিক্যা! ফোন রাখ, এদের ঝগড়া থামা। ফোনটা আতিকের হাত থেকে কেড়ে নেয় সুমাইয়া। বাধ্য আতিক ঝগড়া থামাতে কাছে যায়। একটা সময় ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে নিজ স্থানে। বিরক্তিকর ভঙ্গিতে যে যার মতো কানে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে বসে আছে। ঘটনা স্থলে হাজির হয় নীলিমা। ডাক দেয় শুভ্র’কে- আসসালামু আলাইকুম, ভাইয়া। থেমে যায় ঝগড়া। কান থেকে হাত সরিয়ে নেয় বাকিরা। শুভ্র এবং তাসনিয়া’র সাথে বাকিরাও ঘাড় ঘুরিয়ে ডানে তাকায়। নীলিমা’কে দেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় শুভ্র। সালামের জবাব দেয়। তারপর___ — নীলিমা? কিছু বলবেন?!!! — জ্বী, ভাইয়া! একটু দরকার ছিল। — বলুন… — এখানে না। একটু ঐদিকে প্লিজ… — ঠিক আছে। চলুন। — …………….. — …………… — ভাইয়া… — বলনু! কি হেল্প করতে পারি আমি আপনার জন্য? — আপনি তো এ এলাকার’ই, নাহ? — হু, ঐতো! পাশেই আমার বাসা। কেন? কোন সমস্যা? — সমস্যা বলতে জরুরী ভিত্তি’তে আমার একটা বাসা দরকার। — হোস্টেলে মনে হয় এখনো একটা কি দুটো সিট খালি আছে। আমি কি হোস্টেল সুপারের সাথে কথা বলে দেখবো? — না, না! হোস্টেলে থেকে পড়াশুনা’টা চালিয়ে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমার দরকার একটা ভালো বাসা। যেখান থেকে আমি টিউশন+পড়াশুনা দুটোই চালিয়ে যেতে পারবো। — ঠিক আছে। আমি আপনাকে কালকে জানাচ্ছি। — কালকে নয় ভাইয়া। আজকে… — আজকেই? — হ্যাঁ, আজকেই। আপনি কি আজকে আমাকে এই এলাকাটা ঘুরিয়ে দেখাতে পারবেন? যদি কোন সমস্যা না হয়! — এখন? — হ্যাঁ… — ঠিক আছে। চলুন। — ………..

গল্পটা নিশ্চুপ বালিকা’র

(দ্বিতীয় অংশ)

রচনা- অনামিকা ইসলাম ‘অন্তরা’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here