বাস টার্মিনালে মেজাজ খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে মায়া।

বাস টার্মিনালে মেজাজ খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে মায়া।

বাস টার্মিনালে মেজাজ খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে মায়া।

লেখা- অনামিকা ইসলাম।

 

বাস টার্মিনালে মেজাজ খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে মায়া।বাস এলো প্রায় পনেরো মিনিট দেরিতে। শেষ মুহূর্তে পানি কিনতে গিয়ে কিছু’টা দেরি হয়ে গেল। মায়া বাসে উঠে সিট মিলিয়ে কাছে গিয়ে দেখে তার ঠিক পাশের সিটে বিশাল দেহী এক যুবক কানে হেডফোন গুঁজে পেপার পড়ছে। ছেলেটার চোখে চশমা।
ছেলেটাকে দেখেই মায়ার বুকে চিনচিনে ব্যাথা শুরু হলো। মনে হলো সে মাথা ঘুরে পরে যাবে। ছেলেটা হঠাৎ পাশে তাকিয়ে মায়াকে দেখে জানালার আরেকটু পাশে চেপে যায়।
মায়ার চেহারায় কিছু একটা ছিল তাই ছেলেটি হেডফোন খুলে জানতে চাইলো__
” এটা আপনার সিট?
কোনো সমস্যা?”

– হ্যাঁ, এটাই আমার সিট। ‘কোনো সমস্যা নেই’ বলে মায়া চুপচাপ ব্যাগ দুটো তুলে রেখে সিটে বসল। সে মূর্তির মত সামনে তাকিয়ে আছে।

বাঁধন! ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। বাংলাদেশের কোটি কোটি লোকের মধ্যে এই বাঁধনের পাশেই তার সিট পড়তে হবে! মায়ার মনে পরে যাচ্ছে বাঁধনের সাথে হওয়া শেষ কথোপকথন টুকু। বাঁধনের সাথে সব সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার প্রায় তিনমাস পর আবার ব্লক খুলে নক করে সে। কেন করে সেটার কোনো ব্যাখ্যা নাই।
– ‘কেন বোকামি করছ মায়া? নতুন প্রেমিককে নিয়ে তো সুখেই আছ! কেন আবার আমাকে জ্বালাতে আসছো?’

– ‘ সুখে থাকলে কি তোমার সাথে কথা বলা যাবে না?’ ফ্রেন্ড হিসেবে আসছিলাম। স্যরি।
…. জানো, বাঁধন। আমি তোমার সব লিখা পড়ি, অন্য আইডি দিয়ে। খুব, খুব সুন্দর লিখ তুমি।
– ‘আমার লিখা পড়ারও দরকার নাই। আমার সাথে ফ্রেন্ডশিপেরও দরকার নাই। এটা যেন কিডন্যাপিং করার পর টাকা নিয়ে মুক্তি দেবার পর বলা “কিপ ইন টাচ”।
– ‘ ঠিক আছে, বাঁধন আর কথা বলব না। কিন্তু আমি জানি, “তুমি আমাকে ভালোবেসেছিলা”।
– ‘ খবরদার। ভালোবাসা কথাটা আরেকবার বলবা না। কি ছাতার ভালোবাসা ছিল যে তুমি আমার সামনেই আসতে পারলা না? এমনকি আমি এখনও জানি না তুমি দেখতে কেমন! ইউ নো হোয়াট? আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু টক উয়িথ ইউ এনিমোর….
– ‘ বাঁধন, তুমি কি আমাকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারবা?’
– ‘ক্ষমা? তোমাকে? বুক কাটলে এখনো সেখানে দগদগে ঘা দেখা যাবে আমার। রিলেশন, প্রেম, ভালোবাসা এসব তোমার কাছে ফালতু ব্যাপার হতে পারে, আমার কাছে ছিল না।’
– ‘আমি তোমাকে একটা জিনিস দিতে চেয়েছিলাম। অনেকবার বলেছিলে, একটা গল্প লিখবে। গল্পের প্লট খুঁজে দিতে। তাই ভেবেছিলাম আমার একটা ডায়েরী তোমাকে দিব।’
– আমি তোমার ডায়েরী দুরের কথা, একটা পাতাও চাই না। তুমি অসুস্থ। আমায় আর এসএমএস দিও না।’

কি তীব্র ঘৃণা। মায়া শিউরে উঠে বাস্তবে ফিরে আসে। সে সাবধানে পাশে তাকায়। শান্ত মুখে ছেলেটা বসে আছে। এলোমেলো চুল, অনেকদিনের না কাটা খুঁচা খুঁচা দাঁড়ি। এই ছেলেটাই একসময় মাঝরাত্রে তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে বলত, ভালোবাসি। মায়াও জবাব দিত, ভালোবাসি, খুব বেশী ভালোবাসি আমার ভীতুটাকে…..

মায়া হয়তো আসলেই অসুস্থ। কেন জানি কিছুতেই রাজি হলো না সেদিন বাঁধনের সাথে দেখা করতে। কেন জানি মনে হত দেখা হলে যদি আর না থাকে ভালোবাসার এই তীব্রতাটুকু!
একদিন তাই রেগেমেগে ছেলেটা তাকে বিদায় করে দিল!
আচ্ছা হঠাৎ যদি মায়া এখন বলে বসে, ” বাঁধন! আমি মায়া। এত শুকিয়ে গেছ কেন তুমি?” তখন কেমন হবে বেচারার চেহারা?

নিষিদ্ধ কোনো আকাংক্ষার মত ইচ্ছেটা মায়ার বুকের মধ্যে হৃদস্পন্দনের সাথে সাথে দুরমুশ পেটাতে থাকে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here