নীরবে_ভালোবাসি পার্ট: ২২

0
238

নীরবে_ভালোবাসি

পার্ট: ২২

লেখিকা: সুলতানা তমা

মামা এসে বাসায় ঢুকতেই পিছু পিছু শায়লা আর ইকবাল এসে ঢুকলো। আম্মু ভয়ে একটু দূরে সরে দাঁড়ালেন।
মামা: ভয় নেই বোন আমি এখানে খুন করতে আসিনি সবকিছু মিটমাট করতে এসেছি।
আমি: কিসের মিটমাট?
মামা: বোন তুই বল কণা মামুনিটা ক্লান্ত হয়ে গেছে এসব জামেলা পোহাতে গিয়ে।
আম্মু: আমিতো ভেবেছিলাম তুমি…
মামা: মারা গেছি? নারে মরিনি প্রতিশোধ না নিয়ে মরি কিভাবে বল।
আম্মু: কিসের প্রতিশোধ?
ইকবাল: আমার আম্মুকে খুন করার।
আম্মু: ভাবিকে খুন? আমাদের উপর প্রতিশোধ নিতে চাইছ কেন?
ইকবাল: কারণ তোমরা সবাই মিলে আম্মুকে খুন করেছিলে মা হারা করেছিলে আমাকে।
আম্মু: তোকে এসব এই লোকটা বলেছে তাই না? আরে এই লোক তোকে মিথ্যে বলেছে আমরা কেন ভাবিকে মারতে যাবো মেরেছে তো এই লোকটা নিজেই।
ইকবাল: কি?
মামা: ইকবাল ও তোকে ভুল বোঝাচ্ছে।
আম্মু: না বাবা আমি কেন তোকে ভুল বুঝাতে যাবো? যা সত্যি তাই বলছি।
আমি: সত্যিটা কি স্পষ্ট করে বলে দাও আম্মু।
আম্মু: সত্যি এটাই ভাইজান নিজে ভাবিকে খুন করেছিল আর সেজন্য আব্বু ওকে জেলে দিয়েছিল কিন্তু ও কয়েকমাস পরেই পালিয়ে যায়। (আমি এসব কথার কিছুই বুঝতে পারছি না, ইকবাল উঠে আম্মুর কাছে গেল)
ইকবাল: ফুফু সবকিছু খুলে বলো প্লিজ।
মামা: শারমিন ভালো হবে না আর একটাও মিথ্যে বললে কিন্তু…
আম্মু: এতো বছর পর যখন তুমি তোমার পাপ নিজেই টেনে সামনে এনেছ তাহলে আজ আমি বলবই।
ইকবাল: বল ফুফু প্লিজ!
আম্মু: তখন আমার বিয়ে হয়নি। হুট করে একদিন ভাইজান একটি মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ে আসে। মেয়েটি বড়লোক শুনেই আমরা বুঝে ফেলি ভাইজান ওকে ফাঁসিয়ে নিয়ে এসেছে কারণ উনার স্বভাবই এরকম। ছোট বেলা থেকেই যতো ধরনের খারাপ কাজ আছে সব ভাইজান করে, বাবা মা অনেক চেষ্টা করেছেন উনাকে সঠিক পথে আনার কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। সেদিন তোর আম্মুকে কেউ মেনে নেয়নি কিন্তু আমি মেনে নিয়েছিলাম, পরবর্তীতে সবাইকে বুঝিয়ে সবটা মানিয়ে নিয়েছিলাম।
ইকবাল: তাহলে আম্মু খুন হলো কিভাবে?
আম্মু: একটা বছর কেটে যায় এভাবেই। এই লোকটা বরাবরই সম্পত্তির লোভী ছিল তাই তোর আম্মুকে সবসময় বলতো সবকিছু উনার নামে লিখে দিতে কিন্তু ভাবির ভয় হতো সবকিছু দেওয়ার পর যদি ভাবিকে ভুলে যায়। এর মধ্যে ভাবির কোল আলো করে তুই আসলি, ভাবি সবকিছু তোর নামে করে দিলো। আর এই রাগে এই লোকটা ভাবিকে খুন করে পেলে। বাবা নিজের হাতে উনাকে পুলিশে তুলে দেন। তুই আমার কাছেই থাকতি কিন্তু কয়েকমাস পর উনি পুলিশের থেকে পালিয়ে যান তারপর বাড়িতে এসে জোড় করে তোকে নিয়ে যান। অনেক খুঁজেছি তোকে কিন্তু পাইনি। বাবা বলেছিলেন তোদের ভুলে যেতে কখনো যেন তোর জন্য না কাঁদি কিন্তু কয়েকমাস তোকে নিজে আগলে রেখেছি তো তাই লুকিয়ে কাঁদতাম। সময় সব গাঁ শুকিয়ে দেয় তেমনি তোর কষ্টটা ভুলে গেলাম যখন কণা আসলো আমার কোল জোড়ে। তোকে হারানোর কষ্টটা কখনো প্রকাশ করতাম না তাই কণা কখনো জানতে পারেনি ওর মামা আছে মামাতো ভাই আছে। (আম্মু ইকবাল দুজনেই কাঁদছে, কতো বছর পর ওদের দেখা হলো)
ইকবাল: ফুফু আমি সারাটা জীবন তোমাকে নানা নানুকে ঘৃণা করে এসেছি কারণ এই লোকটা বলেছিল তোমরা আম্মুকে খুন করিয়েছ। আর এজন্য আমি প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য এতোকিছু করেছি।
মামা: অনেক হয়েছে শারমিন মিথ্যে বলা আমি যে কারণে এসেছি তা আমাকে বুঝিয়ে দে আমি চলে যাচ্ছি।
আম্মু: কিসের জন্য এসেছ সম্পত্তি?
মামা: হ্যাঁ।
আম্মু: কিন্তু কোন সম্পত্তি? এখানে যা দেখছ সব কণার আব্বুর গড়ে তোলা।
মামা: আমার ভাগের সম্পত্তি কোথায়?
আম্মু: বাবা মা মারা যাওয়ার পর আমি সবকিছু বৃদ্ধাশ্রম আর এতিমখানায় ডোনেট করে দিয়েছি।
মামা: এসব তো আমি বুঝবো না আমার সম্পত্তি চাই।
ইকবাক: সম্পত্তি চাই সম্পত্তি চাই সম্পত্তি চাই, ছোটবেলা থেকে এই একটা শব্দই শুনে এসেছি তোমার মুখ থেকে। এতো লোভ তোমার যে আমার আম্মুকে মেরে ফেললে?
মামা: ইকবাল শারমিন তোকে মিথ্যে বলেছে।
ইকবাল: কোনো মা মিথ্যে বলতে পারেনা আর ফুফুর কান্নাই বলে দিচ্ছে ফুফু মিথ্যে বলছে না। মিথ্যে তো তুমি বলেছ আমাকে সারাজীবন। তোমাকে আমি ছাড়বো না।
মামা: ইকবাল তুই কিন্তু ভুল করছিস।
ইকবাল: হ্যাঁ ভুল করছি কি করবে আমাকেও মেরে ফেলবে তাই তো? মেরে ফেলো তোমার মতো বাবার সন্তান হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।
মামা: ইকবাল..
ইকবাল: একদম চিৎকার করো না, ভুলে যেওনা তোমার সব খারাপ কাজের সাক্ষী আমি।
মামা: কি করবি তুই?
ইকবাল: আম্মুর খুনের প্রতিশোধ নিবো।
আম্মু: ইকবাল থাম এই মানুষটার সাথে কথা বাড়াস না।
আমি: আম্মু কি হয়েছে তোমার।
মেঘ: আম্মু.. (আম্মু টেবিলের একটা চেয়ার টেনে বসে পড়লেন, আম্মুকে খুব অস্থির দেখাচ্ছে)
ইকবাল: ফুফু কি হয়েছে?
আমি: পানি দাও আম্মুকে।
শায়লা: এইযে পানি। (শায়লার হাত থেকে পানি এনে আম্মুকে খাওয়ালাম)
ইকবাল: সব হচ্ছে এই লোকটার জন্য… আব্বু কোথায়? (পিছনে তাকিয়ে দেখি মামা নেই তারমানে পালিয়ে গেছে)
ইকবাল: ভয়ে পালিয়ে গেল।
মেঘ: কণা আম্মুকে রুমে নিয়ে শুয়ে দাও।
আমি: ঠিক আছে।

আম্মুকে রুমে এনে শুয়ে দিতেই ইকবাল আম্মুর পায়ের কাছে বসে আম্মুর পা জড়িয়ে ধরলো।
ইকবাল: ফুফু আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি এসব আব্বুর কথায় করেছি। লোকটা আমাকে সবসময় বলেছে আম্মুকে তোমরা মেনে নেওনি তোমরা খুন করিয়েছ তাই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমি এমন করেছি। তবে ফুফাকে আমি খুন করিনি আব্বু করিয়েছে আমি আর শায়লা তো আব্বুর কথামতো চলেছি শুধু।
আম্মু: পা ছেড়ে এদিকে আয়। (ইকবাল গিয়ে আম্মুর পাশে বসলো, আম্মু একটা হাত ওর মুখে বুলিয়ে দিলেন। কি করবো বুঝতে পারছি না ক্ষমা করে দিবো ওকে কিন্তু পরে যদি আবার কোনো ক্ষতি করে)
ইকবাল: বিশ্বাস করো ফুফু আব্বু সবসময় বলেছে তুমি আমাদের শত্রু, আগে যদি জানতাম আব্বু আম্মুকে খুন করেছে তাহলে আমি তোমার কাছেই থাকতাম অন্তত একজন মা তো পেতাম।
আম্মু: কাঁদিস না।
ইকবাল: আমি সত্যি একটা অপদার্থ, প্রতিটা মুহূর্তে আমি তোমাদের উপর নজর রেখেছি অথচ একবারের জন্য মনে হয়নি আমার ফুফু খারাপ কাজ করতে পারেনা।
আম্মু: এখন তো নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিস তাতেই আমি খুশি।
ইকবাল: কিন্তু অনেক দেরি যে হয়ে গেছে ফুফু। খারাপ লোকটার কথায় আমি অনেক খারাপ কাজ করেছি এবার এসব প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।
শায়লা: মানে কি করবে তুমি?
ইকবাল: আত্মসমর্পণ করবো আব্বুর সব খারাপ কাজের হিসেব দিবো আর আব্বুকে ধরিয়ে দিবো।
শায়লা: কি বলছ এসব? (শায়লা ইকবালের থেকে সরে আসতে আসতে ফ্লোরে এসে বসে পড়লো, পাগলের মতো কাঁদছে শায়লা। কি যে হচ্ছে সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে)
ইকবাল: আমি আত্মসমর্পণ করবো তবে তোমরা আমার শায়লাকে কোনো শাস্তি দিওনা। মেয়েটা বড্ড ভালো শুধুমাত্র আমাকে হারানোর ভয়ে আব্বুর কথামতো সব করে গেছে, তবে ও শুধু কণাকে ফোনে ভয় দেখিয়েছে আর কোনো খারাপ কাজ করেনি। (ইকবাল কথাগুলো বলতে বলতে আমার দিকে তাকালো, উঠে আমার দিকে এসেই আমার পায়ের কাছে বসে পড়লো)
আমি: আরে কি করছ?
ইকবাল: ভাইকে ক্ষমা করে দে বোন। আমি কথা দিচ্ছি আমি আত্মসমর্পণ করবো আর আব্বুকে ধরার জন্য পুলিশকে সব রকম সাহায্য করবো। (কি করবো বুঝতে পারছি না মেঘের দিকে তাকালাম ও বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছে। ইকবালের নজর মেঘের দিকে পড়তেই উঠে মেঘের কাছে গেল)
ইকবাল: শায়লা একটা অন্যায় করেছে শুধু আর সেটা তোমার আর তোহার সাথে। তবে জানো তো পাগলীটা রোজ রাতে তোহার জন্য কাঁদে আমি বলেছিলাম তোহাকে নিয়ে আসতে কিন্তু ও তোমার কথা ভেবে তোহাকে আনতে চায় না। তুমি তোহাকে ছাড়া থাকতে পারবে না তাই। এতোদিন ও যা যা করেছে সব অভিনয় ছিল। মেয়েটাকে উপর থেকে যতোটা খারাপ মনে হয় ভিতর থেকে ঠিক ততোটাই ভালো। কণা আর তোমাকে কষ্ট দিয়ে ও নিজে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তো। আব্বু সবসময় ওকে ভয় দেখাতো আব্বুর কথামতো না চললে ওর থেকে আমাকে আলাদা করে নিবে আর ও আমাকে হারানোর ভয়ে সব খারাপ কাজ মুখ বুজে করে যেতো কারণ পাগলীটা যে আমাকে বড্ড বেশি ভালোবাসে। (ইকবাল শায়লা দুজনেই কাঁদছে, মেঘ এগিয়ে গেলো ইকবালের দিকে)
মেঘ: যদি তোমাকেই ভালোবাসতো তাহলে আমাকে বিয়ে করেছিল কেন?
ইকবাল: ওর পরিবারের জন্য। আমি তো খারাপ তাই ওর পরিবার মেনে নেয়নি, জোড় করে ওকে বিয়ে দিয়ে দেয়। তোমাকে কিছু বলতে পারতো না আবার আমাকে ভুলতে পারছিল না এভাবে দুবছর কেটে যায়। শায়লার বাবার মৃত্যুর পর ও আমার কাছে ফিরে আসতে চায়, আমিও খুব করে চাইছিলাম ও যেন আমার জীবনে ফিরে আসে। কি জানো তো যতোই খারাপ হই শায়লার প্রতি আমার ভালোবাসা সত্যি ছিল। আমি শায়লাকে বলেছিলাম তোহাকে নিয়ে আসতে আমি তোহাকে মেনে নিবো কিন্তু শায়লা বলেছিল তোহা মেঘের প্রাণ, তোহাকে নিয়ে আসলে মেঘ বেশি কষ্ট পাবে।
মেঘ: ভালোই হয়েছে শায়লা আমার জীবন থেকে না গেলে তো আমি কণাকে পেতাম না। শুধু আমার তোহা মা হারিয়েছে আ…
আমি: মেঘ তুমি আজো আমাকে তোহার মা ভাবতে পারনি?
মেঘ: সে কথা নয় কণা আ…
ইকবাল: আমি জানি কণা তুই তোহাকে খুব ভালোবাসিস তোর উপর নজর রাখতে গিয়ে বুঝেছি।
আম্মু: থামবি তোরা?
ইকবাল: ফুফু বলনা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছ। আর শায়লা, ওকে কোনো শাস্তি দিওনা ও সত্যি খুব ভালো মেয়ে। আমাকে ভালোবাসে তো তাই হারানোর ভয়ে আব্বুর কথামতো কণাকে ফোন দিয়ে ভয় দেখাতো।
আম্মু: হুম বুঝতে পেরেছি।
শায়লা: তুমি আত্মসমর্পণ করলে আমার কি হবে?
আম্মু: তুমি আমার কাছে থাকবে বৌমা।
আমি: আম্মু কি বলছ…
আম্মু: তুই থাম। ইকবাল কম হউক বেশি হউক পাপ করেছে তাই ওর শাস্তি প্রয়োজন, তবে আমি খুব তাড়াতাড়ি ওকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবো।
আমি: আম্মু হুট করে সিদ্বান্ত নেওয়া কি ঠিক হচ্ছে? আর পাপ তো শায়লাও করেছে।
আম্মু: মানুষ চিনতে আমি ভুল করিনা আর শায়লার পাপের শাস্তি তো ও পাচ্ছে তোহার জন্য কেঁদে।
আমি: আম্মু…
মেঘ: কণা আপাতত আম্মুর কথা শুনো আর ইকবাল আত্মসমর্পণ করে কিনা দেখো তাহলেই সব প্রমাণ হয়ে যাবে ওরা সত্যি ভালো হয়ে গেছে নাকি অভিনয় করছে। (মেঘ আস্তে আস্তে বললো, কি করবো সত্যি বুঝতে পারছি না)
ইকবাল: ফুফু আমি আসছি আমার শায়লাকে তুমি দেখে রেখো। আর কণা ভয় পাবি না একদম আব্বু তোদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না আমি খুব শীঘ্রই আব্বুকে এরেস্ট করাবো।
ইকবাল চলে গেল, শায়লা খুব কাঁদছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে সব কেমন যেন গুলিয়ে গেল। শায়লা কি সত্যি ভালো এতোদিন কি সত্যি মামার কথায় আমাদের সাথে অভিনয় করেছিল? হতেও পারে প্রিয়জনকে হারানোর ভয়ে তো মানুষ সব করতে পারে।

রুমে এসে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে রইলাম, বাইরে তাকিয়ে আছি আর ভাবছি সত্যি কি সবকিছু ঠিক হয়ে গেল? এভাবে হুট করে সব পাল্টে যাবে আমিতো কল্পনাও করতে পারিনি। শুধুমাত্র একটা সত্যি সব পাল্টে দিলো। এতোদিন ইকবাল জানতো মামিকে আম্মুরা খুন করেছে আর আজ জানলো মামা নিজেই খুন করেছে আর এই একটামাত্র সত্যি সব পাল্টে দিলো।
মেঘ: কণা বাসায় কখন যাবো?
আমি: আজকে এখানে থাকি প্লিজ।
মেঘ: কিন্তু তোহা?
আমি: তুমি চলে যাও।
মেঘ: অসম্ভব আমি তোমাকে রেখে যাচ্ছি না, যেতে হয় দুজন একসাথে যাবো।
আমি: এমন করোনা প্লিজ আজ আম্মুর কাছে থাকি?
মেঘ: আমারো তো আমার বউয়ের কাছে থাকতে ইচ্ছে হচ্ছে। আচ্ছা দাঁড়াও তোহাকে ফোন করি।
আমি: ঠিক আছে। (মেঘ আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে পপির কাছে ফোন করলো)
পপি: হ্যাঁ ভাইয়া বলো।
মেঘ: আজ আসতে পারবো না তোহাকে রাখতে পারবি?
পপি: তোহা থাকলে আমি রাখতে পারবো না কেন?
মেঘ: তোহার কাছে ফোনটা দে।
পপি: দাঁড়াও।
তোহা: আব্বু…
মেঘ: মামুনি আমরা তো আজ আসতে পারবো না তুমি একা থাকতে পারবে?
তোহা: হ্যাঁ পারবো আমি ফুফির কাছে থাকবো। (ওদের কথার মাঝখানে পুলিশ আঙ্গেল এর কল এসে ঢুকলো)
আমি: মেঘ ফোনটা রাখো আঙ্গেল ফোন দিচ্ছেন। (মেঘ ফোন রাখতেই মোবাইল নিয়ে বারান্দায় চলে আসলাম)

আমি: হ্যাঁ আঙ্গেল..
আঙ্গেল: ইকবাল আত্মসমর্পণ করেছে।
আমি: কি? (আমি যেন বিশ্বাসই করতে পারছি না, তারমানে ওরা সত্যি ভালো হয়ে গেছে)
আঙ্গেল: শুধু তাই নয় ওর বাবার সমস্ত খারাপ কাজের প্রমাণ দিবে বলেছে যেন আমরা খুব তাড়াতাড়ি ওর বাবাকে এরেস্ট করতে পারি।
আমি: আমি ঠিক শুনছি তো?
আঙ্গেল: হ্যাঁ মা ইকবাল ওর সমস্ত অন্যায় স্বীকার করেছে।
আমি: ঠিক আছে ওর বাবাকে এরেস্ট করার ব্যবস্থা করুন খুব শীগ্রই।
আঙ্গেল: ঠিক আছে। (ফোন রেখে একটা সস্থির নিঃশ্বাস ফেললাম যাক এতোদিনে সব ঠিক হতে যাচ্ছে)
মেঘ: আমার মনে হচ্ছে সব ঠিক হয়ে গেছে এখন তোমার মামা এরেস্ট হলেই তোমরা বিপদমুক্ত।
আমি: হুম।

রাতের আধারে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি আর দুপর থেকে এখন পর্যন্ত দেখা শায়লাকে নিয়ে ভাবছি। কেমন যেন দুটানায় পরে গেছি আমি। ইকবাল আত্মসমর্পণ করলো, সারাটা বিকেল শায়লার সাথে কাটালাম একবারের জন্যও মনে হয়নি মেয়েটা খারাপ অথচ ওরাই এতোদিন আমার বাঁচা অসম্ভব করে তুলেছিল। শায়লা নিজের হাতে রান্নাবান্না করেছে সবার সাথে ভালো ব্যবহার করছে একবারও আমার মনে হয়নি এই মেয়েটা এখন আমাদের সাথে অভিনয় করছে বরং মনে হচ্ছে শায়লা ভালো শুধুমাত্র ভালোবাসার মানুষকে হারানোর ভয়ে খারাপ হওয়ার অভিনয় করেছিল।
মেঘ: অনেক রাত হয়েছে তো ঘুমাবে না?
আমি: শায়লার ব্যবহারে তোমার কি মনে হচ্ছে?
মেঘ: হয়তো তুমি রাগ করতে পারো তবে সত্যি এটাই শায়লা সবসময় এমন শান্তশিষ্ট ছিল। তোহা হবার পর থেকে ও আমার সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে তারপর তো ডিভোর্স দিয়ে চলে গেল। শায়লার আগের রূপ আমি আজ দেখতে পাচ্ছি কাজেই বলতে হচ্ছে শায়লা ভালো হয়ে গেছে। অবশ্য ও তো ভালোই ছিল শুধু ইকবালকে হারানোর ভয়ে খারাপ হবার অভিনয় করেছিল। আর আমার মনে হয় প্রত্যেকটা মানুষ এই ভয় পায় যেমনটা আমি পাই তোমাকে হারানোর। (মেঘ আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো)
আমি: আচ্ছা শায়লা তোহাকে নিয়ে যাবে নাতো?
মেঘ: না কারণ শায়লা বুঝতে পেরেছে আমি তোহাকে কতোটা ভালোবাসি তাছাড়া এখন তো এইটাও জানে তুমি তোহার আরেক মা।
আমি: হুম।
মেঘ: অনেকদিন পর তোমাকে টেনশন মুক্ত লাগছে তাই…
আমি: তো?
মেঘ: কিছুই না।
আমি: কি করছ?
মেঘ: আমিতো কিছুই করছি না যা করার আমার হাত করছে। (মেঘ আমার শাড়ির নিচ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেটে হাত বুলাচ্ছিল জোড় করে ওর হাত সরিয়ে দিলাম)
মেঘ: এখন? (মেঘ আমাকে কোলে তোলে নিয়ে ভ্রু কুঁচকিয়ে মুচকি হাসলো)
আমি: ছাড়ো না প্লিজ!

মেঘ: ছেড়ে দিলাম।
আমি: কোমরটা বোধয় ভেঙ্গেই গেছে। (মেঘ আমাকে বিছানায় এনে দফ করে ছেড়ে দিয়েছে ইচ্ছে হচ্ছে ওকে..)
মেঘ: আমি আদর করে দিচ্ছি ব্যথা কমে যাবে।
আমি: দুষ্টুমি করবে না একদম।
মেঘ: আমিতো আজ দুষ্টুমি করবোই পারলে আটকিয়ে দেখাও।
মেঘ আমার উপরে শুয়ে আমার দুহাতের আঙ্গুলের ভাজেভাজে ওর আঙ্গুল গুলো আটকে দিলো। আমার চোখের দিকে শান্তভাবে তাকিয়ে আছে, আমি জানি ও কেন এভাবে তাকিয়ে আছে। মেঘ ভালো করে জানে আমি ওর চোখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারিনা আর ও এভাবে তাকিয়ে থাকলে ওকে আমি আটকাতেও পারিনা, তাইতো ও এভাবে তাকিয়ে আছে। চুপচাপ চোখ দুটু বন্ধ করে নিলাম, মেঘ আমার কানের কাছে ফিসফিস করে বললো “কি মেডাম আটকাবে না”
উত্তরে শুধু মৃদু হাসলাম। মেঘ আমার কপালে আলতো করে ওর ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো…

চলবে😍

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here