প্রেমের_পরশ পার্ট_25

প্রেমের_পরশ
পার্ট_25
জামিয়া_পারভীন

শুভ নিরুর মুখ তুলে কপালে ভালোবাসার পরশ এঁকে বলে,

“ আজ জন্মদিন তোমার, আর কখনো কাঁদবে না। আজ থেকে শুধু তোমার সুখের দিন। ”

শুভর ঠোঁট এ হাত দিয়ে নিরু বলে,
“ মজা করছো! এখনো আমাদের পরিবারের উপর শনির নজর আছে। আমি কিছুতেই খুশি থাকতে পারিনা সেই জন্য। ”

শুভ একটু হতাশ হয়, আসলেই ঝড় বয়ে যাচ্ছে পরিবারের উপর দিয়ে। শুভ রুম থেকে বেরিয়ে বেলকনি তে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা হয়ে আসে, নিরু নিচে নামে। কিচেন এ গিয়ে কড়া করে কফি বানিয়ে নিয়ে আসে রুমে । শুভর ঘাড়ে হাত দিয়ে বলে,

“ তোমার কফি খেয়ে নাও। ”

নিরুর হাত থেকে কফি নেয় শুভ , সোফায় এসে বলে,

“ প্রেগন্যান্ট অবস্থায় কফি খাওয়া নিষেধ, কিন্তু অল্প করে চা পান তো করতে পারো। ”

“ হুমম, আজ ভালো লাগছেনা তাই করিনি, একটু রেষ্ট নিতে চাই । ”

নিরু বেডে গিয়ে শুয়ে আছে, শুভ কফি শেষ করে ড্রইংরুমে সবার সাথে গিয়ে বসে। শুভর ফোনে টোন বেজে ওঠে। আঁধশোয়া হয়ে ফোন হাতে নিয়ে দেখছে নিরু, একটা মেসেজ আসে শুভর ফোনে। নিরু মেসেজ ওপেন করে চোখ দিয়ে পানি ঝরতে থাকে। সাথে একটা ভিডিও ও এসেছে, সেটা ওপেন করে দেখে। এরপর ফোন টা আছাড় দিয়ে খুব কাঁদতে থাকে।

শুভ কিছুক্ষণ পর রুমে এসে নিরু কে কাঁদতে দেখে মনে করে সকালের ঘটনায় মন খারাপ নিরুর। নিরুর কাঁধে হাত রেখে শুভ কিছু বলার আগেই নিরু শুভর হাত এক ঝটকায় সরিয়ে দেয়। এরপর বলে,
“ আর কক্ষনো ছোবে না আমাকে, যেইই হাত দিয়ে তুবা কে স্পর্শ করেছো, সেই হাত দিয়ে আর কখনো আমার শরীর স্পর্শ করবেনা। ”

শুভ অবাক হয়ে যায়,
“ কি বলছো এসব, তুবা কে তুমি চিনলে কিভাবে? ”

নিরু প্রচন্ড রাগে বলে,
“ পাপ কখনো চাপা থাকে না, একদিন প্রকাশ পেয়ে যায়। তোমার পাপ ও আজ আমার সামনে চলে এসেছে। ছিঃ লজ্জা করেনা ঘরে বউ রেখে অন্য মেয়ের সাথে। ”

শুভ কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে, এরপর বলে,
“ আমার উপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছো নিরু, আমি এমন কিছুই করিনি। ”

নিরু অনেক জোরে করে বলে,
“ তাহলে বলতে চাচ্ছো তুবা কে তুমি রেপ করোনি। তাহলে তুবার গর্ভের সন্তান কেও তুমি অস্বীকার করছো তাইনা। ”

ততক্ষণে বাসার সবাই চলে এসেছে, লাস্ট এর কথায় সবার মাথায় বাজ পড়ে। শুভ কিছু বলার আগেই শুভর মা বলে,

“ শুভ! এসব কি শুনছি? তুই এতো নিচে নেমে গিয়েছিস। ”

শুভ কিছু বলার আগেই নিরু শাশুড়ি মায়ের কোলে মাথা রেখে বলে,

“ আম্মা, উনি তুবা নামের এক মেয়ের সাথে বাজে কাজে লিপ্ত হয়েছে। ওই মেয়েটা এখন প্রেগন্যান্ট। ওনার ফোনে ওই মেয়েটা ভিডিও পাঠিয়েছে। আপনি দেখলে বুঝতেন, এগুলো ফেইক না। ”

শুভ নিজের ফোন হাতে নিয়ে ভিডিও ওপেন করে যা দেখে নিজেই লজ্জা পেয়ে যায়। ফোন টা এক আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলে। এরপর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,

“ আম্মু! বিশ্বাস করো আমি এমন নই। ”
শুভর মা বলেন,
“ তাহলে ফোন ভাঙ্গলি কেনো? ”

“ ওগুলো দেখে সহ্য করতে পারিনি। তাই …….”

“ ওগুলো রিয়েল তাইনা! ”

“ ভিডিও সত্যিই, কিন্তু…… ”

“ আর কৈফিয়ত দিতে হবে না। নিরু চলে এসো আমার ঘরে, আর শুভ! তুই পারলে তোর মুখ আমাকে দেখাস না। ”

“ আম্মু শোন, ,,,, ”

কিছু শোনার আগেই নিরুর হাত ধরে শুভর মা বেরিয়ে যায়, শুভর বাবা ছিঃ বলে বের হবার সময় শুভ জিজ্ঞেস করে,

“ আব্বু তুমিও অবিশ্বাস করলে, আমাকে কিছুই বলার সুযোগ দিলে না তাহলে। ঠিক আছে, নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ না করে ফিরছি না। পারলে নিরুর খেয়াল রেখো তোমরা। ”

শুভ বাইরে চলে আসে, উদ্দেশ্য তুবা কে খুঁজে বের করা।

পরেরদিন সকালে টিভি ওপেন করলে শুভর বাবা ব্রেকিং নিউজ দেখে ঘাবড়ে যায়।
অনেক জোরে করে বলে,

“ হায় আল্লাহ! একি সর্বনাশ হয়ে গেলো আমার। ”

সবাই ছুটে আসে, নিরু প্রথমে নিউজ দেখে মাথা ঘুরে পড়ে যেতে লাগে। শুভর মা ধরে সোফায় বসিয়ে দেয়। রুবি তখন নিরুর পাশে বসে বলে,

“ শুভর প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, সে এমন করতে পারেনা। এটা সত্যিই অনেক বড় চক্রান্তে আমরা ফেঁসে গেছি। তুই ধৈর্য ধর , আর এখন পারলে শুভর সাথে দেখা কর। ”

নিরুর চোখ দিয়ে পানি ঝরছে, নিরুর মন বলছে শুভ এমন করতে পারে না। সে রুবি কে বলে,

“ আপু, আমাকে নিয়ে যাবে ওর কাছে। আমার ভুল হয়ে গেছে ওকে অবিশ্বাস করা। নইলে ওর এতো বড় ক্ষতি হতো না। আমার মন বলছে আমি ওকে অবিশ্বাস করে ভুল করেছি।”

টিভির ব্রেকিং নিউজে একবার তাকালো নিরু,

“ বিশিষ্ট বিজনেসম্যান আসাদুজ্জামান শুভ তুবা হত্যা মামলায় গ্রেফতার। ”

শুভর ফ্যামিলি থানায় যায়, শুভর বাবা ও সি র সাথে কথা বলে। প্রথমে তারা শুভর সাথে দেখা করতে দিতে নারাজ হয়। কিন্তু পরে কথা বলতে দেয় প্রায়ই এক ঘন্টা পর।

শুভকে কয়েজন পুলিশের সামনে হাতকড়া পরিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে, সবাই গিয়ে শুভর আসেপাশে ভিড় জমায়। শুভ তখন বলে,

“ তোমরা কেনো এসেছো? বিশ্বাস যখন করতে পারোনি, তার শাস্তি তো আমায় পেতেই! হবে। ”

“ আমাকে মাফ করে দাও, আমি জানি! তুমি অন্যায় করো নি। আমরা সবাই তোমাকে নির্দোষ প্রমাণ করবো। ” নিরু কেঁদে উঠে কথা গুলো বলার পরে।

“ কাল যদি অবিশ্বাস না করতে তাহলে আজ এই দশা হতো না আমার। আর কারোও উপকার চাইনা। সবাই চলে যাও। ”

শুভর মা বলে,

“ ভুল হয়ে গেছে বাবা, মাফ করে দে। কি ঘটনা ঘটেছে খুলে বল, তাহলে আমাদের সুবিধা হবে কেশ সলভ করতে। ”

“ কি দরকার আম্মু, আমার ছাড়া পেয়ে লাভ নেই, আমি তো খারাপ। ”

শুভর বাবা বলেন,
“ আহহ শুভ! এতো রেগে যেও না। বিপদের সময় মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়। ”

নিরু সবার সামনেই শুভ কে জড়িয়ে ধরে,

“ প্লিজ মাফ করে দাও, আমার জন্য না হলেও অনাগত সন্তানের জন্য। ”

শুভর মাথা কিছুটা ঠান্ডা হয় সন্তানের কথা শুনে। এরপর বলে,

“ আমি বড্ডো ফেঁসে গেছি নিরু, বুঝতে পারছিনা কিভাবে এই জাল ছিঁড়ে বের হবো।”

চলবে………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here