প্রেমের_পরশ পার্ট_20

প্রেমের_পরশ
পার্ট_20
#জামিয়া_পারভীন

শুভ হটাৎ করে নিরুর সাথে এমন করে বসবে নিরু ভাবতেই পারেনি। তখন নিরু শান্ত গলায় শুভ কে বলে,

• “ আমার অপরাধ টা কি জানতে পারি। ”

শুভ আর কথা না বাড়িয়ে নিরুকে হাত ধরে টেনে এনে গাড়িতে বসায়, অন্য মানুষের সামনে নিরু আর একটাও কথা বলেনি শুভর সাথে। এমনকি কাঁদেও নি, কারণ শুভর অফিসের স্টাফ গাড়ি চালাচ্ছে। অন্য মানুষের সামনে নিজের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস কমানোর কোন মানেই হয়না নিরুর কাছে। প্রায়ই দুপুরের একটু আগে ওরা বাসায় ফিরে আসে। বাসায় এসেই শুভ রিমি কে চিৎকার করে ডাকতে থাকে, এতে রিমি সহ ওদের বাবা মা ও বের হয়ে আসে। শুভর বাবা জিজ্ঞেস করে,

• “ কি হয়েছে ! বেড়াতে গিয়েছিলে হাসি মুখে, আর ফিরে এসে রিমির উপর চটলি কেনো? ”
• “ তোমার মেয়ে নিচে নামতে নামতে এতই নিচে নেমে গেছে যা বলার বাইরে।” শুভ চিল্লিয়ে বলে।
• রিমি তখন বলে, “ ভাইয়া আমি কিছুইই করিনি! বিশ্বাস করো প্লিজ।”
• “ তো কে করেছে? ” শুভ রিমি কে আস্ক করে।

তখন নিরু জিজ্ঞেস করে,
• “ কি হয়েছে সেটা প্লিজ বলবে কি? ”
এতে শুভ আরোও রেগে যায়, বলে,
• “ তোমার নষ্টামি গুলো ফাঁস হয়েছে আর কি। ”
• “ তুমি আমাকে বিনা দোষে দোষী করতে পারো না। ”

শুভ কিছু ছবি দেখায় নিজের ফোন থেকে, ছবি গুলো দেখে নিরু নিজেই মাথা ঘুরে পড়ে যায়। শুভর বাবা বাসাতেই ডক্টর ডাকেন। ডক্টর যা বললেন সেটাতে শুভর রাগ আরোও বেড়ে যায়, নিরুকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পুরো দিন টা তেই কেউ কারো সাথে আর কথা বলেনি। রাতে নিরুর জ্ঞান ফিরে আসে, সে কিছুক্ষণ পর পুরো পুরি বাস্তবে ফিরে আসে। মনে পড়ে যায় দুপুরের ঘটনা, নিরু শুভ কে ডাকে, শুভ কাছে এগিয়ে না গেলে নিরু চিল্লিয়ে বলে,
• “ তুমি কি আমাকে অবিশ্বাস করছো নাকি? যদি তাই ভেবে থাকো তাহলে আমাকে হত্যা করতে পারো। আর যদি একটু হলেও বিশ্বাস করো! তো কাছে এসে যা বলতে চাই সেটা শুনো। ”
শুভ কাছে এসে জিজ্ঞেস করে,
• “ কি বলতে চাও সেটা বলো, চিৎকার করো না আর।”
নিরু তখন বলে,
• “ ওই ছবি গুলো দেখে আমাকে কষ্ট দিচ্ছো, আমি এমন কিছুই করিনি। ছবি গুলো সব ইডিট করা এটা বুঝলে না। যাই হোক! আমি বাসা থেকে বাইরে যায় না। শুধু রিমির সাথে কলেজে যায়, আর রিমির সাথে ফিরে আসি। ”
এরপর রিমির উদ্দেশ্যে বলে নিরু,

• “ সত্যিই করে বলোতো রিমি, আমি কি এক মুহুর্ত তোমাকে হাতছাড়া করেছি। সব সময় তোমার কাছে থাকিনি। ”
রিমি তখন সায় দেয় নিরুর কথায়। শুভ জানে, জেনেও মানতে পারছিলো না। নিরুর কথা শুনে শান্ত গলায় বলে শুভ,
• “ তাহলে ছবিগুলো কবেকার? ”
• “ ছবি গুলো এই বাসারই ছাদের তোলা, তাও রিমির ফোনে। এখন যা জিজ্ঞেস করার রিমিকেই বলো, সেইই সব বলবে।

শুভ তখন রিমিকে কিছু বলার আগেই রিমি বলতে শুরু করে,
• “ ভাইয়া বিশ্বাস করি আমি ভাবী নির্দোষ। আসলে ছবিগুলো আমাদের বাসার ছাদেই তোলা। ”

শুভ তখন হুংকার ছেড়ে বলে,
• “ কাকে দিয়েছিলিস এই ছবি তুই?”
• “ আসলে সেদিন আমরা দুইজন সেজেগুজে ছবি তুলছিলাম, এরপর রাকিবকে আমার কয়েকটা ছবি দিই। আর তখন নিরুর অর্ধেক ছবি চলে যায়। তখন রাকিব বলে, নিরু তার বোন হয়, বোনকে কখনো ভালো ভাবে সে দেখেও নি। বোনের ছবি দেখবে বলে বায়না ধরে, তাইই দিয়েছিলাম তিন টা ছবি। ”

শুভর রাগের জন্য পুরো ফরসা গাল লাল হয়ে আছে, নিরু কাছে গিয়ে বলে,
• “ শান্ত হও, রিমি তো আর জানতো না রাকিব কতো খারাপ। ”

রিমি কে নিরু বলে,
• “ দেখো রিমি, এই বাড়ির কেউ জানতো না যেসকল কথা তা আজ বলছি। ”
সবার উদ্দেশ্যে ই নিরু বলে,
• “ আমি আমার বোনের বিয়ের দিন বাসায় গিয়ে আম্মাকে বিরক্ত করে ফেলি। আম্মাকে জানিয়ে আমি ছাদে যায়, যেন রুবি আপার বিয়ের ব্যাঘাত না ঘটে। তখন সন্ধ্যার পর ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন রাকিব এসে আমার শ্লীলতাহানি করতে চেয়েছিলো। আমি নিজেকে বাঁচাতেই পিছনের দিকে সরতেই ছাদ থেকে পড়ে যায়। এই সব কথা শুভ জানে, তাও আজ আমায় অবিশ্বাস করলো। বড়ই আফসোস হয়, কিন্তু কিছুই করার নেই। ”

সবাই অবাক হয়ে যায়, এমন একটা ছেলের পিছনে রিমি পড়েছে। তখন শুভ বলে,
• “ আমি জানি, রাকিব রিমি কে ট্রাপে ফেলে নিরুকে চায়। কারণ নিরু……. . ” এটুকু বলেই থেমে যায়।
রিমি কে আস্ক করে শুভ,
• “ রিমি তোর ফেসবুকের পাসওয়ার্ড কি রাকিব জানতো? ”

রিমি বলে,
“ না ভাইয়া, রাকিব আমার ফেসবুক একাউন্ট কাল রাতে হ্যাক করেই তোমার মেসেঞ্জারে এসব ছবি পাঠিয়েছে। ” রিমি আরোও বলে, “ ভাইয়া, আমি বুঝে গেছি, রাকিব আসলে ভাবীর ক্ষতি চাই। আমাকে মাফ করে দিও। ”

এতক্ষণ রুবি আর সাগর সব কথা শুনছিলো, তখন সাগর জিজ্ঞেস করে শুভকে,
• “ হ্যাঁ রে শুভ! নিরু মানে তোর বউ কার কি ক্ষতি করেছে, কেনো সবাই ওর ক্ষতি চাই রে? ”
একথা শুনে রুবির মুখ শুকিয়ে যায়।
শুভ বলে,
• “ এ কথা তোমার বউ ও খুব ভালো করে জানে। সব কিছু জানি! কেনো নিরুর ক্ষতি চায় সবাই। নিরুর কিছু যেন না হয় সেজন্য পুরো বাড়ি সিসিটিভি আওতায় এনেছি। সব সময় ফুটেজ চেক করি। আর ওর বয়স ১৮ হতে আরোও দুইমাস বাকি। সেদিন সব কিছু জানতে পারবে সবাই। ”

নিরুর গা গুলিয়ে যাচ্ছে, শুভ জোর করে নিরুকে খাওয়ায়, নিজেও খায়। সারাদিন কেউ মুখে কিছু তুলেনি। নিরু ডিনারের পরপর ই বমি করে দেয়,

শুভর মা বলে,
• “ বউমা কে কালই হসপিটাল নিয়ে যাস, ডক্টর যা বলে গেলো সেটা যদি সত্য হয়। আমাদের সবার জন্যই মঙ্গল। ”
শুভ মাথা নেড়ে সায় দিলো।

…….

এদিকে রুবি ওর মা কে ফোন দিয়ে সব জানালো,
এতে ওর মা ওকে বলে,
• “ দুধ কলা দিয়ে এতোদিন কালসাপ পুষেছি। আমাদের খেয়ে পড়ে, আমাদের বাড়িতে আশ্রিত থেকে এখন আমাদের পায়েই কুড়াল মারতে চাচ্ছে। ”
• রুবি তখন বলে, “ সম্পত্তির লোভ ছেড়ে দাও মা। ফুপু আর রাকিব কে ঘর ছাড়া করো, নইলে তোমরা ও ফেঁসে যাবে। আমি চাই না আমার মা জেলে যাক। অন্ততঃ একটু সুখ চায় আম্মু।”

লুতফা বেগমের মন বেজার হলেও মেয়ের কাছে আর কিছুই বলে না। সবার খোঁজ খবর নিয়ে ফোন রেখে দেয় রুবি।

……

নিরুকে ঘরে এনে শুইয়ে দেয় শুভ, নিরু বেডে আধশোয়া হয়ে শুয়ে আছে। তখন শুভ হটাৎ করে নিরুর পা ধরে ফেলে,

• “ আরে করছো কি! পায়ে হাত দিচ্ছো কেনো? ” নিরু চমকিয়ে উঠে এগুলো বলে।
• “ আমি আমার নিষ্পাপ বউ টা কে ভুল বুঝেছিলাম, ক্ষমার যোগ্য নয় আমি! পারলে ক্ষমা করে দিও। ”
• “ পা না ছাড়লে ক্ষমা করবোনা। এখন পা ছেড়ে আমায় আদর করে দাও। সকালে মেরেছো, আদর না পেলে ভুলবোনা। ”

শুভ গিয়ে নিরুকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে, শুভর চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে নিরুর গালে। নিরু শুভর চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলে, “ বাচ্চারা কাঁদে, তুমি তো বাচ্চা নও।। ভুল তো মানুষ মাত্রই হয়। চলোনা নতুন করে সব কিছু শুরু করি। ”

শুভ নিরুকে আরোও শক্ত করে জড়িয়ে নেয়। মনে মনে বলে, সত্যিই তোমার মতো মেয়ে পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার। ”
নিরু তখন বলে, “ তোমার মতো হাজবেন্ড পাওয়া ও তো ভাগ্যের ব্যাপার। ”

শুভ মুচকি হাসে, “ তুমি কি আমার মনের কথা পড়তে পারো নাকি!!! ”

• “ তোমার আত্মার অংশ বলে কথা। ” নিরুর কথাতে শুভ নিরুর কপালে চুমু এঁকে দেয়।

চলবে……………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here