প্রেমের_পরশ পার্ট_14

প্রেমের_পরশ
পার্ট_14
জামিয়া_পারভীন

শুভ পারসোনাল ল্যাপটপ ওপেন করে শুভর রুমের সিসিটিভি ফুটেজ অন করে, ঘরে কি হচ্ছে না হচ্ছে সব চেক করার জন্য, নিরুর রুমে রুবি কে দেখে শুভর বুক টা কেঁপে ওঠে, সাথে সাথে নিরু কে ফোন দেয়। রিংটোন এর শব্দে নিরু জেগে উঠে, পাশে রুবি কে দেখে চমকিয়ে যায়।
তাও রুবির সাথে কথা না বলে ফোন রিসিভ করে, আধোঘুম কণ্ঠে শুভকে বলে,

__ “ আপনি কোথায় থেকে ফোন দিলেন? এতো সকাল সকাল কোথায় গিয়েছেন? ”

__ “ এতো প্রশ্ন করোনা, রুবি ভাবীর থেকে সাবধানে থাকবে। সকাল সকাল তোমার কাছে কি চাচ্ছে? ”

__ “ আপনি কিভাবে জানলেন? ”

__ “ যেভাবেই হোক জেনেছি, সব সময় তোমায় ফলো করছি বুঝেছো? ”

__ “ উম্মম্মম্মম্মম, একটু ঘুমাই। ”

__ “ ওকে ঘুমাও, ভাবীকে বের করে তারপর। ”

__ “হু”

শুভর ফোন কেটে দিয়ে রুবির সাথে কথা বলে নিরু,

__ “ আপু, এতো সকালে ঘুম ভেঙে গেলো তোমার? ”

__ “ সাগর নেই, সকালেই বেরিয়ে গিয়েছে। অফিসে নাকি জরুরী মিটিং আছে আজ দুপুরে সেটার প্রস্তুতি নিতে হবে মনে হয়। ”

__ “ ওহহহ, উনিও কি একসাথে গিয়েছে?”

__ “ কে? শুভর কথা বলছিস? ”

__ “ হুমম”

__ “ আরে শুভ তো অন্য কম্পানি তে বসে, তোর শ্বশুর এর তো অনেক বড় বিজনেস, দুই ছেলে কে আলাদা আলাদা অফিসের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। তবে শুভ একটু বেশিই সামলায়, মানে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। ”

__ “ তুমি তো অনেক কিছু জানো, ভালো কথা মনে পড়েছে, সাগর ভাইয়ের অফিসে তুমি জয়েন করলেও তো পারো, এতে দুটো সুবিধা,
• ১. অফিসের একটা স্টাফের বেতন বাঁচবে।
• ২. সাগর ভাইয়া কে সব সময় চোখের সামনে দেখতে পারবে। হিহি, অন্য কাউকে নিয়ে সময় কাটায় কিনা জানতে পারবে।
বুদ্ধি গুলো ভালো না বলো? ”

__ “ তোর বুদ্ধি কি খারাপ হয় বল? ”

__ “ যতটুকু জানি তুমি সাগর ভাইয়ার সাথেই পড়েছো, উনি যা পারে তুমিও তাই পারবে। হিহিহি ”

__ “ এটা কখনো কি সম্ভব নাকি? ”

__ “ যদি সম্ভব হয় তাহলে তো তুমি রাজি তাইনা। ”

__ “ এই বাড়িতে তো কিছুই করতে হয়না, সব সময় ফোন টিপতে টিপতে আমি বোরিং ফিল করি। আগে সাগর প্রতি সপ্তাহে ঘুরতে নিয়ে যেতো, আর এখন, আমি যেন অন্য গ্রহের বাসিন্দা। কিছু বললেই বলবে আগে ব্যাচেলর ছিলাম, এখন বউ হয়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে, ঘুরার সময় কোথায় বলো। ”

__ “ আমি তো কখনো কোথাও ঘুরতেই যায়নি। ”

__ “ যাবি আমার সাথে শপিং এ। ”

__ “ না হ হ হ, উনি চান না। ”

__ “ কেনো, আমার সাথে মিশতে নিষেধ করে নিশ্চয়ই। ”

__ “ বুঝোই তো, জিজ্ঞেস করো কেনো? ”

__ “ আচ্ছা, আমি আজ যাই। ”

শুভ এতক্ষণ সব কিছু দেখছিলো রুবি কিছু উল্টো পালটা করছে কি না। রুবি চলে যাওয়া তে যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো। সাথে সাথে নিরুকে ফোন দেয়,

__ “ কেমন আছো পাখি? ”

__ “ কি ব্যপার বলুন তো, আপু আসতেও বুঝে গেলেন, যেতেও বুঝে গেলেন? ”

__ “ বললাম যে, আমি যাদু জানি। ”

__ “ একটু শান্তি মতো ঘুমুতেই পারিনা। ”

__ “ আর ঘুমাতে হবেনা, ফ্রেশ হয়ে নাও, পারলে শাওয়ার নিও। ”

__ “ আমি জানি, নোংরা করে রেখেছেন, পরিস্কার তো হতেই হবে। ”

__ “ বাহ বাহ চমৎকার, দোষ চাপিয়ে দিলে। ”

__ “ কিছুই করিনি, করলে তো আপনি এতক্ষণে মুখ দেখাতে পারতেন না। ”

__ “ যাও, উঠে ফ্রেশ হয়ে নাও, নাস্তা শেষ এ ঔষধ খেতে হবে। নইলে অসুস্থতা বাড়বে, আমি চাই তুমি খুব শীঘ্রই সুস্থ হয়ে ওঠো। ”

__ “ ওকে গেলাম, বা বায়, হি হি” বলে ফোন কেটে ফ্রেশ হতে যায়।

দুপুরের আগে নিরু শ্বশুর এর রুমে আসে,

__ “ আব্বু কি করছেন? ”

__ “ এইতো বুড়ো হয়ে গেছি, সারাদিন একা একা বসে থাকি। কিছু বলবি? ”

__ “ বলছিলাম যে রিমিও এখন সুস্থ, কলেজ যাওয়া আসা করছে, বাসাতেও অনেকজন কাজের মানুষ কাজ করছে। আম্মা আপনি বই পড়েন, নামাজ পড়েন, কোরআন শরীফ পড়েন। কোন এক ভাবে দিন কেটে যায়। আমি মাঝে মাঝে আপনাদের সাথে কথা বলি আমার ও দিন কেটে যায়। কিন্তু রুবি আপা সারাদিন ঘরে একা একা থাকে, উনার মন খারাপ লাগে একা থাকতে। ”

__ “ তো কি করতে বলছিস সেটা বল, ও কি ওর বাপের বাসায় যাবে নাকি? গেলে চলে যেতে বল একেবারের জন্য। ”

__ “ নাহ আব্বু, আপু সাগর ভাইয়া কে খুব ভালোবাসে, সারাদিন খুব মিস করে, তাই আমি ভেবেছি, আপু যদি অফিসে ও ভাইয়ের সাথে জব করে, না মানে আপু তো পড়াশোনায় ভালো ছিলো। ”

__ “ হুমম বুঝলাম, সে তোকে বলতে বলেছে তাইনা। ”

__ “ আমি নিজে থেকেই বললাম আব্বু, ভুল হয়ে গেলে ক্ষমা করে দেবেন। ”

__ “ আচ্ছা পরে ভেবে দেখবো, আর তুমিও তো পড়াশোনা শুরু করতে পারো? ”

__ “ উনি আমাকে বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন। ”

__ “ ওকে আমি আজ রাতে শুভর সাথে কথা বলবো, এখন ঘরে যাও। ”

সারাদিন নিরুর বেশ ভালোই কাটলো, রাতে সবাই ডিনার করতে বসলে শুভর বাবা কথা বলেন,

__ “ সাগর ”

__ “ জ্বী আব্বু, বলো।”

__ “ রুবির ব্যপারে কিছু কথা ছিলো। ” এই কথা শুনে রুবি ভয়ে চুপসে যায়। যদি ওকে তাড়িয়ে দেয় সেই ভয় ঢুকে গেছে।

__ “ হ্যাঁ আব্বু বলো, তুমি যা চাইবে সেটাই হবে। ” সাগর প্রতিউত্তরে বলে।

__ “ তোর পি এ এর চাকুরী কাল থেকে রুবি করবে। আমি জানতাম এই চেয়ার টা অনেক দিন থেকেই খালি। ভেবেছিলাম আগেই, এই চেয়ারের মালিক তোর বউকেই দিবো। কিন্তু এতো ঝামেলা হওয়াতে বিষয় টা ভুলেই গিয়েছিলাম। যাই হোক দায়িত্ব টা ওকে বুঝিয়ে দিবি। ”

__ “ আচ্ছা আব্বু, তাই হবে। ”

রুবি এমন প্রস্তাব পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে শ্বশুর এর পা ধরে সালাম দেয়, তখন শুভর বাবা বলেন,

__ “ এসব আদিক্ষেতা ভালো লাগে না, সালাম দিতে হলে তোমার বোন কে দিও। ওই মেয়েটার আবদার আমি ফেলতে পারিনা, তাই তোমাকে এতো সম্মান দিয়ে রেখেছি। নইলে তোমার যায়গা এই বাড়িতে হতো না। ”

__ “ ক্ষমা করবেন আব্বু, আমি আপনার ভালো পুত্রবধুর মতো থাকবো এখন থেকে। আমি অনেক বড় ভুল করেছিলাম, আমার বোন টা কে এখন আমি খুব ভালোবাসি। আমি আর কখনো ওর সাথে খারাপ বিহেভ করবোনা। ”

__ “ এখন ডিনার করে যে যার মতো ঘরে যাও। ”

রাত্রে নিরু ঘরে ঢুকে দেখে শুভ একটা বিশাল বড় প্যাকেট হাতে দাঁড়িয়ে আছে ।

__ “ কি আছে এর মধ্যে? ”

__ “ খুলেই দেখো কি আছে? ”

নিরু মোড়ক খুব সাবধান এ খোলে, নিজেই অবাক হয়ে যায়।

__ “ সারপ্রাইজ কেমন লাগলো? ”

__ “You are such a good husband, a great gift, the best gift of my life.”

শুভ বিয়ের দিনের একটা ছবি কে বড় করে বাধায় করেছে। ছবিতে শুভ নিরুর পিছনে দাঁড়িয়ে বাম হাত নিরুর পেটের উপর দিয়ে রেখেছে আর ডান হাত নিরুর গলার কাছে দিয়ে মুখ টা নিরুর কাঁধে রেখে ছবিটা তুলেছিল সেদিন। নিরুর লাজুক চেহেরা টাই ফুটে উঠেছে ছবিতে , আর সেই জন্যই শুভ এই ছবিটা বাধায় করেছে।

__ “ এটা কোথায় রাখবেন? ”

__ “ কেনো এই ঘরের দেয়ালে। ”

__ “ সবাই দেখবে তো, আমার লজ্জা করেনা বুঝি। রিমি, আপু, আম্মা সবাই রাগাবে, আমি মরেই যাবো লজ্জায়। ”

__ “ তুমি কি অন্য কারো সাথে আছো নাকি? আমার বউয়ের সাথে আমি ছবি তুলেছি। কার কি প্রব্লেম শুনি। ”

__ “ হ্যাঁ তাই তো, ওকে ওকে, টাঙিয়ে দিন। ”

__ “ সব সময় এমন করলে কিন্তু কথা বলবো না। ”

__ “ কি করলাম শুনি। ”

__ “ তুমি বলে ডাকবে এরপর থেকে। ”

__ “ পারবো না, লজ্জা লাগে। ”

শুভ নিরুর ঠোঁট দুটি নিজের ঠোঁটে নিয়ে নেয়। কিছুক্ষণ পর ছাড়ে,

__ “ আপনি খুব খারাপ। ”

__ “ তুমি করে না বললে এরপর থেকে সবার সামনে কিস দিবো।”

__ “ আ আ আ প নি ” শুভ নিরুর ঠোঁট এ হাত দিয়ে বলে “ তুমি বলো ”

__ “ তু তু তু মি ই ই খুব খারাপ। ” তোতলিয়ে বলে।

সারারাত দুষ্টামী করে ঘুমানো, আর সারাদিন শ্বশুর শাশুড়ির সাথে থাকা যেন রুটিন হয়ে যায়। এই রুটিনে চলতে চলতে এক মাস হয়ে যায়। শুভ নিরুও বেশ হ্যাপি আছে। আর শুভ বাইরে গেলে নিরুকে সব সময় দেখে রাখে সিসিটিভি ফুটেজ এ। নিরুকে শুভ অনেক ভালোবেসে ফেলেছে, যে কোন মুল্যে নিরুকে হারাতে চায় না শুভ। সেই জন্যই এতো ব্যবস্থা শুভর।

শুভর সাথে নিরুর বিয়ের আড়াই মাস কেটে যায়, বিকালে নিরু রিমি আর শুভর মা বাবা মিলে গল্প আর নাস্তা করছিলো তখন শুভর ছোট খালামনি আর সামিহা বেড়াতে আসে। নিরুর ওদেরকে দেখে খুব রাগ উঠে যায়, তাও মিষ্টি করে সালাম দেয় সবাইকে। কুশল বিনিময় করে নিরু বলে,

__ “ আমার একটু কাজ আছে আম্মা, ঘরে গেলাম। ” সামিহার সামনে মোটেও বসে থাকা যায়না। এটা ভেবেই ঘরে চলে আসে নিরু।

বিছানে এসে বসতেই সামিহা নিরুর রুমে ঢুকে।

চলবে………..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here