প্রেমের_পরশ পার্ট_11

প্রেমের_পরশ
পার্ট_11
#জামিয়া_পারভীন

শুভ সব কিছু শুনে কি করবে, কি বলবে কিছুই না বুঝতে পেরে বাইরে বের হয়ে আসে। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, কোন কিছুর সমাধান না পেয়ে পাশের চায়ের দোকানে এক কাপ চা খায় শুভ, অন্য কোন নেশা নেই শুধু চা ছাড়া। বাসায় এসে নিরু কে ডাকতে থাকে,
__ “ জ্বী বলুন কিছু হয়েছে কি?” বেশ চিন্তিত স্বরে নিরু জিজ্ঞেস করে।

__ “ ভালো লাগছেনা কিছুই, এক কাপ কফি হবে? ”

__ “ জ্বী, এখুনি নিয়ে আসছি। আপনি ঘরে যান, ফ্রেশ হন। ”

__ “ ওকে ডার্লিং। ”

__ “ পাগল হলেন। ”

__ “ হুমম, তাড়াতাড়ি এসো। ”

শুভ রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সোফায় বসতেই নিরু কফি ট্রে তে নিয়ে রুমে আসে। সাথে গাজরের হালুয়া আর পানি।
__ “ এসব তো চায়নি আমি, এগুলো তুমি খেয়ে নাও।”

__ “ সারাদিন কি খেয়েছেন না খেয়েছেন কোন ঠিক আছে কি? খালি পেট এ কফি খেলে এসিডিটি বাড়বে। অল্প একটু হালুয়া খেয়ে পানি পান করবেন। আর কোন কথা শুনতে চাচ্ছিনা। ”

__ “ পিচ্চি বউ দেখি আমায় শাসন শুরু করেছে। ”

__ “ যদি শাসন মনে হয় তাহলে শাসন, কেয়ার মনে করেন তো কেয়ার করছি। ”
শুভ নিরুর কথা মতো হালুয়া খেয়ে পানি পান করে কফির মগে চুমুক দেয়। শুভ জিজ্ঞেস করে,

__ “ হালুয়া টা কে বানিয়েছে? ”

__ “ ভালো হয়নি বুঝি? ”

__ “ মোটেও ভালো হয়নি। ”

__ “ কি বলছেন? এতো যত্ন করে বানালাম, আপনি কিন্তু বদনাম করছেন। ”

__ “ সত্যিই ভালো হয়নি, মিষ্টি কম হয়েছে। ”

__ “ না মিষ্টি ঠিকই আছে, আপনার যত মিথ্যে কথা। ”

__ “ সিরিয়াসলি মিষ্টি কম হয়েছে। ” কফির মগ টা টেবিলে রেখে দিয়ে বলে।
নিরু কান্নার স্বরে বলে,

__ “ আমি আর কখনো আপনার জন্য কিছুই বানাবোনা। ”
ততক্ষণে শুভ নিরুকে হাত ধরে টেনে নেয় কাছে, পিঠের দিকে হাত দিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে, নিরুর হার্টবিট বেড়ে গেছে, বুকের ধকধক শব্দ শুভ অনুভব করতে পারছে। নিরুর মুখের কথা যেন হারিয়ে গেছে ঘনঘন নিঃশ্বাস ছাড়ছে নিরু, শুভর ঠোঁটে নিঃশ্বাস পড়ছে নিরুর। নিরু ভয়ে, লজ্জায় চোখ বন্ধ করে নিয়েছে। শুভ নিরুর ঠোঁট নিজের ঠোঁট দিয়ে আলতো স্পর্শ করে, নিরু শুভর গলার কাছে খামচিয়ে ধরে।
শুভর যেন এতটুকু ও লাগেনি। ঠোঁট দিয়ে গভীর ভাবে নিরুকে চুমু দিয়ে ধরে রাখে। বেশ কিছুক্ষণ পর শুভ নিরুর ঠোঁট ছেড়ে গলায় কিস দেয়। নিরুর শিহরণ আরও বেড়ে যায়, নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলে শুভ আরোও বেশি করে চেপে ধরে। নিরু কে কোলে উঠিয়ে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে শুভ বিছানায় নিরুকে চেপে ধরে, কিস দিয়ে ভরিয়ে দেয় নিরুর গলা, ঠোঁট, গাল, কপাল। শুভ নিরুর শাড়ির আঁচল সরাতে গেলে একটু হালকা হতেই নিরু শুভকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। কোনরকম বিছানার একপাশে জড়োসরো হয়ে বসে কাঁপতে থাকে।

__ “ এমন কি করেছি যে বার বার সরিয়ে দাও। ” রাগী গলায় শুভ বলে।
নিরু ভয়েই কেঁদে দেয়। শুভ আবার ধমকিয়ে বলে,

__ “ কি হলো কথা বলছনা কেনো? ”

__ তাও চুপচাপ ফুঁপিয়ে কাঁদছে।

শুভ নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে বিছানায় উঠে নিরুকে টেনে নিয়ে আসে। নিরু চোখ বন্ধ করে মাথা নিচের দিকে নামিয়ে নেয়।

__ “ ভয় পেয়ো না, তোমার অনিচ্ছায় তোমাকে আর স্পর্শ করবোনা। নিশ্চিন্তে থাকতে পারো, ভুল হয়ে গিয়েছে অনেক, এর আগেও বলেছিলাম, তাও স্পর্শ করে ফেলেছি। আর যদি তোমার কোন পছন্দের ছেলে থাকে, তাহলে বলতে পারো। তোমায় তার হাতে তুলে দিয়ে আসবো।

__ “ নাহহহ, পছন্দের কেউ নাই। ” বলে নিরু শুভর বুকে মাথা দিয়ে জড়িয়ে ধরতে যায়। তখন শুভ সরিয়ে দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়।

রাতে ডিনার সেরে শুভ বালিশ নিয়ে সোফায় শুয়ে পড়ে। নিরু নিজের ভুলের জন্য নিজেকে কিছুক্ষণ বকাঝকা করে বসেই বিছানে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। হালকা শীত ছিলো, কাঁপতে শুরু করেছে।

সকালে নিরুর ঘুম ভেঙে শুভকে রুমে দেখতে পায়না। কম্বল তো গায়ে দিয়ে এতো সুন্দর হয়ে শয়নি রাত্রে,
“ এখন এতো সুন্দর করে শুয়ে আছি কিভাবে? ” মনে মনে ভাবে। যাই হোক ঘড়ির দিকে তাকাতেই চোখ কপালে উঠে। “ হায় আল্লাহ! ১১ টা বাজে, আমি এতো বেলা করে ঘুমালাম। ” তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে ফ্রেশ হয়ে সব গুছিয়ে নিচে নামে।

__ “ এখন কেমন আছো বউমা। ” শুভর মা জিজ্ঞেস করে।

__ “ জ্বী আলহামদুলিল্লাহ, দুঃখিত আম্মা, ক্ষমা করবেন। আজ সময় মতো উঠতে পারিনি। ”

__ “ কিছু কি বলেছি তোমায়? অসুস্থ হলে ঘুমাতেই পারো। এখন নাস্তা করে ওষুধ খেয়ে নাও। ”
আম্মার কথা শুনে অবাক হয়ে নিজের কপালে হাত দিয়ে দেখে সত্যিই জ্বর এসেছে। একটু দুর্বল লাগছিলো বটে কিন্তু চিন্তায় আর খেয়াল করা হয়নি। “নিশ্চিত রাত্রে শুভর সেবা যত্ন পেয়েছি, ইসস ভুলে গেলাম কেনো? ” নিরু বেশি কথা না বাড়িয়ে নাস্তা করে ওষুধ খেয়ে নেয়। বুয়া এক মগ কফি দিয়ে যায়। কফি খেয়ে এখন বেশ ফুরফুরা মেজাজে আছে নিরু। আম্মার সাথে গল্প করে রিমির ঘরে যায়।

__ “ এই রিমি, এখন কেমন আছো? ”

__ “ এইতো ভাবী, তুমি এখন কেমন আছো?”

__ “ কি ব্যাপার, এতো বিষন্ন মুখে বসে আছো কেনো? ঝগড়া হয়েছে নাকি? ”

__ “ কি যে বলোনা তুমি? ”

__ “ কাকে পছন্দ করেছে আমার ননদিনী, দেখি তার ছবি? ”

__ “ ভাবীইইইই, এমন কেনো করো? ”

__ “ না ছবি দেখালে তোমার ভাইকে বলে দিবো তো। ”

রিমি বাধ্য মেয়ের মতো নিরুকে ওর পছন্দের ছেলের ছবি দেখায়। নিরু ছবি দেখে কিছুক্ষণ হতবিহ্বল হয়ে বসে থেকে বলে,
__ “ তুমি কি ওকে খুবই ভালোবাসো?”

__ “ আমি ওকে ছাড়া বাঁচবোনা ভাবী।”

__ “ আমরা বুঝি কেউ না, আমাদের কোন দামই নেই তাহলে। ”

__ “ এভাবে বলিও না ভাবী, আমি ওকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি। ”

__ “ আমি যদি বলি অই ছেলেকে ভুলে যেতে, তুমি কি শুনবে? ”

__ “ এসব কিভাবে বলতে পারলে, আমি কিছুতেই ভুলতে পারবোনা। ”

নিরু আর কথা না বাড়িয়ে নিজের ঘরে চলে আসে। “ নাহহ, এ হতে পারেনা, রিমি কে কিভাবে বলবো, ওই ছেলে ভালো না? ” মনে মনে চিন্তা করছে নিরু।
চারিদিকে সব কিছু আজ আধার মনে হচ্ছে, কিছুই ভালো লাগছেনা, অস্থিরতা বাড়ছে নিরুর ভিতর। ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার ছেড়ে বসে পড়ে নিরু।

শুভ আজ তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরেছে, মায়ের কাছে শুনে নিরু খেয়েছে। মনে মনে ভাবে, তাহলে মেয়েটা এখন সুস্থ আছে তাহলে। ঘরে এসে দেখে দরজা খোলা, ওয়াশরুমে এর দরজা খোলা। ভিতরে কেউ নেই ভেবে ঢুকে দেখে নিরু ঝর্ণা ছেড়ে বসে আছে। পুরো শরীরের কাপড় ভিজে আছে, পিঠের দিক ফাঁকা, কাপড় সরে গিয়েছে। নিরু কে এমন দেখলে শুভর মাথা ঠিক থাকেনা তাই রুমে এসে অপেক্ষা করতে থাকে। ড্রেস খুলে নিরুর জন্য ওয়েট করে, কখন নিরু বের হবে, শুভ নিজেও ঢুকবে তাই।
আধা ঘণ্টা হয়ে গেলো দেখে শুভ আবার ওয়াশরুমে গিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে নিরু সেম ভাবেই বসে আছে। শুভর এইবার মাথা টা খারাপ হয়ে যায়, “ অসুস্থ শরীরে, শীতের দিন এইভাবে পানিতে ভিজার মানে কি?” জোরে করে চিল্লিয়ে বলে শুভ।

নিরু চমকিয়ে যায় শুভর গলায়, তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ায় নিরু। শুভ ভিতরে গিয়ে নিরুকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। নিরুর সামনের দিকেও শাড়ি ঠিক নেই, ভিজে গিয়ে বেশি আকর্ষণীয় লাগছে শুভর কাছে। শুভ নিজেকে কন্ট্রোল করে শাড়ি খুলে ফেলে নিরুর। শাওয়ার অফ করে টাওয়েল দিয়ে নিজ হাতে মাথা মুছিয়ে দেয়। শরীর মুছিয়ে দিয়ে বাকি কাপড় খুলতে গেলে নিরু বাধা দেয়।

__ “ তাড়াতাড়ি চেঞ্জ করো, নইলে জানে মেরে ফেলবো বলে দিলাম।”

__ “ জ্বী, ভুল হয়ে গেছে। ”
নিরু রুমে গিয়ে শাড়ি পড়তে শুরু করে , শুভ ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে নিরুর চেঞ্জ করা দেখে ফেলে।
নিরু পিছন ঘুরে শুভকে দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। শুভর আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করতে থাকে নিরু।

ভেজা চুল, ফরসা গাল, ১৬ দিন দাঁড়ি সেভ না করায় অল্প সল্প দাঁড়ি বের হয়েছে, খালি গা য়ে বুকের লোম গুলোর দিকে চোখ আটকিয়ে যায় নিরুর। ছোট ছোট লোম, প্রসস্থ বুক, মনে হচ্ছে নিরুকে শুভর বুক কাছে টানছে। নিরুর খুব ইচ্ছে করছে শুভর বুকের লোমগুলো টেনে দিতে। একটা টাওয়েল পড়ে দাঁড়িয়ে আছে শুভ, লোমশ পা দুটো ও দেখতে পাচ্ছে নিরু। এভাবে তো এতোদিন দেখা হয়নি। “ ইসস না পারছি চোখ সরাতে না তাকিয়ে থাকতে পারছি, লজ্জাও লাগছে। শুভ যে কি ভাবছে কে জানে? সেও তো আমার দিকে তাকিয়ে আছে।” মনে মনে নিরু ভাবে।
এমন সময় শুভ নিরুকে বলে,

__ “ কি ম্যাম, এমন ভাবে তাকালে তো নজর লেগে যাবে। ”

নিরু এই প্রথম সাহস করে শুভর দিকে এগিয়ে যায়, চোখ থেকে কাজল হাত দিয়ে ঘষে তুলে শুভর গলার পিছনে লাগিয়ে দেয়। শুভ শিহরিত হয়ে ওঠে। তখন নিরু শুভ কে বলে,

__ “ আমি ছাড়া আর কারোও নজর লাগবেনা আপনার উপর। ”

চলবে….

প্রেমের_পরশ পার্ট_11

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here