প্রেমের_পরশ পার্ট_9

প্রেমের_পরশ
পার্ট_9
#জামিয়া_পারভীন

হসপিটাল এ রুবি সাগর কে বলে,
__ “ আমি কিছু কথা বলতে চাই। ”

__ “ ভনিতা না করে যা বলার বলে ফেলো।”

__ “ আমি তো সকালে ঘরে একাই থাকি বরিং সময় পার করি। তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, নিরু আর রিমিকে কথা বলতে শুনেছি। পাশের ঘরের জানালা দিয়ে কথা কিছুটা শুনা যায়। ”

__ “ তো কি হয়েছে? ”

__ “ আরে কথা বলছিলো শুনেছি , এরপর আমি ওয়াশরুমে যায় আর কিছুক্ষণের মধ্যেই রিমির চিৎকার শুনতে পাই।”

__ “ এর দ্বারা কি বুঝাতে চাইছো?”

__ “ এটাই বুঝাতে চাইছি নিরু রিমি কে কোন ভাবে ফেলে দিয়েছে। এরপর বাবা মা সবার কাছে ভালো বউমা সাজার নাটক করছে। ”

__ “ প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষারোপ আমি করিনা। আর তুমিও করবেনা আশা করি। আর যদি প্রমাণ করতে পারো নিরু দোষী তো ওকে আমি ছাড়বোনা। আর একটাও মিথ্যে অপবাদ দিওনা রুবি। ”

__ “ তুমি আমায় অবিশ্বাস করতে পারলে সাগর, আমাদের এতো দিনের সম্পর্ক। কখনো আমায় অবিশ্বাস করোনি। আর একটা মেয়ের জন্য আমায় অবিশ্বাস করতে পারলে? আমি তোমার অবিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকি কেমন করে? ”

__“ আচ্ছা নাটক জানো তো তুমি, ডিসগাস্টিং। ” রাগ করে সাগর চলে আসে।

নিরু ও শুভ সিড়ির উপরে গিয়ে ডিটার্জেন্ট এর হালকা গন্ধ পায়।

__ “ আচ্ছা নিরু, আজ কি কেউ ছাদে কাপড় দিয়ে এসেছে? ”

__ “ আমি তো জানিনা, চলুন দেখে আসি। ”

দুজনে ছাদে গিয়ে কাপড় মেলা দেখতে পায়। নিরু জিজ্ঞেস করে,
__ “তাহলে কি কাপড়ের বালতি নেওয়ার সময় পানি পড়েছে? ”

__ “ চলো নিচে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। ”

শুভ কোন কাজের মানুষ কে না ডেকে নিজে সব বালতি মুছে সাফ করে। এরপর পানি ভরে দেখে কোন বালতিইই ছিদ্র নাই। এরপর শুভ বলে নিরুকে

__ “ আচ্ছা নিরু ওই সময় যখন রিমি পড়ে যায় তুমি কি করছিলে? ”

__ “ আমি রিমির ঘরে গল্প করতে যায়। রিমি কলেজ যাবে , প্রাক্টিকাল খাতা সাইন করাতে বলে কলেজ বের হচ্ছিলো তাড়াহুড়ো করে। ”

__ “ আচ্ছা অন্যদিন তুমি এই সময় কি করো? আমি তো প্রায়ই সকালে বাসায় থাকিনা তাই বলো? ”

__” আপনি চলে গেলে কিছুক্ষণ ঘর গোছগাছ করি। তারপর আম্মার ঘরে নিচে যায়, আম্মার ঘর গুছিয়ে দিই, গল্প করি এরপর ইচ্ছে হলে রান্না করি যদি আম্মা রান্না করতে দেয় তাহলে। “

__ “ যা বুঝার বুঝে গিয়েছি, চলো হসপিটালে। ”

__ “ কি বুঝলেন? বলবেন না? ”

__ “ সময় হলেই সব বুঝিয়ে দিবো। ” শুভ বলে।

নিরু মনে মনে চিন্তায় পড়ে যায়, উনি কি আমাকে সন্দেহ করছে নাকি। আমি তো এমন কিছুই করিনি। নিরু মন খারাপ করে গাড়িতে গিয়ে বসে।
হসপিটালে পৌঁছে শুভ ওর বাবা মা আর সাগরকে কে বলে,

__ “ আম্মা, আব্বু, ভাই আমি বড় ভুল করে ফেলেছি, রিমির এটা এক্সিডেন্ট ছিলো না। ওকে ইচ্ছে করে খুন করতে চাওয়া হয়েছে। ” বলে কান্নার অভিনয় করে শুভ।

__ “ কি বলছিস? কে করেছে এইসব। ” সাগর বলে

__ “ আমার সন্দেহ নিরু করেছে। ” শুভ বলে

পাশে রুবি দাঁড়িয়ে ছিলো, মনে মনে বলছে “ এ যে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি, ভালোই হয়েছে নিরুকে সন্দেহ করেছে। ”

__ “ রুবিও এই কথা বলছিলো, নিরু করেছে। ওকে আমি ছাড়বোনা শুভ। ”

__ “ আরে ভয় পাস না, বিশ্বাসঘাতক কে আমি পুলিশের কাছে দিয়ে এসেছি। ” শুভ বলে।

__ “ দেখেছো শুভ, ওই বদমাশ মেয়েটাকে বিয়ে করে কতো বড় ভুল করেছো। ” রুবি বলে

__ “ ভাবী তোমার বোন এখন পুলিশের হাতে, ওর উচিৎ বিচারের ব্যবস্থা করেছি। ”

__ “ আচ্ছা শুভ, নিরু কোথায় আছে, ওর সাথে কি কথা বলা যাবে? না মানে জিজ্ঞেস করতাম কেনো করেছে? ” রুবি জিজ্ঞেস করে শুভকে।

__ “ হ্যাঁ ও তো হসপিটালের পুলিশ কাস্টেডিতে রেখে এসেছি। চাইলেই দেখা করতে পারো। কিছুক্ষণ পর ওকে নিয়ে যাবে কোর্ট এ, দেখা করতে চাইলে এখুনি যাও। ” এই কথা বলে শুভ মনে মনে খুব হাসছে।
রুবি সবাইকে বলে যায় নিরুকে উচিৎ জবাব দিয়ে আসবে।

রুবি হসপিটালের পুলিশ রুমে গিয়ে দেখে বাইরে দুজন পুলিশ বসে আছে, বড় রুমের এক কোণায় নিরু চুপচাপ বসে আছে। রুবি গিয়ে নিরুর পাশে বসে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে,

__ “ কিরে কেমন লাগছে এখন, বড় বাড়ির বউ হবি তাইনা, এখন খুনের দায়ে জেলে যেতে হবে, কেমন লাগছে? ”

__ “ আপু আমি কিছু করিনি, বিশ্বাস করো। ” নিরু খুব কাঁদতে থাকে।

__ “ আহারে, কি কষ্ট, কি কষ্ট, বেচারি। ”

__ “ আমি সত্যিই করিনি আপু, শুভ আমায় ভুল বুঝেছে। ”

__ “ আমি তো জানি তুই করিস নি। কিন্তু প্রমাণ কি করতে পারবি। হা হা হা। ”

__ “ তার মানে তুমি করেছো এইসব, তাইনা। ” কেঁদে কেঁদে বলে নিরু।

__ “ কে জানতো, তোর বদলে রিমি যাচ্ছে, আমার ননদ কে মারতে চাইনি, তোকে মারতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তুই কি করলি বল, তুই নিচে না নেমে রিমির ঘরে গেলি, আর কি, বিপদ টা তোর না হয়ে রিমির হয়ে গেলো। তোর তো কই মাছের প্রাণ রে, বেঁচে যাস বারবার, এবার কিভাবে বাঁচবি বল। ”

__ “ আপু বলে ডাকি তোমায়, তুমি কেনো তোমার বোনকে মারতে চাও বলো।”

__ “ তুই আমার সৎ বোন, এটাই তোর পাপ। ”
একজন পুলিশ কে ভিতরে ঢুকতে দেখে রুবি চলে আসে। রুবি সবার সামনে এসে নিরুকে খুনি বলে নাটক করতে থাকে। তখন শুভ নিরুকে নিয়ে আসে,

__ “ ওর খুনী কে কেনো নিয়ে এসেছিস আমার সামনে। ” শুভর মা চিল্লিয়ে বলে।

__ “ ওকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে ছাড়বো। ” শুভর বাবা বলে।

__ “ আহহহহ! আব্বু , আম্মু এতো উত্তেজিত হচ্ছো কেনো, নিরু তো খুন করেনি। ” শুভ বলে।

__ “ কি নাটক শুরু করেছিস তুই শুভ। ” সাগর বলে

__ “ আরে এএএ ভাইইইই! নাটকের দরকার ছিলো, আসল খুনী কে ধরার জন্য। ”
শুভ মুচকি হেসে কথা গুলো বলে।

__ “ আসল খুনী মানে? কার কথা বলছো শুভ? ”রুবি কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করে।

আরেএ ভাবী এখুনি এতো ভয় পেয়ে গেলে। কেমন করে হবে, কতো কিছুর মোকাবেলা করতে হবে তোমায়। একজন মহিলা পুলিশ এসে রুবিকে হাতকড়া পরিয়ে দেয়।

__ “ কি হচ্ছেটাকি শুভ, আমি কি করেছি? ”

__ “ নাটক টা শুরু করেছো তুমি, শেষ করলাম আমি। কি ভেবেছিলে তুমি, নিরু বাচ্চা একটা মেয়ে, সহজসরল মেয়ের মাথায় কুটচাল আসবে আর আমি বিশ্বাস করবো। আসল খুনী কে ধরার কোন প্রুভ ছিলো না। তাই নিরুকে পুলিশ কাস্টেডি তে রেখে আমায় এই নাটক করতে হয়েছে। রুবিকে ইচ্ছে করে নিরুর সাথে কথা বলতে পাঠিয়েছি, নিরুর ফোনে রেকর্ড অন করে এসেছিলাম। জানি নিরু বাচ্চা মেয়ে অভিনয় করতে পারবেনা, তাই ওকে খুব কষ্ট দিয়ে ফেললাম। ”

সবাইকে রেকর্ড টা শুনায় শুভ, নিরু আর রুবির কথোপকথন

__ “ ছিঃ রুবি, ছিঃ আই হেট ইউ। ওর উচিৎ বিচার চাই আমি। ” সাগর বলে।

__ “ প্লিজ আপুকে ছেড়ে দিন, না বুঝে ভুল করে ফেলেছে, আর করবেনা এমন ভুল, প্লিজ মাফ করে দিন। ” শুভর পা জড়িয়ে ধরে নিরু বলে।

__ “ আহহহ নিরু, রিমি আমার জানের টুকরো বোন, আর তুমি আমার কলিজার টুকরো স্ত্রী। তোমায় মারার প্লানের ফাঁদে আমার বোন পড়েছে। আর খুনী কে আমি ছেড়ে দিবো ভেবেছো। ” শুভ রাগে গজগজ করতে করতে কথা গুলি বলে।

নিরু শুভর কাছে নিরাশ হয়ে শুভির মায়ের পা ধরে বলে “ আম্মা, ও তো আমার বোন, একটা ভুল করে ফেলেছে মাফ করে দেন না। ”

__ “ ওর মতো মেয়ের শাস্তি হওয়াই উচিৎ। ” শুভর মা

রুবি নিরুর কথায় ভরসা পেয়ে সাগর কে বলে,
__ “ প্লিজ সাগর, আমায় মাফ করে দাও, আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আর এমন হবেনা কখনো, আমাকে আঘাত করো, মারো কাটো, তাও পুলিশে দিওনা। দয়া করো আমায় সাগর, প্লিজ ” কেউ ওর কথা শুনছেনা আজ। রুবি সুযোগ বুঝে হাতের ব্যাগ থেকে ছোট ছুরি বের করে গলায় চালিয়ে দেয়।

হটাৎ রুবি এই কাজ করবে কেউ বুঝতে পারেনি , রুবির গলা দিয়ে প্রচুর ব্লাড ঝরছে দেখে সাগর তাড়াতাড়ি রুবির গলা চেপে ধরে। রুবিকে তাড়াতাড়ি ICU তে ভর্তি করে অপারেশন এর ব্যবস্থা করে সাগর। হাজার হোক দীর্ঘ দিনের প্রেমের বিয়ে ছিলো। একদিনে তো ভুলা যাবেনা ।সাগর খুব অস্থির হয়ে উঠেছে। ডাক্তার বের হয়ে আসে প্রায়ই ঘন্টা খানেক পর।

এসে বলে “ গলার একপাশের রক্তনালি কেটে গেছে, প্রচুর ব্লাড বের হয়েছে অল্প সময়ে। ব্লাড লাগবে, O±, কিন্তু এই গ্রুপের ব্লাড এখন হসপিটালে নাই। দ্রুত ব্যবস্থা নিন, নইলে রোগী বাঁচবেনা। ”

__ “ আমার O+ ব্লাড, আমার থেকে নিন। ” নিরু বলে
শুভ মানবিকতার খাতিরে নিষেধ করেনা নিরুকে। নিরু ব্লাড দিতে যায় , আইসিইউর পাশের ব্রেঞ্চে শুভর বাবা, মা, শুভ বসে আছে। সাগর বাইরে পায়চারী করছে, সবার মাঝে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে রুবির বাবা মা ও ছুটে আসে হসপিটালে।

চলবে……

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b6-part_1/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0_%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b6-part_2/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0_%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f_3/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0_%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f_4/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/প্রেমের_পরশ-পার্ট_5/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/প্রেমের_পরশ-পার্ট_6/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/প্রেমের_পরশ-পার্ট_7/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/প্রেমের_পরশ-পার্ট_8/

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/প্রেমের_পরশ-পার্ট_9/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here