প্রেমের_পরশ পার্ট_8

প্রেমের_পরশ
পার্ট_8

জামিয়া_পারভীন

শুভ নিরুকে কিস করতে গেলে নিরু মুখে হাত দিয়ে আটকায়,
__ “ আপনি সব এমন করেন কেনো? ”

__ “ আদর করতে ইচ্ছে করে যে। ”

__ “ এটা আবার কেমন আদর, মুখে মুখ দিয়ে। আমার তো কেমন জানি গা গুলায়। ”

__ “ বাচ্চা বউ আমার কিছুই বুঝেনা। ” নিরুকে ছেড়ে দিয়ে শুভ বলে।

__ “ আমি মোটেও বাচ্চা না, যথেষ্ট বড় হয়েছি। ”

__ “ বড় হয়েছো কতটা, তা তো দেখতেই পাচ্ছি। ফুলসজ্যা ও বুঝোনা, আদর ও বুঝোনা। বাদ দাও, তোমার কোন বান্ধবী নাই? ”

__ “ যখন এতিমখানা তে ছিলাম তখন বান্ধবী ছিলো, যখন স্কুলে ভর্তি হয়ে হোস্টেলে আসি, সবার বাবা মা আছে, সবাই অনেক ধনী ঘরের মেয়ে ছিলো, কেউ কখনো পাত্তা দিতো না, জানেন সবাই আমার সাথে মজা নিতো। প্রথম প্রথম খুব কষ্ট পেতাম, সবার সাথে মিশতে চাইতাম। কিন্তু পরে আর মিশার ট্রাই করিনি, কারণ আমি বুঝে গেছিলাম আমি অনাথ, বাবা থেকেও আমি অনাথ। আমার সৎ মা বলে আমার মা নাকি বাবাকে যাদু করে বিয়ে করেছিলো, তাই নাকি আমার জন্মের পর আমার মা মরে গেছে। আচ্ছা এটা কি সত্যিই, আমি কখনো আমার সৎ মায়ের কথা বিশ্বাস করিনি। ”
খুব কান্নায় ভেঙে পড়ে নিরু।
শুভ নিরুকে বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়, তখন নিরু বলে,
__ “ একমাত্র আপনি প্রথম, যে আমাকে এতো সম্মান দিয়ে বিয়ে করেছেন। রিমি ২য় জন, যে আমাকে বোনের চোখে দেখেছে , রিমিই শিখিয়েছে আপনার বাবা মা কে মা বাবা ডাকতে। জানেন আপনার জন্যই আমি একটা বাবা, একটা মা, একটা বোন পেয়েছি। খুব খুশি আমি আপনার সাতে থাকতে পেরে। কিন্তু….. ”

__ “ আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি মিষ্টি মেয়ে। তাই এতো কিছু করি তোমার জন্য। ”

__ “ কিন্তু সামিহা আপু ও তো আপনাকে ভালোবাসে।”

__ “ ভালোবাসা মানে কি বুঝো তুমি? ”

__ “ মানে,, উঁহু, জানিনা। সেদিন আপুটা আপনাকে বলছিলো, এটুকুই জানি। ”

__ “ হাহাহা, বোকা মেয়ে। ”

__ “ হাসছেন কেনো? ”

__ “ ভালোবাসা মানে বিয়ের পর দুটি হৃদয়ের বন্ধন, সামিহার সাথে তো আমার বিয়ে হয়নি, বিয়ে হয়েছে তোমার সাথে।৷ তাই ভালোও বাসি শুধু তোমাকে। বুঝলে মিষ্টি মেয়েটা। ”
শুভ নিরুর কপালে কিস দিয়ে বলে, “যেদিন সব বুঝে আমার কাছে এসে ধরা দিবে সেদিন ই তোমায় কাছে টেনে নিবো, তার আগে না। ”

দুজনে ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে নেয় সবার সাথে।
,
রুবি ঘর ফাঁকা পেয়ে ওর মা কে ফোন দেয়,
__ “ আম্মু, ওকে কি করা যায় বলোতো, আমার শ্বশুর, শাশুড়ি সবাই ওর প্রশংসা করে। আমি তো খুব বোরিং হয়ে যাচ্ছি। ”

__ “ ওকে মেরে ফেলতে হবে। ”

__ “ কিন্তু কিভাবে, আগে মারাটাই সহজ ছিলো, তখন তো মারতে পারোনি। এখন তোমার মেয়ের গলার কাঁটা হয়ে বিঁধেছে। ”

__ “ আমি তো মেরেই ফেলতে পারতাম কিন্তু তোর বাপ তো সুযোগ বুঝে এতিমখানায় দিয়ে দেয়। মেয়ে জন্ম দিছে, ভালোবাসে মেয়েকে, আর আমরা যেন গাঙে ভেসে এসেছি। ”

__ “ ওকে না মারতে পারলে তো আমরা সব কিছু থেকেই বঞ্চিত হবো আম্মু। ”

__ “ হ্যাঁ জানি! তাই যা করার তোকেই করতে হবে। ”

রুবি কিছু প্লান বলে ওর মা কে। ওর আম্মুও খুব খুশি হয়ে ফোন টা রেখে দেয়।।

শুভ বাইরে যায়, নিরু শাশুড়ির সাথে গল্প করে কিছুক্ষণ, আজও রান্নার দাবী করে। শাশুড়ি ও নিরুর হাতে রান্না খাবার জন্য রাজি হয়ে যায়। দুপুরে সবাই লাঞ্চের পর ঘরে চলে যায়। নিরু সব কিছু গুছিয়ে রেখে ঘরে আসে। শুভ নিরুর জন্য ঘরের ভিতর লুকিয়ে অপেক্ষা করছিলো। নিরু আসতেই পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে,
নিরু ভয় পেয়ে চিৎকার করতে গেলে শুভ মুখ চেপে ধরে।
__ “ এতো ভয় পাবার কি আছে? লক্ষ্মীটি “

__ “ না মানে, চমকিয়ে গিয়েছিলাম যে। ”
শুভ হাতে পাশে থাকা একটা গিফট বক্স নিরুর হাতে দেয়।
__ “ কি এটা? ”

__ “ খুলেই দেখো। ”
নিরু গিফট বক্স টা খুলে দেখে একটা স্মার্টফোন।
__ “ এটা দিয়ে আমি কি করবো? ”

__ “ কি করবা মানে, এটা কি জিনিস জানোনা নাকি? ”

__ “ এটুকু জানি, এটা ফোন কিন্তু কখনো ছুঁয়ে দেখিনি। ”

__ “ আমার সাথে কথা বলবে। ”

__ “ আপনি তো ঘরেই থাকেন, কথা তো হয় ই, তাহলে ফোনের কি দরকার? ”

__ “ আরে পাগলী, আমি তো চাকুরী করি তাইনা, অফিসে যেতে হয়, মিস করবো তোমাকে তখন কথা বলে নিবে আমার সাথে। ”

শুভ নিরুকে ফোনের ব্যবহার করার সব নিয়ম শিখিয়ে দেয়। তারপর বলে,

__ “ বিয়ে তো হটাৎ করে করেছি, যদিও অফিসের বস , তবুও দায়িত্ব বলে তো কথা আছে তাইনা। প্রচুর কাজ জমে গিয়েছে। কাল থেকে জয়েন না করলে প্রচুর লস হয়ে যাবে। তাই ফোন নিয়ে আসলাম, সুন্দরী কে মিস করলে যেন কথা বলে নিতে পারি। ”

__ “ আমার একা একা তো মন খারাপ করবে। ”

__ “ আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। ” বলে কপালে চুমু দেয় শুভ।
পরদিন শুভ ব্রেকফাস্ট সেরে অফিসে যায়, তখন নিরু কিছুক্ষণ একা ঘরে বসে থেকে বোরিং হচ্ছিলো। মনে মনে ভাবে রিমির কাছে যাবে। রুবি ভেবে নেয় নিরু এই সময় দুইদিন রান্না করার জন্য নিচে নেমেছে তাই আজকেও নামবে। সিড়ির উপরে ডিটারজেন্ট গুলা পানি ছিটিয়ে দেয়। নিরু রিমির রুমে গেলে রিমি বলে,
__ “ আরে ভাবী, তুমি এসেছো, আমি না আজ একটুও গল্প করতে পারবোনা। ”

__ “ কোথায় যাচ্ছো ? ”

__ “ আর বলোনা, অনুষ্ঠান এর জন্য কয়েকদিন কলেজে যেতে পারিনি। আজ জরুরী ভাবে যেতে বলেছে প্রাক্টিকাল খাতা আজই সাইন করাতে হবে। নইলে আমি ফেইল করবো বুঝলে। ওকে আসি বায় বায়। ”

রিমি খুব দ্রুত যাচ্ছিলো, আর রুবি র আগে থেকে ডিটারজেন্ট গুলো পানিতে পা পড়ে জোরে করে চিৎকার দিয়ে সিড়ি থেকে প্রথমে দেয়ালে মাথায় আঘাত পেয়ে নিচে পড়ে আবারো আঘাত পায়। চিৎকারে সবাই দৌড়ে আসে , সাগর, শুভ কেউ নাই, নিরুও নামতে গিয়ে স্লিপ খেতে খেতে রেলিং ধরে বেঁচে যায়।

নিচে গিয়ে দেখে রিমির মাথা ফেটে প্রচুর রক্ত বের হচ্ছে, এক হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে
শাশুড়ি কে বলে, “ মা ওকে এখুনি হসপিটাল এ নিতে হবে, তাড়াতাড়ি ধরুন। ” নিরু আর ওর শাশুড়ি দুইজন মিলে রিমিকে ধরে গাড়িতে তুলে। রুবি তখন ও ঘর থেকে বের হয়নি, যখন গাড়ি স্টার্ট দিচ্ছে তখন দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করে “ কি হয়েছে? ” নিরু বলে, “ রিমির মাথা ফেটে গেছে,” রুবিও গাড়িতে উঠে বসে।
এক হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে আরেক হাত দিয়ে ফোন বের করে শু ভ কে কল দেয়, রিসিভ হতেই

__ “ আপনি খুব তাড়াতাড়ি চলে আসুন, রিমির মাথা ফেটে গেছে। ”

__ “ কিভাবে হলো এসব, আমি আসছি, ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাও। কুইক ”

__ “ জ্বী আমরা হসপিটালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি। ”

__ “ ওকে, যাও আমি খুব শীঘ্রই আসছি। ”

হসপিটালে পৌঁছে রিমিকে দ্রুত ভর্তি করে। রোগীর অবস্থা দেখে I C U তে নেয় নার্স রা। দ্রুতই ডাক্তার এসে মাথায় ব্যান্ডেজ করে দেয়। রিমির প্রচুর পরিমাণ এ ব্লাড গেছে, ব্লাড লাগবে, ততক্ষণে শুভ এসে গেছে। সাগর এসে ব্লাডের ব্যবস্থা করে দেয়। ICU থেকে ডক্টর বের হয়ে আসলে জিজ্ঞেস করে শুভ,

__ “ আমার বোন কেমন আছে? সেরে উঠবে তো? ”

__ “ আপনাদের ভাষ্যমতে সিড়ি দিয়ে পিছলে পড়ে রোগীর এই অবস্থা, চোট টা গুরুতর, ব্যান্ডেজ করিয়ে দিয়েছি, MRI করে আসবেন, ব্রেইন ড্যামেজ না হয়ে গেলে রোগী খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবে।” ডক্টর বলে চলে যায়।

__ শুভ ওর বাবা কে বলে “ এখন কি হবে বাবা, আমাদের একমাত্র বোন, ওর কিছু হয়ে গেলে আমি সহ্য করতে পারবোনা। ”

__ “ আল্লাহ কে ডাক বাবা। আমি আর নিতে পারছিনা। ” শুভর বাবা মেয়ের জন্য কান্না করছে।

এরই মাঝে সাগর এসে সবাইকে জিজ্ঞেস করে কিভাবে এটা হলো।

__ “ রিমি কলেজ যাচ্ছিলো, তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে মনে হয় পা পিছলে পড়ে গেছে। ”
নিরু বলে

__ “ আমরা ঘরে ই ছিলাম, চিৎকার শুনে বের হয়ে দেখি রিমির মাথা থেকে রক্তের বন্যা বইছে। ” শুভর মা কথা গুলি বলছে আর কাঁদছে।

__ “ মা আপনি চিন্তা করবেন না, রিমি ঠিক হয়ে যাবে। ” নিরু শাশুড়ি কে জড়িয়ে কথা গুলো বলে।

শুভকে আড়ালে ডেকে নিরু বলে
__ “ সিড়িতে কেউ পিচ্ছিল কিছু ফেলেছিলো, এটা কাকতালীয় বা ইচ্ছাকৃত ভাবে। ”

__ “ কি বলছো এসব তুমি, মাথা ঠিক আছে কি? ”

__ “ জ্বী মাথা একদম ঠিক আছে, আমিও পড়ে যাচ্ছিলাম, রেলিং ধিরে বেঁচে গেছি। ওখানে ডিটারজেন্ট এর গন্ধ পেয়েছি। ”

শুভ সবাইকে রেখে নিরুকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, প্রমাণ খুঁজতে।

চলবে……

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b6-part_1/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0_%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b6-part_2/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0_%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f_3/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0_%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%9f_4/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/প্রেমের_পরশ-পার্ট_5/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/প্রেমের_পরশ-পার্ট_6/

 

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/প্রেমের_পরশ-পার্ট_7/

https://www.golpopoka.com/boro-golpo/প্রেমের_পরশ-পার্ট_8/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here