প্রেমের_পরশ পার্ট_6

প্রেমের_পরশ
পার্ট_6
#জামিয়া_পারভীন

শুভ সন্ধ্যার পরে রুমে ঢুকে দেখে নিরুকে যে স্থানে রেখে গিয়েছিলো ওখানেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। প্রায়ই চার ঘন্টা হয়ে গেছে ও একই ভাবে দাঁড়িয়ে আছে দেখে শুভর মাথা খারাপ হয়ে যায়, নিরুকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে দেয়, নিরুও হটাৎ করে শুভর এমন কাণ্ডে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

__ “ কি ব্যাপার, এভাবে দাঁড়িয়ে ছিলে কেনো? নিজেকে কষ্ট দিয়ে কিসের সুখ পাও তুমি? আমি চলে গেছিলাম অপরাধ বোধ হচ্ছিলো তাই, মানুষের কথায় তোমাকে সন্দেহ করা আমার উচিৎ হয়নি, খুব খারাপ লাগছিলো নিজের কাছে, তাই বেরিয়ে গেছিলাম। আর তুমি এতক্ষণ এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকলে? আর এমন পাগলামি করবে না ঠিক আছে? ” রাগ কন্ট্রোল করে শান্ত গলায় বলে শুভ।

__ “ জ্বী, মনে থাকবে। ”

__ “ গুড গার্ল, এখন রেস্ট করো, আমি বাসার বাইরে যাবো। ”

__ “ জ্বী আচ্ছা।”
শুভ রেডি হয়ে নিরুর কপালে একটা চুমু এঁকে দিয়ে বের হয়ে যায়। রিমি কিছুক্ষণ পর ঘরে আসে,

__ “ কি ব্যাপার ভাবী! কি হয়েছে? চোখ ফুলে আছে কেনো? ”

__ “ চোখে কি যেনো পড়েছিলো, ঠিক হয়ে যাবে। ”

__ “ মিথ্যে বলো না তো, ভাইয়া নিশ্চিত তোমায় কিছু বলেছে, নইলে তুমি কাঁদতে না । কি বলেছে সেটা বলো শুধু? ভাইয়া আসলে ওর সাথে যুদ্ধ করবো। ”

__ নিরু সব খুলে বলে, যা যা হয়েছে সব।

__ “ আজ আসলে ওর খবর আছে, মনে রেখো। ”

__ “ নাহহহ! কিছু বলবে না, তাহলে আমায় উনি ভুল বুঝবে। ”

__ “ সে অন্যায় করলে তাকে কি বারণ করা যাবেনা। ”

__ “ প্লিজ রিমি! ভুল বোঝো না, আমি চাইনা আমার প্রতি প্রথম দিন ই নেগেটিভ ধারণা করুক। ”

__ “ তুমি তো দেখছি অনেক কিছু বুঝো ভাবী। ”

__ “ এইটুকু না বুঝলে এতো দিনে আমি কোথায় হারিয়ে যেতাম, আমার জীবন টা ছোট থেকেই যুদ্ধ করে চলছে। যুদ্ধ তে যে আমার টিকে থাকতেই হবে। ”

__ “ ঠিক বলেছো, আমরা তো আর এমন পরিস্থিতি তে পড়িনি, তাই জীবন যন্ত্রণা এখনো বুঝিনি, তবে তোমাকে দেখে অনেক কিছু শিখার আছে। আচ্ছা যাও বাদ দাও, আজ খাওয়া দাওয়া করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেও, কাল বাসায় অনুষ্ঠান আছে, আম্মু তোমাদের দুই বউ কে একসাথেই বরণ করে নিবেন। । অনেক সাজতে হবে কাল তোমায়, বুঝলে। ”

__ “ এমনি তেই তো ভালো, সাজলে ভালো লাগেনা আমায়। ”

__ “ হু বাবা, তোমার রূপ আছে তাই ভালো লাগেনা সাজতে, আমরা দেখতে পঁচা, তাই সাজি। ”

__ “ উঁহু! আমি ওইভাবে বলিনি, আচ্ছা তোমরা যা চাইবে তাই হবে, এতো রাগ করিও না তো। ”
রিমির সাথে নিরুর মান অভিমান এর গল্প চলতে থাকে। অনুষ্ঠান হিসেবে আরোও কিছু আত্মীয় বাসায় আসে। শুভর চাচা , চাচী তাদের ছেলে আর মেয়ে, শুভর ফুপি আর তাদের ছেলে, শুভর খালামনির মেয়ে ও আসে। সবাই মিলে নিচে ড্রইং রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে তখন সাগর আর রুবিও যায়। ছোট খালার মেয়ে সামিহা রুবির সাথে ভাব জমিয়ে ফেলে, খুব আস্তে আস্তে সামিহা রুবি কে জিজ্ঞেস করে

__ “ ওই মেয়েটা, মানে শুভ যাকে বিয়ে করেছে সে আপনার কেমন বোন? ”

__ “ কেমন আবার, সৎ তো সৎ ই, ওকে আমি বোন বলে মানি না। ”

_ “ তাহলে তো ভালোই হলো, বোন বলেও মানেন না আবার জা বলেও কখনো একসেপ্ট করবেন না জানি, পথের কাঁটা সরিয়ে দিন তাহলে। ”

__ “ আমি তো সেটাই চাই , কিন্তু কিভাবে? ”

__ “ আগে বলেন ওই মেয়ের কোন উইক পয়েন্ট আছে কিনা? ” সামিহা জিজ্ঞেস করে।

__ “ হুম, অবশ্যই থাকতে পারে, ভাবতে হবে। কিন্তু ওকে সরিয়ে আপনার লাভ কি সেটা আগে বলুন তো? ” রুবি বুঝতে পারছেনা সামিহা বন্ধু না শত্রু।

__ “ সময় হলে সব জানতে পারবেন? এখন শুধু এটুকুই শুনে রাখুন। ”

__ “ ওকে, এজ ইউর উইস। ”
সবার সাথে আড্ডা দিতে দিতে শুভ ফিরে আসে, সামিহা উঠে গিয়ে সুযোগ বুঝে ফাঁকা ঘরে শুভ কে জড়িয়ে ধরে।

__ “ আরে পাগল হলি নাকি , করছিস কি, ছাড় আমাকে ? ”

__ “ আমাদের এতো দিনের প্রেম বুঝি কিছুই না? বিয়ে করে নিলেই আমি তোমাকে ভুলে যাবো? ”

__ “ দেখ সামিহা, আমি তোকে ” কিছু বলার আগেই সামিহা শুভর ঠোঁট চেপে ধরে

__ “ মিথ্যে বলোনা, সবাই জানতো তুমি আমাকে বিয়ে করবে আর এখন কিনা আমাকে না জানিয়ে বিয়ে করে নিলে? কেনো শুভ কেনো, বিয়ের সময় কি একবার ও চিন্তা করলেনা তুমি বিয়ে করলে আমার কি হবে? ”

__ “ দেখ সামিহা, তোকে বিয়ের কথা আমি কখনো বলিনি, তুই আর তোর মা সেটা চাইতিস, এখন সেটা ভুলে যা। ”

__ “ শুভ ওওও, তুমি যদি ওই মেয়েটার সাথে ঘর করো তাহলে আমি বিষ খাবো। নিশ্চয়ই চাওনা আমি মরে যাই। ”

__ “ যা মরে যা তুই, আমার সামনে আসবি না কখনও । ”

সামিহা শুভর রুম থেকে বের হয়ে যায়, নিরু আর রিমি বেলকনিতে ছিলো বলে সব শুনতে পাই, নিরু কোন কথা না বলে বসে পড়ে বেলকনি তে থাকা দোলনায়। রিমিও নিরুর পাশে বসে বলে
__ “ চিন্তা করিওনা, কিছুই হবেনা এমন। ”

__ “ আমার চলে যাওয়া টাই ভালো হবে। ”

__ “ কোথায় যাবে তুমি? তুমি কি ভাবছো সামিহা আপু ভাইয়া কে লাভ করে, কখনও ই না। ”

__ “ তাহলে? ”

__ “ যদি লাভ করতো তো মরার কথা বলে ব্লাকমেইল করতো না, আমি চাই তুমি নিজেই খুঁজে নাও সামিহা আপু কি চাই। ”

__ “ ওকে, তাই হবে, ঘুম পাচ্ছে খুব। ”

__ “ বুঝছি কথা এড়াতে চাচ্ছো তুমি। ”

__ “ হিহিহি। ”

নিরু আর রিমি ঘরে আসতেই শুভ চমকিয়ে যায়,
__ “ কিরে ভাইয়া, ভয় পাইছিস? মনে হচ্ছে তুই আমাদের এখানে আশা করিস নি। ”

__ “ তা কেনো হবে? ”

__ “ তোর বউকে নিয়ে গল্প কর? আমি যাইইই, হি হি। ”

__ “ পাগলী একটা। ”

রিমি চলে যেতেই নিরু বলে

__ “ এক্সট্রা কম্বল এনেছেন কি আজ? ”

__ “ কেনো কি কাজে লাগবে? ”

__ “ বা রে! কাল ই তো আপনি বললেন, এক্সট্রা কম্বল এনে দিবেন যাতে আমি সোফায় ঘুমুতে পারি। ”

__ “ আলাদা ঘুমাতে চাও তুমি? ”

__ “ হু ”

শুভ উঠে এসে নিরুকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিরুকে শক্ত করে চেপে ধরে,

__ “ আলাদা থাকবে তাইনা? ”

__ “ হ্যাঁ মা মা নে না। ”

__ “ তোতলাচ্ছো কেনো? ”

__ “ ভয়ে, না মানে এমনি। ”

__ “ খুব ভয় পাও তাইনা। ” শুভর হাত নিরুর ঠোঁটের কাছে আনতেই নিরু আঙ্গুলে কামড়ে দেয়।
দিয়ে বলে “ মোটেও ভয় পাইনা। ” আর শুভ ব্যথা তে “ উঁহু” করে উঠে।
শুভ বলে

__ “ কামড় দিতে খুব মজা তাই না, এবার আমি দিই। ”

__ “ না, মোটেও না, খুব খারাপ হবে কিন্তু। ”
শুভ নিরুর ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে দেয়, নিরু উষ্ণ পরশে পাগল হয়ে যাচ্ছে কিন্তু ভয়ে শুভর থেকে নিজেকে ছাড়াতে শুভর বুকে মারতে শুরু করে।

( আজ অনেক ব্যস্ততায় ছোট হয়ে গেলো, কাল একটু বড় করে লিখবো। সরিইই )

চলবে..

প্রেমের_পরশ পার্ট_6

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here