প্রেমের_পরশ  পার্ট_4

প্রেমের_পরশ
পার্ট_4

জামিয়া_পারভীন

শুভ রুমে ঢুকে নিরুকে কম্বলের নিচে দেখে বলে
__ “ কি ব্যাপার, রাত্রে কি ঘুমাওনি নাকি, নতুন বউয়ের এতো ঘুমালে কি চলে। ”

__ কম্বলের নিচ থেকে মাথা বের করে বলে “ আপনার মাথা টা একটু এগিয়ে দেন প্লিজ। ”

__ “ কেনো, কি করবে? ”

__ “ আপনাদের মনে কি দয়া মায়া নাই নাকি? আমি অসহায় একটা মেয়ে , সেইইই কাল সকালে খেয়েছি, এরপর কলেজের মারামারি, হোস্টেল বন্ধ, বাসায় গিয়েও উপোস, রাত্রেও কিছু দিলেন না, আর কতক্ষণ না খাইয়ে রাখবেন বলেন? ”

__ “ ওরে বাবা হয়েছে হয়েছে, এবার খেয়ে উদ্ধার করো। ”

__ নিরু শুভর হাতের দিকে এতক্ষণ খেয়াল ই করেনি, ফলের প্যাকেট দেখে লাফ দিয়ে বিছানা ছেড়ে নেমে ফল নিয়ে খেতে শুরু করে। শুভ মনেমনে বলে “ পাগল মেয়ে একটা, ওর বাচ্চামি তে কি আমি ওর প্রেমে পড়ে যাচ্ছি নাকি। ” এরপর নিরুকে বলে

__ “ একাই খাচ্ছো? আমি তো দু’জনের জন্য আনলাম। ”

__ “ কেনো? আপনি খান নি? ”

__ “ কখন খেলাম? কাল দুপুরে খেয়ে বের হয়েছি। এখনো তো খেতে পারলাম না। ”

নিরু লাফিয়ে এসে শুভর হাত ধরে টেনে বসিয়ে দেয়, হাতের ফলের প্যাকেট এগিয়ে বলে
__ “ খেয়ে নিন। ”

__ “ হুম ”

বাসার পরিস্থিতি কাল থেকে ভালো নেই, একের পর এক ঝামেলা তে সবার মন খারাপ হয়ে আছে। এরই মাঝে রিমি এসে বলে

__ “ ভাইয়া, নিচে চলো, সবাই তোমাদের জন্য ওয়েট করছে। ”

__ “ তুই খেয়েছিস? ”

__ “ হুম খেয়েছি, তোমাকে ও খেতে ডাকছে। ”

__ “ আসবো, তুই রেডি হয়ে নে। ”

__ “ ওকে তাড়াতাড়ি আসো। ”
নিরুকে উদ্দেশ্য করে বলে “ ভাবী তুমিও যাবে নাকি? ”
__ “ না ও আজ কোথাও যাবেনা, ঘরেই থাকবে। ” নিরুর কিছু বলার আগেই শুভ বলে।
রিমি রুম থেকে বের হয়ে যায়। শুভ আর নিরু নিচে নামে, নিরু বোন কে নিচে দেখতে পেলো, বোনের পাশে একজন বসা ছিলো তাকে দুলাভাই মনে করে নেয়।

শুভর মা বাবা নাস্তায় বসেছিলো তাই নিরু এবার সালাম দেয়নি, শুভ একটা চেয়ার টেনে বসে পড়ে, নিরু দাঁড়িয়ে আছে দেখে শুভর মা বলে

__ “ কি ব্যাপার বউমা, দাঁড়িয়ে কেনো? বসো শুভর পাশে। ”

__ “ না মানে, গুরুজনের সামনে বসতে নেই , আপনাদের খাবার তুলে দিই।”

__ “ শুনো বউমা, এই বাড়িতে খাবার তুলে দেওয়ার লোকের অভাব নাই। তুমি আমাদের সাথে বসে খেতে পারো। এটা এই বাড়ির নিয়ম সকালে আর রাত্রে সবাই একসাথে বসে খাওয়া। তুমি নতুন মানুষ কিছুই জানো না তাই বলে দিচ্ছি। ”
__ “ জ্বী আচ্ছা ”

শুভর পাশে বসে পড়ে নিরু, কিন্তু নিরুকে দেখে রুবি জ্বলছে, আর মনে মনে বলছে “ এই ছোটলোক কিনা আমার সাথে এক টেবিলে বসে খাচ্ছে। ” সবাই নিশ্চুপ খাওয়া দাওয়া পর্ব শেষ করে যে যার মতো উঠে গেলো। এদিকে রিমি রেডি হয়ে বের হয়ে আসে, শুভ রেডি ছিলো আগে থেকে, রিমি কে নিয়ে বের হয়ে যায় শুভ, আর নিরু ঘরে একেলা বসে বসে বোরিং হচ্ছে। এই সময় ওর বোন এসে ঢুকে।

__ “ কিরে অভদ্র মেয়ে, তোর এতো বড় সাহস যে আমার সংসারে এসে ঢুকেছিস? ”

__ “ তোমার বরের সংসারে তো আর সতীন হয়ে ঢুকিনি আপু। তোমার দেওরের সাথে বিয়ে করেছি। ”

__ “ কি বললি তুই, যত বড় মুখ না তত বড় কথা। ” বলে নিরুকে মারতে গেলে নিরু হাত ধরে নেয় রুবির।

__ “ আপু, এতো দিন তো অনেক অত্যাচার সহ্য করেছি, কারণ আমি অনাথ ছিলাম। কিন্তু আর সহ্য করবোনা কারণ আমার জীবনে সব চেয়ে ভালো মানুষ কে স্বামী হিসেবে পেয়েছি। যাই হোক, তুমি বেশি কষ্ট দিতে এসোনা আমায়, নইলে উনাকে সব বলে দিবো। ”

রুবি প্রচন্ড রাগ করে নিরুর ঘর থেকে বের হয়ে নিজের ঘরে গিয়ে মা কে ফোন দেয়। রিসিভ হতেই

__ “ আম্মু, জানো ওই ছোটলোক নিরু কিনা আমার সংসারে ঢুকেছে। ”

__ “ কি বলিস, কাল তো ওকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছিলাম, কিভাবে তোর সংসারে গেলো। ”

__ “ আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা, কাল নাগিনী শুভকে যাদু করেছে, শুভর বউ হয়ে বাসায় এসেছে, আজ আমি শাসন করতে গেলে আমাকেই চোখ রাঙিয়ে দেয়। আম্মু কিছু তো করো আর তো সহ্য হচ্ছেনা আমার। ”

__ “ আমি তো নিজেই বুঝছিনা কিভাবে কি হলো?”

__ “ আজ সকালে কিভাবে যেন আমার শাশুড়ি মা কেও পটিয়ে নিয়েছে , জানো আমার সাথে আমার শ্বশুর শাশুড়ি কেউ কথা বলেনি অথচ ওকে বউমা বলে ডাকছিলো। আমার তো ডাক শুনেই মনে হচ্ছিলো ওকে পুতে ফেলি। ”

__ “ আরে শুন শুন, ওর ব্যবস্থা আমি পরে করছি, কিছুদিন ওকে সহ্য কর, আর সাগর কে বশে রাখার চেষ্টা কর। সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করিস না তুই একদম। ”

__ মায়ের সাথে কথা বলে রুবি ভরসা পেলো। “ ওকে আম্মু তাহলে আমি রাখছি, তুমি দেখিও কিন্তু ”
বলে ফোন টা রেখে দেয়।
নিরু একা বসে বসে বোরিং হয়ে শুভর মায়ের রুমে চলে যায়। শুভর মা তখন পেপার পড়ছিলো

__ “ আম্মু, ঘরে বসে বসে বোরিং হয়ে যাচ্ছি, আপনার সাথে কি একটু গল্প করতে পারি। ”

__ “আজকাল কার ছেলের বউ রা কি শাশুড়ির সাথে গল্প করতে আসে নাকি। ” শুভর মা বলে।

__ নিরু শাশুড়ির পায়ের কাছে বসে বলে “ জীবনে কারো কাছে প্রথম মা ডাক শুনেছি, আপনি আমায় অনেক স্নেহ করে বউমা ডেকেছেন, আপনার কাছে এই ডাকে অনেক ভালোবাসা পেয়েছি, আপনার কাছে আসবো না তো কার কাছে আসবো বলুন। ”

__ নিরুর গালে হাত রেখে বলে “ ওরে আমার মেয়েটা, কিন্তু এখন তো রান্নার সময় হয়ে এলো, কি রান্না হবে সব দেখিয়ে দিতে হবে, এখন ঘরে যাও, পরে বসে গল্প করবো। ”

__ “ আম্মু, কিছু মনে না করলে আজ আমি রান্না করি। ”

__ “ নতুন মানুষ, ছোট মেয়ে, রান্না পারবেনা। ”

__ “ একবার সুযোগ দিয়েই দেখেন, সব চেয়ে বেষ্ট রান্না করবো কথা দিলাম। ”

__ “ তুমি তো পাকুনি বুড়ি দেখছি, ওকে চলো। ”

রুবি নিচে বসে সবার সাথে গল্প করছিলো তখন দেখে নিরু তার শাশুড়ির সাথে কিচেনে যাচ্ছে। এটা দেখে রুবির মাথা খুব গরম হয়ে গেলো। মনে মনে ভাবছে “ সবাইকে কি যাদু করছে নাকি? আমি এতো ফ্রি হতে পারলাম না আর শাশুমা ওর সাথে বেশি কথা বলছে। ”
তখন রুবির পাশে বসা ফুপু শাশুড়ি বলে
__ “ কিরে হিংসা হচ্ছে তোর বোন কে দেখে? ”

__ নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে বলে “ হিংসা হবে কেনো? ও তো আমার ই বোন। ” কিন্তু মনের ভিতর আগুন জ্বলছে।

__ “ আরে বুঝি বুঝি, আমার ভাবী সেইই মুডী মানুষ, ওর সাথে তুই এখনো মিশতে পারলি না আর বোন কে দেখ কি সুন্দর হাসিখুশি ঘুরে বেড়াচ্ছে, এটা দেখেই তো তুই জ্বলছিস। আচ্ছা ও তোর সৎ বোন কিভাবে হলো। ”

__ “ আমি জানিনা, বাবার বউয়ের মেয়ে, কোথেকে জুটলো কিভাবে বলবো? ” একটু রাগী গলায় বলে রুবি।

__ “ ভুলে যাস না আমি তোর ফুপু শাশুড়ি, আমার কথায় একদম রাগ দেখাবিনা, নইলে ভাইকে বলে সাগরের সাথে ডিভোর্স এর ব্যবস্থা করবো। ”

__ রুবির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা , তাড়াতাড়ি ফুপু শাশুড়ির সামনে বসে বলে ” সরি ফুপি, আসলে ওকে চিনিনা তো, তাই মাথা খারাপ হয়ে গেছিলো। ”

__ “আচ্ছা ঠিক আছে, যা সামনে থেকে। ” রুবি আর কিছু না বলে রুমে এসে রাগে গড়গড় করতে থাকে।

শুভ আর রিমি পছন্দ মতো শপিং করে বাসায় ফিরতে প্রায়ই দুপুর হয়ে যায়। বাসায় ফিরে রুমে গিয়ে দেখে নিরু নাই। মেজাজ টা একটু খারাপ হয় শুভর কোথায় গেলো মেয়েটা।
রিমি রান্নাঘরে ঘরে গিয়ে নিরুকে জড়িয়ে ধরে
__ “ আম্মু বললো তুমি কিচেনে, তাই সোজা চলে আসলাম। অনেক করেছো এবার ঘরে যাও তো। ”

__ “ কেনো, ঘরে কি আছে?”

__ “ আরে যাও তো, গেলেই বুঝবে। ”

__ “ ওকে, যাচ্ছি। ”
নিরু হাতের কাজ শেষ করে রুমে গেলো, শুভ বেডে শুয়ে আছে।

__ “ কি ব্যাপার, কোথায় ছিলে? ”

__ “ একা একা বোর হচ্ছিলাম তাই আম্মুর ঘরে গিয়েছিলাম। ” মাথা নিচু করে নিরু বলে।

__ “ ওকে, ওকে, এখন যাও, ফ্রেশ হয়ে শাড়ি পড়বে। ”

__ “ আমি তো শাড়ি পড়তে পারিনা। ”

__ শুভ আগে নিরুকে ইউটিউব এ শাড়ি পড়ার একটা ভিডিও দেখায়, নিরু মন দিয়ে দেখে।

__ “ মনে হয়না পারবো। জিলাপির প্যাচ। ”

__ “ আরে পারবে পারবে। যাও আগে শাওয়ার নিয়ে এসো। ”

__ “ ওকে ” একটা শাড়ি নিয়ে ঢুকে যায় ওয়াশরুমে।

চলবে…………

প্রেমেরপরশ part_1

প্রেমের_পরশ part_2

প্রেমের_পরশ পার্ট_3

প্রেমের_পরশ  পার্ট_4

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here