প্রেমের_পরশ পার্ট_3

প্রেমের_পরশ
পার্ট_3

জামিয়া_পারভীন

শুভর ঠোঁট এর স্পর্শে নিরু জেগে উঠে, শুভকে ধাক্কা দিয়ে
__ ” আপনি না কাল বর্ডার দিলেন, আমি ক্রশ করলে আমাকে শাস্তি দিবেন বললেন , এখন আপনি ক্রশ করেছেন, আপনার কি শাস্তি হবে। ”

__ শুভ চোখ বড় বড় করে বলে ” বর্ডার তোমার জন্য দিয়েছি, আমার যখন যা ইচ্ছা তাই করবো। আজ থেকে কি তোমার কথা শুনে চলতে হবে নাকি? ” নিরুকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।

__ ” যাহহ বাবা! এতো রাগের কি হলো? আমার জন্যই শুধু নিয়ম লাগে নাকি? এখানে নিয়ে এসে যেন আমায় উদ্ধার করে দিয়েছে, হুহহহহ এবার কাছে আসুক শুধু মজা দেখাবো, রাগ হুহহ এতো রাগ কাকে দেখাচ্ছে, সারাজীবন রাগ দেখে এসেছি, এবার আমি দেখাবো রাগ কাকে বলে। । ” একা একাই কথা বলছে নিরু।

,
বাইরে কেউ দরজা ধাক্কা দিচ্ছে, কিন্তু নিরু খুলার সাহস পাচ্ছেনা। কম্বলের নিচে চুপচাপ শুয়ে থাকে ঘুমের ভান ধরে।
শুভ কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দরজা খুলে দেয়।

__ ” ভাইয়া তোমার সাথে আড়ি, আমি তো এসেছে নতুন ভাবীকে দেখতে। ” শুভর একমাত্র ছোট বোন রিমি বলে কথা গুলি। ( শুভ সবার উপর রাগ দেখালেও এই পুচকে মেয়েটার উপরে কখনো রাগ দেখাতে পারেনা। )

__ “ভাবী দেখতে হবেনা, আগে তুই তোর এক সেট ড্রেস ওকে এনে দে তারপর দেখিস। কিন্তু কিসের আড়ি দিলি সেটা বল?”

__ ” বা রে! কাল নতুন বউ নিয়ে ঘরে ঢুকে গেলে। একবার ও কি ডেকেছিলে? ”

__ ” কাল দুজনেই ভিজে গিয়ে ছিলাম, প্রচুর ঠান্ডা লাগছিলো তাই আর ডাকিনি। ”

__ ” তাই বুঝি, নাকিইইই? ”

__ ” কি বলতে চাচ্ছিস তুই, কানের নিচে দিবো একটা, যা ভাগ। ”

__” হিহিহি ”

__ ” হাসতে হবেনা, যা বললাম তাই কর আগে। ”

__ ” হুম যাচ্ছি বাবা যাচ্ছি, এতো তাড়া দিওনা বাপু ” বলে রিমি বের হয়ে যায়।

এতক্ষণ নিরু কম্বলের নিচ দিয়ে এক চোখ বের করে দেখছিলো কি হচ্ছে না হচ্ছে। তখন শুভ বলে
__ ” কি হলো ম্যাডাম, লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছেন টা কি? এখানে কি কোন সিরিয়াল চলছিলো? ”

__ ” মোটেও আমি লুকিয়ে লুকিয়ে কিছু দেখিনি। ”

__ “লুকিয়ে না দেখলে বুঝলে কিভাবে তোমার দিকে তাকিয়ে কথা বলছি ”

__ ” আ আ আ মি উনার চলে যাবার শব্দ পেয়েছি। ”

__ ” মিথ্যে বলতে ওস্তাদ, যাই হোক এখন ফ্রেশ হয়ে এসো, রিমির ড্রেস পড়ে বাইরে আসবে। ”

__ ” এই রিমি টা কে? ”

__ ” আমার ছোট বোন। ”

__ ” আপন। ”

__ ” হ্যাঁ আপন ” ভ্রু কুচকে তাকাচ্ছে।

__ ” এএএহ এতো রাগ করার কি আছে? ” আস্তে আস্তে বলছে নিরু

__ ” কিছু কি বললে? ”

__” কই না তো ” মুচকি হেসে

এরই মাঝে রিমি এসে দেখে বিছানায় একটা মেয়ে এলোমেলো চুলে একটা শার্ট পড়ে বসে আছে। কোন সাজসজ্জা ছাড়াই মেয়েটাকে পরীর মতো লাগছিলো।

__ ” ওও এই বুঝি আমার ভাবী। ” বলেই দৌড়ে গিয়ে বিছানায় নিরুকে জড়িয়ে ধরে বলে ” বুঝলে ভাবী, আমার ভাইয়ের কোন মেয়েকেই মনে ধরতো না, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি তোমার রূপ দেখে পাগল হয়ে বিয়ে করেছে। ” বলেই ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে।

__ ” একদম ন্যাকা কথা বলবিনা, এখন যা এখান থেকে। ”

__ ” ওওও এখন ওকে পেয়ে আর আমাকে ভালো লাগছেনা বুঝি ” অভিমানের সুরে বলে রিমি।

__ ” উফফফফ, আচ্ছা বস ঘরে আমিই যাচ্ছি, ওকে চেঞ্জ করিয়ে বাইরে নিয়ে আন। তোকে নিয়ে একটু শপিং এ যেতে হবে। ”

__ ” কি কিনে দিবে শুনি। ”

__ ” তোর যা খুশি নিস। ”

__ ” লাভ ইউ ভাইয়া। ” বলে ফ্লাইং কিস দেয় রিমি।

,
সাগর বিয়ে বাড়ির ঝামেলার পর নিজের ঘরেই আর ঢুকেনি। নতুন বউ ঘরে বসে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে সাগর রুমে ঢুকে সকালে, ফ্রেশ হয়ে বের হতে চালাক রুবি পিছন থেকে সাগর কে জড়িয়ে ধরে।

__ ” আই এম সরি, আমার যে সৎ বোন আছে আমি নিজেই জানতাম না। ” ( জেনেও মিথ্যে কথা বলে সাগরের রাগ ভাঙাতে)

__ ” তোমার বাবা কি সুপার ম্যান, বাচ্চা জন্ম দিয়ে গুম করে রেখেছিলো এতোদিন। ”

__ ” আমি সত্যিই বলছি ওই মেয়েটা যে কোথা থেকে আসলো আমি জানিই না। ”

__ ” কচি খুকি তুমি, তোমার বাসায় একটা মেয়ে ঢুকে গেলো আর তুমি জানো না? ”

__ সাগরের পিঠে কিস দিয়ে বলে ” কি করে জানবো বলো, কাল তো আমার বিয়ে ছিলো, আমিতো পার্লারে সাজতে গিয়েছিলাম। ”

__ ” তা তোমার প্লান কি? ”

__ ” প্লান মানে? ”

__ ” তোমার বাবা তো লুকিয়ে দুইটা বিয়ে করেছে, তুমি কয়টা করবে। ”

__ ” কি যে বলোনা তুমি, আমি এতো খারাপ, আমাকে তুমি এই চিনলে?” বলে ন্যাকা কান্না শুরু করে রুবি।

রুবির ন্যাকা কান্নায় সাগর গলে যায়, হাজার হোক আগে প্রেমিকা ছিলো, এখন বউ, একটু তো টান থাকবেই। মাথায় হাত দিয়ে শান্তনা দেয় রুবিকে

__ ” ঠিক আছে, আর কাঁদতে হবেনা। তোমাকে মেনে নিয়েছি এটাই বড়। তোমার ফ্যামিলির কথা ভুলেও মুখে আনবেনা। ”

__ ” আচ্ছা, আমি তো শুনলাম আমার ওই সৎ বোন টা কে নাকি তোমার ছোট ভাই বিয়ে করে এনেছে। ”

__ ” হুম, ঠিকই শুনেছো, আকাশ থেকে আমার ভাইয়ের কোলে পড়লো, আর ভাই ওর রূপ দেখে গলে গেলো। ”

__ ” যাদু জানে বুঝছো, নইলে যে শুভ এতোদিন কোন মেয়ের দিকে তাকাতো না সেই শুভ বিয়ে করেছে, ভাবা যায় বলো। আমি তো এটাই বুঝছি না আমার বাবা এতো ভালো মানুষ কে ওর মা কিভাবে ফাঁসিয়ে বিয়ে করেছিলো, ও হয়তো বা তাই, ফাঁসিয়ে বিয়ে করেছে তোমার ভাই কে। ”

__ ” তুমি ঠিকই বলেছো, ওই মেয়ে যাদু জানে। শুভ কে পটানো এতো সহজ নয়। ”
নিরু সম্পর্কে বানিয়ে বানিয়ে কথা বলে সাগরের কান পঁচিয়ে ফেলে রুবি।

,
,
রিমির থ্রিপিছ পড়ে রিমির সাথে বাইরে আসে নিরু। নিরুকে দেখে প্রথমে নিরুর চুল ধরে টান দেয় শুভ

__ ” শ্বশুর বাড়ি প্রথম এসে চুল ছেড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছো, অসভ্য মেয়ে, কোন শিক্ষা নাই, মাথায় কাপড় দাও বলছি। ”

__ ” উহহহহহ লাগছে তো মাথায়,
এতো জোরে চুল টেনেছেন, সব চুল পড়ে যাবে , তখন লোকে বলবে আপনার বউ নাড্ডু। হিহি ” নিরুর কথায় রিমিও হেসে ফেলে।

__ রিমি বলে শুভকে ” একদম উপযুক্ত বউ এনেছো ভাইয়া , তোমার সাথে পারফেক্ট জুটি, তোমরা শুধু ঝগড়া করবে আর আমি দেখবো। হিহিহি ”

শুভ রেগে ওইখান থেকে চলে যায়।
নিরু প্রথমে মাথায় ওড়না তুলে দেয় পরে
শুভর বাবা, মায়ের ঘরে প্রথমে নিয়ে যায় রিমি।
নিরু রুমে ঢুকে সবাইকে সালাম দেয়। রিমি মা বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় নিরুর।
__ শুভর মা নিরুর সালামের জবাব দিয়ে রিমির দিয়ে তাকিয়ে বলে ” থাক আর ন্যাকামি করতে হবেনা রিমি, ওকে ওর রুমে দিয়ে আই। ”

__ রিমি কিছু বলার আগে নিরু বলে ” কেনো মা আমি কি আপনার মেয়ে হিসেবে খারাপ ? আমার তো মা নেই, কাউকে মা ডাকিনি কখনো, আপনাকে ও কি কখনো মা ডাকতে পারবোনা। ” চোখে পানি চলে আসে নিরুর।

__ ” ঠিক আছে, ঠিক আছে আর ন্যাকামি করতে হবেনা, মা বলেই ডেকো। ” শুভর মা আবার একটু তেই ইমোশনাল হয়ে পড়ে। এরপর বলে ” আচ্ছা তুমি তোমার বাবার নাকি ছোট মেয়ে, তোমার বাবা দুইটা বিয়ে করলো কেনো ? আর তোমার মা কিভাবে মারা গেছে? ”

__ ” আমি জ্ঞান হওয়া থেকে এতিমখানায় বড় হয়েছি। এরপর আমাকে বাবা এক মেসে রাখেন, সেখান থেকেই এসএসসি দিই। এরপর তিনমাস গ্যাপে বাবা কলেজ আর হোস্টেল ঠিক করে দেন। আমি হোস্টেলে ই থাকতাম, এর বেশি কিছুই জানিনা। কাল কলেজে মারামারি হওয়াতে আমাকে বাবা বাসায় নিয়ে যান। এর আগেও মাঝে মাঝে বাসায় যেতাম কিন্তু সৎ মায়ের সামনে বাবা কখনো আদর করে না। কিন্তু বাবা আমায় খুব ভালোবাসেন। ” বলে কান্না করতে থাকে।

কথা গুলো শুনে শুভর বাবা মা দুই জনের ই নিরুর উপর অভিমান কমে যায়, কিন্তু নিরুর বাবা আর সৎ মাকে সন্দেহ করতে থাকে।

__ ” যাও বৌমা এখন ঘরে যাও, আগে তোমার কিছু কাপড়ের ব্যবস্থা করি, এরপর বের হইও। ”

নিরু রিমির সাথে বের হয়ে আসে। মনে মনে বলতে থাকে
__ ” ইসসস ক্ষুদা তে পেট জ্বলে যাচ্ছে, এরা কি খেতেও দিবেনা নাকি, ধ্যাত ভালোই লাগেনা কিছু। ”
চুপচাপ শুভর রুমে গিয়ে কম্বলের নিচে ঢুকে পড়ে নিরু।

চলবে…..

প্রেমের_পরশ পার্ট_3

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here