প্রেমের_পরশ part_2

প্রেমের_পরশ
part_2
জামিয়া_পারভীন

__ একে তো শীত তার উপর বৃষ্টি তে কাক ভেজা হয়ে ভিজে গাড়িতে গুটিশুটি মেরে বসে কাঁপছে নিরু, শুভর কথা শুনে জোরে জোরে কান্না শুরু করে দেয়। শুভ মনে মনে চরম বিরক্ত হয়ে গিয়েছে মেয়েটার উপর। এ কিসের টান এ পড়েছে শুভ, না পারছে রাস্তায় ছাড়তে না পারছে কাছে রাখতে।

__ শুভর বলা যায়গায় ড্রাইভার গাড়ি থামায়। শুভ গাড়ি থেকে নেমে আসে আগে।
__ ” এইযে, এবার নামুন, চলে এসেছি। ”

__ ” না, আমি আপনার সাথে যাবো না। আপনি আমার ক্ষতি করবেন। ”

__ ” কি বললে তুমি যাবে না। ” বলতে বলতে গাড়ি থেকে টেনে বের করে কোলে তুলে নিয়ে একটা বাসায় ঢুকে। নিরু ও একের পর এক কিল মারতে থাকে শুভর পিঠে তাও শুভ থামে না। বাসার গেট এ কলিংবেল দিতে একজন ভদ্রলোক বের হয়ে আসেন।

__ “তোমরা কে বাবা, এতো রাত্রে দুইজন, তাও দুজনে। ”

__ ” এইখানে কাজী সাহেব কে? তাকে ডাকুন। ” শুভ একটু কড়া মেজাজ এ বলে।

__ ” আরে আমিই তো কাজী, কি দরকার বাবা? ”

__ ” আমরা কি কাজীর কাছে লুডু খেলতে এসেছি নাকি? জলদি বিয়ের ব্যবস্থা করুন। ”

__ ” এইভাবে, এতো রাতে বিয়ে, সাক্ষী কোথায়। ”

__ ” আপনার বাড়িতে লোক নাই, ওদের সাক্ষী দিয়েন দিবেন, বাকিটা ব্যবস্থা করেন তাড়াতাড়ি। ”

শুভ নিরুকে এবার নামিয়ে হাত ধরে টেনে নিয়ে ভিতরে গিয়ে বসে পড়ে। নিরু হতবাক হয়ে গেছে বিয়ের কথা শুনে।

__ কাজী সাহেব বলেন ” আচ্ছা আপনারা কি পালিয়ে এসেছেন?? ”

__ ” তা জেনে আপনি কি করবেন। ”

__ ” ওহহ আচ্ছা আচ্ছা! বরের নাম কি?

__ ” আসাদুজ্জামান শুভ ”

__ ” কনের নাম কি? ”

__ ” এই তোমার নাম কি বলো? ” নিরু কে উদ্দেশ্য করে শুভ বলে।

__ ” এ কেমন কথা! বিয়ে করতে এসেছেন বউয়ের নাম জানেন না? ” কাজী সাহেবের তাচ্ছিল্যের হাসি।

__ কাজীর উদ্দেশ্যে বলে ” এই আপনার প্রব্লেম কি? আপনি কথা কম বলুন আর কাজ বেশি করুন। ” এবার নিরুর দিকে তাকিয়ে
” এই মেয়ে তোমার নাম বলো? ”

__ ” জ্বী নিরুফার জাহান, সবাই নিরু বলেই ডাকে। ”

বিয়ের সব কাজ কম্পলিট করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। নিরু কি বলবে বুঝতে পারছেনা, তাই চুপচাপ থাকে।

বাসায় পৌঁছে শুভর সাথে নিরু কে দেখে সবার চোখ কপালে উঠে। বিয়ে বাড়িতে ঝামেলা হবার পর বাসর ঘরে বউ পাঠিয়ে দিয়ে সবাই ড্রইং রুমে আলোচনা করছিলো। তখনি শুভ বউ নিয়ে বাড়ি ঢুকে।

__ ” এই শুভ, সাথে এটা কে? আর এইভাবে ভিজলি কিভাবে? ঠান্ডা লাগবে তো। ” শুভর মা বলে।

__ ” এই মেয়েকে নিয়ে এসেছিস যে? কি প্রব্লেম তোর “। শুভর ভাই সাগর বলে।

__ ” কিরে কিছু বলছিস না কেনো? ” শুভর বাবা

__ ” তোমাদের ছোট ছেলের বউ নিরু। আর কিছু কারোর জানার আছে? এবার সামনে থেকে সরো। ”

এ কথা বলে নিরুর হাত ধরে টানতে টানতে নিজের ঘরে নিয়ে যায় শুভ। বাসার সবাই আর শুভর সামনে কথা বললো না, কারণ শুভর রাগ আর জেদ সবার জানা আছে। শুভ চোখের আড়াল হতেই

__ ” এই পেত্নী টা শুভ ঘাড়ে টুপ করে পড়লো, আর শুভ ওকে নিয়ে চলে এলো। ” শুভর খালামণি বলে।

__” আহহহ স্নেহা! অনাথ মেয়ে, দেখতেও ভালো, শুভ যদি মানিয়ে নিতে পারে আমাদের আপত্তি কোথায়। ” শুভর বাবা ধমকের শুরে বলে।

__ ” ওহহহ তাহলে আমাদের কোন কথাই বলার থাকেনা, হুহহহ” বলে রুম থেকে বের হয়ে আসে শুভর ছোট খালামনি স্নেহা।

__ ” ওই মেয়েটাকেই ওর বিয়ে করা লাগতো বাবা? এমনিতেই একটা মেয়েকে এনে ফেঁসে গেছি, ওই মেয়েটা কেও কি আনা লাগতো। ” সাগর বলে।

__ ” মেয়েটা দেখতে কিন্তু সুন্দরী, বউমা পছন্দ হয়েছে, শুভর চোখ আছে বলতে হয়। ” শুভর মা

শুভ নিরুকে ঘরে নিয়ে এনে হাত ছেড়ে দেয়। শুভর নিজের একটা শার্ট, আর প্যান্ট এগিয়ে দেয় নিরুর দিকে

__” যাও আজকের মতো এগুলো ই পড়ে আসো। কাল নতুন জামাকাপড় সব পাবে। ভিজা কাপড়ে এতক্ষণ থাকলে ঠান্ডা লেগে যাবে। ” নিরুকে ওয়াশরুমে পাঠিয়ে নিজেও চেঞ্জ করে নেয়। একদম ঠান্ডায় জমে গেছে। নিরু ওয়াশরুমের দরজা খুলতেই শুভ বলে

__ ” প্রচুর ঠান্ডা বাইরে, আমারও ঠান্ডা লেগেছে খুব। তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসো,
আমিও যাবো ওয়াশরুমে। ”

__ নিরু তাও দাড়িয়ে আছে।

__ শুভ গিয়ে নিরুর হাত দিয়ে টান দিয়ে বের করে ” কি ব্যাপার, কথা শুনতে পাও না? ”

__ নিরু শুধু শার্ট পড়ে, তাই লজ্জা করে বের হচ্ছিলো না। শুভর কাছে আসাতে মাথা নিচু করে ফেলে। উত্তর না পেয়ে নিরুকে সরিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে যায় শুভ। কিছুক্ষণ পর শুভ বের হয়ে দেখে নিরু দাঁড়িয়ে আছে।

__ ” কি ব্যাপার, দাঁড়িয়ে আছো কেনো? ”

__ ” কোথায় যাবো? ”

__ ” এতো বড় বিছানা দেখতে পাচ্ছোনা, নাকি কানা। ”

__ ” আসলে ”

__ ” কি আসলে ”

__ ” ভয় লাগছে? কখনো ছেলে মানুষের ঘরে থাকিনি তো! ”

__ ” কি বললে তুমি? এসো আমি তোমার ভয় ভাঙায়। ” বলে শুভ এগিয়ে আসে। নিরু পিছনে সরতে থাকে ভয়ে, শুভ এসে নিরুকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে ” সবাই আমাকে ভয় করে আর তুমি আমার মুখে মুখে তর্ক করছো তাইনা। ” বলে হাত ধরে টেনে এনে বিছানায় ফেলে দেয়। বিছানার মাঝে কোলবালিশ দিয়ে বলে ” তোমাকে বিয়ে করেছি বলে স্ত্রীর অধিকার চাইতে এসোনা কখনো। মরতে চাইছিলে বিধায় বাঁচিয়েছি, এই বাসায় রাজরানী হয়ে থাকবে কিন্তু স্ত্রী মর্যাদা আমার কাছে পাবেনা। যাও বিছানা ভাগ করে দিলাম, ভাগ ক্রশ করার চেষ্টা করবেনা। আজ প্রচুর ঠান্ডা, কম্বল একটা সো এখানেই থাকতে তুমি বাধ্য। কাল থেকে সোফায় ঘুমাবে। ” কথাগুলো খুব রাগের সাথে বলে শুভ। নিরু ভয়ে আর কথা না বলে শুয়ে পড়ে। শুভ আর কথা না বাড়িয়ে অপরপাশে মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে যায়। নিরু কাঁদতেও পারছেনা ভয়ে কিন্তু প্রচুর ঠান্ডায় জমে গেছে। এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে শুভ। রাত্রে হটাৎ শুভর ঘুম ভেঙে যায় বিছানা কাঁপছে খুব। পাশ ফিরে দেখে নিরু খুব কাঁপছে। বুঝতে পারে জ্বর এসেছে নিরুর। এতক্ষণ ভিজেছে, একটু মায়া জাগে মেয়েটার উপর। বুকের সাথে জড়িয়ে নেয় নিরুকে। নিজের শরীরের গরমে যেন মেয়েটা একটু আরাম পায়। শুভ ও খেয়াল করে কাঁপুনি একটু কমেছে। আরোও চেপে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে শুভ।

সকালে শুভর ঘুম ভাঙে, কারোর গমম নিঃস্বাসের অনুভূতি তে শুভর হার্টবিট কিছুটা বেড়ে যায়। চোখ মেলে তাকাতে যেন চোখের সামনে ঘুম্নত অপ্সরীকে দেখছে। মায়াবী মুখ, নিষ্পাপ চেহেরা শুভকে আরোও কাছে টানছে। একটু একটু করে ঠোঁট নিরুর ঠোঁটের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। নাহ আটকাতে পারছেনা নিজেকে, গভীর আকর্ষণে টানছে শুভকে।

চলবে….

প্রেমেরপরশ part_1

প্রেমের_পরশ part_2

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here