Love At 1st Sight Season 3 Part : 40

0
200

Love At 1st Sight
~~~Season 3~~~

Part : 40

writer-Jubaida Sobti

স্নেহা : কেনো করছেন আপনি এমন প্লিজ!

– [ কাদো কন্ঠে ] আপনি বলুন পুলিশকে ওর কোনো দোষ নেই!

সামির : আহা! নির্দোষ একজন ব্যাক্তির উপর হাত তোলা এটা দোষ না স্নেহা?..এটা আইনের বিরোধী!

স্নেহা : [ চেচিয়ে ] প্লিজ! বন্ধ করুন আপনার এসব অভিনয়! কোনো আইনের ধারায় পুলিশ আসেনি! আপনিই এসব প্লান করে টাকা খাইয়ে এনেছেন!

– আপনি ইচ্ছে করেই রাহুলের রাগ তুলেছেন যাতে রাহুল আপনার গায়ে হাত তুলে, সুযোগ পেয়েও আপনি ওর গায়ে হাত তুলেননি যাতে আপনি আপনার করা প্লান কাজে লাগাতে পারেন!

সামির : ওয়াও স্নেহা! তুমিতো দেখছি মারাত্মক ইন্টেলিজেন্ট!

স্নেহা : [ কেদে হাত জোড় করে ] প্লিজ!

সামির : সইছে না তো রাহুলের কষ্ট?..ঠিকাছে! সন্ধায় তৈরী থেকো,তুমিই পারবে রাহুলের কষ্ট কমাতে, আমাদের এক একটা প্রোগ্রাম শেষ হবে,ধীরেধীরে রাহুলের কষ্ট কমতে থাকবে,

[ বলেই চোখ মেরে গাড়ী টান দিয়ে চলে যায় নিস্থব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্নেহা, সামিরের বলা কথাটা কানে বেজে উঠছে বারবার চোখ দিয়ে পানি ছুটে চলছে, গাড়ীর লুকিং গ্লাস দিয়ে স্নেহার কাদো চেহেরা দেখে হেসে হেসে ড্রাইভ করে চলে যাচ্ছে সামির ]

মনে মনে ভাবছে আর হাটছে স্নেহা!

– সামিরের আশায় থাকলে রাহুলকে এতো সহজে পুলিশ স্টেশন থেকে নিয়ে আসা সম্ভব না! কিছু একটা তো করতেই হবে, [ কাদো ভাবে ] কিন্তু কি করবে কিছুই তো মাথায় আসছে না, কিছুদূর হেটে গিয়ে একটা টেক্সি ঠিক করে নিয়ে উঠে পড়লো! টেক্সি চলছে, স্নেহার মনটা ছটফট করছে রাহুলের জন্য! পথটাও যেনো আজ শেষ হচ্ছে না,
_______________________________________

In Police Station,

রাহুল বসে আছে একটি টুলের মধ্যে, আশেপাশে আরো অনেক আসামীই রয়েছে, কাউকে চুরি করতে গিয়ে ধরে চুল কামিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিলো তো কাউকে ইপটিজিং এর কারণে ধরে আনা হলো, আবার কারো বাইকের লাইসেন্স না পাওয়ায়, আবার কিছু ড্রাগ এডিক্টেডদের,

রাহুল বসে বসে তাদেরই ক্লাস নিচ্ছিলো, তারাও কেউ গোমড়া মুখে জবাব দিচ্ছে তো কেউ হাসি মুখে,

সবার ক্লাস নেওয়া শেষে রাহুল হেসে, হাত ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে হ্যান্ডকাফটি দেখছিলো, ঐ সময়ই জানালা দিয়ে অফিসারের দিক চোখ পড়লো, অফিসার আর কাউন্সটেবল এর মধ্যে কথোপকথোন হচ্ছে,

কাউন্সটেবল : [ ফিসফিসিয়ে ] স্যার, ঐ হিরোর লাভারটা এসেছে!

অফিসার : হুমম!… কোথায়?..

কাউন্সটেবল : স্যার, বাহিরে অপেক্ষা করছে, আসতে বলবো কি ভেতরে?…

অফিসার : হ্যা! বলো আসতে!

স্পষ্ট কিছু বুঝতে পাচ্ছিলো না রাহুল, তবে তাও আড় চোখে কান পেতে, জানালার দিক চেয়ে রইলো, কাউন্সটেবল বেড়িয়ে পড়লো, বাকি কাউন্সটেবল গুলো যার যার কাজে ব্যস্ত, আর অফিসার! তার তো কোনো কাজ নেই চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে আর চা খাচ্ছে, অফিসারের পেট দেখে রাহুল ভাবতে লাগলো, যেনো কোনো হাতির বাচ্চাই জন্মই নিবে এটা থেকে, শালা ঘুষ খেতে খেতে পেট টা গন্ডারের মতো করেছে, ভেবেই রাহুল আবার মুখ ফিরিয়ে ফেললো,

হঠাৎ, কিছুক্ষণ পরই কানের কাছে সেই চেনা মিষ্টি সুরটি ভেসে আসলো, পাশ মুড়ে আবার জানালা দিয়ে তাকাতেই রাহুল অবাক হয়ে গেলো!

স্নেহা : স্যার সত্যিই ওর কোনো দোষ নেই!

অফিসার : দোষ আছে কি না আছে সেটা! আমরাই ভালো বুঝবো তাই না?..

রাহুল : [ দাঁড়িয়ে গিয়ে মনে মনে ] ওহ গড! ডেম ইট! স্নেহা এইখানে কেনো এলো!

স্নেহা : আচ্ছা! আ..আমি একটু দেখা করতে পারি ওর সাথে?

অফিসার : কি হবে দেখা করে?…

স্নেহা : জাষ্ট একটু কথা বলবো! প্লিজ!

কাউন্সটেবল : আমার মনে হয় আপনি পুলিশ স্টেশনের রুলস জানেন না!

স্নেহা : জি! বুঝেছি.. কিক..কিন্তু আমার কাছে অতো টাকা নেই! যা আছে আমি তাই দিচ্ছি! [ বলেই ব্যাগে দু-তিনশ টাকার মতো ছিলো এবং তাই তাড়াতাড়ি বের করে দিয়ে দিলো ]

কাউন্সটেবল : আরে আস্তেআস্তে ম্যাডাম!

– [ হেসে ধীরে কন্ঠে ] আপনাকে আপনার ইয়ের সাথে দেখা করতে দিবো, আর আপনি এতো কম বকশিস!

[ স্নেহা টেনশনে পড়ে গেলো আর তো টাকা নেই তার কাছে, তবে রাহুলের সাথে দেখা করাটাও খুব জরুরী! ]

অফিসার : ঠিকাছে যাও কিন্তু সময় ঘড়িধরা দু-মিনিট! শুধু, এর চেয়ে একসেকেন্ড ও বেশি হবে না!

[ স্নেহা মাথা নাড়ালো অফিসারের কথায় ]

কাউন্সটেবল : আসেন ম্যাডাম! [ হাত দিয়ে ইশারা করে ] ঐ যে!

[ রাহুলের দিক চোখ পড়তেই চোখে আবার পানি এসে জমে গেলো স্নেহার, তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে গিয়ে দাড়ালো জানালার ধারে, ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেদে চলছে, মুখ দিয়ে কিছু বলতেই পারছে না স্নেহা! ]

রাহুল : রিলেক্স! স্নেহা! এভাবে কাদছো কেনো?… আমি একদম ঠিকাছি!

স্নেহা : [ কাদো কন্ঠে ] আপনি এইখানে এই অবস্থায়.. কিভাবে ঠিকাছেন!

রাহুল : শুধুশুধু চিন্তা করছো! তুমি, আমি সত্যিই ঠিকাছি!

– আর তুমি এইখানে আসলে কেনো স্নেহা ?..

স্নেহা : আপনি এইখানে আর আমি আসবো না?..[ কাদো ভাবে ] শুধুশুধু এসব বাড়িয়েছেন.. কি দরকার ছিলো ওর সাথে মারামারি করার…

রাহুল : [ দাতকিলিয়ে ] স্নেহা! ও তোমার হাত ধরেছে! পুলিশ না আসলে তো ওকে ঐদিকেই পুতে রাখতাম

স্নেহা : [ মাথা নুয়ে ] সব আমার জন্যই হচ্ছে তাই না!

রাহুল : শাট-আপ স্নেহা!

[ স্নেহা কিছু বলতে যাবে তখনিই আশেপাশের দিক চোখ পড়তে স্নেহা চুপ হয়ে যায় ]

স্নেহা : এ..এরা কাক..কারা?..

রাহুল : [ একটু হেসে ] এরা! পুলিশ স্টেশন এর গেষ্ট! আমার মতো! [ সবাই হেসে উঠে ]

রাহুল : [ পেছন ফিরে ] গাইস্ তোমাদের ভাবি! [ বাকিরা হাত নাড়ালো ]

স্নেহা : ইনার চুচ..চুলে কি হয়েছে?..[ বলতেই চোরটা মাথায় হাত দিয়ে ঢেকে নিলো, বাকিরা আবারো হেসে উঠলো ]

রাহুল : অও ওর চুলে?.. [ হেসে ] আসলে ও নাকি ইয়ো ইয়ো হানি সিং এর বিগ ফ্যান তাই এভাবে কেটেছে!

স্নেহা : আচ্ছা!

হঠাৎ পাশ থেকে,

কাউন্সটেবল : [ এগিয়ে এসে ] ওহ! ম্যাডাম টাইম ওভার! এখন আসতে পারেন!

স্নেহা : [ অবাক হয়ে ] আরে?..এখনো তো পুরোপুরি একমিনিট ও হয়নি!

কাউন্সটেবল : [ মুখে পান ঢুকিয়ে ] ম্যাডাম আপনি হয়তো পুলিশ স্টেশন এর রুলস জানেন না! [ বুঝতে পারলো স্নেহা! কি চাই তার, কিন্তু কি করবে স্নেহা! টাকাও তো শেষ তার, হঠাৎ মাথায় এলো আইডিয়া, উপুর হয়ে বসে পা থেকে পায়েলটি খুলে নিলো ]

স্নেহা : এটা চান্দীর, বিক্রি করলে প্রথমে যা দিয়েছি তার চেয়েও কিছুটা বেশি পেতে পারেন! [ বলেই এগিয়ে দিলো ]

রাহুল : [ রাগান্বিত ভাবে ] স্নেহা তুমি পাগল হয়ে গেছো?..

কাউন্সটেবল : [ এগিয়ে নিয়ে ] ঠিকাছে! আরো একমিনিট দিলাম যাও! [ বলেই সরে গেলো ]

রাহুল : কি করছো স্নেহা তুমি এসব?.. ওরা এভাবেই করতে থাকবে, যাও বাসায় যাও!

[ স্নেহা জল চোখে রাহুলের দিক তাকালো, রাহুল ও তাকিয়ে রইলো, চেয়ে ও হাত বাড়িয়ে স্নেহার চোখের জল মুছে দিতে পারছিলো না ]

রাহুল : স্নেহা! প্লিজ ডোন্ট ক্রাই! এইধরনের পুলিশদের নজর খারাপ হতে ও দু-সেকেন্ডের বিশ্বাস নেই!

– প্লিজ বাসায় যাও!

স্নেহা : [ কাদো কন্ঠে ] রাহুল! ওরা তো টাকার ডিমান্ড করবে! কিক..কিন্তু আমার কাছে তো অতো টাকা নেই!

– আ..আপনি তো সব বুঝেন, আর অন্য কোনো তো ওয়ে হবে আপনাকে বেড়িয়ে আনার!

রাহুল : আরে তুমি ওসব নিয়ে টেনশন করছো কেনো?..ওরা আমায় কালই ছেড়ে দিবে!

– ওদের সামির টাকা খাইয়েছে যাতে আমাকে একদিনের জন্য রিমান্ডে দেই! জাষ্ট! একটা দিনই তো স্নেহা! কালই চলে আসছি আমি!

স্নেহা : [ চমকে গিয়ে ] কিহহ! রিমান্ডে?.. আপনি কি কারো খুন করে দোষ শিকার করছেন না নাকি?..আপনাকে কেনো রিমান্ডে দিবে?.. [ কাদো কন্ঠে ] আপনি পাগল হয়েগেছেন! এটাকে জাষ্ট একটা দিন বলছেন?..

রাহুল : [ হেসে ] রিলেক্স স্নেহা! আমি চাচ্ছি এই অফিসার এর চাকরি খাবো, জাষ্ট একবার রিমান্ডে দিক! এরপরদিন বেড়িয়ে ও ওর চাকরি কই রাখে আমি দেখবো!

স্নেহা : দেখেন! রাহুল আপনার মাথা ঠিকাছে?..আপনি রিমান্ডে দিবে এটাকে কি ইজিলি নিচ্ছেন! আমি শুনেছি রিমান্ডে নাকি অনেক অত্যাচার করে [ কাদো কন্ঠে ] খুব মারে!

রাহুল : [ মুচকি হেসে ] তো কি হয়েছে?.. মার খাবো! এটাতো সামান্য ব্যাপার স্নেহা, তোমার জন্য জানটাও হাজির!

স্নেহা : [ বিরক্তি হয়ে ] আপনি!.. [ বলতেই হঠাৎ পাশ থেকে কাউন্সটেবল এসে কাশি দিলো ]

কাউন্সটেবল : ম্যাডাম! টাইম ওভার!

স্নেহা : দেখেন প্লিজ! আর বেশিক্ষণ না জাষ্ট একটু!

কাউন্সটেবল : রুলস হিসেবে টাইম কিন্তু ওভার!

রাহুল : হয়েছে স্নেহা! এবার বাসায় যাও চুপচাপ, রিলেক্স থাকো, আমি প্রমিস করছি, কাল এসেই তোমার সাথে আগে দেখা করবো!

স্নেহা : কিন্তু! রাহুল..কাল পর্যন্ত…তো

কাউন্সটেবল : দেখেন ম্যাডাম! সময় শেষ! এবার বেড়িয়ে যান! নয়তো রুলস অনুযায়ী কাজ করেন তারপর আমি আরো এক মিনিট বাড়িয়ে দিতে পারি!

রাহুল : [ রাগান্বিত ভাবে ] শাট-আপ! কমপক্ষে গায়ে পড়া ইউনিফর্মটাকে তো রেসপেক্ট করতে শিখো! লজ্জা করেনা এসব করতে,

কাউন্সটেবল : সয়ে গেছে! লজ্জা কিসের, আর তুই ভেতরে বসে চিড়িয়াখানার সাপের মতো টুকাটুকরি করিস না! চুপচাপ বইসা থাক! [ রাগ উঠছিলো রাহুলের তাও কন্ট্রোল করে নিলো ]

রাহুল : লিসেন্ট স্নেহা! বাসায় যাও!

[ স্নেহা চিন্তা করতে লাগলো আর তো কিছু নেই তার কাছে, তবে রাহুল ও তো বললো না কিছু কিভাবে ছুটিয়ে আনা যাবে ]

কাউন্সটেবল : ম্যাডাম এতো কি ভাবছেন! সময় নাই ভাবার! চিকচিক করছে,

দু-হাত মুঠি বেধে একসাথে মোচড়ামুচড়ি করতে লাগলো, হাতের দিক তাকিয়ে ভাবতে লাগলো, এটা রাহুলের পড়িয়ে দেওয়া রিং, তাদের ভালোবাসার নিশানা, এটা কিভাবে দেওয়া সম্ভব!

[ রাহুল ও কিছু বললো না, স্নেহার কান্ড দেখে যাচ্ছে চুপ করে, জলভরা চোখে একপলক তাকিয়ে আবার কাউন্সটেবল এর দিক তাকালো স্নেহা! আর কিছু বললো না পাশ মুড়ে কিছুদূর হেটে গিয়ে আবার পেছন ফিরে তাকালো রাহুলের দিক, মুচকি হাসলো রাহুল, মুখের দিক হাত উঠিয়ে স্নেহাকে ও হাসার জন্য ইশারা করলো, কষ্ট চাপা হাসি দিয়ে বেড়িয়ে গেলো স্নেহা! ]

ধীরেধীরে হাটতে লাগলো, খুব অসহায় ফিল করছে নিজেকে, তবে কি রাহুলের বলা কথায় চুপ করে বাসায় গিয়ে বসে থাকবে নাকি? এটা কিভাবে সম্ভব! রাহুলকে তার জন্যই পুলিশ স্টেশন যেতে হলো, তবে রাহুলকে ফিরিয়ে আনতে হলে যা করা লাগবে সে করবে..এভাবে চুপ হয়ে বসে থাকলে চলবে না! রাহুল তার জন্য এতোকিছু করতে পারলে এইটুকুতো রাহুলের জন্য সে করতেই পারে,

টেক্সি ঠিক করে তাড়াহুড়ো করে বাসায় গিয়ে উঠলো, আলমিরা খুলে বাকি কিছু টুকটাক টাকা ছিলো সেগুলো গুছিয়ে ব্যাগে ভরে নিয়ে আবার টেক্সি করে বেড়িয়ে পড়লো,

রাহুলের বাড়ির গেইটের কিছুটা দূর দাঁড়িয়ে চুপ করে রইলো, বুকটা কেপে চলছে স্নেহার, ভেতরে গিয়ে কি বলবে, উফফ! বলতে তো হবেই! সে জানে রাহুল জানলে তার উপর রাগ করবে! কিন্তু কি করার এটাই একটা রাস্তা!

ধীরেধীরে গেইটের দরজা খুলতেই সিকিউরিটির সালাম শুনে চমকে উঠলো স্নেহা!

সিকিউরিটি : মেম! রাহুল ভাইয়া তো বাসায় নেই! বেড়িয়ে গেছে, আপনি দাদীর কাছে যেতে পারেন!

স্নেহা : হ্যা! জানি..আ..আমি রাহুলের সাথে দেখা করতে আসিনি!
– আচ্ছা আপনি বলতে পারবেন দাদী এখন কি করছে হবে ?

সিকিউরিটি : [ কিছুক্ষণ চিন্তা করে ] সেটাতো বুঝতে পারছিনা! তবে আপনি ভেতরে আসুন..

স্নেহা : না না..ঠিকাছে,
– আচ্ছা রা..রাহুলের বাবা আছে বাসায়?..

সিকিউরিটি : পাচঁমিনিট হলো অফিসের জন্য বেড়িয়েছে!

স্নেহা : [ মনে মনে ] দাদীকে বললে খামাখা টেনশন করে অসুস্থ হয়ে পড়বে, রাহুলের বাবাকেই বলি,

সিকিউরিটি : মেম! আ..আসুন ভেতরে!

স্নেহা : আচ্ছা আপনি আমাকে একটু বলতে পারবেন রাহুলের বাবার অফিস কোথায়?..

সিকিউরিটি : ক্রসিং রোড, হারশ ইন্ডাস্ট্রি!

স্নেহা : থেংক ইউ ভাইয়া! [ বলেই স্নেহা তাড়াহুড়ো করে বেড়িয়ে পড়লো, টেক্সি যতো অফিসের দিক এগুতে চলছে ততো স্নেহার শরীর কাপতে লাগলো, অবশেষে পৌছাতেই স্নেহা নেমে এসে টেক্সি বিদায় করলো, মাথা তুলে অফিসে বিল্ডিং এর দিক তাকিয়ে রইলো ]

– [ মনে মনে ] মুখ উঠিয়ে তো চলে এলি স্নেহা কিন্তু বলবি কি?..বাহির থেকে কাপতে লাগছিস ভেতরে গিয়ে তো মরেই যাবি! [ কাদো কন্ঠে ] না না..থাক অন্যকিছু ভেবে দেখি কি করা যায়, রাহুলের বাবার সামনে যাওয়া পসিবল না, [ বলেই পাশ মুড়ে যাচ্ছিলো, হঠাৎ আবার থেমে গিয়ে ] অন্যকিছু কি আর ভাববি?..অনেক তো ভেবেছিস আন্সার জিরোই এসেছে, হাতে সময় ও বেশি নেই! নাজানি রাহুল কি অবস্থায় আছে, থাক [ বলেই ধীরে ধীরে এগিয়ে শিরি দিয়ে উঠে মেইন ডোরের সামনে আসতেই সিকিউরিটি দরজা খুলে দিলো, স্নেহা একটু হেসে ভেতরে ঢুকে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লো, আশেপাশে তাকিয়ে স্নেহা হতভম্ব হয়ে পড়েছে, এতো বড় হলের কোন দিকটাই যাবে কিছুই বুঝতে পারছে না, হঠাৎ একজন মহিলা এগিয়ে এলো স্নেহাকে দেখে,]

মহিলা : হ্যালো আই এম আনিতা, কেন আই হেল্প ইউ মেম!

স্নেহা : .হ্যালো! [ মনে মনে ভাবতে লাগলো স্নেহা সে তো রাহুলের বাবার নামই জানে না কার সাথে দেখা করতে এসেছে বলবে ]

আনিতা : এক্সকিউজ মি মেম! কেন আই হেল্প ইউ?..

স্নেহা : আব..হ্যা! হ্যা..এক্সুলি আমি বব..বস্ আপনাদের বসের সাথে দেখা করতে এসেছি!

আনিতা : ওয়েল! আপনার পরিচয়?..

স্নেহা : আ..আমি স্নেহা! রার..রাহুলের ফ্রেন্ড!

আনিতা : ওকে মেম! কাম এন্ড সিট হেয়ার! প্লিজ! ওয়েট ফর ফিউ আওয়ারস্!

স্নেহা : [ শকড হয়ে ] ফিফ..ফিউ আওয়ারস্! অনেক লেইট হয়ে যাচ্ছে না?..

আনিতা : সরি মেম! একটু পরেই স্যার কনফ্যারেন্স রুমে ঢুকবে! কনফ্যারেন্স এর আগে কারো সাথে দেখা করবে না!

স্নেহা : দেখেন প্লিজ! আমার হাতে বেশি সময় নেই! খুবই ইম্পর্টেন্ট!

আনিতা : ওকে আমি স্যারকে আপনার ব্যাপারে ইনফর্ম করে দিচ্ছি! কনফারেন্স শেষ হতেই আপনার সাথে আগে দেখা করিয়ে দিবো!

[ স্নেহা কিছু বললো না দম আটকে যাচ্ছিলো, বুক ফেটে একটি ক্লান্তিকর দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে এলো, ধীরেধীরে এগিয়ে গিয়ে পাশের সোফায় বসে পড়লো, মুখ গোমড়া করে আনিতার চলে যাওয়া চেয়ে আছে ]

– [ মনে মনে ] কপালটাই খারাপ,কোনো কাজই ঠিক মতো হয়না আমার! কিন্তু রাহুলকে আজ পুলিশ থেকে ছুটিয়ে আনতে না পারলে আমি নিজেকে নিজে কখনোই ক্ষমা করতে পারবো না!.. আর এই রাহুলটাও কম না একদম তার স্মাইল এর মতো তেডা, আমাকেই বলতে পারতো কি করতে হবে, কোনো না কোনো ওয়ে তো ছিলোই, কিন্তু তিনি আগে রিমান্ডে যাবে সাথে অফিসারের চাকরি ও খাবে, এসব কোনো কথা, [ মুখ গোমড়া করেই বসে আছে স্নেহা, কিছুক্ষণ আশেপাশে তাকাচ্ছে তো কিছুক্ষণ রাহুলকে ভাবছে, হঠাৎ খেয়াল করলো আনিতা মেয়েটি তার দিকই এগিয়ে আসছে ]

আনিতা : এক্সকিউজ মি মেম! আপনি আসুন! স্যার আপনার সাথে এক্ষুনি দেখা করবে!

[ স্নেহা খুশি হবে নাকি ভয়ে কাদবে কিছুই বুঝতে পারছে না, তবে এইটুকু এসে হার মানলে ও চলবে না, মাথা নাড়িয়ে আনিতার পেছন পেছন এগিয়ে গিয়ে লিফটে উঠে পড়লো ]

আনিতা : [ রুম দেখিয়ে দিয়ে ] এটাই স্যারের রুম!

স্নেহা : থেংক ইউ! [ বলেই দরজার নক ধরে কাপতে লাগলো, আনিতা তাকিয়ে আছে দেখে চোখ-মুখ বটে খুলেই ফেললো দরজা ]

রাহুলের বাবা : [ মাথা তুলে তাকিয়ে ] স্নেহা! রাইট?..

স্নেহা : জিজ..জি!

রাহুলের বাবা : কাম! কাম! [ স্নেহা ধীরে ধীরে দরজা বন্ধ করে এগিয়ে এলো ]

– দাঁড়িয়ে আছো কেনো?..সিট ডাওন প্লিজ!

[ চেয়ার এগিয়ে ধীরেধীরে বসে পড়লো স্নেহা ]

রাহুলের বাবা : আমার বিশ্বাসই হচ্ছিলো না তুমি এসেছো, তোমাকে দেখার অনেক ইচ্ছে ছিলো, ভেবেছিলাম রাহুল ওর মতো তোমাকে ও…[ বলেই চুপ হয়ে গেলো ]

– [ একটু হেসে ] টেন ইয়ারস্ হয়ে গেলো, এর মধ্যে রাহুলের কোনো ফ্রেন্ডসই কখনো আমার সাথে অফিসে মিট করতে আসেনি! এমনিতে কোনো প্রোগ্রামে দেখা হলে হাই হ্যালো হয়!

– তবে তোমার আর রাহুলের কথা আমার মায়ের কাছ থেকে শুনেছি! হ্যাঁ মাশাল্লা বলতেই হবে, মা যতোটুকু তোমার সৌন্দর্যের এক্সপ্লেইন করেছে, এর চেয়েও দিগুণ মিষ্টি দেখতে তুমি!

[ স্নেহা চোখ নামিয়ে রাখলো, মাথায় আসছে না কি বলবে, এখন অনেকটা ভয় কম লজ্জায় বেশি লাগছে তার ]

রাহুলের বাবা : আচ্ছা আমিতো জিজ্ঞেসই করলাম না কি খাবে তুমি?.. [ স্নেহা কিছু বলতে যাবে তখনি ] নো নো নো..না করা একদমই চলবে না!

[ স্নেহা খেয়াল করলো রাহুলের বাবা অনেকটাই খুশি, রাহুল ও যেভাবে কষ্ট চেপে আছে তেমনি রেখেছে তিনি, তাই আজ খুশি গুলো তার কথার মধ্যেই ভেসে উঠছে, ]

স্নেহা : এক্সুলি আংকেল! আ..আমি অন্যসময় খাবো,

রাহুলের বাবা : এমনটা সবাই বলে!

স্নেহা : না নাহ! সত্যি! অবশ্যই আসবো খেতে, কিন্তু আংকেল আমার খুব ইম্পর্টেন্ট কথা বলার ছিলো আপনাকে!

রাহুলের বাবা : আচ্ছা হ্যা! বলো?..

স্নেহা : এক্সুলি রার..রাহুল পুলিশ স্টেশনে!

রাহুলের বাবা : [ শকড হয়ে ] হোয়াট?..কিন্তু কেনো?..

স্নেহা : ও ওর ক্লাসমেট, সামির ওর সাথে মারামারি করছিলো ওদের মাঝে বন্ধুত্ব কম দুশমনিই বেশি! তখনি হঠাৎ পুলিশ চলে আসে…আসলে পুলিশকে ঐ সামিরই ইনফর্ম করেছে!

– [ মুখ গোমড়া করে ] আ..আর মারামারিটা আমার জন্যই হয়েছে আংকেল..কিন্তু রাহুলের কোনো দোষ নেই! ঐ সামির শুধুশুধু রাহুলকে ফাসানোর চেষ্টা করছে!

রাহুলের বাবা : [ দাঁড়িয়ে গিয়ে ] গড! ডেম ইট! সবসময়ই তো পুলিশের সাথে পাংগা নেড়ে আসে..এবার ডিরেক্ট স্টেশনে বন্ধি হয়ে রইলো কেনো? [ নিজ জায়গা থেকে বেড়িয়ে এসে ]

– নিশ্চয় এর মাঝে ও কোনো প্লান আছে, আসলে ওকে আমি কখনো বুঝতেই পারিনা ও কি চাই! আর পুলিশ ও বা এমন করলো কেনো ও কি জানে না কার ছেলে? আরে আমার ছেলে বলার ও কি প্রয়োজন নিজের নামটা বললেই তো হতো!

স্নেহা : [ দাঁড়িয়ে গিয়ে ] ওকে বকবেন না আংকেল, ওর কোনো দোষ নেই!

রাহুলের বাবা : [ মুচকি হেসে ] ওকে বকবো?.. আমি?.. [ স্নেহা কিছু বললো না চুপ হয়ে গেলো ]

রাহুলের বাবা : [ স্নেহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে ] টেনশন করোনা এসো আমার সাথে! [ বলেই দরজা খুলে বেড়িয়ে পড়লো,স্নেহা ও পিছু পিছু বেড়ুলো ]

এসিস্ট্যান্ট : স্যার! কনফ্যারেন্স রেডি! ক্লাইন্ট ও চলে এসেছে!

রাহুলের বাবা : অল ক্যান্সেল! [ বলেই হাটা শুরু করলো,স্নেহা ও অবাক হয়ে পিছু পিছু হাটতে লাগলো, হঠাৎ রাহুলের বাবা থেমে গিয়ে স্নেহাকে পেছন থেকে পাশে এগিয়ে নিলো, স্নেহা অবাক হলো সাথে মনে মনে খুশিও হতে লাগলো, আশেপাশের সব এমপ্লয়িরা তাকিয়ে আছে, নিচে নেমে বাহিরে বেড়িয়ে রাহুলের বাবাই গাড়ীর দরজা খুলে দিলো স্নেহাকে, হা করে তাকিয়ে আছে স্নেহা! ]

রাহুলের বাবা : কাম ডিয়ার! হারিয়াপ! [ স্নেহা মাথা নাড়িয়ে উঠে বসলো, তারপর রাহুলের বাবা ও উঠে বসলো ]

[ গাড়ী চলছে এইদিকে স্নেহা মনে মনে রাহুলের জন্য টেনশন করছে আবার খুব খুশি খুশি ও ফিল করছে, ভাবতেই অবাক লাগছে স্নেহার, এসব তার কাছে সপ্নই মনে হচ্ছে ]

পুলিশ স্টেশন পৌছাতেই এবার আর স্নেহাকে কারো দরজা খুলে দিতে হয়নি, নিজেই হুট করে দরজা খুলে সবার আগে নেমে পড়লো! রাহুলের বাবার এসিস্ট্যান্ট নেমে দরজা খুলে দিলে রাহুলের বাবাও নেমে দাড়ালো, স্নেহার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে মুচকি হাসলো রাহুলের বাবা,পুলিশ স্টেশনের দিক এগুতেই স্নেহা ও পিছু পিছু এগিয়ে গেলো!

স্নেহা তাকিয়ে আছে, রাহুলের বাবাকে না কোনো কাউন্সটেবল আটকাচ্ছে না কোনো অফিসার এর পার্মিশন লাগছে, স্নেহা ও ঘুরঘুর করে পেছন পেছন এগিয়ে গেলো,

অফিসার এর রুমে ঢুকতেই,

অফিসার : [ হুট করে দাঁড়িয়ে গিয়ে ] আরে হারশ স্যার! আপনি..হঠাৎ? কোনো সমস্যা হয়েছে?..[ বলতেই স্নেহার দিক চোখ পড়াই একটু অবাক হলো ]

– আ..আপনি আসলেন কেনো আমাদের ইনফর্ম করতেন! [ কাউন্সটেবলকে ইশারা করে ] আরে যাও চা আনো! [ জানালা দিয়ে রাহুল মাথা ফিরিয়ে তাকালো, স্নেহা ও তাকালো রাহুলের দিক ]

রাহুলের বাবা : আমি চা খেতে আসিনি অফিসার!

– কি কারণে আ্যরেষ্ট করা হয়েছে জানতে পারি?..

অফিসার : [ অবাক হয়ে ] কা..কাকে স্যার?..[ স্নেহার দিক তাকিয়ে বুঝতে পেরে ] ওহ আচ্ছা! ঐ ছেলেটা মারামারি করছিলো রাস্তায়! একটা ছেলের সাথে?..

রাহুলের বাবা : কেনো করছিলো মারামারি? রিজনটা কি ছিলো জেনেছেন?.. [ অফিসার চুপ করে রইলো ]

– এফায়ার কে লিখেছে?.. [ অফিসার কাউন্সটেবলের দিক তাকালো, কাউন্সটেবল মাথা নাড়ালো কোনো এফায়ার লিখা হয়নি ]

অফিসার : এক্সুলি অনেক কাজ পড়েছিলো তাই এফায়ার লিখা হয়নি! মানে লিখতেই ছিলাম!

রাহুলের বাবার এসিস্ট্যান্ট : আ্যরেষ্ট কাকে করেছেন জানেন?…

অফিসার : আব..নাম নেওয়া হয়েছে, কি যেনো বললো নাম..

কাউন্সটেবল : স্যার! রাহুল!

এসিস্ট্যান্ট : রাহুল হারশ!

রাহুল মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নাক ফুলিয়ে মনে মনেই বলে উঠলো

– আমার কারো দয়া চাইনা মিষ্টার হারশ! শুধুশুধু এসেছে দয়া দেখাতে, ডিস্কাষ্টিং!

অফিসার : রাহুল হাহ..হারশ! [ একটু হেসে ] আগে বললেই হতো! আমাদের শুধু রাহুলই বলেছে!

রাহুলের বাবা : কেনো? যে আ্যরেষ্ট করতে বললো সে বলেনি?..

অফিসার লজ্জা পেয়ে কাউন্সটেবলকে ইশারা করলো যাতে রাহুলকে বেড়িয়ে আসতে দেই, কাউন্সটেবল তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে গিয়ে রাহুলের হ্যান্ডকাফস্ খুলে দেই, স্নেহা ও ধীরেধীরে এগিয়ে গেলো জানালার দিক,রাহুল হ্যান্ডকাফাস খুলেও ঐদিকটা বসে রইলো,

স্নেহা : রাহুল!

রাহুল : [ দাঁড়িয়ে গিয়ে রাগান্বিত ভাবে] কি দরকার ছিলো স্নেহা! ওনার কাছে যাওয়ার!

স্নেহা : আমি জানি আপনি রাগবেন! হ্যা! রাগ দেখান সমস্যা নেই! কিন্তু তাও বেড়িয়ে আসেন!

রাহুল : ইডিয়ট! [ স্নেহা মুখ গোমড়া করে চুপ হয়ে রইলো ]

কাউন্সটেবল : স্যার রাগ দেখাবেন না আসলে এটা মিষ্টেক! [ রাহুল আড় চোখে তাকালে ] বব..বলছিলাম যে.. আ..আপনার ছুটি!

রাহুল : তুই থেকে ডিরেক্ট আপনি তাই না?..ছুটি আমার নাকি কার এটা বেড়ুনোর পরই দেখবি! [ বলেই রাহুল ধীরেধীরে বেড়িয়ে এলো, অফিসারের টেবিলের দিক এগিয়ে যেতেই ]

অফিসার : [ হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়িয়ে ] এক্সট্রেমলি সরি মিষ্টার রাহুল! ইট ওয়াজ মিষ্টেক!

রাহুল : [ পেকেটে হাত রেখে ] অফিসার! আপনার কাউন্সটেবলকে একটু ডাকবেন?..

[ অফিসার হাত বটে নিয়ে কাউন্সটেবল এর দিক তাকালো ]

কাউন্সটেবল : [ পাশথেকে ] জি! আমি এইখানেই!

রাহুল : [ তার বাবার এসিস্ট্যান্ট এর দিক তাকিয়ে ] মুরাদ ভাই একটা ওয়ান কে নোট দেন তো!

[ এসিস্ট্যান্ট রাহুলকে একহাজার টাকার একটা নোট বের করে দিলো ]

রাহুল : [ নোট টা কাউন্সটেবল এর দিক এগিয়ে দিয়ে ] টেক ইট! পায়েলটা বেক করো!
[ রাহুলের কান্ডে স্নেহা বিরক্ত হলো মনে মনে ভাবছে এটা কোনো কথা! চিন্তায় আছি কখন এইখান থেকে বের হবো আর ও কিনা পায়েলটা নিয়ে পড়ে আছে ]

কাউন্সটেবল : [ লজ্জা পেয়ে পায়েলটা এগিয়ে দিয়ে ] না স্যার এটার দরকার নেই পা..পায়েলটায় নিয়ে নিন!

রাহুল : আরে?..রুলস মনে করিয়ে দিতে হবে নাকি?.. [ বলেই হাত টেনে টাকাটা ঢুকিয়ে দিয়ে পায়েলটা নিয়ে নিলো ]

রাহুল : [ এসিস্ট্যান্ট এর দিক ফিসফিসিয়ে ] বলে দিও ওনাকে আমার ওনার হেল্প এর দরকার ছিলো না! [ এসিস্ট্যান্ট মাথা নিচু করে রইলো রাহুলের বাবা ও বুঝতে পেরে চুপ করে রইলো ]

[ রাহুল স্নেহার হাত ধরে টেনে নিয়ে চলে যাচ্ছিলো ]

স্নেহা : [ রাহুলকে আটকিয়ে ধীরো কন্ঠে ] রাহুল! একটা থেংক্স তো বলেন আপনার বাবাকে,

[ রাহুল স্নেহাকে কোনো জবাব না দিয়ে হাত ধরে টেনে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লো ]

স্নেহা : আরে রাহুল! এতো রাগ করছেন কেনো?.. একটা থেংক্সই তো ওনার কতো ভালো লাগবে জানেন?..

রাহুল : [ পুলিশ স্টেশনের বাহিরে এসে স্নেহার হাত চেপে ধরে ] স্টপ ইট! স্নেহা! জাষ্ট স্টপ ইট! প্লিজ.. আমার ওনার সাথে কোনো কথা নেই! থেংক্স বলা তো অনেক দূরের কথা!

– আর তোমাকে কে বলেছে ওনার কাছে যেতে?..আমি বলেছিলাম না কালই চলে আসছি! কথা বললে কানে যায় না?..

স্নেহা : আপনাকে ওখানে দেখে আমার জানই বেড়িয়ে যাচ্ছিলো! কি করবো কিছুই মাথায় আসছিলো না, তাই গিয়েছি..আর ওনি ততোটাও খারাপনা রাহুল! ভুল জীবনে সবাই করে থাকে,

রাহুল : [ রাগান্বিত ভাবে ] ভুল করলে ওটা শুধরাতে জানতে হয়! আমি চাইলেই আমার পুরো নাম আর পরিচয় দিলে পুলিশ আমাকে এইখানে আনা তো দূরের কথা টাচ ও করতে পারতো না!

– আমি চাইলেই তোমাকে বলতে পারতাম তখনি, কেনো বলিনি সেটাও তুমি ভালো করে জানো কিন্তু তাও অবাধ্য হয়ে আমার জন্য হেল্প চাইতে চলে গিয়েছো স্নেহা! আমার ওনার দয়ার দরকার ছিলো না!

স্নেহা : রা..রাহুল ওনি আপনার বাবা! ওটা দয়া কেনো হবে?..ওটা ওনার দায়িত্ব!

রাহুল : [ রাগ উঠায় স্নেহার হাত আরো জোড়ে চেপে ধরে ] স্টপ ইট! স্নেহা! ওনার দায়িত্ব তো ঐদিনই আমার উপর থেকে উঠে গেছে! আর আমি মনে করছিনা উনি আমার দায়িত্ব পালন করাটা ডিজার্ব করে,

স্নেহা : কিন্তু রাহুল…

রাহুল : [ রাগান্বিত ভাবে ] মোটেও উচিত হয়নি স্নেহা! তোমার ওনার কাছে যাওয়া,

স্নেহা : [ চোখের পানি ফেলে ] রাহুল! আমিতো..

রাহুল : প্লিজ স্নেহা তোমার মাথা ঘামাতে হবে না এসব নিয়ে, দ্যাটস মাই পার্সোনাল ম্যাটার!

স্নেহা : [ চোখের পানি ফেলে কাদো কন্ঠে ] রাহুল! আমার চিন্তা হচ্ছিলো আপনার জন্য! আ..আমি মিস করছিলাম আপনাকে!

[ মায়া লেগে উঠলো রাহুলের, স্নেহার চোখের পানি দেখে আড়চোখে হাতের দিক তাকালো,
রাহুলের হাত স্নেহার হাতে চেপে ধরা এখনো, তাড়াতাড়ি হাত ছুটিয়ে নিলো রাহুল, শরীরে ও ঘাম ছুটছে, কপালে হাত দিয়ে মুছে নিলো, স্নেহার সাথে চোখ মেলাতে পারছিলো না, মনে মনে ভাবতে লাগলো, কি হয়েছে তার? কি বলে ফেললো সে স্নেহাকে, ]

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here