Love At 1St Sight Season 3 Part : 16

0
168

Love At 1St Sight
~~~Season 3~~~

Part : 16

writer-Jubaida Sobti

রাহুলের চিৎকারের শব্দ শুনে মার্জান,জারিফা এবং শায়লা দৌড়ে এগিয়ে আসে,

মার্জান : আরেহ! কি হয়েছে সব ঠিকাছে তো?…

রাহুল কোনো জবাব না দিয়ে হনহনিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে জোড়ে দরজা লাগিয়ে চলে গেলো,
বাকিরা অবাক হয়ে চেয়ে আছে, এইদিকে স্নেহা ফুফিয়ে ফুফিয়ে কেঁদে উঠছে,

জারিফা : [ স্নেহার কাধে হাত রেখে ] স্নেহা! কি হয়েছে?.. বল আমাদের!

শায়লা : স্নেহা! রাহুল এতো রেগে চলে গেলো কেনো?…

মার্জান : [ রাহুল রাগ করে ছুড়ে মারা পানির গ্লাসটি উঠিয়ে টেবিলে রেখে স্নেহার পাশে এসে বসে ] স্নেহা! এইদিকে দেখ! আমার দিকে তাকা! [ জোড় করে স্নেহার চেহেরা তার দিক ফিরিয়ে নিলো ] স্নেহা! তুই এভাবে কাঁদছিস কেনো?..

স্নেহা : [ চোখ মুছে ] কিছু হয়নি!

মার্জান : [ রাগান্বিত ভাবে ] দেখ স্নেহা! মাথা খারাপ করবিনা! বল কি লুকাচ্ছিস!

[ স্নেহা আবারো কেঁদে উঠে ]

জারিফা : [ স্নেহার চোখ মুছে দিয়ে ] আমরা তোর ফ্রেন্ডস তো তাই না স্নেহা!

[স্নেহা মাথা নাড়ালো!]

জারিফা : তাহলে! আমাদের না বলে কাকে বলবি বলতো?…

স্নেহা : [ চোখ মুছে ঠিক হয়ে বসে ].. নে.. নেহ..নেহা… [ বলতেই আবার কেঁদে উঠে ]

মার্জান : [ অবাক হয়ে ] নেহা?..বলনা তারপর নেহা কি করেছে?…

স্নেহা : নেহা আমাকে কিডন্যাপ করেছিলো! ও বলেছে…যাতে রাহুল থেকে দূরে দূরে থাকি!…

[ বাকিরা শকড ]

শায়লা : কিড..কিড কিডন্যাপ 😱

স্নেহা : রাহুলকে ও অনেক চাই! ওদের আগে রিলেশন ছিলো! ও রাহুলকে [ বলেই আবার কাঁদতে লাগলো ] এখনো ভালোবাসে… আমার কারণে রাহুল ওকে এভোয়ড করছে!

মার্জান : [ চোখ রাংগিয়ে ] কে বলেছে এসব তোকে…

স্নেহা : নেহ..নেহা!

মার্জান : গাধী একটা! ও বলেছে তাই তুই….সত্যি সত্যি রাহুল থেকে দূরে দূরে থাকছিস? [ মাথায় হাত দিয়ে ] উফ! [ স্নেহার দিক ফিরে চেঁচিয়ে ] রাহুল তো গ্লাস ছুড়ে মেরে গেছে! আমি হলে পুরো টেবিলটাই ভেংগে যেতাম!

জারিফা : আচ্ছা! এখন বুঝেছি! তাইতো ঐ নেহা ভার্সেটিতে বলে গিয়েছিলো তোমাদের জন্য আমার আফসোস হচ্ছে! অল দ্যা বেষ্ট স্নেহা! এমন ও বলেছিলো! [ মাথায় হাত দিয়ে ] উফফো তখন একটু ও মাথায় নেইনি!

শায়লা : [ অবাক হয়ে ] মাথায় কি করে নিবি?..আমিতো কল্পনা ও করতে পারছি না…নেহা এতোটা নিচু নামবে!

মার্জান : ওর মতো পেত্নীরা এর চেয়ে আরো অনেক নিচু নামতে পারে [ রাগান্বিত ভাবে দাঁড়িয়ে ] ঐ পেত্নীকে তো আমি…

শায়লা : [ মার্জানের হাত ধরে ] আরে কই যাচ্ছিস?..

মার্জান : আমি ভার্সেটি যাচ্ছি!

স্নেহা : নাহ! মার্জান প্লিজ!

শায়লা : [ মার্জানকে টেনে বসিয়ে ] আরে..রেগে সব করলে কিছু হবে না…

মার্জান : তাহলে?..ওকে এইভাবে ছেড়ে দিবো?..

স্নেহা : নেহার সাথে আমাদের কোনো দুষমনি নেই! ও ওর জায়গায় বসে যা করছে…তা তো ঠিকই করছে! ও তো [ কেঁদে ] রাহুলকে ভালোবাসে তাই না?..

মার্জান : [ আড়চোখে চেয়ে ] আর তুই?..

স্নেহা : [ চোখ মুছে অন্যপাশ ফিরে ] আমি?.. আমি কেনো ওকে ভালোবাসতে যাবো?…

মার্জান : আহারে! আমরা যেমনকি এখনো ক্লাস টু তে পড়ি তাই না..স্নেহা?..

স্নেহা : দেখ এসব কথা..মাথা থেকে এখন ফেলেদে! যা হয়েছে তো হয়েছে আমিই তো ওদের মাঝে কাটা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম.. ওসব নিয়ে এখন আর কোনো চিন্তা নেই! আমি এখন থেকে ভার্সেটি যাবো.. ক্লাস করবো.. আর বাসায় আসবো! ব্যাস…

কিছুক্ষণ পর,

স্নেহা : [সবার দিক চেয়ে] কি হলো সবাই এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো?..

মার্জান : হাতে-পায়ে, মাথার ব্যান্ডেজে না তুকে অনেক দারুণ লাগছে তাই তাকিয়ে আছি!

জারিফা আর শায়লা মুখ লুকিয়ে হাসতে থাকে,

স্নেহা : আমি জানি আমাকে কেমন লাগছে,তোদের আর হাসতে হবে না!

জারিফা : [ স্নেহাকে ঝড়িয়ে ] ইয়ার! স্নেহা মেরি জান…তুই আর রাহুল তো একসাথেই ছিলি তাই না…রাহুল থাকতে তোর এক্সিডেন্ট কিভাবে হলো বলতো?..

স্নেহা : [ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ] হঠাৎ! করে গাড়ীর টায়ার পাম্পচার হয়ে গিয়েছিলো!

তারপর..রাহুল টায়ার ঠিক করতে নেমে যায়… আমাকে বলেছিলো যাতে গাড়ী থেকে না নামি…কিন্তু!

জারিফা : কিন্তু তুই নেমে গেলি!…

স্নেহা : হুম!

জারিফা : হাহাহা.. I know that!

শায়লা : তুই একটু চুপ করবি জারিফা?..ওকে বলতে দে…তারপর কি হয়েছে!

জারিফা : ওকেইই! হ্যা! স্নেহা বল..তারপর?..

স্নেহা : তারপর ও আমাকে আবার ভেতরে চলে যেতে বলে…আমি গাড়ীর দরজা খুলতেই যাচ্ছিলাম…তখনি পেছন থেকে..কেউ আমার মুখের উপর একটি কাপড় চেপে ধরে…

জারিফা : তুই রাহুলকে ডাকিসনি কেনো?..

স্নেহা : আমি ট্রাই করেছিলাম…কিন্তু ও টায়ার চেঞ্জ করছিলো ওপাশে…তাই খেয়াল করেনি!

শায়লা : তারপর তারপর?..

স্নেহা : তারপর কিছু মনে নেই! যখনি চোখ খুলি… তখন দেখি আমি অন্য গাড়ীতে…কিছু অচেনা লোক আর.. আমার পাশে নেহা বসা ছিলো!

মার্জান : [ রাগান্বিত ভাবে ] দেখার সাথে সাথেই একটা লাত্তি দিয়ে ফেলে দিলিনা কেনো?..

শায়লা : [ হেসে ] মার্জান কিডন্যাপ স্নেহা হয়েছিলো…নেহা না…

মার্জান : যাই হোক!

শায়লা : আচ্ছা স্নেহা তারপর বল?..

স্নেহা : …আমি ভয়ে কাঁদছিলাম… তারপর…ও আমাকে ওর আর রাহুলের রিলেশনের কথা বললো…আর আমার সাথে যা যা হয়েছে এসব ব্যাপারে রাহুলকে কিছু বলতে নিষেধ করেছে…নাহলে ও তোদের সবারই ক্ষতি করবে বলেছে….আমি তখনো কাঁদছিলাম দেখে ও বিরক্ত হয়ে আমাকে…একটা অন্ধকার নির্জন জায়গায়..নামিয়ে দিয়ে চলে যায়…

[ কেঁদে কেঁদে ] আমি জায়গাটা চিনি না…কোথাও কোনো গাড়ী ও ছিলো না…

জারিফা : [ স্নেহার চোখ মুছে দিয়ে ] ডোন্ট ক্রাই স্নেহা!

শায়লা : তারপর কি হলো! আমার তো জান বেড়িয়ে যাচ্ছে…

স্নেহা : ভয়ে আমি এক পা ও এগুতে পারছিলাম না…কোনদিক দিয়ে যাবো সেটাও বুঝছিলাম না…অনেক্ষণ পরে হঠাৎ একটি গাড়ী আমার দিক ছুটে আসছিলো…আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই…গাড়ীটির সাথে ধাক্ষা খেয়ে…পড়ে যায়…

জারিফা : Oh my god! then?..

স্নেহা : অনেক কষ্টে চোখ খুললাম চারদিক ঝাপসা হয়ে আসছিলো…তারপর দেখি…গাড়ী থেকে নেমে রাহুল দৌড়ে আসছে….

জারিফা : তারপর?..

স্নেহা : [ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ] তারপর আর কি?..মানে আর কিছু মনে নেই!…আমার মাথা অনেক পেইন করছে..

জারিফা : কেনো মনে নেই হ্যা! উফফো! সব মনে রেখেছিস এই জায়গায় এসে কেনো ভুলে গেলি..আজিব!
রাহুল এসে তোকে ঝড়িয়ে ধরেছিলো কিনা..এটাও জানতে পারলাম না..আচ্ছা ও কান্না করেছে তোর জন্য?..

[ স্নেহা অবাক হয়ে জারিফার দিক তাকিয়ে থাকে ]

জারিফা : ওহ তোর তো মনে নেই! আচ্ছা থাক বাদ দে! রাহুল থেকেই জেনে নিবো!

স্নেহা : কোনো দরকার নেই! আহ…মানে..কি দরকার আবার এসব জিজ্ঞেস করে ভেজাল করার…

ওর থেকে আমরা যত দূরে দূরে থাকবো ততোই ভালো হবে!

কি হলো আবার চেয়ে আছিস কেনো! বললাম না আমার মাথা পেইন করছে…

জারিফা : ওকে ওকে! তুই রিলেক্স কর…

[ সবাই উঠে… যায় ]

স্নেহা কম্বল টেনে অন্যপাশ ফিরে শুয়ে পড়ে….

ভাবতে চাইছিলো না…রাহুলকে…তাও কেনো যেন মনে পড়ছে বার বার!

হ্যা! তখন তো রাহুল স্নেহাকে ঝড়িয়ে কেঁদেছিলো! সাথে..রাহুল স্নেহাকে আই লাভ ইউ! ও বলেছিলো!

[ চোখের কোণে জল জমে গড়িয়ে পড়ছে স্নেহার… ভাবতে ভাবতেই চোখ লেগে এলো ]

রাতে, ডিনার করে সবাই শুয়ে পড়েছে,

স্নেহা কম্বল মুড়িয়ে গুটি মেরে বসে আছে,

জারিফা : [ স্নেহার দিক ফিরে ] স্নেহা! মেরি জান…ঘুমাচ্ছিস না?..

স্নেহা : ঘুম আসছে না!

[ সবাই স্নেহার দিক ফিরে তাকাই ]

জারিফা : হুম হম কেমনি আসবে রাহুলের কল্পনায় ডুবে থাকলে ?..

স্নেহা : কি আজেবাজে বকছিস?..ওসব কিছুইনা আমার এমনিতেই ঘুম আসছে না!

জারিফা : [ উঠে বসে মার্জান আর শায়লার দিক তাকিয়ে ] এই তোরা আজেবাজে বকছিস কেনো?..দেখছিস না স্নেহা এমনিতেই বসে..রাহুলকে ভাবছে… [ বলেই নাকে মুখে কম্বল দিয়ে শুয়ে পড়ে ]

[ স্নেহা একটা বালিশ নিয়ে জারিফার গায়ে মেরে দেই, বাকিরা হাসতে থাকে ]

আর না পেরে শুয়ে পড়ে, ঘুম আসছিলো না স্নেহার…ছটফট করছে..কিছুক্ষণ এপাশ ফিরছে তো কিছুক্ষণ ওপাশ! কেনো হচ্ছে এমন?..আগে তো হয়নি!

পরদিন ভোর হলো,

আগে থেকেই ঘুম ভেঙে গেছে স্নেহার…

জারিফা : স্নেহা! তুই ঘুমাসনি?..নাকি সারারাতই রাহুলকে ভেবেছিস!

স্নেহা : [ চোখ রাংগিয়ে জারিফার দিক তাকিয়ে ] আমি কেনো ওকে ভাববো?..

জারিফা : না আমার মনে হয়েছিলো! এটাও রাইট তুই কেনো ওকে ভাববি তাই না?..ওকে ভাবার জন্য নেহা আছে!

শায়লা : [ হেসে ] ইয়ার! জারিফা..সকাল সকাল আবারও তুই ওর পেছনে কেনো লেগে আছিস বলতো?..

জারিফা : যাক বাবা…আমি আবার লেগে থাকলাম কবে! জাষ্ট বললাম যে..রাহুল

স্নেহা : হয়েছে?..অনেক বলে ফেলেছিস…এবার গুড গার্লের মতো ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে ভার্সেটি যা!

জারিফা : ওকেই!

ব্রেকফাস্ট করে,সবাই একইসাথে খাটের মধ্যে বসে আছে…স্নেহা ঘুরঘুর করে সবাইকে দেখে যাচ্ছে!

মার্জান : স্নেহা! মাই ডিয়ার! এইভাবে ঘুরঘুর করে কি দেখছিস?..

স্নেহা : তোদের দেখছি! তোরা এইখানে বসে আছিস কেনো?..ভার্সেটি যাবি না?..

জারিফা : মেরি জান! তোকে বাসায় এইভাবে একা রেখে কিভাবে যায়?..এমনিতেও আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে.. [ বলেই স্নেহার কাধে মাথা রাখে ]

স্নেহা : [ কাধ থেকে জারিফার মাথা সরিয়ে ] তুই তো ক্লাস মিস্ দিতে ওস্তাদ! সামনে ক্লাস্ টেষ্ট এক্সাম মনে আছে?..এইবার যদি ম্যাথে মার্কস্ কম আসে না দেখিস তোকে কি করি! সো্ এখন ক্লাসে যা চুপচাপ!

আরে তোরা টেনশন করছিস কেনো?..আমি ঠিকাছি আর কিছু লাগলে দরকার হলে তোদের ফোন করবো!

মার্জান : কিন্তু স্নেহা…

স্নেহা : আবারো?.. আই এম ওকে গার্লস ডোন্ট ওয়ারি!

মার্জান : ওকে! তাহলে আমরা ভেতর থেকে লক করে যাচ্ছি কেউ আসলে তুই ডোর ওপেন করিস না!

জারিফা : ও এমনিতেও ডোর ওপেন কেমনি করবে?…একা হেটে ওয়াসরুম যেতে পারে না…স্নেহা ওরা ক্লাসে যাক আমি তোর সাথে আছি! ওকে?..

স্নেহা : আমি না ওয়াল ধরে ওয়াসরুম যাবো তাও তোর বাহানা দিতে হবে না!

[ সবাই হেসে উঠে ]

জারিফা : ওকে😒

স্নেহা বাসায় থেকে গেলো, বাকিরা ভার্সেটি চলে যায়!

গেইট দিয়ে ঢুকতেই…পার্কিং এর দিক চোখ পড়লো,

জারিফা : ইয়ার! মার্জান রাহুলের দিক তাকিয়ে দেখ…বেচারার কতো টেনশন চেহেরা হয়ে আছে…

হঠাৎ, রাহুল তাদের দেখে তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে আসে,

জারিফা : হাই রাহুল!

রাহুল : স্নেহা! এখন কেমন আছে?..

জারিফা : এখন আগে থেকে অনেকটা বেটার আছে!

রাহুল : ও বাসায় একা?..

জারিফা : [ হেসে ] হুম ভেতর থেকে লক করে আমরা চাবি নিয়ে এসেছি! বললাম তাহলে তুই ঘুমা…ইচ্ছা মতো!

রাহুল : তোমরা ওকে একা রেখে কেনো… আই মিন ওর কিছু প্রয়োজন হলে?..

মার্জান : আমরা তো থাকতে চেয়েছিলাম..ওই জেদ করে বসে আমাদের পাঠিয়ে দিয়েছে!.. ও ঠিকাছে চিন্তা করতে হবে না…ব্লাহ ব্লাহ ব্লাহ

জারিফা : আমি তো অনেক বলেছি..হুহ!
আসলে কি..জানেন কথা কম বলে ঠিক..জেদ অনেক! [ চোখ মেরে ] আপনার স্নেহার!

রাহুল : [ একটু হেসে ] হ্যা! তাতো দেখলাম..ঐদিন যেভাবে চেঁচাচ্ছিলো ওভাবে মাথায় আবার এফেক্ট হয়ে যাবে! তাই আজ যায়নি দেখতে!

[ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ]

এনিওয়ে! তোমরা ক্লাসে যাও নয়তো আবার আমার জন্য ক্লাস মিস করে ফেলবা!

[ সবাই ক্লাসের দিক চলে যাচ্ছিলো,হঠাৎ আবার পেছন থেকে ]

রাহুল : আচ্ছা শোনো!

মার্জান : [ জারিফার কানে ফিসিফিসিয়ে ] আমি জানতাম…রাহুল আবার ডাক দিবে!

জারিফা : [ কনফিউজড হয়ে মার্জানের দিক তাকিয়ে ] How?..[ মার্জান চোখ মারলে ] অউ আচ্ছা বুঝেছি! [ রাহুলের দিক ফিরে ] ইয়েস্ জিজু কাম ইন!

রাহুল : আ..স্নেহা! মানে..

জারিফা : ওকে ওকে! understand [চোখ মেরে ] কিন্তু এর বদলে আমায় কি দেবেন বলেন তো?…

রাহুল : আহ..ফিফথ্ সেপ্টেম্বর তোমার বার্থডে ওটার ট্রিট আমি দেবো…স্পেশাল ভাবে সেলেব্রেট করবো!

জারিফা : আরে ওয়াহ! কিন্তু একমিনিট! আপনি কি করে জানলেন আমার বার্থডে ফিফথ্ সেপ্টেম্বর?…

রাহুল : ওহ ওটা রিদোয়ান…[ বলেই জিহ্বায় কামড় দিয়ে দেই ] আহ! রিদোয়ানকে আজ দেখা যাচ্ছে না…কোথায় গেলো কে জানে! আচ্ছা কি যেন বলছিলে?..

জারিফা : [ চোখ রাংগিয়ে ] হুম! বুঝলাম…

রাহুল : তোমার আইডি কার্ডে দেখেছি! সত্যি!

[ মার্জান আর শায়লা মুখ লুকিয়ে হাসতে থাকে ]

জারিফা : ওকে ওকে! এই নেন চাবি!

রাহুল : [ চাবি নিয়ে ] থেংক্স!

_________________________________

এইদিকে,

স্নেহা…কম্বল গায়ে দিয়ে জানালার দিক চেয়ে শুয়ে আছে…শীতের ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কোমোল বাতাস বেয়ে আসছে.. ভোরের স্নিগ্ধ আলো স্নেহার মুখে এসে পড়েছে!
এমনই একটা মুহূর্ত চেয়েছিলো স্নেহা! একটু একান্ততা!

ভাবতে লাগলো…কারো কথা,
কানে বাজছে কারো বলে যাওয়া কথাগুলো,

[ রাহুল : স্নেহা জানো আজ তোমাকে এইখানে কেনো এনেছি?..

স্নেহা : কেনো?..

রাহুল : কারণ আমার লাইফের স্পেশাল দিন গুলো স্পেশাল মানুষদের সাথে সেলেব্রেট করি,
_________________________________

এক্সিডেন্টের সময় স্নেহাকে ঝড়িয়ে,

রাহুল : [ কেঁদে ] আই লাভ ইউ! স্নেহা!
_________________________________

গাড়ী থেকে জোড় করে যখন কোলে নিয়েছিলো,

স্নেহা : You’re the biggest mistake of my life rahul , I wish I had never meet you!

রাহুল : But, I will still love you sneha!
_________________________________

গতকাল সকালে যখন স্নেহাকে দেখতে এসেছিলো,

রাহুল : স্নেহা আমি পুরোরাত ঘুমোইনি

স্নেহা : চলে যান রাহুল!

রাহুল : এতো Easy তোমার জন্য স্নেহা?…
_________________________________

রাহুল : গতকাল রাতে কি বলেছিলাম মনে আছে?..

স্নেহা : আমার কিছুই মনে নেই!

রাহুল : ( রাগান্বিতভাবে টেবিল থেকে গ্লাসটি জোড়ে মাটিতে ছুড়ে মেরে) ইয়াহ! I see তোমার কিছুই মনে নেই..তাহলে কাঁদছো কেনো স্নেহা! ]

ভাবতে ভাবতে চোখের কোণ থেকে গড়িয়ে পানি পড়ছে স্নেহার….

চোখ মুছে আবার ভাবতে লাগলো , যদি কখনো রাহুলের সাথে দেখা না হতো! কেনো যে ভার্সেটি পড়তে এলাম! বাবা-মায়ের সাথেই গ্রামে চলে যাওয়া উচিৎ ছিলো!

হঠাৎ, নাকের কাছে ভেসে এলো সুগন্ধি স্মেল! কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে স্মেলটা…

যেন কারো কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে! কানের কাছে গরম বাতাস অনুভব হলো!

পাশফিরে তাকাতেই স্নেহা চিৎকার দিয়ে একলাফে উঠে বসলো,

রাহুল : [ তাড়াতাড়ি স্নেহার মুখ চেপে ধরে ] শিসস! রিলেক্স স্নেহা! চিৎকার করছো কেনো?..

স্নেহা : [ মুখ থেকে রাহুলের হাত সরিয়ে ] আপনি?…আপনি কিভাবে…

রাহুল : [ চোখ মেরে স্নেহার মুখের সামনে চাবি দেখিয়ে ] এইভাবে,

স্নেহা : [ বিরক্তি হয়ে ] ওরা..আপনাকে?.. উফ! আপনি আবার কেনো এলেন রাহুল?…

রাহুল : কেনো এলেন মানে?..আমার হার্ট এইখানে..আমি কিভাবে ওখানে থাকবো বলোতো?..আমার প্রতিটা সেকেন্ডের অক্সিজেন এইখানে, তাহলে কিভাবে…

স্নেহা : স্টপ! স্টপ! স্টপ! কিহ আজেবাজে বকছেন আপনি?..

রাহুল : আরে আজেবাজে মানে?…

স্নেহা : দেখেন আপনি বেড়িয়ে যান প্লিজ, নাহয় আমি এখন চিৎকার করবো কিন্তু!…

রাহুল : ওকে ডান! করো চিৎকার! আচ্ছা এক সেকেন্ড আশেপাশের ওরা এসে যদি দেখে আমি আর তুমি একই খাটে একসাথে… না মানে বলছিলাম যে…যদি ভাবে অন্যকিছুর জন্য চিৎকার করছো…

স্নেহা : [ কিছুক্ষণ কনফিউজড হয়ে তাকিয়ে থেকে ] What?…ছিঃ রাহুল!

রাহুল : [ হেসে ] ওকে ওকে রিলেক্স!

[ স্নেহার দিক তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ স্নেহা অন্যপাশ ফিরে যায় ]

রাহুল : আচ্ছা স্নেহা! রাতে ঘুমিয়েছিলে?…

স্নেহা : হ্যা! ঘুমিয়েছিলাম! ইনফেক্ট! অনেক ভালো ঘুম হয়েছে!

রাহুল : Shut-up! sneha, you can’t lie to me!

স্নেহা : [ বিরক্তি হয়ে, ] আপনি কেনো এসেছেন রাহুল?.. প্লিজ এইখান থেকে চলে যান!…

রাহুল : [ স্নেহার কাছে মুখ এনে স্নেহার চুলের স্মেল নিতে নিতে ] আর যদি না যায়!

[ স্নেহার গাঁ টা শিউরে উঠছে! কেমন যেনো, ]

স্নেহা : দে..দেখ..দেখেন আপনি..

রাহুল তার হাত দিয়ে, স্নেহার ঘাড় থেকে চুলগুলো সরিয়ে নিলো…. [ স্নেহার হার্টবিট দ্রুত চলতে লাগলো, ]
ধীরে ধীরে রাহুল তার মুখ স্নেহার ঘাড়ের কাছে আনতেই…

স্নেহা : [ চোখ বন্ধ করে ] নাহ! রাহুল..

[ রাহুল থেমে গেলো ]

স্নেহা : প্লিজ!

রাহুল আর কিছু না করে তার নাক স্নেহার ঘাড়ে লাগিয়ে…স্মেল নিতে লাগলো,

স্নেহা চোখ বটে খাটের চাদর হাতের মুঠোই শক্ত করে চেপে ধরে…

রাহুল ধীরে ধীরে তার ঠোট দিয়ে…স্নেহার ঘাড়ে স্লাইড করতে লাগলো….

স্নেহা তার চোখ চেপে…এক ফুটো গড়িয়ে পানি ফেললো!

রাহুল, স্নেহার চাদরে মুঠি বেধে ধরে রাখা হাতটি…ছুটিয়ে তার…হাতের মুঠোই শক্ত করে ধরে নিলো,

স্নেহা : রাহুল!

রাহুল : শিসস!….

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here