♥Love At 1St Sight♥ Season 3 Part – 13

0
239

Love At 1St Sight
~~~Season 3~~~

Part – 13

writer-Jubaida Sobti

স্নেহা : হাসছেন কেনো?…

রাহুল : তোমার কথা শুনে! [ with tedi smile ]

[ স্নেহা আর কিছু না বলে রাহুল থেকে ছুটে এসে ব্যাগ কাধে তুলে নিলো…রাহুল ও পিছে পিছে এগিয়ে এসে মার্জানের পাশের চেয়ারে বসলো ]

মার্জান : আরে ডান্স শেষ?…

স্নেহা : বলেছিলামনা আমার মাথা পেইন করছে! তাই… [ বলেই ব্যাগ থেকে পানির বোতোল বের করে পানি খাচ্ছে ]

রাহুল চেয়ে আছে স্নেহার ঠোটের দিক…স্নেহার ঠোট দুটো এখনো বোতোলের মুখে স্পর্শ করে আছে! [ মনে মনে ভাবছে রাহুল ] যদি বোতোল এর জায়গায় সে হতো, ভাবতেই ব্লাশিং হয়ে যায়!

শায়লা : বাই দ্যা ওয়ে! কিনা লাগছিলো দুজনকে একসাথে! পুরোই শাহরুখ আর কাজলের জুটি!

[ শায়লার কথা শুনে স্নেহার নাকে মুখে পানি উঠে যায় এবং কাশতে থাকে…]

রাহুল : [ তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে ] Careful damn it!

মার্জান : [ স্নেহার মাথায় হাত বুলিয়ে ] ঠিকাছিস?…

স্নেহা : [ কাশতে কাশতে ] হুম!

রাহুল : আচ্ছা! শায়লা কি যেনো বলছিলে?…[with tedi smile ]

[ স্নেহা অবাক চোখে রাহুলের দিক তাকায় আর শায়লা, মার্জান, আসিফ, শ্রেয়া সবাই হেসে উঠে ]

মার্জান : মনে হয় স্নেহার! জুটিটা পছন্দ হয়নি! কারণ স্নেহা সালমান খানের ফ্যান! তাই না স্নেহা?…

স্নেহা চোখ রাংগিয়ে মার্জানের দিক তাকায়!

রাহুল : ওহ! তাই নাকি?..সালমান খান…?..কি যেনো ফ্লিমটার নাম ওহ হ্যা! “তেরে নাম” আই জাষ্ট লাভ ইট!

শায়লা : আচ্ছা?..তাহলে ঐ ফ্লিমের গানটাই শুনিয়ে দেন না…

আসিফ : [ রাহুলের কাছে গিটারটা ছুড়ে মেরে ] শুরু হয়ে যা বস্!

রাহুল : [ ক্যাচ নিয়ে! স্নেহার দিক তাকিয়ে ] ওকেই!

[ শায়লা স্নেহাকে টেনে পাশের সি্টে বসিয়ে দিলো.. স্নেহা একবার রাহুলের দিক তাকিয়ে আবার চশমা ঠিক করে অন্যদিক ফিরে গেলো ]

রাহুল : [ স্নেহার দিক চেয়ে 🎸গিটার বাজাতে লাগলো ]

♪♪ মারকে্ বিনা ওয়াদা আপনা তোরে্ঙ্গে ♪♪
♪♪ এক দুজে্কা সা্থ কাভি্ না্ ছোড়েঙ্গে ♪♪
♪♪ আপনা তো সা্ধি ও জানমো্কা নাতা্ হে্ ♪♪
♪♪ জানেসে্ জানে্কো কন্ জুধা্কা্র পাতা্ হে্ ♪♪

তে্রে সি্বা তে্~~রে সি্বা~~

♪♪ তে্রে সি্বা ইস্ দা্ড়িয়াকা্ ~~

নেহি্ কোয়ি্ কিনা্রা সা্নাম ~~ও ওও নে্হি্ কো্য়ি্ কিনা্রা সা্না্ম~~

তে্~রে না্ম, হা্মনে্ কি্য়াহে ~~জিবা্ন আপনা সা্রা সা্নাম ~~ হো ও ও জিবা্ন আপনা সা্রা সা্নাম ~~

[ সবাই তালি দিয়ে উঠে…রাহুল তেডি স্মাইল দিয়ে স্নেহার দিক তাকিয়ে আছে হঠাৎ স্নেহা উঠে দৌড়ে হল থেকে বেড়িয়ে যায়,]

শ্রেয়া : আই থিংক সং লিরিক্স গুলো কাউকে ডেডিকেট করা হয়েছে…এম আই রাইট রাহুল?.. [ বলেই চোখ টিপ মাড়লো ]

[ রাহুল গিটারটা শ্রেয়ার হাতে ধরিয়ে দিয়ে উঠে সে ও বেড়িয়ে গেলো, গিয়ে দেখে স্নেহা বারান্দার রিলিং এর দিকই দাঁড়িয়ে আছে…. রাহুল ধীরে ধীরে স্নেহার পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো… কাধের দিক মুখ এনে দেখে স্নেহা চোখ বন্ধ করে বুক চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে…চুল গুলো শীতের ঠান্ডা বাতাসে উড়ছে…গাল গুলো গোলাপী গোলাপী, তার মানে স্নেহা ব্লাশিং হচ্ছে, [ Rahul give a tedi smile😜 ] মনে মনে, ভাবতে লাগলো আশেপাশে বাগান দেখা না গিয়ে যদি সমুদ্রের পানি আর পানি থাকতো, পুরোই টাইটানিক ফ্লিমের পোজ হয়ে যেতো!

রাহুল : কত মিটার বেগে চলছে?…

স্নেহা শকড হয়ে তাড়াতাড়ি পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে রাহুল তেডি স্মাইল দিয়ে তার পিছন দাঁড়িয়ে আছে!

রাহুল : আহা! শকড হওয়ার কি আছে?…বললাম হার্টবিট কতোমিটার বেগে চলছে!

স্নেহা : আ..নাহ! মানে.. .. আসলে!

রাহুল : তোতলাতে হবে না! [ বলেই স্নেহাকে আবার আগের মতো করে ফিরিয়ে দাড়করিয়ে দেই রাহুল, এবং হাত দুটো দুদিক তুলে ধরে টাইটানিক পোজে দাঁড়িয়ে থাকে ]

স্নেহা : আরে আরে! কি করছেন কি?..[ বলেই স্নেহা সরে যেতে চাচ্ছে… রাহুল তাও স্নেহাকে জোর করে ধরে আছে ] দেখেন আশেপাশের কেউ দেখে ফেলবে! ছাড়ুন!

রাহুল : Shut-up স্নেহা দেখছো না টাইটানিক পোজ দিচ্ছি! ওয়াহ! কি বাতাস…দেখেছো?…বাতাস ও আজ রোমান্টিক হয়ে গেছে!

স্নেহা : দেখেন পাগলামি করিয়েননা ছাড়েন প্লিজ!

রাহুল : তুমি তো আমার বুকের মধ্যে পড়ে আছো আরেকটু লম্বা হলে ভালো হতো [ স্নেহার দিক তাকিয়ে ] মানে কিসিং সি্নটা করতে সুবিধা হতো আরকি!

স্নেহা : [ রাহুল এর দিক তাকালে রাহুল চোখ টিপ মাড়লো ] ছিঃ রাহুল! [ বলেই রাহুলকে ধাক্ষা দিয়ে সরে যায় ]

রাহুল : [ হাসতে হাসতে ] রিলেক্স! আই জাষ্ট কিডিং স্নেহা!

স্নেহা আর কিছু না বলে দৌড়ে চলে যাচ্ছিলো, রাহুল স্নেহার হাত ধরে টেনে গার্ডেনের দিক নিয়ে চলে গেলো!
__________________________

এইদিকে,

শায়লা : ইয়ার মার্জান! মিউজিক তো কখন বন্ধ হয়ে গেছে! আর এই দুজনের ডান্স এখনো শেষ হয়নি!

মার্জান : আমার তো মনে হচ্ছে না এরা ডান্স করছে! দুজন দুজনের চোখে যেভাবে তাকিয়ে আছে…নিশ্চয় চোখাচোখি কথা বলছে!

শায়লা : তুই কিছু বুঝতে পারছিস?…

মার্জান : বুঝার আর কি বাকি আছে?..চোখের সামনেই তো সব ঘটছে! [ বলেই দাঁড়িয়ে যায় ] এনিওয়ে চল আমরা ক্লাসে যায়!

শায়লা : ওকে! চল…

মার্জান : [ দরজার দিক গিয়ে দাঁড়িয়ে একটু চেচিয়ে ] জারিফা! মাই ডিয়ার! আপনার ডান্স যখন শেষ হবে! তাহলে দয়া করে আমাদের ক্লাসে এসে খুজে নিবেন! [ বলেই হেসে বেড়িয়ে যায় ]

জারিফা : [ ফিসফিসিয়ে ] দেখেন সবাই বেড়িয়ে যাচ্ছে! So বাই!

রিদোয়ান : [ আরো শক্ত করে ধরে ] So what! এখন শুধু তুমি আর আমি! [ বলেই চোখ টিপ মাড়লো ]

শ্রেয়া আর আসিফ ও হেসে বেড়িয়ে যায়,

__________________________

গার্ডেনে, রাহুল স্নেহাকে একটি গাছের নিচে এনে থামায়!

স্নেহা : [ হাপাতে হাপাতে ] পাগল নাকি আপনি! আমার ফ্রেন্ডসরা আমাকে ক্লাসে খুঁজবে!

রাহুল : তোমাকে টেনে আনতে আনতে হাপিয়ে উঠলাম! এতো ছুটাছুটি করো কেনো তুমি বলো তো?..

স্নেহা : সবাই দেখছিলো তাই!

রাহুল : সবাই সবাই উফফ! সবাই দেখুকনা তাতে তোমার কি?…

স্নেহা : আরে আমার কি মানে! সবাই কি ভাববে বলুনতো?…এইভাবে কেউ টেনে আনে?..কথা নেই বার্তা নেই হুট করেই ড্রাগন এর মতো এন্ট্রি করে টেনে নিয়ে চলে আসেন!

রাহুল : [ এগিয়ে আসলে স্নেহা পিছিয়ে যায়, পেছনে গাছ থাকায় বেশি পেছাতে পারে না, স্নেহা দাঁড়িয়ে পড়ে, রাহুল স্নেহার কাধের পাশে গাছের উপর একহাত দিয়ে দাঁড়ায় ] তারপর?..

স্নেহা : [ মাথা নিচু করে ] তারপর মানুষ নানারকম কথা ছড়াবে,

রাহুল : তারপর?.. [ with tedi smile ]

স্নেহা : [ মুখ গোমড়া করে ] আমার ফ্রেন্ডসরা আমাকে খুঁজছে এতোক্ষণে!

রাহুল : তারপর?..

স্নেহা : আপনার ফ্রেন্ডসদের ও তো বলে আসেননি তারাও হয়তো আপনাকে খুজছে!

রাহুল : তারপর?..

স্নেহা : দূরে সরে দাড়ান! আশেপাশে কেউ দেখলে! অলরেডি অনেকে দেখছে রাহুল!

রাহুল : তারপর?..

স্নেহা : [ রাহুলের দিক তাকিয়ে হেসে ] তারপর ঘোড়ার ডিম!

[ রাহুল ও হেসে দেই স্নেহার কথা শুনে ]

রাহুল : [ স্নেহা থেকে একটু সরে দাঁড়িয়ে শার্ট থেকে সানগ্লাসটা ছুটিয়ে পড়ে নিলো, পকেটে হাত দিয়ে ] Listen! আশেপাশে কে কি ভাবছে! কে কি দেখছে আই ডোন্ট কেয়ার! আই এম রাহুল ইটস্ ইনাফ! [ বলেই চোখ টিপ মাড়লো with tedi smile😎 ]

স্নেহা কিছু না বলে চশমা ঠিক করে অন্যদিক ফিরে গেলো কিছুক্ষণ পর কোণা চোখে তাকিয়ে দেখে এখনো ঐ ষ্টাইলে তেডি স্মাইল দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে! তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে ফেললো!স্নেহা!

হঠাৎ পাশ থেকে রাহুল! বলে কেউ আওয়াজ দেই! দুজনেই ফিরে তাকাই!

নেহা : [ এগিয়ে এসে ] সরি! রাহুল ফর ডিষ্টার্বিং ইউ!

রাহুল : What?..

স্নেহা চলে যাচ্ছিলো, রাহুল স্নেহার হাত ধরে আটকিয়ে রাখে,

নেহা : এক্সুলি! আমার গাড়ীর ইঞ্জিনটানা ঠান্ডায় বসে গেছে!

রাহুল : তো?..

নেহা : আমার খুব আর্জেন্ট একটা কাজে যেতে হচ্ছে! সো্….তোর কার্ কিইস্ টা যদি একটু দিস! আমি আধ ঘন্টার মধ্যেই রিটার্ন করে দিবো!

[ রাহুল একটা জোড়ে শাস ফেলে পকেট থেকে গাড়ীর চাবিটা বের করে নেহাকে দিয়ে দিলো ]

নেহা : থেংক্স! [ বলেই রাহুল স্নেহার ধরে রাখা হাতের দিক একটু তাকিয়ে চলে গেলো ]

রাহুল : [ স্নেহার দিক তাকিয়ে ] তুমি কোথায় যাচ্ছিলে বলো তো?. এতোবার কারো পেছনে দৌড়ায়নি! যা তোমার পেছনে দৌড়াতে হচ্ছে!

স্নেহা কোনো জবাব না দিয়ে ব্যাগ থেকে পানির বোতোলটা বের করে এগিয়ে দিলো!

রাহুল : থেংকস্ [ with tedi smile ]
[ পানি মুখে দিতে যাবে তখনি রাহুলের মাথায় আবারো দুষ্টু বুদ্ধি জাগলো ] আচ্ছা স্নেহা তুমিও তো হাপিয়ে পড়েছিলে, নাও আগে তুমি খাও…

স্নেহা : না না! আমি ঠিকাছি!

রাহুল : আরে নাও তো আগে তুমি খাও [ বলেই স্নেহার হাতে বোতোলটা ধরিয়ে দিলো, স্নেহা অবাক হয়ে চেয়ে আছে ] আরে খাওনা!

স্নেহা : হুম!

রাহুল : মুখ লাগিয়ে খাবে কিন্তু! আরে হা করে কি দেখছো শুরু করো!

স্নেহা বাধ্য মেয়ের মতো অল্প একটু পানি খেয়ে নিলো! এবং রাহুলের দিক তাকাতেই সাথে সাথে রাহুল স্নেহার হাত থেকে বোতোল কেড়ে নিয়ে গডগড করে পানি খেতে লাগলো!

রাহুল : [ খাওয়া শেষে ] ওয়াহ! স্নেহা পানি এত্তো মজা আগে জানতাম না তো!

স্নেহা ব্লাশিং হয়ে একটু হেসে কিছু না বলে চলে যাচ্ছিলো!

রাহুল : [ পেছন থেকে চেঁচিয়ে ] স্নেহা!

[ স্নেহা থেমে গেলো ] আরেকটা সারপ্রাইজ বাকি আছে বলেছিলাম মনে আছে তো?…[ স্নেহা কোনো জবাব দিলো না ] যাওয়ার সময় পার্কিং এর দিক ওয়েট করবো! মনে থাকে যেনো!

[ স্নেহা কিছু না বলেই চলে গেলো রাহুল তেডি স্মাইল দিয়ে দাঁড়িয়ে স্নেহার চলে যাওয়া চেয়ে থাকে,]

__________________________

এইদিকে, স্নেহাকে ক্লাসে না পাওয়ায় মার্জান আর শায়লা খুঁজতে লাগলো!

শায়লা : রাহুল ও তো পেছন পেছন বেড়িয়ে ছিলো নিশ্চয় ওর সাথেই কোথাও আছে! তুই এত্তো টেনশন নিচ্ছিস কেনো!

মার্জান : আমরা শিয়র তো আর না যে, স্নেহা রাহুলের সাথেই আছে! একবার বিপদ গেছে মেয়েটার উপর! তাই আগে শিয়র হয়েনি যে ও রাহুলের সাথে আছে.. তারপর টেনশন কমবে! [ বলেই হাটতে হাটতে কারো সাথে ধাক্ষা লাগে রাগান্বিতভাবে পাশ ফিরে তাকিয়ে, ] আরে কি ব্যাপার বলেন তো?..আপনি কি চোখ গুলো হাতে নিয়ে হাটেন নাকি?..

আসিফ : [ একটু হেসে ] ওকে! মানলাম আমি চোখ গুলো হাতে নিয়ে হাটি! কিন্ত মেম আপনার চোখ গুলো কোথায় ছিলো বলেন তো?…

মার্জান : [ চোখ রাংগিয়ে ] কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ সরি! বলে দাফা হয়ে যান! এইখান থেকে! অলরেডি আগের একটা সরি জমা হয়ে আছে! আপনার!

আসিফ : [ হেসে ] ওহো! So তুমি আমার সরি কাউন্ট করছো?…ওয়াও! গ্রেট!

মার্জান : আপনি কথাকে পেঁচাচ্ছেন কেনো বলেন তো?…

আসিফ : লুক! ধাক্ষা কিন্তু আমি ইচ্ছে করে দেইনি! এন্ড আমি একাও খায়নি! সো্ বরং তুমিই আগে সরি! বলো তারপর আমি বলছি!

মার্জান : হোয়াট হোয়াট হোয়াট ?..কি বললেন আমি?..আমি আপনাকে সরি! বলবো?.. আপনাকে তো আমি [ বলেই রেগে এগিয়ে যাচ্ছিলো ]

শায়লা : [ মার্জানকে আটকিয়ে ] আরে মার্জান কি করছিস পাগল নাকি!

মার্জান : তুই ছাড় আমাকে!

শায়লা : আরে ঐ দেখ স্নেহা আসছে!

মার্জান নাক ফুলিয়ে আসিফ এর দিক তাকায় আসিফ হেসে চেয়ে আছে…মার্জান একটা ঘুষি দেখিয়ে হনহনিয়ে চলে গেলো স্নেহার দিক! শায়লাও পেছন পেছন দৌড়ে গেলো!

স্নেহা : আরে তোরা ক্লাস থেকে আসছিস?..

শায়লা : হ্যা! ওখানেই গিয়েছিলাম তোকে না পেয়ে খুঁজতে বের হলাম!

মার্জান : চল ক্লাসে! [ বলেই হাটতে লাগলো ]

স্নেহা মার্জানের দিক একবার তাকিয়ে শায়লা থেকে চোখের ইশারায় জিজ্ঞেস করতে লাগলো কি হলো?..

শায়লা : [ হেসে ] ইয়ার! স্নেহা! কি বলবো… মার্জান না এখন কি ফাইট করতে ছিলো! ঐ রাহুলের ফ্রেন্ড আসিফের সাথে [ বলেই হাসতে লাগলো ]

মার্জান : তুই হাসছিস?..ওকে তো আমি সরি বলিয়েই ছাড়বো!

হঠাৎ পেছন থেকে জারিফা এসে ঝাপিয়ে তিনোজনকে ঝরিয়ে ধরে,

মার্জান : মহারাণীর ডান্স এতোক্ষণে শেষ হয়েছে! ওহ সরি সরি ডান্স বললে ভুল হবে আই মিন রোমেন্স!

জারিফা : [ মার্জানের পাশে এসে হাত ঝড়িয়ে ] ইয়ার! আমি তো কখন থেকেই চলে আসার ট্রাই করছিলাম কিন্তু…

শায়লা : হুম হুম! কিন্তু তারপর বলনা…

[ জারিফা লজ্জা পেয়ে শায়লার মাথায় একটা বাড়ি দিলো, বাকিরা হেসে উঠে ]

After 3hours,

ক্লাস করে সবাই একসাথেই কথা বলতে বলতে বের হচ্ছিলো! হঠাৎ নেহা এসে তাদের সামনে দাঁড়ায়!

মার্জান : [ হেসে ] আরে! আপনি হঠাৎ হল থেকে অর্ধেকে উঠে চলে গিয়েছিলেন কেনো বলেন তো?…জানেন রাহুল না আজ স্নেহার জন্য ” তেরে নাম ” মুভির গানটা করেছিলো…

নেহা : তাই?..

মার্জান : হ্যা তাই!

জারিফা : আরে! কি যেনো পোড়া পোড়া স্মেল আসছে!

মার্জান : [ একটু হেসে ] হ্যা আমার ও তাই লাগছে! মিস্ নেহা! আপনার ও কি তাই লাগছে?…[ বলেই চোখ টিপ মারে ] আসলে আমার মনে হয় কেউ একজন জলছে!

নেহা : আমার আফসোস হচ্ছে তোমাদের জন্য!

জারিফা : আহারে তাই নাকি?.. কি কারণে একটু শুনি!

নেহা : জাষ্ট ওয়েট এন্ড সি্! অল দ্যা বেষ্ট! স্নেহা! [ বলেই চলে যায় ]

মার্জান : [ হেসে ] জলতে জলতে এর মাথার তারটাও জলে গেছে বোধহয় [ শায়লা আর জারিফা হেসে উঠে ]

স্নেহা : [ মুখ গোমড়া করে] চল সবাই! প্লিজ…

[ সবাই আর কিছু না বলে বাসে্ গিয়ে উঠে পড়লো… বাস্ চলছে! হঠাৎ অর্ধেকে গিয়ে বাস্ এমন জোড়ে ব্রেক ধরে প্যাসেঞ্জার সবই ড্রাইভারকে বকা দিয়ে উঠে ]

ড্রাইভার : আরে আমার কি দোষ কন?.. সামনে এসে এইভাবে গাড়ী থামাইলে আমি কি করমু?..

মার্জান : [ মাথা উঠিয়ে তাকিয়ে দেখে কেউ একজন বাসে্র সামনে গাড়ী থামিয়েছে! ] আরে ড্রাইভার আংকেল আপনি বাস্ থামালেন কেনো?..চালিয়ে দেন ওর গাড়ীর উপর! তারপর ওর হিরোগিরি বের হবে! [ বলতেই দেখে গাড়ী থেকে রাহুল নামছে… মার্জান জিহ্বায় কামড় দিয়ে স্নেহার দিক তাকিয়ে ] ওহ! সরি!

স্নেহা : সরি?..কিন্তু কেনো?..

মার্জান : কিছুক্ষণ পড়েই বুঝবি কেনো.. [ বলেই অন্যদিক ফিরে যায় ]

জারিফা : [ চেঁচিয়ে ] আরে রাহুল! ওটা আপনি ছিলেন?…

[ স্নেহা শকড হয়ে তাকিয়ে দেখে রাহুল এগিয়ে আসছে! ]

রাহুল : [ স্নেহার দিক তাকিয়ে ] তোমাকে বলেছিলাম পার্কিং এর দিক ওয়েট করবো! মনে থাকে যেনো!

মার্জান : [ স্নেহার দিক তাকিয়ে ফিসফিসিয়ে ] ওমা তাই নাকি!

[ স্নেহা মার্জানের দিক একবার তাকিয়ে আবার জানালার দিক ফিরে যায় ]

রাহুল : স্নেহা Come with me!

মার্জান : [ আবার ও ফিসফিসিয়ে ] হুম হুম! যাও…[ স্নেহা চোখ রাংগিয়ে তাকালে ] ওকে ওকে! কুল!

রাহুল : [ রাগান্বিত ভাবে ] স্নেহা I say come with me!

স্নেহা : দেখেন আমি এখন বাসায় যাচ্ছি! সবসময় এসব ভালো লাগেনা! আপনি গিয়ে আপনার গাড়ীটা সরান পেছনে জ্যাম লেগে যাচ্ছে!

ড্রাইভার : [ চেঁচিয়ে ] আরে ভাই কি আশ্চর্য এইভাবে গাড়ী দাড় করাই রাখমু নাকি!

রাহুল : [ রাগান্বিত ভাবে ড্রাইভারের দিক চেয়ে ] চুপচাপ দাড় করিয়ে রাখ নাহলে বাস্ তোর মাথার উপরই ভাঙবো!

[বলেই স্নেহার দিক চেয়ে স্নেহার হাত ধরে তুলে টেনে আনে ]

স্নেহা : [ হাত ছুটিয়ে ] আরে কি আজিব!

জারিফা : [ উঠে এসে রাহুলের কানের দিক ফিসফিসিয়ে ] জিজু! এক ওয়েতে না গেলে অন্য ওয়ে ইউজ করুননা…[ বলেই রাহুলকে চোখ টিপ মাড়লো, স্নেহা তাকালে আবার গিয়ে হুরহুরিয়ে সি্টে বসে পড়লো ]

রাহুল : [ স্নেহার দিক তাকিয়ে ] আসবানা তাই তো?..

স্নেহা : নাহ আসবো না! বেটার হবে আপনি চলে যান! [ বলেই সিটে বসতে চলে যাচ্ছিলো অমনিই রাহুল স্নেহার হাত টেনে ধরে কাছে এগিয়ে কোলে তুলে নিলো! ]

স্নেহা : [ শকড হয়ে ] আরে! কি করছেন?…পাগল নাকি নিচে নামান প্লিজ!

জারিফা : [ সি্টি বাজিয়ে ] আরে ওয়াহ! [ এক্সাইটেড হয়ে বাকিদের দিক চেয়ে ] আরে হা করে দেখছেন কি সবাই তালি বাজান না…[ বাসে্র সবাই জারিফার কথা শুনে তালি দিতে লাগলো ]

[ এইদিকে স্নেহা নামার জন্য হাজারো চেষ্টা করছে…কিন্তু রাহুল তাকে আরো শক্ত করে চেপে ধরে নিয়ে বাস্ থেকে নেমে যায়… ]

স্নেহা : প্লিজ! নামান আমাকে সবাই দেখছে!

রাহুল : আগেই বলেছিলাম! অনেকরকম ওয়ে আছে গাড়ীতে উঠানোর!

স্নেহা : তাই বলে আপনি! উফফ! মানুষ দেখছে রাহুল! প্লিজ নামান…আমি হেটেই গাড়ীতে উঠছি! প্রমিস্ [ স্নেহার জোড়াজোড়িতে রাহুল স্নেহাকে নামিয়ে দিলো ]

স্নেহা রাগান্বিতভাবে রাহুলের দিক একবার চেয়ে বাসে্র দিক একবার চেয়ে হনহনিয়ে গিয়ে গাড়ীতে উঠে বসলো! রাহুল ও গিয়ে গাড়ীতে উঠে জোড়ে দরজা বন্ধ করে, স্নেহা ভয়ে কেপে উঠে,

[ রাহুল কিছু না বলে গাড়ী চালাতেই লাগলো ]

কিছুক্ষণ পর,

রাহুল : সবসময় মুডটা অন করেই গাড়ীতে উঠাতে চাই…কিন্তু তোমার এসব জেদ এর কারণে সব বিগ্রে যায়!

স্নেহা : আচ্ছা আমি জেদ দেখিয়েছি নাকি আপনি?..

রাহুল : আমার জেদ উঠিয়েছো তুমি..কয়বার বলছিলাম নেমে আসতে..? একতো পার্কিং এর দিক ওয়েট করিয়ে রেখেছিলে! তারউপর নামতে বলছি নামছোই না!

[ স্নেহা মুখ ভেঙিয়ে জানালার দিক ফিরে যায় ]

রাহুল : হ্যা হ্যা! এসবই তো করতে পারবে!

[ স্নেহা হেসে জানালার দিক তাকিয়ে থাকে,কোণা চোখে আবার রাহুলের দিক তাকিয়ে দেখে শার্ট থেকে সানগ্লাসটা ছুটিয়ে পড়ে নিচ্ছে, মনে মনে ভাবছে কি আজিব মানুষ এমন শীত পড়ছে যে কুয়াশায় গাড়ীর গ্লাস ভিজে যাচ্ছে আর ইনি কিনা সানগ্লাস, স্নেহার হাসি পাওয়ায় আবার ফিরে যায়! ]

কিছুক্ষণ পর,

স্নেহা : কোথায় যাচ্ছি?..

রাহুল : আগেই বলেছি সারপ্রাইজ!

স্নেহা : হ্যা তা তো জানি কিন্তু কি সারপ্রাইজ সেটা তো বলেন!

রাহুল : আচ্ছা তোমার মাথায় কি বুদ্ধিশুদ্ধি কিছু আছে?..[ স্নেহা অবাক হয়ে তাকালো] বললে কি এটা সারপ্রাইজ থাকে?..

স্নেহা : [ বিরক্তি হয়ে ] এক্সুলি! আই ডোন্ট লাইক সারপ্রাইজ! তাই আসতে চাইছিলামনা!

রাহুল : হোয়াট?..সবাই সারপ্রাইজ এর জন্য পাগল আর তুমি বলছো ইউ ডোন্ট লাইক সারপ্রাইজ?..কিন্তু কেনো?..

স্নেহা : কারণ সারপ্রাইজ! আমার জন্য একপ্রকার এলার্জির মতো চুলকাতে থাকে! মানে সারপ্রাইজটা কি হতে পারে ওটার উত্তেজনায় আমার টেনশন হয়…মানে কি না কি… এমন চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়!

রাহুল : [ কিটকিটিয়ে হেসে ] ওহ মাই গড! ইন্ট্রেস্টিং!

স্নেহা আর কিছু না বলে একটু হেসে,জানালার দিক ফিরে যায়,

রাহুল : So sweet! [ with tedi smile ]

[ স্নেহা কনফিউজড হয়ে ফিরে তাকায় ]

রাহুল : স্মাইল😎

স্নেহা : So unique!

রাহুল : [ হেসে ] What?

স্নেহা : তেডি স্মাইল!

[ Rahul give a tedi smile again 😜 ]

চলবে…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here