ধর্ষিতাবউ২ পার্ট:৬

0
163

ধর্ষিতাবউ২

পার্ট:৬

#Rabeya Sultana Nipa

 

__সাবিত সাহেবকে শুয়ে দিয়ে নিজের রুমে এসে খাটের কিনারায় হেলান দিয়ে শুয়ে পড়লো প্রাপ্তি । ভালো লাগছেনা দেখে উঠে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে। আকাশের তারা গুলো ঝলমল করছে। চারদিকে চাঁদের আলোয় আলোকিত হয়ে আছে। আজ আয়ানের কথা খুব মনে পড়ছে।মনে হচ্ছে আয়ান আমার শিরা উপশিরায় মিশে আছে।হয়তো তানিয়াকে নিয়ে আয়ান সুখেই আছে।আয়ান! আমার কথা কি তোমার মনে পড়েনা?পৃথিবীতে কোনো কিছু থেমে থাকেনি।থেমে গিয়েছিল তোমার আর আমার সম্পর্ক। তুমি আমায় কথা দিয়েছিলে জীবনের শেষ দিন পযর্ন্ত আমি তোমার কাঁধে মাথা রেখে রাতের আকাশের চাঁদ দেখবো।যখন আকাশ মেঘে ডেকে যাবে চারদিকে পাখিরা কিচিরমিচির ডাকবে তখন তুমি আমার কপালে চুমু দিয়ে বলবে, পরী আই লাভ ইউ। যখন বৃষ্টি হবে ছাদে গিয়ে তুমি আমি একসাথে ভিজবো। হ্যাঁ আরও অনেক কথাই দিয়েছিলে।আমি কিছুই ভুলিনি আয়ান।এখন সব কিছু সময় মতো ঠিকি হয়, শুধু হয়নি তোমার আমার সাথে চাঁদ দেখা,হয়নি কপালে চুমু খেয়ে আই লাভ ইউ বলা,হয়নি দুজনে হাত ধরে বৃষ্টিতে ভেজা। কিন্তু হ্যাঁ সব কিছুর মাঝে একটা কথাই সত্যিই হয়েছে, তুমি আমাকে বলতে প্রাপ্তি আমি তোমাকে সামলানোর জন্য সারাজীবন থাকবোনা। তুমি ঠিকি বলেছো তুমি আমার পাশে নেই আছে শুধু তোমাকে নিয়ে আমার অনুভূতি গুলো। আছে শুধু তোমার অস্তিত্ব। তানিয়ার চিঠিতে লিখা গুলো আমাকে আজও অনেক কষ্ট দেয়।আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে তুমি ওই মেয়ের কতো টা কাছে গিয়েছিলে? অবশ্য এখন তো তুমি ওর কাছেই থাকো।সেইদিন রাতে তুমি যদি আমায় থাপ্পড় গুলো না দিয়ে সত্যি কথা গুলো বলতে আমি এক নিমিষেই তোমায় ক্ষমা করে দিতাম।কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই নিজের কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে পিছনে ফিরে দেখে আশফি।

প্রাপ্তি -তুই এখনো ঘুমাসনি?

আশফি -তুমিও তো ঘুমাও নি! অবশ্য তোমাকে আমি কখনো দিখিনি শান্তিতে একটা রাত ঘুমিয়েছো।

প্রাপ্তি মেয়ের কথা শুনে মুচকি হাঁসি দিয়ে,যা ঘুমিয়ে পড় সকালে অনেক কাজ।নতুন বাড়ি নতুন একটা জায়গা,নতুন পরিবেশ, বুজিস তো কতো কাজ।

আশফি-তোমার কলেজ থেকেও আর সময় পেলোনা ট্রান্সফার করানোর জন্য। আদরটা আসলো কয়েক দিন থেকে তার পর না যেতে পারতাম।কিন্তু না” আচ্ছা মা! যেখানে যাচ্ছো জায়গাটা কি তুমি আগে থেকে চিনো?কথাটা বলতেই প্রাপ্তি থমকে গেলো।কারণ শহর টা তার আগে থেকেই চেনা।তার সব অস্তিত্ব জুড়ে আছে এই শহর। তার প্রিয় মানুষটাই যে ওই শহরে থাকে।

আশফি -মা! আমি তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করছি।কারণ জানোই তো আমাকে ওইখানে গিয়ে হসপিটালে জয়েন করতে হবে।।

আশফির কথা শুনে মেয়ের মাথায় হাত রেখে, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।ওই শরের মানুষ গুলো অনেক ভালো তবে কাছের মানুষ গুলো ভালো না।কথাটা বলেই প্রাপ্তি বারান্দা থেকে চলে এলো।
আশফি মায়ের কথা শুনে থ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মায়ের কথা তো কিছুই মাথায় ঢুকলো না।মানুষ ভালো কিন্তু কাছের মানুষ গুলো ভালো না। ধ্যাৎ! মা মাঝে মাঝে এমন কথা বলে মাথায় ঢুকেনা।
রাত ২ টা সারাদিনের জার্নি করে আদর বেঘোরে ঘুমাছে।প্রাপ্তি রুমে এসে আদরকে দেখে মুচকি হেঁসে মাথাটা নাড়িয়ে কাছে গিয়ে কাঁথা গাঁয়ে দিয়ে লাইট অফ করে নিজের রুমে এসে শুয়ে পড়লো।

সকালে ঘুম থেকে উঠে সবাইকে রেডি হওয়ার জন্য তাড়া দিচ্ছে প্রাপ্তি। নতুন বাড়িতে যাবে আগে আগে পৌঁছানো টা ভালো।ওইখানেই গিয়েও কতো কাজ।বাড়িটা নিজের মনের মতো করে সাজাতে হবে।অবশ্য সাজানোর ব্যাপারে প্রাপ্তির এতো মাথা ব্যাথা নেই।এইসব এখন আশফিই করে।
আদর রেডি হয়ে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে এসে মা! তোমরা গাড়িতে গিয়ে বসো আমি নানা ভাইকে নিয়ে আসছি।
আশফি -থাক তোকে আর কষ্ট করতে হবে না নানা ভাইকে আমি গাড়িতে বসিয়ে এসেছি।সকাল থেকে তো হনুমানের মতো পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিলি।এখন আসছে ওনি নানা ভাইকে নিয়ে যেতে।

আদর -দাঁড়া তোকে তাড়াতাড়ি করে এইবাড়ি থেকে বিদায় করতে হবে।না হলে সাতচুন্নির মতো আমার পিছনে পড়ে থাকবি।একটা প্রেম করেই তো বিদায় হতে পারিস তাহলে আমাদের খরচটা বেঁচে যেতো।
প্রাপ্তি কথাটা শুনে কোনো কিছু খেয়াল না করেই,আদর! আমার মেয়ে আয়ান চৌধুরী মেয়ে আর আয়ান চৌধুরী কখনো তার মেয়েকে পালিয়ে যেতে দিতো না।
সে যদি অন্যের মেয়েকে কুড়িয়ে এনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে বিয়ে দিতে পারে আর নিজের মেয়ে কথা তো বাদই দিলাম।

আদর -আয়ান চৌধুরীর মেয়ে মানে? বাবার নাম তো ইকবাল মাহমুদ! আয়ান চৌধুরী নাম টা আমি কোথায় যেনো শুনেছি।
আদরের কথা শুনে প্রাপ্তি থতমত খেয়ে গম্ভীর গলায়, তুই বুজতে ভুল করেছিস চল এখন তোর নানা ভাই গাড়িতে একা বসে আছে।কথাটা বলেই প্রাপ্তি হনহন করে বেরিয়ে গেলো।
আশফি দিকে আদর তাকিয়ে, আপু তুই ও কি ভুল শুনেছিস?তবে এই আয়ান চৌধুরী নাম টা খুব চেনা লাগছে তবে মনে করতে পারছিনা।
আশফি -চল তো! তুই বেশি কথা বলিস।

নতুন শহরে প্রাপ্তিদের গাড়ি আসতেই বুকের ভিতরটা কেমন জানি করছে প্রাপ্তির।নিজের কাছের মানুষ গুলো সবাই এই শহরে থাকে।২৬ টা বছর পর আবার এই শহরে। সব কিছুতেই এখন আধুনিকতার ছোঁয়া। আধুনিকতার ছোঁয়ায় তার আয়ান হারিয়ে গেছে হয়তো। সংসার, ছেলেমেয়েদের নিয়ে হয়তো সুখেই আছে।সেই সংসারে হয়তো আমার কোনো স্থান ছিলোনা। ছেলের কথা তো আয়ান জানেই না।আশফির কথা হয়তো ভুলে গেছে ,কারণ তার নিজের সংসারে আমার মেয়ের কি কোনো স্থান থাকতে পারে।কথা গুলো ভাবতে ভাবতেই প্রাপ্তিদের গাড়িয়ে এসে থামলো একটা ব্রিজের উপর।

প্রাপ্তি আদরকে উদ্যেশ্য করে, কি হয়েছে আদর গাড়ি থামালি কেনো।বাড়ি কি এসে গেছে নাকি।আমি তো বাড়ীটা সরাসরি দেখিনি।ড্রাইভার তো চিনে।

আদর -না মা! সামনে এক্সিডেন্ট হয়েছে হয়তো তাই অনেক ভিড়।(আয়ানের গাড়িটাও ব্রিজের উপর প্রান্তে এসে ভিড় দেখে থামলো।)
প্রাপ্তি -ওহ্ তাহলে তো অনেকক্ষণ ওয়েট করতে হবে।

আশফি -আমি গিয়ে দেখি!

আদর -রাস্তার মধ্যেও কি তুই ডাক্তারি শুরু করবি নাকি?

আশফি -আদর! সবসময় ফাজলামো ভালো লাগেনা।এইটা আমার দায়িত্ব।

ভাইবোনের ঝগড়া দেখে প্রাপ্তি গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এলো।
আয়ানের কেমন জানি লাগতে শুরু করলো।মনে হচ্ছে তার প্রাপ্তি আশেপাশে কোথাও আছে।আয়ান গাড়ি থেকে নেমে ভিড়ের দিকে আগাতে লাগলো । প্রাপ্তিরও খুব অস্থির লাগছে।কেনো মনে হচ্ছে আয়ান তার পাশেই আছে।হয়তো সারাটা রাস্তায় আয়ানের কথা ভাবতে ভাবতে আসছে তাই?কিন্তু না এই অস্থিরতা অনেক বিশাল। আয়ান হয়তো সত্যিই আমার পাশে আছে এই ভেবে প্রাপ্তিও ভিড়ের মধ্যে এগুতে লাগলো।

চলবে,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here