অজানা_অনুভূতি পার্ট:৩৫

0
361

অজানা_অনুভূতি

পার্ট:৩৫

#Rabeya Sultana Nipa

 

দুই দিন হাসপাতাল থাকার পর প্রাপ্তি আজ বাড়ীতে আসবে।সবাই অনেক খুশী। এই দুইদিন প্রতিনিয়ত ফারহান প্রাপ্তির খেয়াল রেখেছে।প্রাপ্তির কাছে কাউকেই বলতে দেয়নি ও যে প্রেগন্যান্ট। সকাল ১১.০০ টা বেজে গেছে,নীরার প্রাপ্তির সব কিছু গুছিয়ে নিচ্ছে।প্রাপ্তি ফারহানকে না দেখতে পেয়ে,

প্রাপ্তি -নীরা, ফারহান কোথায়? ওকে সকাল থেকে দেখছিনা কেন?

নীরা -তোকে বাসায় নেওয়ার জন্য হয়তো সব রেডি করছে।টেনশন করিসনা চলে আসবে।

প্রাপ্তি- তাই হয়তো হবে। জানিস? নাদিয়া আপুকে আমার কেমন জানি লাগে। সবকিছুতেই রহস্য নিয়ে কথা বলে।

নীরা -কেন তোর এইরকম মনে হলো? কই আমিতো এমন কিছু দেখিনি যেটাকে রহস্য বলা যেতে পারে।

প্রাপ্তি- জানিস কাল রাতে ফারহান যখন আমায় খাইয়ে দিচ্ছিলো,কিন্তু আমি খাচ্ছিলাম না দেখে ফারহান বললো তুমি না খেলে তোমায় একটুও ভালোবাসবোনা।তখন নাদিয়া আপু এইখানেই ছিলো। কথাটা শুনার পর ওনি অন্য দিকে তাকিয়ে চোখের পানি গুলো মুচতে মুচতে এখান থেকে চলে গেলেন।

নীরা -হয়তো তোদের ভালোবাসা দেখে ওনারও পুরোনো কোনো স্মৃতি মনে পড়ে গেলো।

এমন সময় ফারহান এসে বললো, নীরা সব কিছু ঠিকঠাক ভাবে নিয়েছোতো?

নীরা -হ্যাঁ।

প্রাপ্তি ফারহানের দিকে তাকিয়ে, কোথায় ছিলে তুমি এতোক্ষণ?

ফারহান -বাসায় যাবা এইখনের বিল পরিশোধ করতে হবে না?হাসপাতালে আরো অনেক কিছু ফর্মালিটি আছে সেইগুলো শেষ করে আসলাম।

প্রাপ্তি -তাহলে আর দেরী করছো কেন? আমার এইখানে একটুও ভালো লাগছেনা।
আচ্ছা ফারহান নাদিয়া আপু কোথায়? সকাল থেকে একবারো আমায় দেখতে এলোনা।

ফারহান -কাজে ব্যস্ত আছে। তুমি হঠাৎ ওকে নিয়ে পড়লে কেন?

নীরা -ভাইয়া আর বলবা না।প্রাপ্তি এতোক্ষণ কি বলে জানো? নাদিয়া আপু নাকি কেমন রহস্য নিয়ে কথা বলে।

ফারহান -প্রাপ্তির কাছে এসে আরে পাগলি ওই এইভাবেই বলে।এইটা নিয়ে ভাবার কি আছে।নীরা এইবার চলো বাসায় সবাই অপেক্ষা করছে।
কথাটা বলেই ফারহান প্রাপ্তিকে কোলে তুলে নিলো,

প্রাপ্তি অবাক হয়ে, এই কি করছো তুমি? আমাকে ছাড়ো।
ফারহান -গাড়ীতে বসিয়ে তারপর ছাড়বো।

প্রাপ্তি -কিহ্ঃ মানুষে কি বলবে বলোতো? নীরা! নামাতে বলনা।
নীরা কিছু না বলে একগাল হাঁসি দিয়ে মাথা নাড়তে নাড়তে চলে গেলো।

ফারহান -চুপ করে থাকোনা, এইভাবে চেঁচাচ্ছ কেন?লোকে এখন এইটাই ভাববে আমি তোমাকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
প্রাপ্তি আর কথা বাড়ালো না,পাগলটাকে বলেও কোনো লাব নাই এর ছেয়ে ভালো চুপ করেই থাকি।
প্রাপ্তিকে নিয়ে গাড়ীতে বসিয়ে ফারহান পিছনের দিকে ফিরে তাকাতেই নাদিয়া চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।ফারহান এগিয়ে গিয়ে নাদিয়া আমরা চলে যাচ্ছি।প্রাপ্তিকে নিয়ে মাঝে মাঝে তোর কাছে আসবো,চিন্তা করিস না।
নাদিয়া-এই দুইদিন তোকে অনেক কাছ থেকেই দেখেছি তুই সত্যিই প্রাপ্তিকে পেয়ে অন্য রকম হয়ে গেছিস। সেই আগের ফারহান আর নেই।

ফারহান -ভালোবাসার জন্য মানুষ কিনা করতে পারে বল?তাই আমি করছি প্রাপ্তির জন্য। কোনো কিছুর কমতি রাখতে চাইনা।
ভালোবাসি অনেক তাকে আমি, কতোটা সেটা বলে বুজাতে পারবোনা।

নাদিয়া -তোকেও তো কেউ একজন পাগলের মতো ভালোবাসতো তাহলে তারটা অবহেলা করলি কেন?

ফারহান -প্লিজ নাদিয়া পুরোনো কিছুই আমি মনে করতে চাইনা।আর তুই যেটা বলছিস আমি তোকে আগেও বলেছি তোকে আমি কখনো ভালো একটা বন্ধু ছাড়া আর কিছুই ভাবিনি।প্রাপ্তি বসে আমাদের দেখছে, সকাল থেকে তোকে নিয়ে ওর মনে অনেক প্রশ্ন জেগে বসেছে।আমি চাইনা ও কোনো কিছুতে কষ্ট পাক।আমি জানি তুই আমাদের বিয়েতেও এই কারনেই আসিস নাই।কিন্তু আমার কিছু করার ছিলো না, কারণ আমি প্রাপ্তিকেই ভালোবাসি।আচ্ছা আজ তাহলে আসি।
নাদিয়া চোখ গুলো টলমল করছে মনে হচ্ছে এইযানি চোখের পানি গুলো নিচেই পড়ে গেলো।প্রাপ্তি গাড়ীতে বসে থেকে নাদিয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে।হয়তো বুজার চেষ্টা করছে ফারহান ওকে কি এমন কথা বলছে যে চোখের পানি টলমটল করছে।নীরা প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে কিরে কি ভাবছিস ওই দিকে ফিরে।

প্রাপ্তি -নারে কিছু না।

ফারহানকে এসে ড্রাইভিং সিটে বসতে দেখে প্রাপ্তি বললো,তুমি ড্রাইভ করবে?আজ ড্রাইভার আসেনি?

ফারহান -না আমি মানা করেছি,কিচ্ছু হবেনা আমি আছিতো।

প্রাপ্তি -আচ্ছা ঠিক আছে চলো।

বাসার সবাই বসে আছে প্রাপ্তির অপেক্ষায়।বাড়ীর সবাই অনেক খুশী বাড়ীতে কিছুদিন পর নতুন কেউ আসবে।প্রাপ্তির মা, মেজো মা বিভিন্ন রকমের মিষ্টি নিয়ে ড্রইংরুমে বসে আছে।
কলিংবেলের আওয়াজ শুনে ইমরান একগাল হাঁসি নিয়ে দরজা খুলে দিলো।

প্রাপ্তি বাসায় ঢুকতে ঢুকতে বললো কাকাই তুমি আমাকে আনতে যাওনি কেন? শুধু নীরাই গিয়েছিলো।আর তোমরা কেউ যাওনি।

ইমরান -আরে আমি তো যেতে ছেয়েছিলাম কিন্তু ফারহান বললো ওই তোকে নিয়ে আসবে।কথাটা শেষ করতেই নাজিফা দৌঁড়ে এসে আপু,,,,,উউউউউউউউ,,,,,,, কনগ্রুয়েন্স।কথাটা শুনার পর অনেক অনেক খুশী আমি খালামনি হবো।আমার সব ফ্রেন্ডকে আমি ফাস্ট টাইম খালামনি হবো তাই সবাইকে ট্রিট দিয়ে এলাম।নাজিফার মুখে কথাটা শুনেই প্রাপ্তি অবাক চোখে ফারহানের দিকে তাকালো।
ফারহান প্রাপ্তির তাকানো দেখে অন্য দিকে ফিরে আছে।মেজো মা এসে বললো এইদিকে আসো একসাথে দুজনেই দাঁড়াও।লজ্জা পাওয়ার কি আছে।নীরা মিষ্টির প্লেট এই দিকে দে।আমাদের মেয়ে আর জামাইকে মিষ্টিমুখ করাতে হবেনা।
এমন ভাবে শুনবো কখনো ভাবিনি।এখন যখন প্রাপ্তি সুস্থ হয়ে এসেছে তাহলে সবাই মিলে একটু মিষ্টিমুখ হয়ে যাক।

প্রাপ্তি কিছু বলছেনা নিস্তব্ধ হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।
ফারহান বার বার আড় চোখে প্রাপ্তিকে দেখছে।আল্লাহ আমার কপালে আজ কি আছে।হয়তো সবার সামনে কিছু বলছেনা।রুমে নিয়ে গিয়ে যদি রাম ধোলাই করে তাহলে আমি শেষ।

প্রাপ্তি অনেকক্ষণ পর নিস্তব্ধতা ভেঙে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে, আম্মু আমি রুমে যাই
পরে এসে কথা বলবো।
কথাটা বলেই প্রাপ্তি চলে গেলো। পিছন পিছন ফারহানও রুমে গেলো।গিয়ে দেখে প্রাপ্তি বারান্দায় গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ফারহান পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে একটু চুপ করে থেকে, সরি প্রাপ্তি। প্লিজ তুমি এইভাবে রাগকরে থেকোনা।

প্রাপ্তি চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে ফারহানের দিকে।
ফারহান আবার বলতে শুরু করলো বিশ্বাস করো আমিও চাইনি এতো সকাল বেবি আসুক।আল্লাহ্‌ যখন খুশী হয়ে দিয়েছে তখন তো মেনে নিতেই হবে তাই না।আর যদি তুমি না চাও তাহলে,,,,,,,,,,ফারহান বলার আগেই প্রাপ্তি ফারহানের মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরে , আমি অনেক খুশী অনেক,যা আমি তোমাকে বলে বুজাতে পারবোনা, আসলে এইখুশীটা কিভাবে প্রকাশ করবো বুজতে পারছিনা।তাই চুপ হয়ে আছি।
কথাটা শুনে ফারহান প্রাপ্তিকে কাছেটেনে এনে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে I love u.I love u, I love u.

প্রাপ্তি -মুচকি একটা হাঁসি দিয়ে উমমমম,,,,,,ছাড়োতো।হয়েছে হয়েছে এতো ভালোবাসা দেখাতে হবেনা।আমি ফ্রেশ হয়ে আসি তারপর তোমার সাথে অনেক আড্ডা দিবো।

ফারহান -চলো আমিও যাবো।

প্রাপ্তি -কোথায় যাবা তুমি?

ফারহান -তোমায় হেল্প করবো।

প্রাপ্তি-একদম আসবেনা।না হলে আমি ফ্রেশ হতে যাবো না।

ফারহান -আচ্ছা ঠিক আছে সাবধানে যেও।
আমি ড্রইংরুমে আছি।

ফারহানকে আসতে দেখে ইমরান বললো কিরে আমিতো নানা ভাই হয়ে যাচ্ছি।তোর কি হিংসে হচ্ছে?কথাটা বলে ইমরান হাসঁতে শুরু করলো।

ফারহান -তুই একা কিছু হচ্ছিস না আমিও বাবা হচ্ছি।এখন তো তোর আরো বেশী হিংসে হচ্ছে।

নীরা -তোমরা ঝগড়াঝাঁটি বাদ দাও। সবছেয়ে বেশী আমি খুশী কারণ আমি (চিৎকার দিয়ে)খালামনি হচ্ছি।

চলবে,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here