অজানা_অনুভূতি পার্ট: ২৭

0
137

অজানা_অনুভূতি

পার্ট: ২৭

#Rabeya Sultana Nipa

 

_ সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রাপ্তি ফ্রেশ হয়ে রান্নাঘরে গেলো।

বড় ভাবী প্রাপ্তিকে দেখে মুচকি একটা হাঁসি দিয়ে, কিরে,, ফারহান উঠে নাই? আজ তো তোরা নীরাদের বাসায় যাবি।তোরা নাস্তা খেয়ে রেডি হয়েনে।

সুমি এসে বললো কোথায় যাবে ভাবী?

প্রাপ্তি -নীরার শশুর বাড়ীতে।তুমিও চলো না আমাদের সাথে দেখবে ভালো লাগবে।

ফারহান ফোন টিপতে টিপতে রুম থেকে এসে সোফায় বসলো।

সুমি -আজ না ভাবী অন্য কোনো সময়।

প্রাপ্তি -আরে চলো না। সবাই একসাথে গেলে ভালোই লাগবে।

ফারহান তাদের কথাগুলি শুনে সুমিকে ডেকে বললো,
কিরে তোর আজ এতো দাম বেড়ে গেলো কেন? কোনো না শুনতে চাইনা।গিয়ে রেডি হয়েনে।
সুমি আর কিছু বললোনা।প্রাপ্তি টুকিটাকি কাজ সেরে রুমে এসে রেডি হচ্ছে।ফারহান এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে নিজের মুখটা প্রাপ্তির কাঁধে রেখলো

প্রাপ্তি -ওহ্ ফারহান, শাড়ীটা তো পরতে দিবা।এইভাবে জড়িয়ে ধরলে শাড়ী পরা যায়।
ফারহান- তুমি যখন পারবেনা আজকে আমি শাড়ী পরিয়েদি।
প্রাপ্তি -আমি নিজেই পারি।তুমি এইভাবে থাকলে পরবোই বা কি করে।কথাটা শেষ করতেই প্রাপ্তির ফোন টা বেজে উঠলো।
এইবার তো দেখতে দিবে কে ফোন করেছে?

ফারহান -(প্রাপ্তিকে ছেড়ে দিয়ে)তোমার ফোন সকাল থেকে বাজতেছে।নাম্বারটা ছিনি না তাই রিসিভ করিনি।রং নাম্বার হতে পারে।
প্রাপ্তি ফোন হাতে নিয়ে নাম্বার দেখে ফারহানের দিকে তাকিয়ে, ৪২ বার কল করেছে কিন্তু আমিও নাম্বার টা চিনিনা।প্রাপ্তি রিসিভ করার আগেই কল টা কেটে গেলো।ফারহান প্রাপ্তির কাছে এসে নিজের বুকের সাথে টনে এনে , এইজন্যই ফোন ভালো লাগেনা।বউকে একটু আদর করবো তারও সময় দিবেনা।যখন তখন ডিস্টার্ব করে।প্রাপ্তি ফোনটা খাঁটের উপরে রেখে দিয়ে ফারহানের শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বললো তুমি কি ওই বাড়ীতে গিয়েও এইরকম করবে?
ফারহান আনসার দিতে যাবে তখনি আবার ফোন টা বেজে উঠলো। প্রাপ্তি এইবার দেরী না করেই রিসিভ করে কানে ধরতেই,,

হ্যালো! হ্যালো,,,, প্রাপ্তি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো আমি আয়ান।

কথাটা শুনার সাথে সাথেই প্রাপ্তি নিজের অজান্তেই মুখ ফুটে বেরিয়ে এলো আয়ান,,,,,!বলেই নিস্তব্ধ হয়ে আছে।
প্রাপ্তি মুখে আয়ান নাম শুনার পরেই ফারহান প্রাপ্তিকে নিজের কাছ থেকে ছেড়ে দিয়ে একটু সরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মনে হচ্ছে একনিমিষেই তার সব শেষ হয়ে গেছে।প্রাপ্তিকে যখন নিজের করে পেলাম তখনি ওকে আমাদের জীবনে আবার ফিরে আসতে হলো?প্রাপ্তি কি আবার আমার থেকে দূরে সরে যাবে?

আয়ান-প্রাপ্তি তুমি কি কিছু বলবেনা।এইভাবে চুপ করেই থাকবে?

প্রাপ্তি ফারহানের দিকে তাকিয়ে আছে কিছু বলার ভাষা নেই তার কাছে।এই সহ্য মানুষ টাই তার সবকিছু।এই কয়দিনে তাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে সে।

প্রাপ্তি -জ্বি আমি শুনতে পারছি।কিন্তু আপনি কেন ফোন দিয়েছেন এতো দিন পর?

আয়ান- প্রাপ্তি! তোমাকে সরি বলার ভাষা আমার নাই।আসলে এতো দিন তোমার কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিজেকে নিজে পরিক্ষা করে দেখলাম আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো কিনা।কিন্তু এখন বুজলাম আমি তোমাকে ছাড়া কিছুতেই থাকতে পারবোনা।

ফারহান- মিস্টার আয়ান আপনি অনেক দেরী করে ফেলেছেন।আপনি কথা গুলো বুজেছেন ভালো কথা,নিজেকে নিজে পরিক্ষা করেছেন ভালো কথা।তবে অনেক দেরীতে।

আয়ান- আমি তোমার কথা কিছুই বুজতেছিনা।তুমি আমার সাথে এইভাবে কথা বলছো কেন? কি হয়েছে একটু বলবে?

প্রাপ্তি- সেই দিন আমিও আপনার কিছু বুজিনি।যেদিন আপনি আমায় ভুল বুজে ছিলেন।জানেন আপনি সেইদিন ভুল বুজে ভালোই করেছেন।না হলে সত্যিকারের ভালোবাসা আমি ফিরেই ফেতাম না।(কথাটা বলতে বলতে ফারহানের কাছে গিয়ে ওর বুকে মাথা রেখে)আপনার কারণে আমি একজনকে অনেক কষ্ট দিয়েছিলাম।আজ সেই মানুষটাই আমার সব।

আয়ান -প্রাপ্তি আমি কিছু বুজতেছি না।প্রাপ্তি চলো আমরা দেখা করি? প্রাপ্তি আমি তোমার সামনে দাঁড়াতে চাই।তোমার সামনে দাঁড়িয়ে বলতে চাই আমি তোমাকে ভালোবাসি।

প্রাপ্তি -সেইদিন এইকথাটা বললে হয়তো রাখতাম।তবেঁ এখন আর না।
প্রাপ্তি কথাটা শেষ করতেই ফারহান প্রাপ্তির কপালে ছোট্রো একটা চুমু দিয়ে তুমি কথা শেষ করে সুমি কে নিয়ে আসো আমি গাড়ী বের করছি।প্রাপ্তিকে এখন ফারহান নিজের থেকেও বেশী বিশ্বাস করে ফেলেছে।তাই কিছু না বলেই চালে যাচ্ছে।

আয়ান -প্রাপ্তি তোমার সাথে কি কেউ আছে?

প্রাপ্তি -জ্বী মিস্টার আয়ান, আমার হ্যাজবেন্ড।

আয়ান- প্রাপ্তি তুমি এইসব কি বলছো।তুমি এইভাবে আমাকে কষ্ট দিতে পারো না।(একটু হেঁসে) তুমি আমাকে খেপাইতেছো তাইনা?

প্রাপ্তি- আমি আপনাকে খেপাতে যাবো কেন? ও,,,,হে আপনাকে তো বলাই হয়নি।আমি মিস প্রাপ্তি থেকে মিসেস ফারহান হয়ে গেছি।
প্রাপ্তির কথা গুলো বলতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আয়ানের সামনে সে কোনো দুর্বলতা দেখাতে চায় না।সেই এখন চাইলেও ফারহান ছাড়া কাউকে ভাবা সম্ভব নয়।

আয়ান- বাহ্ ভালোই।এই কি সেই ফারহান যার সাথে আমার কথা হয়েছিলো?
প্রাপ্তি কিছু বলার আগেই প্রাপ্তির দেরী দেখে ফারহান এসে দরজায় দাঁড়িয়ে প্রাপ্তি তোমার এখনো হয়নি? নীরা দেরী দেখে ফোন দিয়ে পাগল করে দিচ্ছে।

প্রাপ্তি -আয়ান আপনার কিছু বলার থাকলে পরে ফোন দিবেন।আমার হ্যাজবেন্ড আমার জন্য অপেক্ষা করছে কথাটা বলেই প্রাপ্তি আয়ানকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কল কেটে দিলো।

ফারহান প্রাপ্তির কাছে এসে প্রাপ্তিকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেওনা।তোমার কিছু হলে আমি নিজেই মরে যাবো।প্রাপ্তি! আমার ভালোবাসার কথা গুলো হয়তো আমি তোমাকে গুছিয়ে বলতে পারিনা।কিন্তু বিশ্বাস করো তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি।

প্রাপ্তি ফারহানের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে আমি জানি তুমি আমায় কতো টুকু ভালোবাসো।এখন সারাক্ষণ যদি এইভাবে জড়িয়ে ধরে রাখো তাহলে যাবেটা কখন?

ফারহান -কেন যে নীরার কথায় আজ যেতে রাজী হলাম? আরো দুইদিন পর গেলেই ভালো হতো।ওইখানে গেলে তো তুমি আমার কাছেই আসতে ছাইবেনা।ওহ্ বউটাকে এতো দিন পর কাছে পেলাম তাও কারো সহ্য হচ্ছে না।

প্রাপ্তি -ফারহান,,,,,, তুমি যেই ভাব করছো মনে হচ্ছে আমি কোথাও হারিয়ে যাচ্ছি।কয়েকটা ঘন্টারই তো ব্যাপার।

সুমি রেডি হয়ে এসে কিরে তোদের হলো?

প্রাপ্তি -হুম,,,আমারও হয়ে গেছে।কিন্তু ফারহান তোমার সাথে কথা বলতে বলতে রেডি হতে গিয়ে মনে হচ্ছে কি যেন মিসিং।

ফারহান- আর কিচ্ছু করতে হবে না।আমার বউকে এমনিতেই অনেক সুন্দর লাগছে।
এইবার চলো!

নীরার শশুর বাড়ীতে সবাই এসেছে।প্রাপ্তির পরিবারের সবার সাথে অনেক দিন পর দেখা হয়েছে।সবাইকে পেয়ে প্রাপ্তির ফারহানের দিকে খেয়ালি নেই।ফারহান সবার সাথে আড্ডা দিচ্ছে ঠিকি চোখ গুলো প্রাপ্তিকে খুঁজছে। নীরা আর মৃদুল সবাইকে নাস্তা দিচ্ছে। ফারহানের কাছে নীরা আসতেই, এই নীরা তোমার বোন তো এইখানে এসে আমাকেই ভুলে গেছে।একটু ডেকে দিবে এইখানে এসে অনেকক্ষণ হলো দেখছিনা।মনে হচ্ছে বছর হয়ে গেলো।

নীরা -ভাইয়া! আমাদের ভালোবেসে বিয়ে হয়েছে ঠিকি, কিন্তু আপনার ভালোবাসার কাছে এইটা কিছুই না।যাইহোক প্রাপ্তি আমার রুমে আছে ওইখানে নাজিফা আর সুমি আছে ইচ্ছে হলে গিয়ে দেখে আসেন।

ফারহান -(উঠে দাঁড়িয়ে) ওরা থাকলে সমস্যা নেই আমি আগে আমার বউকে দেখে আসি।কথাটা বলে ফারহান আর এক মুহূর্তের জন্যও দাড়ালোনা।

ফারহান নীরার রুমে গিয়ে দেখে ওরা বসে আড্ডা দিচ্ছে।

আরে নাজিফা! তুমি আসার পর থেকেতো একবারো দেখা করোনি।দেখেছো প্রাপ্তি? নাজিফা আমার পিছু ছাড়তেইইইইইই চায়না।প্রাপ্তি সাবধানে থাকো ও কখন তোমার সতিন হয়ে যায় বলা যায়না।

নাজিফা -এই শুনো একদম বাজে কথা বলবে না।আমার কি ঠেকা পড়ছে যে তোমাকেই বিয়ে করবো।এইইই,,, আপু দেখছিস ভাইয়া তোকে একটুও ভালোবাসেনা।

প্রাপ্তি -(নাজিফাকে আরো রাগানোর জন্য)ফারহান কিন্তু ঠিকি বলেছে, ভেবে দেখ আমি আর তুই এক বাড়ীতেই থাকবো।

নাজিফা- আপু তুইও ধুত আমি আর এই রুমে থাকবোই না।সুমি, এখান থেকে চলো আমরা অন্য রুমে যাই।
সুমি নাজিফার সাথে উঠে চলে গেলো।

ফারহান প্রাপ্তির পাশে এসে বসে হাঁসতে হাঁসতে দেখেছো তোমার বোনকে কিভাবে সরালাম।

প্রাপ্তি – জ্বী সাহেব, আমিও বুজেছি আপনি ওকে সরানোর জন্যই এইগুলো বলছেন।

ফারহান প্রাপ্তির গাল দুটোকে দুই হাত দিয়ে ধরে কাছে টেনে এনে একটা চুমু দিয়ে এই না হলে আমার বউ।
সেজো কাকী ফোন কানে নিয়ে কথা বলতে বলতে এসে দেখেই লজ্জা পেয়ে এই সত্যি বলছি আমি কিছু দেখিনি।

ফারহান কথাটা শুনে তাকিয়ে দেখে সেজো কাকী। তড়িঘড়ি করে প্রাপ্তির গাল থেকে হাত সরিয়ে বিড়বিড় করে বলতে লাগলো ওনাকে নিয়ে আর পারা গেলোনা বলে রুম থেকে চলে গেলো।
প্রাপ্তি এতোক্ষণ অনেক কষ্টে হাঁসি ছেপে রেখেছিল ফারহান চলে যাওয়ার পর দুজনেই এক সাথে হাঁসতে শুরু করলো।

সেজো কাকী -বেচারা লজ্জা পাইছে।আসলে আমিও আসতাম না।বড় ভাবী তোকে ডাকছে।

প্রাপ্তি- আম্মু ডাকছে? আচ্ছা শুনো তুমি আবার সবার সামনে কিছু বলোনা প্লিজ।

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here