অজানা_অনুভূতি পার্ট: ২০

0
267

অজানা_অনুভূতি

পার্ট: ২০

#Rabeya Sultana Nipa

 

_ফারহানের বাবা আর মা বসে কথা বলছে।বিয়ের এই কয়টা দিন সব ঝামেলা ফারহানের বাবাই সবকিছু সামলিয়েছে।ফারহানের বাবা সবার থেকে একটু বেশী ভালোবাসে ফারহান আর সুমিকে।

ফারহান এসে দরজা দাঁড়িয়ে বাবা আসবো?

ফারহানের বাবা তাকিয়ে দেকে ফারহান দাঁড়িয়ে আছে।
ফারহানের বাবা- দরজায় দাঁড়িয়ে আছিস কেন? এখানে এসে বস।

ফারহান এসে বসতে বসতে মা তোমার শরীর এখন কেমন আছে?

ফারহানের মা-এখন ঠিক আছি।ঘুম থেকে উঠলি কখন?

ফারহান মায়ের কথা শুনে একটু লজ্জা পেয়ে, একটু আগে।

ফারহানের বাবা-ছোটো বউ কি করছে?সকালের নাস্তা তো এখনো মনে হয় খাসনি?

ফারহান-বাবা পরে খেয়ে নিবো।এইদিকের সব কিছু ঠিক আছে তো?

ফারহানের বাবা -সব কিছু ঠিক আছে।(ফারহানের মায়ের দিকে তাকিয়ে)দেখেছো ছেলে বিয়ে না হতেই শশুর বাড়ীর লোকেদের চিন্তা মাথায় ঢুকে গেছে।
কথাটা বলেই হাঁসতে শুরু করলেন ফারহানের বাবা।

ফারহান বাবার কথায় কিছু মনে করলো না।সেই ভালো করেই জানে তার বাবা তাকে খেপানোর জন্যই বলেছে।

মেজো ভাবী নাস্তা নিয়ে ফারহানের রুমে এসে দেখে প্রাপ্তিকে সুমি সাজাচ্ছে।প্রাপ্তি! সকাল থেকে তো কিছুই খাওনি।আগে খেয়ে নাও।সুমি তুই পরে সাজিয়ে দিছ।
প্রাপ্তি! ফারহান কই?

প্রাপ্তি -ওর মায়ের রুমে গেছে।

মেজো ভাবী -ওর মা মানে তোমারও মা।আজকের পরে আর কখনো ওর মা বলে ডাকবেনা।
ফারহান রুমে ঢুকে কথাটা শুনতে পেয়ে ভাবী! হঠাৎ করে এসেই তো আরেক জনকে মা বলা যায়না। একটু সময়ের দরকার হয়।ওর যখন মনে হবে মাকে মা বলে ডাকবে সেইদিনই ডাকুক সমস্যা তো নেই।

মেজো ভাবী -হুম তাও ঠিক।আচ্ছা দুজনে নাস্তা খেয়েনে।আমি আসছি।

ফারহান -প্রাপ্তি সকাল থেকে না খেয়ে আছো আগে খেয়ে নাও।একটু পর তোমার বাসার সবাই এসে যাবে।

প্রাপ্তি -আম্মুকে ফোন করেছো?

ফারহান-ফোনে কথা বলেই রুমে আসলাম।
একটা কথা বলবো?

প্রাপ্তি বুজেছে সেই হয়তো বলবে আমি ফোন আনতে কেন বলেছি? এখন কিছু বললে সুমি খারাপ ভাবতে পারে।
প্রাপ্তি-তোমার যা বলার পরে শুনবো।

ফারহান আর কথা না বাড়িয়ে নাস্তা খেয়ে রুম থেকে চলে গেলো।

সুমিও প্রাপ্তিকে সাজিয়ে মায়ের রুমে নিয়ে গেলো।কাল রাতের পর থেকে তার শাশুড়ি সাথে দেখা হয়নি।
ছেলের বউকে রুমে আসতে দেখে ফারহানের মা এগিয়ে গিয়ে প্রাপ্তিকে জড়িয়ে ধরে বললেন আমিই যাচ্ছিলাম তোকে দেখে আসতে।কাল রাতে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে তোর কাছে যেতে পারিনি।অবশ্য বড় বউ বলছে তোকে নিয়ে আসতে আমি মানা করেছি।শুধু শুধু ঝামেলা বাড়াতে ভালো লাগেনা।
সুমি বড় বউকে একটু ডাকতো!

বড় বউ এসেই মামনি আমাকে ডেকেছেন?
ফারহানের মা-ছোটো বউকে দিবো বলে তোমার কাছে যে চুড়ি গুলো রাখতে দিয়েছি ওই গুলো দাও ওকে পরিয়েদি।

প্রাপ্তি-আমার এইগুলো লাগবেনা ওই গুলো আপনার কাছেই রেখেদিন।

বড় ভাবী -লাগবেনা এইটা আবার কোন কথা? মামনি যখন দেয়েছে রেখেদে।না রাখালে মামনি কষ্ট পাবে।
প্রাপ্তি আর কথা বাড়ালোনা। ফারহান বার বার উকি মেরে দেখে যাচ্ছে।লিজা চুপ থাকতে না পেরে এই ফারহান শুন তোর বউ এই রুমে আসার পর থেকে কয়বার উকি মারলি।এমন ভাব করছি মনে হচ্ছে আমরা সবাই মিলে তোর বউকে খেয়ে ফেলবো।
ফারহান সবার সামনে লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকাতে চুলকাতে আমি ওকে দেখতে মোটেও আসিনি।মায়ের সাথে কিছু কথা ছিলো তাই আসছিলাম।

ফারহানে কথা শুনে সবাই হাঁসতে শুরু করলো।ড্রইংরুমে ফারহানের বাবার ডাকাডাকিতে সবাই গিয়ে দেখে প্রাপ্তিদের বাড়ির সবাই এসে গেছে।প্রাপ্তির মা, মেজো মা সবাইকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি শুরু করে দিলো।এইসব দেখে ফারহানের বাবা বললো পাগলি মেয়ে তুই এইভাবে কাঁদছিস কেন? আমরা কি এতো খারাপ যে তোর কাউকেই ভালো লাগছেনা।ফারহানও প্রাপ্তির কান্না দেখে তার চোখও পানিতে টলমল করছে?
মেজো ভাবী ফারহানকে দেখে কাছে গিয়ে ফারহান! বউয়ে কান্না সহ্য হচ্ছে না তাইনা?

ফারহান- তোমার আমার পিছনে লাগা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই? আর সহ্য হবে কি করে? অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বিয়ে করে আনলাম চোখের পানি দেখার জন্য?
মেজো ভাবী আর কিছু না বাড়িয়ে নিজের কাজে গেলো।
এই বাড়ীতে এসে সবাই সবার সাথে পরিচিত হচ্ছে।

নীরা- একটা দিন তুই বাড়ীতে ছিলিনা মনে হচ্ছে একবছর কেটে গেছে।

সেজো কাকী -নীরা ঠিকি বলেছে।কাল রাতে আমি ফারহান কে কয়েক বার ফোন দিয়েছিলাম।দেখি ফোন অফ ছিলো।

নীরা -ফারহান ভাইয়া ভালো করেই জানে তুমি রাতে ডিস্টার্ব করবে তাই ফোন অফ করে রাখছে। তাই না ভাইয়া?

ফারহান -কাকী বিশ্বাস করুন ফোনে চার্জ ছিলোনা। নীরা! তুমি আমাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় আছো তাই না?

সেজো কাকী -ওকে এখন সব বাদ।প্রাপ্তি চল তোর রুমেই বসে আড্ডা দেওয়া যাক। এইখানে বড়রা সবাই কথা বলুক।

ফারহান -প্রাপ্তি এদেকে নিয়ে রুমে যাও।
কথা বলেই নাজিফার দিকে তাকিয়ে নীরা! বউয়ের সাথে নাকি শালী ফ্রি কিন্তু তোমার তো বিয়ে হয়ে গেছে তাই আজ থেকে নাজিফা প্রাপ্তির সাথে থাকবে এই বাড়ীতে।
কি বলো প্রাপ্তি?

নাজিফা -হ্যাঁ! আসার পর থেকে তো আমাকে কারো চোখেই পড়েনা।এতোক্ষন তো দেখলাম এক মিনিট যদি অন্য দিকে তাকাও দুই মিনিট আপুর দিকে তাকিয়ে থাকো। আমাকে রাখলে আমার দিকে তাকাবা কখন?

ফারহান- তখন সময় এমনি হয়ে যাবে।

নাজিফা -এখন চলোতো আপুরা চলে যাচ্ছে।
সবাই ফারাহানের রুমে ঢুকেই
নীরা -ওয়াও ভাইয়া রুমতো সুন্দর করে সাজিয়েছে।

ফারহান -হুম,আমার ফ্রেন্ডরাই সাজিয়েছে।কিন্তু না সাজানোই ভালো ছিলো।

নীরা ফারহানের দিকে ইশারা করে বুজালো তোমাদের মধ্যে কিছুই হয়নি।
ফারহান ও মুচকি হেঁসে মাথে নাড়িয়ে না বুজালো।প্রাপ্তি ফারহান আর নীরার সব কিছু আড় চোখে বার বার তাকিয়ে দেখছে আর সেজো কাকীর সাথে কথা বলছে।

নাজিফা -ভাইয়া আজ আপু আমাদের বাসায় যাবেনা?

ফারহান -নাজিফা! এই ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারছিনা,মা ভালো বলতে পারে।

সবাই খাওয়াদাওয়া শেষ করে আড্ডা দিচ্ছে।প্রাপ্তির মা নিজের মেয়ের সব কিছু দেখে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে আমি তোকে বলেছিলাম না! ফারহানের কাছে এসে তুই সব ভুলে যাবি।আজ আমি তোর চলা ফেরা দেখে অনেক খুশি হয়েছি।এই বাড়ীর সবাই তোকে কতো ভালোবাসে।আসার পর থেকেই দেখছি ছেলেটা তোকে কতো খেয়াল রাখে।এমন কিছু ওর সাথে করিসনা যাতে ওর ফ্যামিলির কাছে ওকে ছোটো হতে হয়।প্রাপ্তিকে ড্রইংরুমে না দেখে
ফারহান রুমে গিয়ে ঢুকতে যাবে দেখে প্রাপ্তির মা প্রাপ্তিকে জড়িয়ে ধরে কথা গুলো বুজাচ্ছে।
সরি ভুল সময়ে আসার জন্য। আপনারা কথা বলুন আমি পরে আসছি।

প্রাপ্তির মা- ফারহান! যাওয়ার দরকার নেই তুমিও এইখানে বসো।আসলে সবার সামনে তো সব কিছু বলা যায়না তাই রুমেই বসলাম।তবে তোমার কাছে আমার একটাই কথা, তুমি তো জানো ও একটু রাগী কখন কি বলে ঠিক থাকেনা।তুমি একটু বুজিয়ে নিও।আমি জানি তোমাকে এইসব কিছু বলতে হবে না তারপরও মায়ের মনতো।

ফারহান-মা!আপনি কোনো চিন্তা করবেন না।আমি আছিতো।
ফারহানের মুখে মা ডাক শুনে প্রাপ্তি অবাক হয়ে ভাবছে আমি ওর মাকে মা বলে ডাকতে পারিনি আর ও কতো সহজে কথাটা বলে পেললো।
প্রাপ্তির মা ও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ফারহানের দিকে।

ফারহান- মা! প্রাপ্তি কথাটা শুনে অবাক হয়েছে মানা যায়।কিন্তু আপনি অবাক হবেন আমি আশা করিনি।আন্টি বললে তো আর ছেলের মতো ভালোবাসবেন না।তাই সেই সুযোগ আমি হাত ছাড়া করতে রাজিনা।

ফারহানের কথা শেষ হতেই মেজো মা এসে কি ব্যাপার ফারহান শাশুড়ি মায়ের সাথে ভাব করা হচ্ছে? আর আমরা কেউনা?

ফারহান -মেজো মা আপনি ভুল বুজচ্ছেন।আপনার সাবাই আমার চোখে সমান।

মেজো মা- হুম বুজলাম।কিন্তু আমাদের তো এখন যেতে হবে।তোমার মায়ের সাথে কথা হয়েছে প্রাপ্তিকে নাকি আজ দিবেনা।

ফারহান-মা যখন বলছে এখানে আমার কোনো কথা নেই।(প্রাপ্তির দিকে তাকিয়ে)আজ না গেলে হয়না। তুমি যদি বলো আমি না হয় মাকে বলে রাজী করাবো।
প্রাপ্তি -(ভাবছে সবাই এমনিতেই আমার জন্য ওকে অনেক কথাই বলে। একটা রাতের তো ব্যাপার।)বলা লাগবেনা। কথাটা বলেই নিচের দিকে তাকিয়ে আছে প্রাপ্তি।

মেজো মা-তাহলে সব সমস্যা মিটে গেছে।ভাবী এইবার তাহলে উঠো আমাদের আবার দেরী হয়ে যাবে।

প্রাপ্তি -মেজো মা নাজিফা আজ থাকুক কাল আমাদের সাথে যেতে পারবে।

মেজো মা-আচ্ছা থাকুক।ওর দিকে খেয়াল রাখিস।

প্রাপ্তিদের সবাই চলে গেছে তাই প্রাপ্তির মন খারাপ হয়ে আছে। নাজিফা সুমির সাথে আড্ডা দিচ্ছে।বড় ভাবী,মেজো ভাবী সবাই কাজে ব্যস্ত।
প্রাপ্তি সবাইকে বিদায় দিয়ে রুমে এসে দেখে সব কিছু আগোছালো ভাবে পড়ে আছে।প্রাপ্তি ফ্রেশ হয়ে এসে সব কিছু গুছিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
ফারহান রুমে এসে দেখে সব কিছু গোছানো। প্রাপ্তিকে রুমে না দেখতে পেয়ে বারান্দায় গিয়ে দেখে চুল গুলো ছেড়ে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রাপ্তি কিছু ভাবছে।
ইচ্ছে করছে পিছনদিক থেকে জড়িয়ে ধরে বলতে প্রাপ্তি আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আর যেই মেয়েটার কথা তুমি ভাবছো সেই মেয়েটা তুমিই।নিজের ভাবনার জগত থেকে ফিরে এসে ফারহান বললো এই সন্ধ্যাবেলা এইখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?
প্রাপ্তি কথাটা শুনে চমকে গিয়ে তুমি কখন এলে?
ফারহান- একটু আগেই।

প্রাপ্তি – ওও,,আচ্ছা কাল কি আমরা যাচ্ছি,আমাদের বাসায়?

ফারহান -দেখি মা কি বলে।আর না হলে আমি বুজিয়ে বলে তোমাকে নিয়ে যাবো।একটা কথা বলি?ওই বাড়ীতে গেলে সবার মাঝে আমাকে ভুলেই যাবে না তো?

প্রাপ্তি-তোমাকে কি আমার মনের রাখার কথা আছে নাকি?
কথাটা শুনেই ফারহানের মনে খারাপ হয়ে গেলো।
এই নাও তোমার ফোন তোমার আম্মু যাবার সময় দিয়ে গেছে।
প্রাপ্তি ফোন হাতে নিয়েই এসএমএস,কল লিস্ট চেক করতে লাগলো। ফারহান চুপচাপ অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে কারো এসএমএস খুঁজতেছো?

প্রাপ্তি- হুম,আয়ানের! প্রাপ্তি নিজের মুখ ফসকে কথাটা বলে ফারহানের দিকে তাকিয়ে দেখে ফারহান চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।
এই ভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

ফারহান-তোমার শর্তগুলো মেনে নিয়েছি ঠিকি শর্তের কথাও এইটা ছিলো না আয়ান নাম টা আমার সামনে উচ্চারণ করবে।কথাটা বলেই ফারহান বারান্দা থেকে রুমে এসে খাটের এক কোণায় হেলান দিয়ে শুয়ে আছে।
প্রাপ্তি ফারহানের পিছন পিছন এসে ফারহান আমি তোমায় হট করার জন্য কথাটা বলতে চাইনি।এইটা নিয়ে কিন্তু রাগ করতে পারোনা।তুমি তো সব কিছু,,,,,কথাটা বলতে বলতে ফারহানের কাছে এগিয়ে আসতেই হোচট খেয়ে ফারহানের গায়ের উপর পড়ে গেলো।

এমন সময় লিজা আর মেজো ভাবী দরজা দিয়ে ঢুকেই প্রাপ্তি আর ফারহানকে দেখেই সরি সরি ভুল সময় আসার জন্য।

ফারহান মনে মনে ভাবছে এরা আসার আর সময় পেলো না? এখনি আসতে হলো?

প্রাপ্তি তাড়াতাড়ি উঠে, না না ভুল সময় আসবেন কেন?আসলে আমি কথা বলতে বলতে খেয়াল করিনি পড়ে গেছিলাম।

ফারহান কিছু বলছেনা নিছের দিকে তাকিয়ে ফোন টিপতেছে আর মুচকি মুচকি হাঁসছে।মনে মনে বলছে এইবার বুজো ঠেলা কাকে বলে।

লিজা- আমাদেরকে বুজাচ্ছো? কোনো লাভ নেই।আমরা এইসব বুজি।ভাবলাম তোমার সাথে তো তেমন ভালো করে কথা হয়নি তাই আড্ডা দিতে চলে আসলাম। কিন্তু এসে তো তোমাদেরকে ডিস্টার্ব করলাম।

প্রাপ্তি বুজে গেছে এদেরকে বুজিয়ে লাভ হবেনা।আর ফারহান আমাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে এখন মজা নিতেছে।তোমাকে পরে দেখাচ্ছি আগে এদেরকে সামলাই।

প্রাপ্তি- ভাবী আপনারা বসেন। আপনারা বসেই কথা বলেননা।
সবাই বসে আড্ডা দিচ্ছে।কিন্তু ফারহান কোনোই কথা বলছেনা।

মেজো ভাবী- কি হলো ফারহান আমরা অসময় আসলাম বলে তুমি রাগ করেছো?কোনো কথাই বলছোনা।

ফারহান -আরে না তোমরা কথা বল আমি বাহিরে থেকে আসছি।

লিজা -(অট্র হাঁসি দিয়ে)আমরা না আসলে ঠিকি বাহিরে যেতে না।

ফারহান কারো কথায় কান না দিয়ে বাহিরে চলে গেলো।

ফারহান বাহিরে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে।কিন্তু মন পড়ে আছে প্রাপ্তির কাছে।ফারহান ভাবতেছে আজ প্রাপ্তি ফোন না দিয়ে বলা পর্যন্ত বাসায় যাবোনা।

সবাই রাতে খেতে বসেছে।ফারহানকে না দেখতে পেয়ে ফারহানের বাবা বললো প্রাপ্তি! ফারহান কোথায়? ও খাবেনা?

প্রাপ্তি -আব্বু ও তো বাহিরে গেছে।

ফারহানের বাবা – ওকে ফোন দাও তাড়াতাড়ি বাসায় আসার জন্য।ও এখনো কি আগের দিনে পড়ে আছে নাকি।এখন ঘরে বউ এসেছে এতো রাতে বাহিরে কি করে?

প্রাপ্তি কোনো উপায় না পেয়ে ফারহানকে ফোন দিলো।
ফারহান প্রাপ্তির নাম্বার দেখেই তাড়াহুড়া করে ফোন রিসিভ করলো।

প্রাপ্তি -ফোন হাতে নিয়ে বসে আছো নাকি?

ফারহান- মনে করো তাই।বউয়ের ফোনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

প্রাপ্তি- পালতু কথা বাদ দিয়ে বাসায় আসো।
ফারহান -এই কথা তুমি বলছো? আমি এখনি আসছি।
প্রাপ্তি আর কিছু না বলে ফোন রেখে দিলো।
একটু পরে ফারহান ও বাসায় এসে সবার সাথে বসে খেয়ে নিলো।

বাবার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে ফারহান রুমে এসে দেখে প্রাপ্তি শুয়ে আছে।
প্রাপ্তি ঘুমিয়ে গেলে?

প্রাপ্তি- (উঠে বসতে বসতে)না। কিছু বলবে?

ফারহান- না।ভাবলাম ঘুমিয়ে পড়ছো।আচ্ছা সরো আমি ঘুমাবো?

প্রাপ্তি কিছু না বলে সরে গিয়ে ফারহান কে শুতে দিলো। প্রাপ্তি উঠে গিয়ে লাইট অফ করে এসে শুয়ে পড়লো।
সারাদিনের ক্লান্তিতে কখন ঘুমি পড়লো টেরি পায়নি।

চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here