ছায়া নীল ! ২৭.

0
194

ছায়া নীল !

২৭.

Maria Kabir
এক হাত দিয়ে কাজ করা বেশ কষ্টের। সৌরভ পাশেই টুল নিয়ে বসে আছে। চাল ধুতে গিয়ে ঝামেলায় পরলাম। কাটা হাতে ব্যথা পেলাম। সৌরভ বলল
– কীভাবে কী করতে হবে বলো। আমি করে দিচ্ছি।
– না না থাক আমি পারবো।
– যা বলছি তাই করো।
বাধ্য হয়ে আমাকে মুখে মুখে বলতে হলো আর ও খুব শান্ত ভাবেই করছে। দেখে মনে হচ্ছে এতো শান্ত স্বভাবের ছেলে আমি কখনো দেখিনি।
ভাতের মাড় গালতে গিয়ে ওর হাতের উপর গরম ভাতের মাড় পরলো। হাতে তাড়াতাড়ি করে ঠাণ্ডা পানি ঢেলেও কাজ হলো না। হাত পুড়ে গেছে এমন দাগ হয়ে রইলো। ব্যথায় ওর মুখ কিছুক্ষণ পর পর কুঁকড়ে উঠছে। আমার নিজের কাছেই অপরাধী লাগছে নিজেকে।
ভাত আর ডিম ভাজা দিয়ে রাতের খাওয়া হলো। ফুপু এখনো আমার সাথে কোনো কথা বলছে না।
আমাকে মনে হয় তার পছন্দ হয় নাই। তা না হলে কেউ এভাবে কথা না বলে থাকতে পারে??
সৌরভ ও খুব চুপচাপ।
আসার পর থেকে এখনো রুমে ঢোকা হয়নি।
রুমে ঢুকে আমার চোখ চরখগাছ ! পুরো রুমের চেহারাই চেঞ্জ।
পিছন থেকে ও বলল
– কেমন লাগছে এখন?
– অনেক সুন্দর। তুমি পুরো বাড়ি সাজাতে পারতে।
– মা পছন্দ করবে না।কারণ জানতে চাবা না।
– আচ্ছা। রুমে দেখি টেলিভিশনও আছে।
– হ্যা, আর নতুন মোবাইল সিম কার্ড এনেছি যতো ইচ্ছা আমাকে ফোন করবে। কারণে অকারণে ফোন করবে।
– কী কথা বলবো শুনি?
– কথা বলার দরকার আছে কী? নিশ্বাসের শব্দ শুনতেও ভালো লাগবে।
– আচ্ছা তুমি পুকুরপাড় না কী বলছিলে নিয়ে যাবার কথা?
– এতো রাতে যাবা?
– তুমি সাথে থাকলে আর ভয় কী?
– হ্যা কিন্তু এখন বাইরে না যাওয়াই ভালো।
ওর পোড়া হাতে দেখলাম সাদা রঙের কাপড় বাঁধা।
ও ঘুমিয়ে পড়লো আমিও ঘুমানোর জন্য শুয়ে পরলাম।
শুয়ে পরার সাথে সাথে আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙলো খুব পানি তৃষ্ণায়। এতো পানি তৃষ্ণা মনে হলো কখনো লাগেনি।
চোখ খুলে দেখি ও আমার পাশে নেই। কোথায় গেলো? বাথরুমের দিকে তাকিয়ে দেখলাম লাইট জ্বলছে। যাক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
পানি খাওয়ার জন্য রুম থেকে বের হলাম। রান্নাঘরের দিকে এগোবো আর দেখি সৌরভ মেইন দরজা খুলছে। ও আমার দিকে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে কাজটা করছে।
তারপর ও বের হয়ে গেলো। মনে হলো ও আমাকে হাতের ইশারায় ডেকেছে ওর পিছুপিছু যাওয়ার জন্য।
ওকে বলেছিলাম পুকুরপাড় এ যাওয়ার কথা। ও মনে হয় রাজি হয়েছে।
আমিও ওর পিছুপিছু হাঁটছি। ও একবারো আমার দিকে তাকালো না।
আমি যন্ত্রের মতো ওর পিছুপিছু হেটেই যাচ্ছি। মনে হচ্ছিলো নেশারঝোঁক এ আছি। বাহিরে একদম অন্ধকার না। চাঁদেরহাট মনে হয়েছে বসেছে আজ এই বাড়িতে।
একসময় ও থেমে গেলো। আমিও থেমে গেলাম। এতক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। এখন চোখ পড়লো সামনের বিশাল পুকুরে না না এতো বিশাল জলাশয়কে পুকুর বলা চলেনা। ও চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে। আমার চোখ ওর দিকে স্থির হয়ে গেলো। ঘুমানোর সময় দেখেছিলাম ওর পোড়া হাতে সাদা কাপড় বাধা কিন্তু এখন কোনো হাতেই দেখছি না।
ও মনে হয় খুলে রেখেছে। আবার তাকিয়ে দেখি হাতে সাদা কাপড় বাধা। কেবলি দেখলাম হাতে কাপড় নেই আবার এখনি কীভাবে??
তারপর যা হলো সেটা আমি কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। ও কাপড় চোপড় খুলে পুরো খালি গায়ে পানিতে নামলো। আস্তে আস্তে ও পানির মধ্যে হারিয়ে গেলো। কাপড় চোপড় যে খুলেছে সেটা তো পাশেই থাকবে কিন্তু তাও নাই।আর ও যা যা করছে সব আমার দিকে পিছন ফিরে করছে।
খেয়াল করলাম আমার শরীর ঘামে ভিজে উঠেছে। আমার ভেতর থেকে কেউ বলছে
– চলে যা এখান থেকে।
আমি বললাম
– না
আবারো ভেতর থেকে কেউ বলল
– শোন আশেপাশে না তাকিয়ে এক দৌড়ে বাসায় উঠবি।
– নাহ।
– যা বলছি শোন !
আমি এক পাও নড়াতে পারলাম না। কিছুক্ষণ পর মনে হলো পানিতে কিছু একটা ভেসে উঠেছে। আস্তে আস্তে সেটা ডাঙার দিকেই আসছে। যখন এটা বেশ কাছে চলে আসলো তখন খেয়াল করলাম একজন মানুষের দেহ। সৌরভ পানিতে নেমেছিলো ওর নাকি?
ঘামছি খুব আমি। চোখের পলক পরতেই খেয়াল করলাম পানিতে আর সেটা নেই। এখন আমার দিকে পিছন ফিরেই দাঁড়িয়ে আছে ও। মনে হচ্ছে আমার দিকে এগিয়ে আসছে তবে উল্টো হেটে। হাটার ভাব দেখে মনে হচ্ছে সে উল্টো হাটাতেই এক্সপার্ট।

চলবে………!

#Maria_kabir

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here