ফুলশয্যা_সিজন(০৩) পর্ব- ০৩

ফুলশয্যা_সিজন(০৩)
পর্ব- ০৩
লেখা- অনামিকা ইসলাম।

কি হলো? এভাবে তাকিয়ে কেন আছেন? যান, নামাজ পড়ে আসেন।
কিচ্ছু বলেনি শুভ। ছিটকিনি আটকে চুপ করে খাটে গিয়ে বসে কম্বল মেলতে থাকে। সেটা দেখে চোখ কপালে তুলে ফেলে নুহা। প্রশ্ন করে শুভকে, কি হলো? শুয়ে পরার ব্যবস্থা করতেছেন যে? নামাজটা কে পড়বে?
রাগান্বিত দৃষ্টিতে শুভ নুহার দিকে তাকায়। ‘দেখুন মিস! একটু ভালো ভাবে কথা বলেছি তার মানে এই নয় আপনি আমার কাধে ঝেকে বসবেন। ভুলে যাচ্ছেন কেন সকাল হওয়ার পরই আমাদের দু’জনের রাস্তা আলাদা হয়ে যাবে। তাই দয়া করে পার্সোনাল এটার্ক করা থেকে বিরত থাকুন।
পার্সোনাল এটার্ক? তাচ্ছিল্যের স্বরে হেসে উঠে নুহা। যাক! বেশ ভালো বলেছেন। তবে একটা কথা স্যার। আমি মোটেও পার্সোনাল এটার্ক করিনি। একজন মুসলমান হিসেবে আরেকজন মুসলমানকে ইসলামের দাওয়াত দিলাম। ইসলামের পথে আসার আহ্বান করলাম। ব্যস, এটুকুই। এখন আপনার যদি মনে হয় আমি আপনার পার্সোনাল লাইফে এটার্ক করছি তাহলে যে আমার আর কিচ্ছু বলার থাকল না। আচ্ছা, শুয়ে পরেন। আর ডিস্টার্ব করার জন্য স্যরি।

শুয়ে পড়তেছিল শুভ, নুহার শেষ কথা শুনে সোজা হয়ে বসে। দেখুন মিস নুহা আপনি কিন্তু একটু বেশিই ভুল বুঝতেছেন। আপনি কথাকে যেভাবে নিয়ে যাচ্ছেন আমি কিন্তু সেভাবে বলিনি। আমি জাস্ট এটাই বুঝাতে চাচ্ছি যে নামাজ বলেন, রোজা বলেন এগুলো ব্যক্তির নিজস্ব ব্যাপার। হ্যা, আপনি ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন সেটা ঠিক আছে। কিন্তু একটা কথা আপনার জানা খুব দরকার। যে ব্যক্তি আল্লাহকে কোনো ক্রমেই মানে না তার কাছে নামাজ পড়ুন, রোখা রাখুন, আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন এসব বলাটা অরণ্য রোদন বৈ কিছুই নয়। তাই ভবিষ্যতে কাউকে ইসলামের দাওয়াত দিতে যাওয়ার এ জিনিসটা মাথায় রেখে যাবেন।
হেসে উঠে নুহা। আপনি ভুল বলেছেন স্যার। কেউ আল্লাহকে মানে না তাই বলে কি আমি আমার দাওয়াত দেয়া বন্ধ করে দেবো? না। এটা আমি মানতে পারছি না। কারন একজন মুসলমান হিসেবে আমার দায়িত্ব আরেকজন মুসলমানের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়া। সেটাকে যদি মানুষ ভালোভাবে গ্রহন করে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি ভালো ভাবে গ্রহন না করে তাহলে তার জন্য সমবেদনা। কেননা, আমি শুনেছি আল্লাহ যাদের ভালোবাসেন তাদের’ই হেদায়াত করেন তাড়াতাড়ি। আচ্ছা, বাদ দেন। আপনি একটু ঘুমান। আমি ভাবির রুমে গিয়ে দেখি ফোনটা চার্জে দিয়ে খুলতে পারি কি না। স্যারদের কাছে একটু ফোন দিতে হবে।

নুহা রুম থেকে বের হয়ে সোজা রাকিবদের রুমের দরজায় নক করে। ঘুম ঘুম চোখে স্বর্ণা দরজা খুলে। চোখ কপালে উঠে যায় নুহার। সেকি ভাবি? মাত্র ঘুম থেকে উঠছেন? নামাজ পড়েন না আপনারা? কিছুটা নিচু গলায় স্বর্ণার জবাব, ইয়ে মাঝে মধ্যে পড়া হয়।
দরজার সামনে দাঁড়ানো থেকেই প্রশ্ন করে নুহা, খাবারও কি মাঝে মধ্যে খান নাকি?
ভ্রু জোড়া কিঞ্চিৎ বাঁকা হয়ে যায় স্বর্ণার। ‘মানে? বুঝলাম না নুহা।’
হেসে দেয় নুহা, না বুঝার তো কিছু বলিনি। আচ্ছা, বাদ দেন। ভেতরে কি ভাইয়া আছে।
হু, ঘুমিয়ে আছে। স্বর্ণার কথা শুনে তাড়াতাড়ি পুরো শরীর ঢেকে নেয় নুহা। আচ্ছা, আমি তবে পরে আসি।
নুহা চলে গেলে স্বর্ণা একটা মুখ ভেংচি দেয়। এতটুকু বাচ্চা মেয়ে আসছে জ্ঞান দিতে। যত্তসব। ঠাস করে দরজা লাগিয়ে দেয় স্বর্ণা।

সকালে আবারো স্বর্ণাদের রুমের দরজায় এসে নক করে নুহা। দরজা খুলে স্বর্ণা। নুহা স্বর্ণাকে সালাম দেয়। জবাবে স্বর্ণা বলল, ‘ওহ, নুহা! আসো। ভিতরে আসো।’
রুমে রাকিব আছে কি না এ বিষয়ে ক্লিয়ার হয়েই ভিতরে ঢুকে নুহা। বন্ধ ফোনটা চার্জে লাগিয়ে খুলে নেয়। সেভ করা বান্ধবীদের নাম্বারের মধ্য থেকে প্রিয় বান্ধবী জান্নাতের নাম্বারে কল দেয়। মুহূর্তেই ওপাশ থেকে ভেসে আসে, আপনার কাঙ্খিত নাম্বারে এই মুহূর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটু পরে আবার চেষ্টা করুন। মনটা খারাপ হয়ে যায় নুহার। বিষণ্ন মনে ডায়াল করে বাংলা মেডামের নাম্বার। রিং হচ্ছে কিন্তু রিসিভ করছে না। বাধ্য নুহা জম স্যার ওরফে ইংরেজী স্যারের নাম্বারে কল দেয়। ওনি অবশ্য রিসিভ করেছেন কিন্তু কথা বুঝা যাচ্ছে না। শুনার মধ্যে কেবল বাচ্চাকাচ্চার আওয়াজ’ই শুনতে পাচ্ছে নুহা। কল কেটে প্রধান শিক্ষকের নাম্বার ডায়াল করে নুহা। এবারো ফোন রিসিভ হয়েছে। কিন্তু গাড়ির হর্ণ ছাড়া কিচ্ছু শুনতে পায়নি নুহা।
তবে কি ওরা চলে যাচ্ছে? ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে নুহার। কলটা কেটে কল দেয় বান্ধবি জান্নাতকে। বরাবরের মতই ফোন বন্ধ দেখাচ্ছে। বুকের ভেতর রীতিমত ধুরমুশ পেটাতে শুরু করে দিয়েছে ওর। দৌঁড়ে রুম থেকে বের হয়ে শুভর রুমে যায়। ডাক দেয়, শুনছেন? কম্বলের ভেতর থেকে মাথা বের করে তাকায় শুভ। প্রশ্ন করে নুহাকে, কি সমস্যা?
ভেঁজা কন্ঠে নুহার জবাব, ওরা মনে হয় রওয়ানা দিয়ে দিয়েছে। আমার ভালো লাগছে না একদম। আমি এখন কি করব?
শুয়া থেকে উঠে বসে শুভ। হাত দিয়ে চুলগুলো ঠিকঠাক করে নিয়ে নুহার দিকে তাকায়। ‘চলুন….
দৌঁড়ে গিয়ে স্বর্ণাদের রুম থেকে ফোনটা এনে রুমের দরজায় এসে দাঁড়ায় নুহা। শুভর দিকে লক্ষ্য করে বলে, চলুন…..

শুভ এবং নুহা সকালের নাস্তা না করেই বিদায় নেয় রাকিব এবং তার স্ত্রী স্বর্ণার থেকে। প্রচন্ড শীতে জড়োসড়ো শুভ গাড়িতে বসে নুহার দিকে তাকিয়ে দেখে এত শীতের মধ্যে নুহা রীতিমত ঘামছে।
কিছুটা আশ্চর্য হয় শুভ। তবে কিচ্ছু বলেনি নুহাকে। মিনিট ত্রিশেক পর কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছে নুহা এবং শুভ। সমুদ্র পাড়ে অসংখ্য মানুষকে দেখা গেলেও নুহা পায়নি ওর স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী কিংবা স্যার’দের।
‘আমি এখন কি করব?’ বিষণ্ন মনে নুহা শুভর দিকে ফিরে তাকায়। জবাব আসে, তুমি এখানে একটু দাঁড়াও। আমি আমাদের ঐ স্যার’রা আছে ওনাদের সাথে দেখা করে আসি। নুহা বাচ্চাদের মত মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।
একটু একটু করে শুভ এগিয়ে যায় স্টুডেন্টসদের দিকে। মেয়েরা কেমন আছ তোমরা? সেখানে উপস্থিত ছাত্রীরা ফিরে তাকায় পিছনের দিকে। হারিয়ে যাওয়া স্যারকে দেখা মাত্রই ঘিরে ধরে সবাই। ‘স্যার কোথায় ছিলেন? স্যার আপনি নাকি হারিয়ে গিয়েছিলেন? পরে আপনার ফ্রেন্ড নাকি উদ্ধার করেছে?’ এটা সেটা আরো কত প্রশ্ন।
স্মিতহাস্যে শুভর জবাব, আমাকে আমার বন্ধু নয় এক সুপারম্যান এসে বাঁচিয়েছে। আচ্ছা, তোমরা সমুদ্রতীরের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করো। আমি স্যারদের সাথে একটু সাক্ষাত করে আসি।

মেয়েরা যে যার মত এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরলে শুভ স্যারদের মুখোমুখি হয়। টিচার্সদের মধ্যে একজন টিচার ছিল শুভর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শুভ বন্ধু রুহুলকে আড়ালে ঢেকে নিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলে হেল্প চায়। রুহুল সমবেদনা প্রকাশ করে এবং রুহুলকে আশ্বস্ত করে। রুহুল জানায়, তুই ঐ মেয়েকে নিয়ে আপাতত তোর ঐ বন্ধুর বাসায় চলে যা। কাল থেকে তো মনে হয় মেয়েটা কিছু খায়নি, তাই ওকে ওখানে নিয়ে গিয়ে জোর করে কিছু খাওয়া। তারপর সন্ধ্যার ট্রেনে নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দে। নরসিংদী পৌঁছে গেলে আর সমস্যা নেই। ওখানে আমার এক ফ্রেন্ড থাকে। ও তোকে গাজীপুর যাওয়ার সব বলে দিবে। এদিকে আমি সামলিয়ে ফেলব স্যারদেরকে। স্যারদের বলব, তোর বাসা থেকে জরুরী কল আসায় তুই চলে গেছিস।
Thanks a lot, sir.(হাসি দিয়ে) আমি আপনার এ উপকারের কথা কখনো ভুলব না।(স্মিতহাস্যে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকার ইমুজি হবে।)
হেসে দেয় রুহুল। আচ্ছা, এখন তবে বের হয়ে যান স্যার। ইনশাআল্লাহ ঢাকায় পৌঁছে কথা হবে।

বন্ধুর থেকে বিদায় নিয়ে শুভ নুহার কাছে এসে দাঁড়ায়। নুহা ততক্ষণে অনেকগুলো ফ্রেন্ড জুটিয়ে ফেলেছে। শুভকে আসতে দেখে ওদের থেকে বিদায় নিয়ে সামনে আগায়। মুখোমুখী হয় শুভর।
আচ্ছা, চলো। আমরা আবার রাকিবের বাসায় যাই। তারপর সন্ধ্যার ট্টেনে আমি নিজে তোমাকে নিয়ে দিয়ে আসব তোমার গ্রামের বাড়িতে।

আচ্ছা, বলে পথ চলতে শুরু করে নুহা। ক্ষাণিক দুর যেতেই শুভ টের পায় নুহা ওর পিছনে নেই। দাঁড়িয়ে পরে শুভ। পিছনে তাকাতেই দেখতে পায় অদুরের পানে ঝিনুক বেঁচে ছেলেটাকে যেখানে মেয়েরা ঘিরে আছে নুহা সেখানেই তাকিয়ে আছে। দৌঁড়ে ঝিনুক বেঁচে ছেলেটার কাছে যায় শুভ। প্রশ্ন করে ছেলেটাকে বাবু কত টাকা করে এগুলো? স্যারকে আসতে দেখে সরে যায় কলেজের মেয়েরা। জবাব দেয় ছেলেটা, ২০টাকা। পকেট থেকে একটা ৫০০টাকার নোট বের করে শুভ এগিয়ে দেয় ছেলেটার দিকে। আমাকে ১০টা মালা দাও। ছেলেটা গুনে গুনে ১০টা মালা তুলে দেয় শুভর হাতে। মালার টাকা বাবদ ২০০টাকা নিয়ে ছেলেটা ৩০০টাকা শুভর হাতে দিতে গেলে শুভ টাকা নিতে অস্বীকার করে। শুভ জানায়, টাকাটা তোমার কাছেই রাখো আব্বু। এটা আমি তোমাকে এটা গিফ্ট করেছি। শীতের কাপড় কিনে নিও। হাসি ফুটে উঠে ছেলেটার মুখে। দু’চোখ জলে চিকচিক করছে। যেন সে চোখের জলের মাধ্যমেই দাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছে।

মালা হাতে নুহার পাশে গিয়ে দাঁড়ায় শুভ। পিছন থেকে বলে, নাও। ভয়ে কেঁপে উঠে নুহা। শুভকে বুকে থু থু দিয়ে বলে- ওহ আপনি?
হাসোজ্জল মুখে শুভ নুহার দিকে মালাগুলো এগিয়ে দেয়। নুহা হা হয়ে যায়। মুখে হাত দিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে। নাও বলে শুভ আবারো মালা সাধে। ইতস্তত নুহা একসময় মালাগুলো নিয়েই নেয়। কিছুদুর এগুতেই ক্যামেরাম্যান সামনে এসে দাঁড়ায়। ছবি তোলার জন্য বিনীত অনুরোধ জানায়। শুভ নুহার দিকে ফিরে তাকায়। নুহার চোখ মুখ দেখে বুঝা যাচ্ছে অস্বস্তিতে ভুগছে। স্যরি, আরেকদিন বলে ক্যামেরাম্যানকে বিদায় করে দেয় শুভ।

সকাল ১১টার দিকে আবারো বন্ধু রাকিবের বাসায় গিয়ে পৌঁছে শুভ এবং নুহা। শুভ নুহাকে দেখে রাকিব এতটা খুশি হয়েছে যা বলে বুঝানো যাবে না। মুহূর্তেই বাজার থেকে এটা সেটা আনা শুরু করে দিয়েছে। হেসে দেয় শুভ। শান্ত হো বৎস, শান্ত হো। তাড়াহুড়োর কিচ্ছু নেই। আমরা সন্ধ্যার ট্রেনেই রওয়ানা দেবো। আশ্চর্য হয় রাকিব। সন্ধ্যার ট্রেন? তুই জানিস না আগামীকাল ভোরের আগে আর কোন ট্রেন যাবে না? চমকে যায় শুভ। কি বলিস তুই এসব? আমি এখন ওকে নিয়ে কোথায় যাব? রেগে যায় রাকিব। কোথায় যাবি মানে? তোরা কি বানের জলে ভেসে এসেছিস নাকি? কালকের মত আজও এখানেই থাকবি। তারপর ভোরের ট্রেনে রওয়ানা দিবি। একটা বড় নিশ্বাস ছেড়ে শুভ বলে, এটা ছাড়া আর কি বা করার আছে? আচ্ছা, রুমে যাই আমি।

শুভ রুমে গিয়ে বিষয়টা বুঝিয়ে বলে নুহাকে। আশ্চর্য হলো শুভ। যখন দেখল মেয়েটার চোখ মুখে বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তার ছাপ নেই। নেই কোন ভয়ের রেখা। আশ্চর্য! ওকি তবে আমায় বিশ্বাস করে ফেলেছে? কৌতূহল মেটাতে প্রশ্নটা করেই ফেলে নুহাকে। জবাব আসে, যেখানে স্বয়ং আল্লাহ আছেন মাথার উপর, সেখানে ভয় পাওয়ার তো কোন প্রশ্নই উঠে না। শুনেছি আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন।
অদ্ভুত প্রকৃতির মানবি। এমন মানবি এ ধরাতে পূর্বে দ্বিতীয়টি আর দেখিনি। আনমনেই নিজেই নিজের সাথে কথাটা বলে উঠে শুভ।

দুপুরে খাওয়ার জন্য শুভ নুহার ডাক পড়ে আবারো। নুহা এবারো খাবে না বলে জানিয়ে দেয়। স্বর্ণা রুম থেকে বেরিয়ে গেলে বিরক্তিকর দৃষ্টিতে শুভ নুহার দিকে তাকায়। প্রশ্ন করে নুহাকে, কি! সমস্যা কি তোমার? সকালেও এত বার করে বলল। তারপর ব্রেকফাস্ট করোনি। এখনো খাবে না বলছ। সমস্যা কি তোমার?
ধীর গলায় নুহার জবাব, সমস্যা আমার নয় সমস্যা এ বাসার গিন্নী+রাধুনী স্বর্ণা আপুর। চমকে উঠে শুভ। মানে? What do you mean?
নির্লিপ্ত কন্ঠে নুহার জবাব, আমি বেনামাজির হাতের খাবার খেতে পারি না।

পর্দার আড়াল থেকে সরে যায় স্বর্ণা। সে ভিষণ লজ্জা পেয়েছে। সেই সাথে ওর ইগুতে গিয়ে আঘাত করেছে কথাগুলো। একটা ছোট্ট মেয়ে, যে কি না আমার থেকে বছর সাতেকের ছোট হবে সে আমাকে এভাবে লজ্জা দিল? তৃতীয় চক্ষু খুলে যায় স্বর্ণার। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সে চলে যায় ওয়াশরুমে। দ্রুত কাপড় পাল্টে ওজু করে নামাজটা আদায় করে নেয়।

নামাজ ছেড়ে ড্রয়িংরুমে যেতেই আশ্চর্য হয়ে যায় স্বর্ণা। পরম তৃপ্তি সহকারে নিজে নিজেই খাবার নিয়ে খেয়ে চলছে নুহা।
ওজুর পানি এখনো চোখে মুখে লেগে আছে স্বর্ণার। পানি মুছতে যাবে তখনি নুহা বলে উঠে, এ পানি মুছো না ভাবি। এ পানি রহমতের পানি।
রুম থেকে বেরিয়ে আসে শুভ। হুট করে নুহার এভাবে খাবার নিয়ে বসে পরার কারন বুঝতে পারে এতক্ষণে।

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here