রোমান্টিক_অত্যাচার -২ পর্ব-১৪

0
199
রোমান্টিক_অত্যাচার -২
পর্ব-১৪
লেখিকা- #Israt_Jahan
ধারনা- #Kashnir_Mahi
★৭ দিন পর★
-“এই ও এতো ভদ্র কেনো বলো তো?দিনভর শুধু ঘুম আর ঘুম।একটুও জালাচ্ছে না তোমাকে।
(আশফি)
-“তো তুমি কি চাইছো ও সারাক্ষণ জেগে থাকবে আর আমাকে খালি জালাবে? ও একদম ঠিক আছে।খাচ্ছে-দাচ্ছে আর ইচ্ছামত ঘুম দিচ্ছে।
-“এটা আমার একদমই পছন্দ হচ্ছেনা।আমি তো এরকমটা চাইনি।আমি চেয়েছি ও আমার সাথে হাত মিলিয়ে দুজন একসাথে দিনভর তোমাকে জালাবো। কিন্তু ও তো দেখছি একটু বেশিই শান্ত।
-“হুম।ও তোমার চান্দু না। চান্দু হলে ঠিকই বেশি বেশি দুষ্টুমি করতো।মেয়েরা সবসময় শান্তই হয়।ওরা মায়ের দরদ বুঝে।
-“ও আচ্ছা।তুমি কি ভেবেছো ও ছেলে হয়নি বলে আমি ওর নাম পাল্টে দিবো?আর ও দুষ্টুমি করবে না?কক্ষনো না।ওর নাম চান্দুই থাকবে।আর এখন তো মাত্র বয়স ৭ দিন।
কয়েকমাস যেতে দাও ও তোমাকে বুঝিয়ে দিবে যে কতটুকু দুষ্টু।
-“হুহ।বললেই হলো? তুমি দেখো ও সত্যি অনেক শান্ত হবে একদম আমার মত।
-“এই তোমার কি চোখ নেই?
-“চোখ নেই মানে?চোখ না থাকার কি দেখলে?
-“তুমি কি দেখতে পাচ্ছোনা ও দেখতে একদম আমার মত হয়েছে।আর ওর সবকিছু আমার মতই হবে।তুমি আমার বাচ্চাবেলার ছবিগুলো বের করো।তারপর মিলিয়ে দেখো।
-“প্রথমদিন তো ওকে একদম জাপানিজদের মতই লাগছিল।এখন দেখো চেহানার ভাব অনেকটা পাল্টে যাচ্ছে ওর।মনে হচ্ছে আমাদের মতই হবে। তোমাদের মত হবে না।
শুধু চোখদুটো একদম হুবহু তোমার মত হয়েছে।
-“কচু।ওর সবকিছুই আমার মত হয়েছে।তুমি আর কি করে বুঝবে।এখানে তো আর ওর নানিবু,দাদিবু নেই।তারা দেখলে এভাবে বলতো,ও একদম ওর বাবার মত হয়েছে,ওর বাবা ছোটোবেলায় একদম এমন ছিল আরো কতকিছু। কিন্তু আফসোস তারা কেউ ই আজ নেই।
-“হুম।ওর আর কপালে নানিবুর, দাদিবুর আদর-সোহাগ জুটলোনা।
-“আচ্ছা তুমি এখন মন খারাপ করতে বসোনা তো। তোমাকে কি বললাম,যাও আমার ছবিগুলো নিয়েসো।
-“হ্যা যাচ্ছি।
ড্রয়ার থেকে মাহি একটা মোটা ছবির এলবাম বের করে নিয়ে আসলো।
এলবামটাতে শুধু আশফির বাচ্চাবেলার ছবিই আছে তা এলাবামটার কভার পেইজ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।কারণ এলবামের কভার পেইজটাতে আশফির ছোটোবেলার ছবি লাগানো।
-“তুমি এলবাম টা ড্রয়ারে রেখেছিলে?এটা তো আলমারিতে তোলা ছিল। (আশফি)
-“হুম।কারণ এটা আমি প্রায় প্রায় দেখতাম তাই আর আলমারিতে রাখিনি। হাতের কাছে রেখে দিয়েছিলাম।
-“কোন ছবিগুলো দেখতে বলো তো?যেগুলোতে আমি বিবস্ত্র? সেইগুলোই দেখতে নিশ্চই?
-“আরে না,ধুর!তুমি যে কি সব বলো?শুধু ঐ ছবিগুলোই দেখবো কেনো? সবছবিই দেখতাম।ভালো লাগতো দেখতে।
-“হুম।অনেক কিউট ছিলাম না?
-“হ্যা।তোমার গালগুলো অনেক সুন্দর ছিল।কেমন নাদুস নুদুস।দেখলে মন হয় গালগুলো টিপে দিই শুধু।
-“আচ্ছা?তো দাও না!
-“এ্যাহহ…..এখন তোমার গালগুলো তখনকার মত না। আর এখন তোমার গালই টিপবো নাকি তোমার চান্দুর গালই টিপবো?
আশফি মাহিকে পিছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরে বললো,
-“দুজনেরই।কারণ এখন তো তোমার পালা। এতদিন আমি তোমাকে খেয়াল করেছি,যত্ন করেছি,অনেক অনেক আদর করেছি সবকিছু আমিই করেছি।আর এখন তুমি করবে এগুলো তাও আমাদের দুজনকেই। এখন আমার আর আমার চান্দুর সব দায়িত্ব তোমার।
-“হা হা হা হা।
-“হাসছো যে?হাসার মত কথা বলেছি আমি?
-“তোমার চান্দু নামটা কিন্তু ওর সাথে যাচ্ছে না। তাই হাসি পেলো।
-“যাবেনা কেনো?
যাওয়ালেই যাবে।তুমি ওকে চান্দু বলেই ডাকবে।
অন্যকোনো নামে ডাকবেনা।ও কিন্তু একদম আমার মতই হবে।
-“সিওর?
-“একদম।তুমি ছবিগুলোর সাথে ওকে মিলিয়ে দেখো।
-“হুম।তাই তো দেখছি। দেখতে তো তোমার মতই হয়েছো।কিন্তু ওর স্বভাব চরিত্র কিন্তু আমার মতই হবে।
-“একদমই না।ওগুলো আমার মত হবে।
-“তুমি এতো কনফিডেন্টলি কিভাবে বলছো?
-“ধৈর্য রাখো ডিয়ার। দেখতে পাবে।আর হ্যা,
আজকে থেকে কিন্তু তোমার সাথে অনেক কিছুই ঘটবে।যার কোনো বিরতি থাকবেনা।
-“কিহ্?
-“হুম।বিরতিহীন ভালোবাসা চলবে।এবার আর আদর করার সময় কোনো বাঁধা থাকবেনা মাঝে।কোনো সাবধানতা থাকবেনা।শুধু সোহাগ চলবে।
মাহি আশফির দিকে ঘুরে বসলো।তারপর আশফির কলার চেপে ধরে বলল,
-“এই শুনো একদম আমার কাছে আসবেনা কিন্তু। একবার যা কষ্ট দিয়েছো তুমি আমাকে,দ্বিতীয়বা
র আমি আর সেই কষ্ট নিতে চাইনা।
-“মানে কি?আমি কি তোমাকে সারাবছরই প্রেগন্যান্ট করে দিবো নাকি?
-“ধুর।ফাজিল কোথাকার?
-“ফাজিলের কি করলাম? তুমি যা ভাবছো সেটা আমি ডিরেক্টলি বললাম। তুমি এই ভয়ে আমাকে আদর করতে দিবেনা? আমি এতোটা কেয়ারলেস নই।তখন তুমি চেয়েছিলে আর তাই আমি তোমাকে দিয়েছিলাম।এখন যদি তুমি না চাও তাহলে আর দিবোনা।আর যদি প্রতিবছরই এক একটা করে চাও তাহলে প্রতিবছরই দিবো।
-“কি?অসভ্য ছেলে। কোনো লাজ লজ্জা নেই তোমার।দুষ্টু একটা।
মাহি আর আশফির মাঝে খুনসুটিময় ভালোবাসা চলছে এখন।মাহি আশফিকে দুষ্টুমির ছলে কিল ঘুষি দিচ্ছে। আশফি ও মাহিকে নানারকম দুষ্টুমিকর কথাবার্তা বলে মাহির সাথে দুষ্টুমি করছে। এভাবেই ওদের চান্দুকে নিয়ে ওদের মাঝে আনন্দ, প্রেম-ভালোবাসা,
দুষ্টুমি দিয়ে কেটে গেলো পাঁচটা মাস।চান্দুর একটা ফরমাল নেম ও আছে কিন্তু আশফি ওকে সবসময় চান্দু বলেই ডাকে।
-“মাহি প্লিজ জলদি এসো। আমার গোসল এর সময় হয়ে গেছে।তাড়াতাড়ি আমাকে গোসল করিয়ে দাও।অফিস যেতে হবে তো।
-“আসছি।আশফিটা যা জালাচ্ছে দিন দিন। এমন করলে আমি দুজনকে কিভাবে সামলাবো?বুঝে ও সবসময় অবুঝের মত থাকে। শোধ নেওয়া হচ্ছে আমার থেকে এখন। প্রেগন্যান্সির ঐ কয়টা মাস ওকে খুব জালিয়েছি তো তাই তারই শোধ নিচ্ছে। আর তার সাথে তো আমার সুকন্যা আছেই।আশফি ঠিকই বলেছে।ও একদম ওর বাবার মতই হয়েছে।কি যে শেয়ানা মেয়ে।বাবার সব কথা যে কিভাবে বুঝে কে জানে?বাবা যখনই ঘুমাতে বলবে ঠিক তখনই ঘুমাবে। অথচ আমি তাকে সারাদিন সারারাত ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলেও সে ঘুমাবেনা। ভ্যা ভ্যা করতেই থাকবে। দিনের বেলা এক ফোটা ঘুমাবেনা। বড়দের মত শুধু রাত হলেই ঘুমাবে তাও যদি সেটা বাবা এসে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়ায় তবেই ঘুমাবে।
-“চান্দু মাই ডিয়ার,তুমি দেখছো তোমার মামনিকে আমি কিভাবে জালাচ্ছি? আর আমার সাথে তো তুমি আছোই।তুমি জানো তুমি যখন তোমার মামনির ভেতর ছিলে তখন সে আমাকে কত্ত জালিয়েছে? সারাটা রাত আমাকে ঠিক মত ঘুমাতে দেইনি। আমাকে দিয়ে তার বমি পর্যন্ত পরিষ্কার করিয়েছে এমনকি আমার গায়ে পর্যন্ত বমি করেছে।তার সবকিছু আমাকে দিয়ে করিয়েছে। তাই আমিও এখন তার শোধ নিচ্ছি।বলো,ঠিক করছি না মামনি?
-“হুম।একদম ঠিক করছেন।(মাহি)
আশফির কোলে ছিল চান্দু। বাবার কথা শুনে চান্দু হেসে দিল।তাই দেখে আশফি বলল,
-“দেখেছো আমার মামনি ও হেসে আমার কথায় সায় দিচ্ছে।
-“হুম।মেয়ে তো একদম বাবা ভক্ত।বাবার মত দুষ্টু হয়েছে।পাক্কা শেয়ানা।
-“এই তুমি চুপ করো। একদম আমার মেয়েকে বকবেনা কিন্তু।
-“ঠিক আছে।বকবোনা। এখন চলুন আপনার দেরী হয়ে যাচ্ছে তো।
-“হুম চলো। মামনি তুমি একটু শোও তো এখানে। বাবাকে তো অফিস যেতে হবে।তোমার মামনির কাছে এখন আমি গোসল দিব আর সাথে………
-“আর সাথে কি?
-“একটু পরেই সেটা টের পাবে।
-“গোসল করার সময় কিন্তু একদম কোনো দুষ্টুমি করবেনা।
-“সে দেখা যাবে।
-“দেখা যাবে মানে?
-“এতো কথা বলো না তো। আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে কিন্তু।
-“হুম চলুন।
মাহি একটা সার্ভেন্টকে ডেকে তার কাছে চান্দুকে দিল।এরপর মাহি আশফির সাথে বাথরুমে ঢুকলো।
আশফি তারপর মাহির সামনেই ট্রাওজার খুলে টাওয়াল পড়ে নিল।আর টি শার্টটা ও খুলে ফেললো। এটা দেখে মাহি বলল,
-“এই তুমি এটা কি করলে?
-“চেঞ্জ করলাম।
-“এটা কি ধরনের চেঞ্জ? একদম সামনের উপর খুলে ফেললে?
-“তো কি হয়েছে?তুমি কি আমাকে নতুন দেখছো?
-“তুমি না আবার সেই আগের মত দুষ্টু হয়ে গেছো।
-“আমি তো এমনই ডিয়ার।শুধু মাঝখানে একটু ভদ্র হয়ে গেছিলাম আমার চান্দুর জন্য।
-“হ্যা।তাই তো দেখছি।
-“তাই তো দেখবে।আর কিছুদিন আগেও যে আমার প্যান্ট খোলার জন্য যা অস্থির হয়ে গেছিলে তখন লজ্জার কথা মনে ছিল না? এখন আমি নিজে যখন তোমার মনের আশা পূরণ করছি তখন সেটা পছন্দ হচ্ছে না।
-“আমার মনে মোটেও এমন কোনো আশা ছিলনা।
-“হুম।সে তো বুঝিই। আমি তো তোমার কাজের হেল্প ও করছি।আমার হাত পা পরিষ্কার করতে যাতে তোমার সুবিধা হয় সেই ব্যবস্থায় তো করলাম। নাও তো,তাড়াতাড়ি আমাকে আদর করা শুরু করো।
-“কি?
-“না মানে তাড়াতাড়ি গোসল করিয়ে দাও।দেরী হয়ে যাচ্ছে তো।
-“হুম।
মাহি নিচু হয়ে বসে আশফির পা পরিষ্কার করতে গেলো।তখন আশফি বাঁধা দিল।
-“আরে আগে পা পরিষ্কার করতে হবেনা।
-“তো?
-“আগে আমার এই সুন্দর বডিটাতে সাবান মাখাও।
-“ওকে।আমি ওর কথামত ওর শরীরে আগে সাবান মাখতে শুরু করলাম।
-“হয়েছে।এখন তোমার হাত দিয়ে আমার পুরো বডিটা মালিশ করো।
-“হাত দিয়ে কেনো? বডি ক্লিনার…….
মাহির কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই আশফি কথা বলল,
-“যা বলছি তাই করো।
এতো কথা বলবেনা।
-“কি যে চাই ও তা শুধু ঐ জানে।আমি ওনার পুরো শরীরে হাত দিয়ে মালিশ করে দিচ্ছি।আর উনি সুখের আবেশে চোখ বন্ধ করে আরাম উপভোগ করছে।
-“এই তুমি এতো সুন্দর করে মালিশ করো কিভাবে?
-“কিভাবে তা দেখতে পাচ্ছোনা?
-“হুম পাচ্ছি তো।আমার তো এখন আরো অনেক কিছু পেতে ইচ্ছা করছে।
-“তাই?কি কি পেতে ইচ্ছা করছে?
-“তোমার পুরোটাকেই পেতে ইচ্ছা করছে।
-“আচ্ছা?
-“হুম।
-“এভাবে কি তোমার শরীর পরিষ্কার হচ্ছে?
-“হুম।খুব পরিষ্কার হচ্ছে। একটুও জীবাণু থাকবেনা।
-“ও আচ্ছা….তো এখন তোমার অফিসের দেরী হচ্ছেনা?
আশফি মাহির কোমড় ধরে মাহিকে কাছে টেনে নিলো।
-“কি করছো কি?আমার গায়ে সাবান লেগে যাবে তো?আমিও ভিজে যাবো।
-“সুখের জোয়ারে আমি ভিজবো আর তুমি ভিজবে না?
-“মানে?
-“মানে এখন আমি তোমার পুরো শরীরে সাবান মাখবো।
-“এই একদম না।ওদিকে তোমার মেয়ে একা আছে যে।সেদিকে খেয়াল আছে?
-“একা নেই ও।সার্ভেন্ট এর কাছে আছে।
-“আশফি প্লিজ ছাড়োনা। আমি এখন ভিজবোনা।
-“তো কখন ভিজবে, রাতে?
-“হ্যা রাতেই ভিজবো। তখন তো চান্দু ঘুমাবে। তখন আর তোমাকে বারণ করবোনা।
-“আচ্ছা ঠিক আছে। রাতে ও ভিজাবো।আর এখনো ভিজবে।সমস্যা কি?
-“কি?
-“হুম।আমি ওকে শাওয়ার এর নিচে দাড় করিয়ে শাওয়ার ছেড়ে ওকে ভিজিয়ে দিলাম আর আমিও ভিজলাম।
-“কি করলে এটা?
-“এখনো কিছুটা বাকি আছে।
আমি মাহির গা থেকে ওর জামাটা খুলতে গেলাম কিন্তু মাহি আমার থেকে ছুটে গেলো।
-“মাহি এটা কি হচ্ছে? আমার কাছে এসো বলছি।
-“উহুম।
-“আমি কিন্তু এখন রেগে যাবো।
-“রেগে গেলে যাবে।
-“তাও তুমি আমার কাছে আসবেনা?
-“একদমই না।
-“মাহি আমি কিন্তু সত্যি বলছি।আমি যদি রেগে যায় তাহলে তোমার সাথে যে কি করবো তা তুমি বুঝতেই পারছো।
-“শুরু করেছে ব্ল্যাকমেইল করা।এখন যদি আমি ওনার কাছে না আসি তাহলে হয়তো টানা সাতদিন আমার কাছেও আসবেনা। আমি চুপচাপ ওর কাছে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলাম। কিন্তু ও তো অলরেডি রেগে গেছে।আমাকে জড়িয়ে ধরছেনা।আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম,
-“সরি।আমি তোমাকে একটু রাগাতে চেয়েছিলাম।
আশফি রাগ করে মুখটা অন্যপাশে ঘুরিয়ে নিলো। তারপর মাহি আবার বলল,
-“সরি ডিয়ার।আর এমন করবোনা।প্লিজ আমাকে আদর করো।
আশফি কোনো কথা বলছেনা।মাহি আশফির গাল ধরে আশফির ঠোঁটে চুমু খেতে শুরু করলো। কিন্ত তাতে আশফির কোনো রেসপন্স নেই।মাহি ওকে ছেড়ে দিল।তখন আশফি মাহির দিকে তাকালো। মাহি কথা না বলে হঠাৎ করেই গা জামাটা খুলে ফেললো।তখন আশফি পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইলো।মাহির এই কাজ দেখে ওর একটু হাসি পেয়ে গেলো।তবুও হাসলোনা।
মুখ চেঁপে রইলো।এরপরেও আশফির থেকে কোনো রেসপন্স না পেয়ে আশফিকে মাহি বাথরুমের দেওয়ালের সাথে মিশিয়ে ধরলো।তারপর বলল,
-“এই ছেলে তুই আমাকে আদর দিবিনা?কথা বল?
-“এটা কি ধরনের আচরণ?
-“জোড়।জোড় করে আদর নেওয়ার পদ্ধতি।
-“আচ্ছা?জোড় করে কিভাবে আদর নেয়?
-“জানোনা বুঝি?
-“নাহ্।জানিনা তো।
আশফির এমন উত্তর পেয়ে মাহি বুঝতে পেরেছে আশফি আসলে চাইছে মাহি নিজে ওকে আদর করা শুরু করুক আর আশফিকে ফোর্স করুক আদর করতে।মাহি সেটাই করলো।আশফিকে মাহি জড়িয়ে ধরলো।আর আশফির হাতদুটো মাহি নিজেই নিজের কোমড়ের উপর রাখলো।আশফি বুঝতে পেরেছে মাহি ওকে জড়িয়ে ধরতে বলেছে।
আশফি ওকে জড়িয়ে ধরলো।এরপর দুজনেই দুজনকে অসম্ভব ভালোবাসতে শুরু করলো। দুজনের গোসল করা শেষ হলে যখন বাথরুম থেকে বের হলো ওরা তখন মাহি খেয়াল করলো আশফির গলার কিছু জায়গায় রক্ত জমে দাগ হয়ে গেছে।আর আশফিও সেটা খেয়াল করলো ড্রেসিংটেবিল এর সামনে দাড়িয়ে আয়নাতে দেখে।তারপর আশফি মাহিকে বলল,
-“মাহি তুমি এগুলো কি করেছো?
-“আমি ওগুলো ইচ্ছে করে করিনি।
-“হুম।যখন আদর করতে যায় তখন তো দৌড়ে পালাতে চাও।আবার এদিকে যখন নিজে কাছে এসে আদর করা শুরু করো তখন তো কোনো হুঁশ থাকেনা।
-“তুমি আমাকে এভাবে বলছো কেনো?আমি সত্যিই খেয়াল করিনি।
-“সেটাই তো বলছি।যখন আমার কাছে আসেন তখন তো আপনার খেয়াল থাকে শুধু আমাকে আদর করার দিকে।
-“এই তুমি অফিস যাও তো। আর কোনো কথা বলোনা।
-“লজ্জা পাওয়া হচ্ছে?আর আমি কি না খেয়ে অফিস যাবো?আমাকে খাইয়ে দিবে কে?
-“তুমি যেভাবে বলছো তাতে যেকোনো মেয়েই লজ্জা পেয়ে যাবে।
-“ঠিক আছে আর লজ্জা দিচ্ছিনা।এখন আমি এগুলো নিয়ে কিভাবে অফিস যাবো?সবাই এগুলো দেখলে কি ভাববে?
-“সেটা কি আমি জানি? তোমার জিনিস তুমি কিভাবে সামলাবে তা তুমিই জানো।
-“ওহ্।নিজে দাগ বানিয়ে দিয়ে নিজেই কিছু জানোনা।ঠিক আছে,রাতে দেখছি তোমাকে। আজ রাতে তোমার যে কি হাল করবো!একটা জায়গাও ফাঁকা রাখবো না।দেখে নিও।রাতের জন্য তৈরি থেকো।
-“হুহ।
চলবে……….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here