প্রতিশোধ__2 পার্ট__20

প্রতিশোধ__2
পার্ট__20
জামিয়া_পারভীন

___ নিরা বেশ চিন্তিত নুহাশের ব্যপারে, ঠিক তখনি মনে পড়লো নুহাশ চায় সবাই মিলে ছেলের কাছে লন্ডনে থাকুক আর আবির যেতে চাচ্ছেনা। এই জন্যই নুহাশ হয়তো বাবা মায়ের সাথে কথা বলছে না। এ ব্যাপারে কথা বলা লাগবে তখনি নেহা আর আবির ঘরে আসে।

__ কি নিয়ে এতো চিন্তিত, আম্মি। ( নেহা)

__ নুহাশ চাচ্ছে আমরা ওর কাছে গিয়ে থাকি। তোর বাবা চাচ্ছে এখানেই থাকতে, কি যে করি। সেই জন্যেই হয়তো ছেলে আর খোঁজ নিচ্ছে না। ( নিরা)

নেহা এই সুযোগ এ আবির কে বলে
__ চলো না আব্বু, জানোই তো আমার ওই একটাই ভাই। আমরা ওখানেই চলে যায়। ( নেহা)

__ আচ্ছা ঠিক আছে, কিন্তু নুহাশ কে না জানিয়েই যাবো, সারপ্রাইজ দিতে হবে তো । ( মুচকি হেসে আবির বলে)

এই কথা শুনে নেহা নিরা দুজনে ই প্রচুর খুশি হয়।
__ আমার লক্ষ্মী আব্বু, সোনা আব্বু, আমি যে কতো খুশি হয়েছি বলার মতো না। ( নেহা)

__ তোরা দুটো ই তো আমার সব, তোদের মুখের দিকে তাকিয়ে করতে পারি সব। ( আনন্দের অশ্রু আবিরের চোখে)

__ নিরা আবিরের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে আবিরের কাঁধে মাথা রাখে। আবির নেহা কে একপাশে আর নিরাকে একপাশে রেখে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।

,
,
,
তিথি মনিকার সাথে ফ্লাটে আসে, মনিকা রুম খুলছে আর তিথি পিছনে ঘুরেই দেখে নুহাশ। নুহাশ তিথি কে চোখ টিপ দেয়।

__ আ আ আ আ আপনি এএএখানে কেএএনো? ( তিথি)

__ এতো তোতলাচ্ছো কেনো? ( নুহাশ)

__ মা মা মা নে ভুউউ ত দেখলাম তাই। ( তিথি)

__ কোথায় ভুত, স্বয়ং আমি সামনে দাঁড়িয়ে আছি। ( নুহাশ)

দু’জন এর কীর্তি দেখে মনিকা চুপচাপ দাঁড়িয়ে গেছে।

__ কি ব্যপার মনিকা, ভিতরে কি ঢুকা নিষেধ নাকি? ( নুহাশ)

__ না না, মানে হ্যাঁ, আসুন স্যার। ( মনিকা)

___নুহাশ ভিতরে ঢুকার সময় তিথি কে আরেকবার চোখ টিপ দিয়ে গেলো। আসলে নুহাশ আর মনিকা একই ফ্লোরের পাশাপাশি দুইটা ফ্লাটে থাকে । যেহুতু নুহাশ এর আজ অফ ডে তাই মনিকা আর তিথির সাথে আড্ডা দিতে চলে এসেছে। তিথিকে মনিকা একটা রুম দেখিয়ে দেয়। তিথি রুম লাগানো ওয়াশরুমে গিয়ে আগে ফ্রেশ হয় এরপর একটা টাওয়েল পড়ে ই বের হয়ে আসে। এরপর কোন দিকে খেয়াল না করেই ফোন হাতে নিয়ে মা কে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেয় সে সেফ আছে। মায়ের সাথে টুকিটাকি কথা শেষ হতেই খেয়াল করে সোফায় নুহাশ বসে আছে।

____এক পলকে তিথির দিকেই তাকিয়ে আছে। তিথি যে এমন পোশাক এ বের হয়ে আসবে তা নুহাশ কল্পনা করেনি। তিথিকে এতো আকর্ষণীয় লাগছে সেটা বলার মতো না। ভেজা চুল গুলো উপরে খোঁপা করে বাধা, গায়ে শুধু সাদা একটা টাওয়েল। এতে তিথিকে স্বর্গীয় পরির মতো লাগছিলো।

____আবার নুহাশ ও যে তিথির ঘরে আসবে সেটা তিথি ভাবেনি। নুহাশ কে দেখে তিথি জোরে করে চিৎকার দিতে যাবে তখনই নুহাশ তিথির মুখ চেপে ধরতে গিয়ে বেকায়দায় তিথির উপরে নুহাশ পড়ে যায়।

_____বিছানায় পড়ে যাওয়া টা কিছু মনে না করলেও এরপর যা হয়েছে তিথির জন্য মোটেও সেটা ভালো নয়। যখন নুহাশ তিথির মুখ চাপতে যায় তখন নুহাশের পায়ে বেধে তিথির টাওয়েল টা খুলে যায়। নুহাশ তিথিকে এইভাবে দেখে কিছুটা উন্মাদ হয়ে ওঠে। তিথির ঠোঁট এ কিস করে অনেক্ষণ, তিথির ধাক্কায় হুশ আসে নুহাশের। তিথি তাড়াতাড়ি করে উঠে টাওয়েল টা ঠিক করে কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে গিয়ে চেঞ্জ করে আসে।
বাইরে আসে মুখ নিচু করে, লজ্জা লাগছে খুব, কারণ এমন ফিলিংস কখনো হয়নি এর আগে।

নুহাশ তিথিকে গিয়ে বলে

__ আসলে এমন হবে, বুঝতে পারিনি। ভেবেছিলাম তুমি রুমে আছো তাই আসলাম দুষ্টুমি করতে কিন্তু তুমি নেই দেখে ওয়েট করছিলাম। তুমি এই পোশাকে বের হবে বুঝতেই পারিনি। এরপর যা হয়েছে সব অনিচ্ছাকৃত, প্লিজ মাফ করে দাও। তিথির সামনে হাটু গেড়ে বসে মাথা নিচু করে কথা গুলো বলে নুহাশ।

__ তিথির চোখে পানি চলে আসে, অতীত এর স্মৃতি ভেবে, অভি এতো বিরক্ত করেছে একসময়, কিন্তু কখনো ক্ষমা চায়নি অভি। নুহাশের প্রতি কি তাহলে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে তার মনে, এটা কি প্রেম, এমন অস্থির লাগছে কেনো, তিথি কিছুই বুঝছে না। তিথির সম্বিত ফিরে পায়! নুহাশ ওর চোখের পানি মুছে দিচ্ছে। তিথি আর কিছুই না ভেবে নুহাশের বুকে মাথা লুকিয়ে কাঁদতে থাকে।

,
,
,
তৃণার কাছে ফোন আশায় সাইফ একটু সন্দেহ করে তৃণাকে। তাই রুমের দরজা লাগিয়ে তৃণাকে জিজ্ঞাসা করা শুরু করে।

__ দেখো তৃণা, হাজার হোক ওই একটাই তো মেয়ে আমার। ওর সমন্ধে যদি কিছু জেনে থাকো লুকিও না আমাকে। [ সাইফ]

__ তুমি এমন করে ভাবছো কেনো? তিথি কোথায় আছে জানলে কি বলবো না বলো? ( তৃণা)

__ তোমার চোখ বলছে তুমি জানো। ওই চোখের ভাষা আমি পড়তে পারি। ভয় পেয়োনা আমায় সব কিছু শেয়ার করতে পারো। ( সাইফ)

__ অনন্যা আপা হাজার হোক তোমার বোন জানি। কিন্তু আপা আমাদের সাথে কি করেছে তা হয়তো ভুলে যাওনি। ( তৃণা)

__ কি করে ভুলি বলো, সে এতো চালাকি করবে আমার সাথে আমি কি বুঝেছিলাম। অষ্ট্রেলিয়া আসার পর এক অষ্ট্রেলিয়ান মেয়েকে বিয়ে করার চাপ দেয়। তোমার উপর তখন রাগ করে বিয়েতে মত দিই। কিন্তু সেটা অনন্যার চালাকি তা কি বুঝতে পেরেছিলাম। বিয়েএ রেজিস্ট্রেশন পেপার এর নামে আমার নামের সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নেয়। এইসব যখন জানতে পারলাম তখন আমার পাশে শুধু তুমিই ছিলে। এরপর আমার এতো দূর আশা আমার যোগ্যতার জন্য। চেম্বার থেকে যা আসে সেটা দিয়েই তোমার আমার সংসার চলেই যাচ্ছে। যে বোনের জন্য তোমার সাথে জঘন্য কাজ করেছিলাম সেই বোনের বেইমানী আমি সত্যিই মেনে নিতে পারিনি। এরপর তোমার বেবি হবার সময় তোমাকে আঘাত করে যার জন্য তোমার জীবন মরণ সংকট হয়েছিলো । ডক্টর তো বলেই দিয়েছিলেন তুমি বাঁঁচবে না। সেইসব দিন গুলি এতো করুণ ভাবে পার করেছি এখনো মনে পড়লে গায়ে কাঁটা আসে। ( সাইফ)

__ তখন দেখেছিলাম তুমি আমায় কতো টা ভালোবাসো। আমাকে OT তে ঢুকানোর সময় তুমি খুব কেঁদেছিলে। এরপর তোমার দোয়া আর আল্লাহর রহমত এ আমি, আমার মেয়ে দুজনেই সুস্থ হই কিন্তু পরবর্তী মা হবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। তুমি তাও সব সময় আমাকে সাপোর্ট দিয়েছো। সব সময় হেল্প করেছো। আমাদের একমাত্র আশার আলো তিথি কে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি দুইজনে। কিন্তু এতো কিছু করার পর ও তুমি তোমার বোন আর বোনের ছেলেকে রেখে দিলে। আর সেই অভি আমার স্বপ্ন আমার মেয়ে তিথিকে উত্তক্ত করেছে। মা হয়ে মেয়ের কষ্ট কিভাবে সহ্য করি বলো? মেয়েটা অভি কে চায় না, অভির খারাপ নেশা আছে। প্রতিশোধ এর আগুনে জ্বলতে জ্বলতে আমাদের দুই বোনের জীবন টা ছারখার হয়ে গেছে। বাবা, মা, বোন কোথায় আছে কিছুই জানিনা, বেঁচে কি মরে গেছে কিছু ই জানিনা। আমি চাইনি আমার মেয়ের জীবন এমন নরক করতে। তাই সে লন্ডন যাবার সব ব্যবস্থা করেছিলো। আমি ওকে পাঠিয়ে দিয়েছি। খুব ভালো আছে তিথি, ফোন দিয়ে জানালো মাত্র। ( তৃণা)

সাইফ আর তৃণা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে এমন সময় অনন্যা আর অভি এসে হাজির।

__ আরে মামু, তিথি কোথায় গেছে সব জেনে গেছি। এখুনি এয়ারপোর্ট থেকে খবর পেয়েছি, আর এখন দেখছি তোমাদের ই চাল এইসব। ( অভি)

__ মেয়েকে পাঠিয়ে দিয়েছিস ভালো কথা, আমরা কি তুলে আনতে পারিনা নাকি। ( অভিকে অনন্যা বলে)

__ কেনো নয়, টিকিট তো কেটেই এসেছি এখন শুধু ফ্লাইট এর অপেক্ষায়। ( অভি)

বলেই পিশাচ হাসি দিয়ে বের হয়ে গেলো অভি আর অনন্যা।

__ এখন কি হবে সাইফ? ( তৃণা)

__ আমরাও যাচ্ছি, এক্ষুনি টিকিট কনফার্ম করছি ওয়েট। ( সাইফ)

,
,
,
নেহা আর বৌভাত এ এটেন্ড করেনি মুরাদ নামক ওই ছেলেটা র ভয়ে। নেহা লন্ডনে যাবার খুশিতে মাতোয়ারা হয়ে আছে। মুরাদ সব খোঁজ খবর নিয়ে নেয়। নেহা কোথায় যাচ্ছে, কি করছে সব কিছুই। খোঁজ নিয়ে মুরাদ নিজের জন্যও টিকিট নিয়ে নেয় আর ওর মা বাবাকেও আসতে বলে।
,
,
,

মনিকা দরজায় টোকা দিতেই নুহাশ আর তিথি একে অপরের থেকে সরে আসে। কতোক্ষন যে এভাবে জড়িয়ে ধরে ছিলো দুজনের ই অজানা। তিথি দরজা খুলে দিতেই মনিকা বলে

__ একদিনেই এতো ভাব দুজনের, আমাকে তো ভুলেই গেলেন সবাই ( ভিতরে ভিতরে জ্বলছে)

__ আসলে গল্প করছিলাম তাই। নতুন মানুষের সাথে কথা তো হতেই পারে তাইনা ? ( তিথিকে চুপ থাকতে দেখে নুহাশ বলে)

__ ওহহহহ! তাহলে সরি, ডিস্টার্ব করে ফেললাম, মাফ করবেন। ( আর কথা বলার সুযোগ না দিয়েই বের হয়ে আসে মনিকা)

__ আরেএএএ, মনি, যাহ চলেই গেলো, আরে এতে রাগ করার কি আছে বুঝলাম না তো? ( নুহাশ)

__ ও হয়তো আপনাকে চয়েস করে কিন্তু আপনি অন্যের সাথে, তাই জেলাস ফিল করছে। ( তিথি)

চলবে………

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here