ছায়া_পার্ট_6 (শেষ)

ছায়া_পার্ট_6 (শেষ)

জামিয়া_পারভীন

নয়ন আর মিরা গোরস্তানের দিকে যাচ্ছে, মাসুদের ছায়া ও পাশে আছে নইলে মিরা ভয় পাবে এটা জানতো মাসুদ। আর নয়ন ও অনেক টা ভয় পাই, শুধুমাত্র মিরার জন্য এই ঝুকি নিতে বাধ্য হয়েছে সে। মাসুদ নিজেই দেখিয়ে দিলো তার কবর কোনটা। এই গোরস্থানটা অনেক পাহারা দেয়া থাকে তাই খুব সাবধানে কবর খুড়ছে নয়ন। অমাবস্যা রাত হওয়াতে কিছুই দেখা যায়না, চারিদিকে আধার। কবরের মাটি সরিয়ে, বাশ গুলি সরিয়ে লাশ টা দেখলো মিরা আর নয়ন। কথা মতো মিরাকেই তাবিজ টা খুলতে হবে, কিন্তু মিরা খুব ভয় পাচ্ছে, তাও সে লাশের কাফন সরায়। মাসুদের মুখ টা দেখতে পায় মিরা তখন খেয়াল করে মাসুদ এর ছায়া আর পাশে নাই। তাবিজে হাত দিতেই লাশ টা মিরার হাত ধরে ফেলে আর চোখ খুলে তাকায়। মিরা তাও তাবিজ ছাড়েনা, শক্ত করে ধরে থাকে। হটাৎ মিরার মাথায় খুব জোরে আঘাত লাগে, মিরা বুঝতে পারে তান্ত্রিক এর জ্বীন মাথায় আঘাত করেছে এতে মিরা নয়নের গায়ে পড়ে গেলেও তাবিজ থেকে হাত সরায় না।

“এই তাবিজ খোলা কি এতো ই সহজ, কি ভাবছিলি আমরা তোকে খেয়াল করছিনা ” তান্ত্রিক বলে।
আমরা তোকে ভয় পাইনা বলেই নয়ন দোয়া পড়তে শুরু করে এতে তান্ত্রিক এর যাদু অনেক টা দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন মিরার হাত দিয়ে ধরেই নয়ন তাবিজ টা টেনে খুলে নেয়। ততোক্ষণে আসগরের বুকে ব্যথা শুরু হয়ে গেছে, সেও এসেছিলো তান্ত্রিক এর সাথে। তান্ত্রিক বলে এবার আর তোমার রক্ষা হবেনা আসগর যদি না তুমি ওই তাবিজ নিতে পারো। ততোক্ষণে এলাকাতে বেশ সাড়া পড়ে গেছে, অনেক মানুষ জড় হয়ে গেছে। আসগর বুঝে নেয় এবার তাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। নয়ন মিরার হাত দিয়েই তাবিজ টা তুলে এনে সাথে থাকা গ্যাস লাইট দিয়ে তাবিজে আগুন দেয়। তখন মিরার জ্ঞান ফিরে আসে, মিরা আকাশের দিকে তাকাতেই মাসুদের ছায়া কে দেখে। ছায়া টা যেন অনেক হাসছে তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য, মিরাও একটু হাসে, ছায়া টা বিলীন হয়ে যায়।

তখন খেয়াল করে আসগর মাটিতে পড়ে আছে, বুঝতে বাকি নাই যে আসগর মারা গেছে। এলাকাবাসী তান্ত্রিক কে বেধে ফেলে তখন পুলিশ কেও ডাকে তারা। মিরা, নয়ন আর কবিরাজ তিনজনে মিলে তান্ত্রিক এর সব অপকর্ম এর কথা বলে। মাসুদের লাশ দেখেই সবাই বুঝে ফেলে আসল অপরাধী কে। সেই অপরাধে আলতাফ হোসেন কে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় আর আসগরের লাশ ও মর্গে নিয়ে যায়।

রাত কাটতে বেশি বাকি নেয়, মিরার বিয়ে না হলে মিরাও মারা যাবে। নয়ন আগেই মিরার বাবা, মা কে ফোনে ডেকে নেয়। তারাও চলে আসে গোরস্থানে, মিরাকে আজ রাতেই বিয়ে দিতে হবে এটা কবিরাজ বলে সময় মাত্র ১৫ মিনিট আছে ফজরের আজানের আগেই বিয়ে দিতে হবে। কবিরাজ মশাই আগেই কাজী ডেকে রেখেছিলেন, তার মাধ্যমেই নয়ন আর মিরার বিয়েটা হয়ে যায়।
বিয়ের পর সব বিপদ কেটে গেলেও মাথা টা মাঝে মাঝে ঘোরে। তার নিজেকেই দোষী ভাবে মাসুদের জন্যে, অল্প সময়ের পরিচিত হওয়া ছায়া কে খুব মিস করে সে। তিন বছর পর মিরা আর নয়নের এক ছেলে হয়, নাম রাখে মাসুদ। মাসুদ এখনো বেচে আছে মিরার কল্পনায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here