ছায়া_পার্ট_৪

ছায়া_পার্ট_৪

জামিয়া_পারভীন

মাসুদ নিজের কথা বলতে শুরু করে…
মাসুদের জন্ম কোথায় তা সে জানে না। ছোট বেলা থেকেই এতিমখানা তে বড় হয়। ব্রিলিয়ান্ট হওয়াতে এতিমখানা এর মালিক তাকে নিজ দায়িত্ব তে নিয়ে নেয় আর হাফিজিয়া মাদ্রাসা তে ভর্তি করে। সে সেখানে ই হাফেজ হয় পরে তাকে আর পড়াশোনা না করিয়ে হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে রেখে দেয় মালিক আলতাফ হোসেন।

মানে কোন আলতাফ হোসেন, আমার শ্বশুর মশাই। ঠিক বলেছো তুমি, আমিই সেই ছেলে যাকে তোমার শ্বশুর মশাই নিজ ছেলের মতো করে বড় করেছেন।

এরপর কি হলো, আমি কিছুই ভাবতে পারছিনা। মাসুদ সব দুশ্চিন্তা কমিয়ে দিতে বলে আমাকে আর বলতে শুরু করে যে মালিক অনেক ভালোবাসতেন তাকে, একেবারে নিজ সন্তানের চেয়েও বেশি যত্ন করতেন। নিজ সন্তান দের থেকে কখনো আলাদা চোখে দেখেন নি তিনি। যেদিন মেজো ভাই, মানে উনার সব সন্তাদের ছোট ছিলাম আমি তাই তাদের ভাই বলেই ডাকতাম, মেজো ভাইয়ের বিয়ের দিন আমি ছিলাম না। খুব কাজ এর জন্য আসতে পারিনি তাই তোমায় আর দেখা হয়নি আসলে। তুমিইই সেই ভাগ্যবতী মেয়ে যাকে ভাবি হিসেবে পাই। কিন্তু মেজো ভাই এর চরিত্র খারাপ ছিলো ছোট থেকেই। আসগর ভাই ছোট থেকেই নারীর নেশা ছিলো। সে কথা আমি জেনেও কাউকে বলিনি কখনো, ভাই বলে সম্মান করে গিয়েছি সব সময়।
ছিঃ মানুষ না আসলেই জানোয়ার এর পর্যায়ে তোমার ভাই। হুম হয়তোবা ঠিকই বলেছো, সেই জন্যই হয়ত বিয়ের দিন আমায় ডাকেনি বা আমাকে ব্যস্ত করে রাখা হয়েছিলো। জানলে হয়তো একটা মেয়ের জীবন নস্ট হতে দিতাম না।

হয়তো আল্লাহ আমার বড় পরীক্ষা নিচ্ছেন তাই আমি এই বিয়েতে বাধ্য হই। নইলে হয়তো অন্য রকম হতে পারতো আমার জীবন টা। হুম তোমায় প্রথম দেখি তোমার বিয়ের ৩ দিন পর। কি অত্যাচার টাই না করছিলো তোমার উপর, কিন্তু সেদিন কিছুই বলার সাহস হয়নি। তুমি আসলেই অনেক সাহসি তাই সংসার ত্যাগ করতে পেরেছো।

সাহসী কিনা জানিনা, তবে অন্যায় কখনো মেনে নিতে পারিনি আর কখনো মেনে নিবোও না। তার মুখোশ আমি খুলেই ছাড়বো, প্রয়োজন এ তাকে খুন করে নিজে জেলে যাবো।

না তার প্রয়োজন হবেনা, কবিরাজ যা বলেছে তাই করো তাহলেই হবে। কিন্তু তোমাকে হত্যা করলো কেনো সেটা না শুনে আমি তোমার আত্মা কে মুক্ত করতে পারিনা। আমার আত্মা কে একটা জ্বীনের শরীর এ প্রবেশ করানো হয়েছে আর সেই জ্বীন তোমার যেকোনো মুহুর্তে ক্ষতি করতে পারে। এবার মিরা খুব ভয় পেয়ে যায়। আমার নাম মিরা, বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে ছিলাম, ভাইয়ের আদরের বোন। কিন্তু আজ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
চলবে……

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here