ছায়া পার্ট2

ছায়া পার্ট2

#জামিয়া_পারভীন
রাতে বাসায় আসলাম, খাওয়া দাওয়া করে আবারো গল্প পড়ার নেশা থেকে গল্প পড়া শুরু করি। খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ি আমি। হটাৎ সামনে খেয়াল করি মাসুদ দাঁড়িয়ে আছে। আমি চিৎকার করার আগেই মাসুদ আমার মুখ চেপে ধরে আর বলে চুপ ভয় পেয়ো না, আমি তোমার ক্ষতি করবোনা। একটু সাহস নিয়ে বলি কে আপনি, সে বলে আমি মানুষ না জ্বীন। আমাকে প্রথমে পাঠানো হয়েছে তোমাকে হত্যা করতে কিন্তু তোমার এতো সুন্দর নিষ্পাপ চেহেরা দেখার পর আমি আর তা পারিনি। আমাকে হত্যা করতে চান কেনো? কে ই বা আপনাকে পাঠালো আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা একটু বুঝিয়ে বলবেন কি? এতো ভয় পাচ্ছো কেনো? বলে মাসুদ, সে পরে হবে আগে বলো তো তুমি কি কারোও ক্ষতি করেছো কখনো।

নিজ স্মৃতি মনে করতে থাকি কি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে আমার জীবনে। মাসুদ আমাকে চুপ থাকতে দেখে বলে কি হলো সাড়া দাও আমি তোমার কথা শুনতে চাই। আমি বলতে শুরু করি….

আমি স্বেচ্ছায় কারোও কোন ক্ষতি করিনি করলেও সেটা নিজ অজান্তে হয়ে গেছে তাই হয়তো বিপদ আমার পিছু ছাড়ছে না।
হুম তুমি ভুল করেছো বিয়ে করে, যদি বিয়ে টা না করতে তাহলে কেউউইই তোমার ক্ষতি করতো না। কিভাবে আটকাটাম বিয়েটা, আমি তো মেয়ে, সবার কথা শুনতেই বাধ্য, আমার নাই কোন স্বাধীনতা, নাই বা আছে কোন ডিসিশন নেয়ার অধিকার, সবাই যে যার মতো আমার উপর বোঝা চাপিয়ে দেয় সেটা মানতে পারলে আমি ভালো নইলেই আমি যে খুব খারাপ।
আমি সেদিন ই তোমার সামনে আসিনি জানো, আমি তোমার পাশে আছি প্রায়ই এক মাস থেকে, বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়ে তোমাকে বশে আনার কথা ছিলো আমার, এরপর তোমাকে হত্যা করার কথা ছিলো কিন্তু পারিনি কেনো জানো। তোমার কষ্ট আমাকে খুব ব্যথিত করেছে। তুমি প্রথম থেকেই সব কিছুই বলো আমি তোমাকে সাহায্য করতেও পারি।

আমি আবার ও বলা শুরু করি…
আমি একজন কে খুব ভালোবাসতাম, নিজের চেয়েও বেশি কিন্তু সব ভালোবাসা বুঝি কপালে থাকে না। হটাৎ বিয়েটা ঠিক হয় এক দিনের মাঝেই, আমি বাসা থেকে পালাতে চেয়েও পালাইনি শুধু মা বাবার সম্মানের কথা ভেবে কিন্তু এ বিয়ের পরিণাম যে এতো খারাপ হবে তা জানলে বিয়ে করতাম না। বিয়ে টা হয়েই যায়, এক বুক কষ্ট বুকে পাথর চাপা দিয়ে স্বামীর সংসার এ যায়। সেখানে স্বামীর ভালোবাসা না পেয়ে পাই অপমান আমি মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির মেয়ে বলে।

এরপর শুরু হয় শারীরিক, মানসিক নির্যাতন। সবটা সহ্য করতে না পেরে কিছুদিন সংসার করে চলে আসি বাসায়।
কিন্তু আমি গরীব ঘরের তো কি হয়েছে আমি শিক্ষিত সেই জন্য বলে আসি নিজের পেটের খাবার নিজেই করে নিতে পারবো আমি কারো অপমান নিতে পারবোনা। এই কথা টাই হয়ে যায় কাল, এরপর থেকেই একের পর এক প্রব্লেম এ পড়েছি আমি আর সব শেষ এ আপনি এলেন সামনাসামনি আমাকে হত্যা করতে কি দোষ আমার, আমি মেয়ে বলে আজ আমাকে হত্যা করবে শুধু তারা ধনী বলে। টাকা আছে বলে টাকা দিয়ে কবিরাজ পুষে সেই কবিরাজ থেকে জ্বীন দিয়ে আমায় মেরে তাদের কি লাভ। আমি তো আর আমার আগের ভালোবাসার কাছে ফিরে যায় নি, শুধু শান্তি মতো বাচতেই চেয়েছিলাম।

এবার মাসুদ বলে হয়েছে থাক আর আজ কথা বলা সম্ভব না। আমাকে আজ যেতেই হবে, আর তুমি সাবধান এ থাকবে দুই টা দিন। এই দুইদিনের মাঝে বড় কিছু ঘটে যেতে পারে।

এতোক্ষণ বাসার সবাই আমাকে একা একা কথা বলতে দেখে আর মাসুদ কে তারা দেখতে না পেয়ে ভাবে আমি পাগল হয়ে গেছি। পরদিন আমাকে আমার পরিবার এর লোক জোর করে সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে নিয়ে যায়। কিন্তু আমি তো জানি আমার কিছু হয়নি আর সেখানে গিয়েই ঘটে গেলো আরোও বিপদ।

চলবে…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here