ঝগড়াটে_ভালোবাসা _পর্ব_৪

0
224

ঝগড়াটে_ভালোবাসা
_পর্ব_৪
Written by Avantika Anh
রাতে এফ বি তে….
মেঘ বালক অনলাইন দেখলাম । আমার মেসেজের রিপ্লাই ও দিয়েছে ।
মেঘ বালক- মনে হলো আপনাকে হুতুম পেঁচা লাগছে ।
আমি- বললেই হলো
মেঘ বালক- বললে যদি সব কিছু হতো তাহলে তো হতোই ।
আমি- মানে ??? বুঝি নি ।
মেঘ বালক- পিচ্চি মানুষ তো বুঝবেন ই না
আমি- ইইইই কে কইছে আমি পিচ্চি?
মেঘ বালক- তা কি বুড়ি ?
আমি- না আমি পেত্নি ।
মেঘ বালক- আচ্ছা মিস পেত্নি ।
আমি- দুরররর
.
অফলাইন হলাম আমি । রাত হয়েছে তাই ঘুমিয়ে পড়লাম । সকালে দেখি আমার গায়ে পানি ঢালতেছে শুভ ভাইয়া কিন্তু কেমনে সম্ভব আমি তো দরজা লাগাইছিলাম । এমা আমার হাত বাঁধা । পা দিয়া ভাইয়ারে লাথ মারলাম ।
.
শুভ- হেহে কাল কি করছিলি মনে নাই ?
আমি- তাই বলে তুই এমনে ?
শুভ- হ
আমি- কিন্তু ভিতরে ঢুকলি কেমনে ?
শুভ- জানালা দিয়ে
আমি- এরপর থেকে অফ রাখবো ।
শুভ- আমি তবুও ঢুকবো ।
আমি- কেমনে সম্ভব ?
শুভ- সব সম্ভব
আমি- দুররর হাত খুল
শুভ- আরও এক বালতি ঢালুম তারপর ।
আমি- কিইইই দ্বারা মামনি কে ডাকমু ।
মাম….
.
( মুখে হাত দিয়া আটকায় দিলো শুভ ভাইয়া )
শুভ- ডাকিস না রে সরি
আমি- খুল
শুভ- দ্বারা
.
যেই খুললো পাশে থাকা এক বালতি পানি শুভ ভাইয়ার গায়ে আমি ঢালে দিলাম ।
শুভ- হারামি
আমি- ইটস আনহা নট হারামি
শুভ- কুত্তি
আমি- আমি মানুষ
শুভ- তুই তো মানুষ ই না তুই পেত্নি
আমি- কইলেই হইলো
শুভ- হ
.
আমি- হুরর হালা আমার এখন ঠান্ডা লাগবে
শুভ- মাঝে মাঝে ঠান্ডা লাগা ভালো ।
আমি- দুর হ
শুভ- ১০ টায় যাবি বিদায় অনুষ্ঠানে
আমি- হু
.
তারপর রেডি হয়ে শুভ ভাইয়ার সাথে গেলাম ।
.
এক কাউকে চিনি না দুই‌ সব কেমনে জানি তাকায় আছে ।
.
আমি- ওই আমাকে কি ভুতনি লাগছে ?
শুভ- হ
আমি- সিরিয়াস
শুভ- হ সত্যি ভুতনি লাগছে
আমি- এই জন্য আমি শাড়ি পড়ি না ।
শুভ- হেহে ভালোই লাগছে
আমি- মিছা কথা বলতেছিস
শুভ- সত্য বললেও‌ দোষ । হ তুই পেত্নি
আমি- ও তাইলে সিওর যে ভালাই লাগতাছে থেংকু
শুভ- কেউ আমারে মাইরালা
আমি- দ্বারা চাকু আনি
শুভ- চাকু দিয়া কি করবি ?
আমি- কেনো তোরে মাইরালাম ।
শুভ- কুত্তি
আমি- হিহি
শুভ- আয় সেল্ফি তুলি
আমি- না
শুভ- আমি তো তুলুম ই ।
আমি- হুরররর
.
.
কিছু সময় পর শুভ ভাইয়া তার বন্ধুদের সাথে কথা বলতে গেলো আমি একা বসে ছিলাম । কিছু সময় পর একটা ছেলে কই থেকে এসে পাশে বসলো ।
ছেলেটি- হাই আমি সজিব তুমি?
আমি- নাম জেনে কি করবেন ?
সজিব- Cool attitude . I like this .
আমি- ও
সজিব- তুমি খুব কিউট
আমি- থেংকু
সজিব- কিসে জানি পড় ?
আমি- টেবিলে
সজিব- তুমি অনেক ফানি
আমি- ওওওও
সজিব- এই তোমার নাম্বার টা দেও না‌
আমি- আমার ফোন নাই
সজিব- এড্রেস?
আমি- এই মাটিই আমার ঠিকানা
সজিব- এই বলো না
আমি- নাম আনহা এইচএসসি দিবো সামনে আর কিছু?
সজিব- ওয়াও নাম্বার টাও দেও না ।
.
.
(রাগ উঠে গেলো । যেই জবাব দিতে যাবো শুভ ভাইয়া এলো )
.
শুভ- কে এই ছেলে ?
সজিব- আমি সজিব তুমি কে ?
আমি- আমার বর সে ।
শুভ- এ্যা
আমি- জানু কই গেছিলা তুমি ?
সজিব- নাইস কাপল (সজিব কেটে পড়লো)
.
.
শুভ- কি রে কি কইলি এইটা?
আমি- আরে‌‌ ওই পোলা চিপকু ছিলো । বাঁচার জন্য মিথ্যে বললাম ।
শুভ- হাহা ব্রিলিয়ান্ট বউ আমার ?
আমি- কে তোর বউ ?
শুভ- কেনো তুই ।
আমি- আমার ঘাট হয়েছে । কেন যে তোরেই কইলাম । এখন মজা নিচ্ছিস
শুভ- কেনো বউ?
আমি- ওই আমি কিন্তু চলে যাবো ।
শুভ- হুর মজাও নেওয়া যায় না ।
আমি- হিহি
.
.
.
বিদায় শেষে বাড়ি ফিরলাম…
তার ২ দিন পর আমি বাড়ি চলে এলাম । ছুটি শেষ তাই । যাওয়ার আগে সবার মন খারাপ ছিলো কিন্তু শুভ ভাইয়া কেনো জানি সামনে আসে নি সেদিন । প্রতিবা‌রই এমন হয় । আমি ফিরার সময় শুভ ভাইয়া আর সামনে আসে না ।
.
.
আমি আবার সেই আগের মতো ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। ১ মাস পরে খবর পেলাম শুভ ভাইয়ার বিয়ে । হঠাৎ বিয়ের কারণ কি জিজ্ঞেস করতে মামনি বললো ভাইয়ার বিদেশ যাওয়ার আগেই নাকি বিয়ে দেওয়া দরকার ।
.
গিয়েই…
আমি- কি রে বিয়ে করতেছিস যে ?
শুভ- তোর কোনো সমস্যা ?
আমি- না সরি
শুভ- যা এখান থেকে
আমি- আচ্ছা
.
হঠাৎ শুভ ভাইয়ার এমন ব্যবহারের কারণ কি বুঝলাম না । সেদিন রাতে আবার কথা বলতে গেলাম ।
আমি- তুই দিনদিন ভুত হচ্ছিস ।
শুভ- হইলে হবো তোর লাগে নাকি ?
আমি- না মানে
শুভ- কি মানে মানে কিছু বলার থাকলে বল নইলে যা । জ্বালাবি না একদম ।
আমি- আচ্ছা সরি ।
.
এই কথা গুলো শুনে চলে এলাম । শুভ ভাইয়া কোনোদিন আমার সাথে এমন ব্যবহার করে নি । কেনো যে হঠাৎ এমন হলো ।কেঁদে ফেললাম কিন্তু নিশ্চুপ ভাবে ।
.
চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here