My_Mafia_Boss পর্ব-৪০

0
246

My_Mafia_Boss পর্ব-৪০
Writer:Tabassum Riana

সানিয়া কাছে আসতেই ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো রোয়েন।Don’t dare সানিয়ার দিকে আঙ্গুল তুলে দাঁতে দাঁত চেপে বলল রোয়েন।রুমে এনেছি তোকে জাস্ট আমার বৌকে শিক্ষা দেয়ার জন্য।তোর ওপর কোন ইন্টারেস্ট নেই আমার।সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়।সকাল বেলা বৌর সামনে মুখ খুলবিনা।টাকা দিয়েছি সো মুখ বন্ধ।রাগী গলায় বলল রোয়েন।আচ্ছা স্যার বলে সানিয়া সোফায় শুয়ে পড়লো। ফোন বের করে কাজের লোককে কল দিলো রোয়েন।হ্যালো রুহী খেয়েছে কিছু?না স্যার ম্যাম খায়নাই।ওনার হাত বান্ধা তাই খাইতে পারেনাই।খাওয়া নিয়া গেছিলাম।একনাগাড়ে বলে ফেলল কাজের লোকটি।খাওয়া নিয়ে যাও।ওর হাত খুলে দিও।খেতে না চাইলে আমার নাম বলবা। দাঁতে দাঁত চেপে বলল রোয়েন।জি স্যার।ফোন কেঁটে দিয়ে ল্যাপটপ নিয়ে বসলো রোয়েন।রুহী খুব কাঁদছে।হাত ছুড়াছুড়ি করছে দড়িটাকে ছিড়ে ফেলার জন্য।রোয়েনের চোখ বেয়ে অনবরত অশ্রুজল গড়িয়ে পড়ছে।কাজের লোকটা রুহীর রুমে খাবার নিয়ে ঢুকলো।খাবারের ট্রে নিয়ে টেবিলের ওপর রেখে হাত পায়ের বাঁধন খুলে দিলো।খাবারের ট্রে নিয়ে রুহীর সামনে রাখলো লোকটা।ম্যাম খেয়ে নিন।না খাবোনা কাঁদতে কাঁদতে বলল রুহী।ম্যাম স্যার রাগ করবেন।না খাবোনা। প্লেট সরিয়ে দিলো রুহী।ম্যাম আপনি না খেলে স্যার জব থেকে বের দিবো আমারে।রুহী আর কিছু না বলে প্লেট হাতে নিতেই খুব ব্যাথা হতে থাকে।প্লেট হাতে নিতে পারছেনা ব্যাথায়।খুব কষ্টে একটু খেয়ে নিলো রুহী। ট্রে তে রাখা ঔষধ গুলো খেয়ে নিলো রুহী।রোয়েন কি করছে মেয়েটাকে নিয়ে?ওনি কি কিছু করবে মেয়েটাকে?করতেই পারে, সে তো আর আমাকে ভালবাসেনা। ভাবতে থাকে রুহী।রোয়েন সারারাত ল্যাপটপের সামনে বসে ওর মায়াবতীকে দেখে কাঁটিয়েছে। দেখার কোন শেষ নেই।আজ যখন দেখেছিলো ইচ্ছে করছিলো বুকের সাথে জড়িয়ে নিতে।কিন্তু খুব রাগ হচ্ছিলো রুহীর ওপর।রুহী রোয়েনের রুমের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে।পরদিন সকাল ঘুম থেকে উঠতে নিয়ে ও পারেনা রুহী।শরীর প্রচন্ড ব্যাথা করছে।জায়গায় জায়গায় নীল হয়ে গেছে।রোয়েন রুহীকে দরজার কোনা দিয়ে দেখে নিচে নেমে এলো।শোন দুধে হলুদ মিলিয়ে রুহীর রুমে নিয়ে আসো।কাজের লোককে বলল রোয়েন।একটি প্লেটে স্যান্ডুইচ নিয়ে কাজের লোকটির হাতে দিলো রোয়েন।ম্যামকে দিয়ে আসো।লোকটি নাস্তা নিয়ে রুহীর রুমে চলে এলো।রুহী ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে টেবিলের ওপর নাস্তা দেখতে পায়।নাস্তা খেয়ে খাটে বসে থাকে রুহী। এভাবে বেশ কিছুদিন চলে যায়।রুহী এখন প্রায় সুস্থ।রোয়েন ঐদিনের মতো আরো ২ তিনদিন মেয়ে এনেছে রুহীকে দেখিয়ে দেখিয়ে।রুহী নিঃশব্দে চোখের জল ফেলেছে।

সকাল বেলা মর্নিং ওয়াক থেকে ফেরার সময় পিছনের দরজায় একটা বক্স দেখতে পায় রোয়েন।বক্সটির কাছে এগিয়ে যায় রোয়েন।বক্সটির মলাট কালো।সেখান ১৩.১২.২০১৮ তারিখ দেয়া।যেদিন বিয়ের সময় ভেগেছিলো রুহী।রোয়েন কিছুটা চিন্তায় পড়ে যায়।বক্স নিয়ে ভিতরে ঢুকতেই রুহীকে দেখতে পায় রোয়েন।রোয়েনকে দেখে মাথা নিচু করে সরে যায় রুহী।রোয়েন চুপচাপ রুমে চলে আসে বক্সটি হাতে নিয়ে। রুমে এসে দরজা লাগিয়ে খাটে বসে বক্সটি খুলে ফেলে রোয়েন।কয়েকটি ছোট সাদা প্যাকেট।সেখানে সাদা গুড়া আছে।রোয়েন ঘ্রান নিতেই বুঝে এটা ড্রাগ।রোয়েন চটজলদি ১৩ই ডিসেম্বরের ফুটেজ দেখতে ল্যাপটপের সামনে বসে পড়ে।ডার্ক গ্রুপের একটা গাড়ি গেটের সামনে এসে থামলো। সেখান থেকে একজন বেরিয়ে এসে বক্সটি রেখে চলে গেল।ভিডিও দেখতে দেখতে রোয়েন একজায়গায় এসে থেমে যায়।রুহী দরজায় কান দিয়ে কি যেন শুনে কাঁদছে।রোয়েন ভলিওম বাড়িয়ে শুনতে পায় আনিলা বেগমের কথা।রুহী কাঁদতে শুরু করেছে।রোয়েনকে ভালবেসে ফেলেছে ও কিন্তু রোয়েন ওকে কিনে এনেছে আর ও বলছে রোয়েন ভালবাসেনা রুহীকে।ফ্লোরে বসে বাচ্চাদের মতো কাঁদছে রুহী।কিছুক্ষন পর রুহী শাড়ীতে আঁচল খুলতেই রোয়েন ল্যাপটপ অফ করে দেয়।রুহী হাঁটতে হাঁটতে একটা রুমের সামনে এসে দাঁড়ায়।এ রুমে কখনো আসেনি ও।দরজা খুলতেই রুহীর চোখ ছানাবড়া।পুরো রুম গোলাপ ফুলে সাজানো।ফুল গুলো কালো হয়ে গেছে।ফ্লোরে লাল গোলাপ ফুলকে হার্টের মতো বানানো হয়েছে মাঝে সাদা ফুল দিয়ে I love you Ruhi লেখা।ফুলদিয়ে পুরো রুম সাজানো।রুহীর মাথা কাজ করছেনা।এসব কি?ফ্লোরের সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ফ্লোরে বসে পড়েছে রুহী খেয়াল নেই।কিন্তু ও যা শুনেছিলো মামীর কাছে সেটাকি?রুহীর চোখ জোড়া ভরে আসে।যদি রোয়েন ওকে কিনেই নেয় তাহলে এগুলো কি?এগুলো কি মিথ্যা হতে পারে?রুহী মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরে কাঁদতে থাকে।রোয়েন ল্যাপটপ রেখে উঠে দাঁড়ায়। হাত মুঠ করে আছে রোয়েন।আনিলা বেগম কে শাস্তি দিতে পারলে শান্তি হতো ওর।শার্ট পাল্টে কালো কোট আর প্যান্ট পরে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় রোয়েন আফজাল সাহেবের বাসার উদ্দেশ্যে।গাড়িতে বসে ফোন বের করে অবন্তীর নম্বরে কল করে রোয়েন।হ্যালো ভাইয়া বলুন।একটু আপনার হাসবেন্ড কে নিয়ে বাসায় আসুন।রোয়েন বলে উঠলো।সব ঠিক আছে তো ভাইয়া? কিছুটা চিন্তিত হয়ে প্রশ্ন করে অবন্তী।সব ঠিক আছে।প্লিজ নিয়ে আসুন। গম্ভীর গলায় বলল রোয়েন।জি আসছি।শান্ত গলায় বলল অবন্তী।রোয়েন ফোন কেঁটে গাড়ি স্টার্ট দিলো।রুহী আস্তে আস্তে রুম থেকে বেরিয়ে আসে।চোখের পানি মুছে রুমে চলে আসে রুহী।

কলিংবেল বাজতেই আনিলা বেগম দরজা খুলে দেয়।রোয়েন অানিলা বেগমের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে ভিতরে ঢুকে।মামা কই? রাগী গলায় প্রশ্ন করলো রোয়েন।অানিলা বেগম ভয়ে ভয়ে বলে উঠে ডেকে আনছি।ভিতরে চলে যায় আনিলা বেগম।ঘুমন্ত অাফজাল সাহেবকে ডেকে তুলে।কি হলো?ঘুমঘুম চোখে জিজ্ঞেস করে অাফজাল সাহেব।র র রোয়েন এ এ এসেছে।তোঁতলিয়ে বলে অানিলা বেগম।রোয়েন এ মুহূর্তে? কিছুটা অবাক হয়ে আফজাল সাহেব বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে।ড্রয়িং রুমে বসে আছে রোয়েন অানিলা বেগম বলে উঠে।আফজাল সাহেব ড্রয়িংরুমে এসে রোয়েনকে দেখতে পায়। বসুন কিছু কথা আছে আপনার সাথে অাফজাল সাহেবকে দেখে বলে উঠে রোয়েন।জি বাবা সোফায় বসতে বসতে বলল অাফজাল সাহেব।রুহী বিছানায় শুয়ে আছে।হঠাৎ ওর হাত কেউ জোরে চেঁপে ধরলো।পাশে তাকিয়ে দেখে রোয়েন।আ আপ আপনি?রুহী ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে।রুহীকে টানদিয়ে রুম থেকে বের করে নিচে নিয়ে আসে রোয়েন।মামা মামী আপু দুলাভাই সবার মাথায় গুলি ধরে রেখেছে রোয়েনের লোকেরা।রুহী জ্বলজ্বলে চোখে রোয়েনের দিকে তাকায়।এ এ এসব ক কক কি?রুহীকে টেনে সোফায় বসিয়ে দিলো রোয়েন।রুহীর দিকে ঝুঁকে দাঁড়ায় রোয়েন।যা জিজ্ঞেস করছি ঠিক ঠাক উত্তর দে।চিৎকার করে বলল রোয়েন।ক ক কি উত্তর?রুহী মাথা নিচু করে জিজ্ঞেস করে।কেন ভেগে কেন গিয়েছিলি সেদিন?দাঁতে দাঁত চেপে প্রশ্ন করলো রোয়েন।রুহী রোয়েনের দিকে তাকিয়ে আফজাল সাহেব, অবন্তী আর নুহাশের দিকে তাকাচ্ছে।রোয়েনের দিকে চোখ সরিয়ে আনলো রুহী।প্লিজ ওদের কিছু করবেননা।রোয়েন রুহীর হাত আরো জোরে চিপে ধরে যা প্রশ্ন করছি সঠিক উত্তর দে নাহলে একজন ও বাঁচবেনা চিৎকার করে বলল রোয়েন।অলক্ষুণে মেয়ে বলে দে কেন ভেগেছিলি?তোর জন্য সবাই মরবো নাকি?আনিলা বেগম বলে উঠে।ঐদিন মামী কার সাথে জানি কথা বলছিলো।আপনি মামীকে ৫লাখ টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন আমায়।সেজন্য চলে গিয়েছিলাম।ভিজা চোখ জোড়া দিয়ে রোয়েনের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে রুহী।রোয়েন ভাবছে এতোটুকু শুনে রুহী ওকে অবিশ্বাস করলো।এতো দিন যা করলো সে গুলো কিভাবে ভুলে গেলো রুহী।এতো ভালবাসা গুলো কি করে ভুলে গেলো রুহী?

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here