My_Mafia_Boss পর্ব-৩৩

0
248

My_Mafia_Boss পর্ব-৩৩
Writer:Tabassum Riana

সকালে ঘুমভেঙ্গে রোয়েনের বুকে নিজেকে খুঁজে পায় রুহী।মাথা টা কেমন ভার হয়ে আছে ওর। কিছুটা ব্যাথাও করছে।রোয়েন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে বসে রুহী।রোয়েন সাধারনত এতক্ষন ঘুমায়না।আজ এখনো ঘুমুচ্ছে।খানিকটা অবাকই হয় রুহী।রোয়েনের বুকে আলতো করে হাত রেখে রোয়েনের দিকে তাকায় রুহী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন রোয়েন।রোয়েনের বুক থেকে হাত সরিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় রুহী।ফ্রেশ হয়ে নেয় রুহী।রোয়েন এখনো ঘুমুচ্ছে।কাল কি হয়েছিলো?এখনো ঘুমুচ্ছেন কেন ওনি?নিচে নেমে আসে রুহী।সার্ভেন্টরা ওকে দেখে মিটমিটিয়ে হাসছে।রুহী কিছুটা চিন্তিত হয়ে পড়ে।পাকঘরে এসে নাস্তা বানানোর কাজে লেগে যায় রুহী।কাল কি হয়েছিলো কিছুই মনে পড়ছেনা ওর।সোফার কুশন গুলো ও অগোছালো অবস্থায় পড়ে আছে।ঘুম ভাঙ্গে রোয়েনের বাহিরের রোদ চোখে পড়ায়।আধোচোখ খুলে তাকায় রোয়েন।আজ বেশ বেলা করে উঠেছে ও।কাল রাতে একটু ও ঘুমোতে পারেনি ও।ঘুমোবেই বা কেমন করে?কাল রাতে রুহী যা অবস্থা করেছে বলার মতো না।
কাল রাতে রুহীকে জড়িয়ে শুয়ে পড়ার পর রুহী রোয়েনকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ওর বুকে উঠে বসে ইচ্ছামতো কিলঘুষি লাগাতে থাকে।রুহী কি করছো এসব?পাগল হয়ে গেছো রাগী গলায় বলে উঠে রোয়েন।এ্যা এ্যা আমায় আদর দাও নাহলে নামবো না ন্যাকা কন্ঠে বলতে থাকে রুহী।রুহী প্লিজ নামো খারাপ লাগছে আমার।নেমে শুয়ে পড়ো।ধমক দিয়ে বলল রোয়েন।আগে আদর দাও রোয়েনের মুখের ওপর মুখ এনে বলল রুহী।রুহীর দুগাল ধরে কপালে চুমো একেঁ দিলো রোয়েন।এবার ঘুমাও।রুহী এবার খাট থেকে নেমে ফোনে গান ছেড়ে ঘুরে ঘুরে নাচতে লাগলো।রোয়েন মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।কিছুক্ষন পর রুহী বমি করে নিচে বসে পড়লো।রোয়েন রুহীর মুখ মুছে দিয়ে বুকে নিয়ে শুয়ে পড়লো।সারারাত রুহী বকবক করে রোয়েনকে ঘুমোতে দেয়নি।বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় রোয়েন।গেঞ্জী খুলে ফ্রেশ হতে চলে যায়।রুহী টেবিলে নাস্তা সার্ভ করে উপরে উঠে রুমে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করতে থাকে রোয়েনকে।
রোয়েনকে না পেয়ে রুমে চলে আসে রুহী।রোয়েনের জামা কাপড় বের করে খাটের ওপর গুছিয়ে রেখে পিছনে ঘুরতেই রোয়েনকে দেখতে পায় রুহী।আ আপ আপনি?মাথা নিচু করে রুহী। রোয়েন ওর রক্তচক্ষু দিয়ে তাকিয়ে আছে।আ আম আম সরি মাথা নিচু করে বলতে থাকে রুহী।কাল না করে ছিলাম না? কেনহ খেলে? ধমক দিয়ে বলল রোয়েন।মাথা নিচু করে আছে রুহী।কাল কি কি করেছে ও কে জানে?রুহীর একটা হাত উঠিয়ে তোয়ালে ধরিয়ে ওকে কোলে নিয়ে বসে পড়লো রোয়েন।চুল মুছো।রুহী সযত্নে রোয়েনের চুল মুছে দিতে থাকলো।

রোয়েন রুহীর কোমড় জড়িয়ে ধরে কাঁধে চুমু খেলো।রুহীর বুকের ভিতর এক অন্যরকম অনুভূতি হলো।রোয়েন রুহীকে সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো।রেডি হয়ে নাও গম্ভীর গলায় বলল রোয়েন।ক কক কেন?রুহী মাথা নিচু করে জিজ্ঞেস করলো।এতো প্রশ্ন করো কেন?রাগী গলায় জিজ্ঞেস করলো রোয়েন।রুহী চুপচাপ জামা নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।কালো জ্যাকেট, কানটুপি,আর জিন্সপ্যান্ট পরে বেরিয়ে এসেছে রুহী।রুহীর দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছে রোয়েন।রুহী রোয়েনের কাছে এসে দাঁড়ালো।রুহীর হাত ধরে বেরিয়ে গেলো রোয়েন।গাড়িতে চেপে বসলো ওরা।ন নান নাস্তা বানিয়েছিলাম বলে উঠলো রুহী। বাহিরে খাবো গম্ভীর গলায় বলল রোয়েন।গাড়ি চলতে শুরু করলো।বরফ পড়ছে আজ।রুহী গ্লাসের ফাঁকা দিয়ে বরফ ধরার চেষ্টা করছে।রুহী হাত ভিতরে ঢুকাও ধমক দিয়ে বলে উঠলো রোয়েন।
একটু ধরি না!!!!বলে বরফ ধরার চেষ্টা করতে থাকলো রুহী।রোয়েন গিয়ারের ওপর রাখা রুহীর হাত টেনে নিজের ওপর ফেলল রুহীকে বলেছিলাম এমন করোনা।সরি বলে উঠার চেষ্টা করলো রুহী।কিন্তু পারছেনা উঠতে।রোয়েন জড়িয়ে ধরে আছে ওকে।গাড়িটা থামালো রোয়েন।বেরিয়ে এসে গাড়ির দরজা খুলে দিতেই বেরিয়ে এলো রুহী।রুহী মুগ্ধ চোখে চারপাশ দেখছে।উঁচু রাস্তা গুলো বরফে ঢেকে আছে।রুহী দৌড়ে সামনে চলে গেল।ঘুরে ঘুরে তুষার হাতে নিচ্ছে রুহী।
Hallo Royen একবৃদ্ধা মহিলা এসে জার্মানী ভাষায় কথা বলতে শুরু করলো।

ja ma’am (Yes Maam).Wie geht es dir(how are you)?

fein, mein Schatz (Iam fine dear).bist du allein gekommen?(Have you come alone)

Nein, madam.Meine Frau ist bei mir hier(No maam. My wife is with me here)রুহী!!!! এদিকে এসো। চিৎকার করে ডাকলো রোয়েন।
রুহী দৌড়ে এলো ওদের কাছে। জি বলুন রোয়েনের দিকে তাকিয়ে বলল।ওনি আমার টিচার মিস এ্যালান এঞ্জেল।
বৃদ্ধা রুহীর গালে হাত রেখে খুব মিষ্টি হেসে বলল
Schneewittchen(Snow white)
রুহী জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে রোয়েনের দিকে তাকালো।ওনি তোমাকে স্নোহোয়াইট বলেছে।
ওহ।রুহী মুচকি হাসলো।
Jetzt sollte ich lieber gehen(Now I should go dear) বৃদ্ধা চলে গেলেন।
রুহীর হাত ধরে রোয়েন হাঁটতে শুরু করলো।কয়েকটা বড় হরিন ছোট্ট একটি গাড়ি টানছে।বসার জায়গা রয়েছে গাড়িটাতে।রুহী অবাক চোখে দেখছে গাড়িটা।
রোয়েন রুহীকে টেনে এমনি একটি গাড়ির সামনে এলো।এক লোককে কিছু টাকা দিলো রোয়েন। রুহী বসো।
কই রোয়েনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো রুহী। একটি সিট দেখিয়ে বলল এখানে। প পপ পড়ে যাবো নাতো?মাথা নিচু করে প্রশ্ন করলো রুহী।
উহু।উঠো রোয়েন বলল। রুহী উঠে বসলো।পিছনে রোয়েন দাঁড়িয়ে রুহীকে জড়িয়ে ধরে আছে।হরিন গুলো দৌড়াতে লাগলো।রুহী চোখ খিচে বন্ধ করে আছে।ভীষন ভয় হচ্ছে ওর। রোয়েন একনজর রুহীকে দেখে গাড়ি থামাতে বলল লোকটিকে।ওরা নেমে এলো।রুহী চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।হঠাৎ ওর গালে বরফ এসে পড়লো।পাশে তাকিয়ে দেখে রোয়েনের হাতে বরফ।রোয়েন মুচকি হাসছে।ওর বাম গালে টোল পড়েছে।কি মায়াবী হাসি ওর রোয়েনের।রোয়েন টা ওরই আর কারো না। শুধুই রুহীর কথা গুলি ভাবছে রুহী। ঠিক তখনই ঠোঁটে কারো ঠোঁটের ছোঁয়া পেল।রুহীর কোমড় জড়িয়ে নিজের সাথে চেপে ধরেছে রোয়েন। আরেক হাতে রুহীর গাল ধরে চুমু দিয়ে একটু সরে এলো রোয়েন। চোখ বন্ধ করে আছে।কয়েক সেকেন্ড পর আবার ও রুহীর ঠোঁটে ঠোঁট ডুবালো রোয়েন।
কিছুক্ষন পর
রোয়েন বাসার সামনে এসে গাড়ি থামালো।রুহী ওপাশ ফিরে হ্যালান দিয়ে ঘুমিয়ে গেছে।মুখ লাল হয়ে আছে পুরো।রোয়েন রুহীর গালে হাত রাখতেই দেখলো ভীষন জ্বর এসে গেছে রুহীর।দ্রুত গাড়ি থেকে বেরিয়ে রুহী কে কোলে তুলে নিলো রোয়েন।সিড়ি বেয়ে রুমে এলো ওরা।রুহীকে খাটে শুইয়ে ওর পাশে বসে পড়লো রোয়েন।রুহীর চুলে হাত বুলাচ্ছে রোয়েন।

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here