My_Mafia_Boss পর্ব-৮

0
290

My_Mafia_Boss পর্ব-৮
Writer:Tabassum Riana

একজন মেয়ে এসেছে রুহীদের সেলাই শিখাতে।মেয়েটির নাম শিলা।শিলা আপু অত্যন্ত দায়িত্বের সাথে শিখাচ্ছে সেলাই।হেঁটে হেঁটে সবাইকে দেখিয়ে দিচ্ছে শিলা।রুহীর পাশে এসে দাঁড়ালো শিলা। কাজ কেমন চলছে রুহী?এইতো আপু ভালোই।শিলা রুহীর হাতের কাপড়টিকে ধরে রুহীকে বুঝিয়ে দিলো কিভাবে ধরতে হবে? শিলার ফোন এলে বাহিরে বের হলো রুম থেকে হ্যালো স্যার।হুম কাজ কেমন চলছে রোয়েন জিজ্ঞেস করলো।এইতো স্যার ওরা খুব দ্রুত শিখে যাবে।হুম আর মায়াবতী কি করছে?মায়াবতী!!!শিলা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো।নাথিং কাজে মনযোগ দাও বায়। কল কেঁটে দিলো রোয়েন। শিলা কান থেকে সরিয়ে নিলো ফোন কিছুক্ষন ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলো স্যারের মুখে এমন নাম কখনো শুনেনি আর ওনি এমন মায়া দিয়ে কারোর নাম নেয় ও না।তাহলে মায়াবতী!!ভাবতে লাগলো কে হতে পারে এ মায়াবতী যার মায়ার জালে স্যারের মতো কঠোর হৃদয়ের মানুষটি আটকে গেল।
আপু!! রুহী ডাকছে।কি রুহী!!!!!!

রোয়েন কিছু মিস্ত্রী ঠিক করলো এতিম খানায় বাচ্চাদের জন্য ঘোড়া স্লিপার বানিয়ে দেয়ার জন্য।শিলা সংকেত পেয়ে সেলাই শিখানো শেষ করে বেরিয়ে পড়লো।রুহীরা সবাই রুমে চলে এলো।বিছানায় শরীর এলিয়ে দিয়েছে অনেকেই।জানালার কাছে বসে আছে রুহী।স্নিগ্ধা ওর পাশে এসে বসলো।জানিস কে এসেছে? স্নিগ্ধা বলে উঠলো।কে?রোয়েন নামের লোকটা।রোয়েন সে আবার কে?অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো রুহী।আরে সেলাই মেশিন দিয়ে গেল যে।ওহ বুঝলাম।বাহিরে এতো শব্দ কিসের স্নিগ্ধা?বাচ্চাদের খেলার ব্যাবস্থা করছে রোয়েন। ওহ জানালা দিয়ে উঁকি দিলো রুহী। রোয়েন কে দেখা যায়না।মাথা সরিয়ে আনলো রুহী।রুহী!!! স্নিগ্ধা ডাকলো।কি?বাহিরে যাই চল।নারে অনেক লোক আছে বাহিরে রুহী বিরক্তি নিয়ে বলল। আরে না কিছু হবেনা চল চল রুহীর হাত টানতে টানতে বলল স্নিগ্ধা।ওকে যাবো একটু চুল টা আঁছড়ে নেই বলে আয়নার সামনে আসলো রুহী।

রোয়েন কাজ দেখতে এসেছে।তবে চোখ দুটো রুমগুলোর জানালার দিকে পড়ে আছে।মায়াবতীর খোঁজ করছে চোখ দুটি।স্যার আপনি পানি খাবেন? একজন বলে উঠলো।হুম আরেকটা সিগারেট এনো রোয়েন লোকটির হাতে টাকা দিতে দিতে বলল।
ওকে স্যার।রুহী চুল গুলোকে আছড়ে উঁচু করে ঝুঁটি করলো।চল বাহিরে যাই রুহী স্নিগ্ধার দিকে মুচকি হেসে বলল।হুম চল রুহী আর স্নিগ্ধা বেরিয়ে গেল।বাহিরে রহিম ফুচকাওয়ালা মামা এসেছে রুহী আর স্নিগ্ধা সেদিকে যেতেই টুম্পা নামের বাবু আর ওর কিছু ফ্রেন্ড ওদের সামনে এসে দাঁড়ালো।লুহী আপু আমাদেল তাথে কেলবে?স্নিগ্ধা আর রুহী একে অপরের দিকে তাকালো।রুহী বলল চলো খেলি।বাচ্চাদের সাথে খেলতে শুরু করলো রুহী আর স্নিগ্ধা।রুহীকে ঘিরে বাচ্চারা হাত ধরে ঘুরছে।হাসির শব্দ পেয়ে রোয়েন পিছনে তাকায়।রুহীর হাসি পাগল করে দিচ্ছে ওকে।সূর্যের হালকা আলো রুহীর সৌন্দর্য কে রোয়েনের কাছে বহুগুনে বাড়িয়ে দিয়েছে।মায়াবতী আরো মায়াময় হয়ে উঠেছে।যতো দেখছে মায়াবতীর মায়াজালে আটকা পড়ছে রোয়েন।তবে সে আটকে থাকতে চায় রুহীর মায়ায় রুহীর ভালবাসায়।স্যার সিগারেট।রোয়েন অন্যমনষ্ক ভাবে সিগারেটে টান দিলো।রোয়েন সিগারেটে ১টান দিয়ে ফেলে দিয়ে রুহীর দিয়ে এগোলো।বাবুরা তোমরা যাও আমরা বাহিরে যাবো।ভিতরে যাও নাহলে জেনি ম্যাম বকবে রুহী বাচ্চা গুলোকে ভিতরে পাঠিয়ে সামনে আগাতেই রোয়েনের সাথে ধাক্কা খেয়ে রোয়েনের বুকের ওপর পড়লো।

রুহীর কোমড় জড়িয়ে ধরলো রোয়েন।রুহীকে এক নজরে দেখছে রোয়েন।রুহী ভয় পেয়ে কেঁদে দিবে দিবে অবস্থা।বড্ড ভয় পায় ও রোয়েন কে।স্নিগ্ধা এতক্ষন দুজনকে দেখে গলা জোরে পরিষ্কার করলো।রোয়েন রুহীকে সোজা করে ছেড়ে দিলো।রুহী সরে স্নিগ্ধার পিছে এসে দাঁড়ালো।রোয়েন কিছুক্ষন রুহীকে দেখে কাজে ওর দল নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।রুহী এখন ও স্নিগ্ধার পিছনে মুখ লুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।স্নিগ্ধা রুহী কে বলল চলে গেছে ওনি। রুহী মুখ তুলে দেখলো আসলেই তো চলে গেছে সে।এখন ফুচকা খেতে চল স্নিগ্ধা বলল।হুম চল। দুজনে বেরিয়ে ফুচকার দোকানে গেল।রুহী এখন নিয়মিত স্কুলে যায় সেলাই ও শিখছে। বেশ ভালো সময় কাঁটছে ওর।রোয়েন আজ এসেছে কারন খেলনা গুলো বানানো শেষ তাই।রুহী বাচ্চাদের সাথে দাঁড়িয়ে আছে।রোয়েন রুহীর পাশে এসে দাঁড়ালো তবে কিছু বলল না।দুজনেই বাচ্চাদের খেলা দেখছে।ভীষন খুশি আজ ওরা।রুহী আনমনেই রোয়েনকে থ্যাংকস বলল।কেন? বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে রোয়েন জিজ্ঞেস করলো।ওদের কতোটা খুশি দেখাচ্ছে যার কারন শুধু আপনি।রোয়েন এবার রুহীর হাতে টেনে গাছের সাথে লাগালো খুব রেগে গেছে ও।চোখ লাল হয়ে গেছে ওর।রুহীর বুক কাঁপছে।ও কি এমন বলেছে যে রোয়েন এভাবে রাগ করছে।থ্যাংকস বলবেনা রাগী গলায় কারন রোয়েন কখনো কারোর থ্যাংকসের জন্য পড়ে থাকে না বুঝলে?রুহীকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেল রোয়েন।চোখে পানি চলে এলো রুহীর সামান্য থ্যাংকসের জন্য এমন করলো???

চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here