ছাত্রী Love Twist পর্ব ৫

0
1149

ছাত্রী Love Twist পর্ব ৫
লেখকঃ সানভি আহমেদ সাকিব

শেষ পর্ব
.
নিলিমা সত্তিই বদলে গেছে। কেনো যানি খুব কষ্ট হচ্ছিলো।
খুব কাদতে ইচ্ছে করছিলো কিন্ত কাদতেও পারতাছি না।
ছেলেদের নাকি কাদতে নেই।
তবুও কান্না আটকে রাখতে পারিনি।
ভালোবাসার মানুষ দুরে হারিয়ে গেলো কতটা কষ্ট হয় উপলব্ধি করতে পারলাম।
সেদিন রাতে ঘুম হয়নি আমার।
দিন খুব ক্রমশই এগিয়ে আসতে লাগলো।
আমারো কষ্ট বাড়তে লাগলো।
দেখতে দেখতেই কয়টা দিন কেটে গেলো।
আজকে সাত তারিখ।
মানে নিলিমার বিয়ে সারাদিন সিগারেটের ধোয়ার মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছি নিজেকে।
আর দরজা তো সেই কালকে রাতে বন্ধ করেছি আর খুলিনি।
তিন প্যাকেট সিগারেট সারাদিনে শেষ করেছি
৬৪ নাম্বার সিগারেটটা ধরানোর জন্য হাতে নিতেই ফোনটা বেজে উঠলো।
তাকিয়ে দেখি নিলিমা।
এতোগুলা সিগারেট খাওয়ার ফলে মাথা ব্যাথা করতাছে প্রচন্ড তার ওপর একটা নেশাগ্রস্থের মতো লাগতাছে।
.

ফোনটা রিসিভ করে বললাম,
– হ্যালো।(আমি)
– সানভি?(নিলিমা)
ওর কন্ঠটা শুনতেই চোখ দিয়ো পানি বের হয়ে আসলো।
সিগারেটটা ধরিয়ে একটা টান দিয়ে বললাম,
– হ্যা বলো।(আমি)
– কোথায় আপনি?(নিলিমা)
– কেনো বিয়েতে যাইনি বলে রাগ করছো?
সমস্যা নাই তোমার ছেলের জন্মদিনে যাবো ইনশাআল্লাহ।(আমি)
– শয়তান নিচে নাম তুই।(নিলিমা)
– এই আমি তোমার স্যার আমাকে তুই কেনো বললা?(আমি)
– তোকে শুধু তুই না আমি যে কি করবো নিজেও যানিনা।(নিলিমা)
– কি করবেন আপনার বিয়ের পর তো এখন শ্বশুড় বাড়িতে থাকার কথা আমার বাড়ির নিচে কি করেন.(আমি)
– আমি আমার শ্বশুড় বাড়ির নিচেই দাড়িয়ে আছি ২ মিনিটের মধ্যে নিচে না এলে কিন্তু সত্তিই বিয়ে করে নিবো।(নিলিমা)
– মানে কি বিয়ে করো নাই এখনো।(আমি)
– বিয়ে করলে কি এখন তোমার বাসার সামনে আসতে পারি।(নিলিমা)

ফোনটা কেটে দিলাম।
পকেটে ফোনটা ঢুকিয়ে বাবার পকেট আর আমার যত টাকা ছিলো সব নিয়ে বের হয়ে আসলাম রাস্তায়।
– তু তুমি সত্তিই বিয়ে করোনি?(আমি)
– করিনাই গাধা।
বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো মেয়েটা।
আমি ওকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম,
– দৌড়াও বাস ধরতে হবে।(আমি)
– কোথায় যাবো?(নিলিমা)
– পালাবো পাগলি আমার ছোট বেলার ইচ্ছা পালিয়ে বিয়ে করবো।(আমি)
– হিহিহি চলো।(নিলিমা)
তারপর নিলিমা আমার হাত ধরে দৌড়ড় দিলো।
ছুটে চলেছি অজানাতে।
শেষ বাসটা পেয়ে গেলাম।
গন্তব্য সিলেট চা বাগান।
হানিমুন করার ইচ্ছাটা সেখানেই ছিলো।
যাক পালিয়ে বিয়ে আর সিলেটে হানিমুন দুইটাই করা হবে এবার।
,
মেয়েটা আমার কাধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেছে।
নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে।
আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছি তার মায়াবি মুখটা।
নিকষ কালো অন্ধকারেও চাদের আলোয় তাকে একটা পরির চাইতে কম সুন্দর লাগছে না।
বাইরের কুয়াশা গুলা আস্তে আস্তে জানালা দিয়ে ভেতরে ঢুকছে।
একটু শীত লাগতাছে।
নিলিমাকে দেখলাম কাপতাছে।
আমি জানালাটা বন্ধ করে দিয়ে নিলিমাকে জড়িয়ে ধরে কপালে একটা চুমু একে দিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।
বাসটা দ্রুতগতিতে ছুটে চলেছে।
হয়তো আমাদেরর মতো আরো কেও যাচ্ছে বাসে করে স্বপ্ন পুরনের দেশে।
………………………..
সমাপ্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here