old story-Part2

0
564

old story

যৌনতা_অাবশ্যক?

(Part2) শেষ পাট

লেখা/ হিংসুটে ছেলে

আগামী পর্বে কমলিকা ও সায়নের মিষ্টি বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল যৌনতা। প্রেগনেন্ট অবস্থায় সায়নের যৌনজ্বালায় প্রায় পাগল হয়ে যুক্ত হয়ে পরেছিল এক্সট্র ম্যারেটিয়াল অ্যফেরার্সে। কমলিকা অ্যফেয়ার্সের আন্দাজ পেয়ে সায়নকে বলেছিল বাচ্চা নষ্ট করার কথা। সায়ন কমলিকার একথায় রেগে গিয়ে বলল,
– কেন? বাচ্চাটা কি শুধুই তোমার? বাচ্চাটা আমারও।এত স্যাক্রিফাইস করছি বাচ্চাটার জন্য আর তুমি আজ বাচ্চা নষ্ট করার কথা বলছো?
কমলিকা ভয়ঙ্কর ভাবে চেঁচিয়ে কেঁদে বললো,
– স্যাক্রিফাইস মানে? আমি প্রেগনেন্ট সায়ন..পেটে ছ’মাসের বাচ্চা আমার..৪ মাস শুধু * দি নি বলে তুমি বলছো স্যক্রিফাইস করছো তাও আবার আমার প্রেগনেন্সির সময়। ছিঃ তুমি এরকম জানলে বিয়েটাই করতাম না।
সায়ন চেঁচিয়ে বললো,
– করতে না বিয়ে বেঁচে যেতাম। আর একটা কথা কান খুলে শুনে রাখো যৌনতা বাদে ভালবাসা হয় না।
কমলিকা হেসে বললো,
– তবে তো তুমি আজকাল অনেকের ভালবাসা পাচ্ছো। নিজের শরীরের খিদে মেটাতে রাতে অন্য মেয়ের সাথে রাত কাটাচ্ছ।
– মানেটা কী? ইয়ারকি নেকি?
কমলিকা পেট ফোলা নিয়েই মেঝের গয়ে এলিয়ে, ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো,
– তুমি জান, আমি তোমার জামায় অন্য মেয়ের পারফিউমের গন্ধ পেয়েছি। লিপস্টিকের দাগ পেয়েছি।
সায়ন চমকে গিয়ে বললো,
– অসম্ভব। কী বলছো এসব? আমি এমনটা করবো তুমি ভাবলে কি করে?
কমলিকা চোখ ভরা জল নিয়ে সায়নের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,
– তুমি স্বীকার করো। আমি কিচ্ছু বলবো না। প্রমিস । আমায় প্লিজ ঠকিও না। তোমায় খুব ভালবাসি।
কমলিকার এমন কথা আর কান্না শুনে যেন স্বীকার করতে গিয়েও করতে পারলো না এবং স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিল এসব কমলিকার মনের ধারণা।
আলাদা হয়ে গেল দুটো বিছানা। আলাদা হয়ে গেল দুটো ঘর। কমলিকা কথা বলে না সায়নের সাথে। সায়ন বুঝতে পারলো সে অন্যায় করছে। স্বীকার কোন মতে করা যাবে না।
সায়ন ভাবলো তার থেকে অ্যফেয়ার্স বন্ধ করা যেতে পারে। বন্ধও করলো সেই রিলেসন..সে কমলিকার যত্ন করতে চাইতো কিন্ত কমলিকা দিত না। অবশ্য দিনের শেষে সায়নের জামাটা শুকতে ভুলতো না। অন্য কোন পারফিউমের গন্ধ নেই তো? বিশ্বাস আজব জিনিস,একবার গেলে আর আসে না।
একদিন রাতে সায়ন অন্য ঘরে শুয়ে আছে। একমাস হয়ে গেল,যৌনতা থেকে দুরে আছে সে। কিন্তু সেরাতে আর যেন পারছে না সামলাতে নিজেকে। এমনিতেই ভাদ্র মাসের রাত।
সায়ন ল্যপিতে পর্ন সাইট সার্চ করতে দেখলো,সব কটা পর্ন সাইট বন্ধ। সরকার বন্ধ করে দিয়েছে । সায়ন ভাগ্যকে দোষ দিয়ে হেসে উঠল ফিনকি দিয়ে।
তারপর একটা প্রস্টেটিউটের অ্যপ চোখে পরলো। ভাবলো প্রস্টেটিউটের সাথে শোয়া তো আর এক্সট্রা ম্যরেটিয়াল অ্যাফেয়ার্স নয়। ভেবে চিন্তে একটা প্রস্টেটিউটের সাথে কথা বললো। দেখা করার সময় ঠিক হল অফিস ছুটির পর। বিকেল পাঁচটা..
অফিস ছুটির পর দ্যাখা করলো তার সাথে। হোটেলের সামনে প্রস্টেটিউটের সামনে জামা খুলতে খুলতে সায়ন বললো,
– শোন, পিঠে একফোঁটাও যেন দাগ না পরে।
উক্ত মহিলা ব্যাঙ্গ করে বললো,
– কেন বউ বুঝে যাবে ?
এটা সায়ন রাগে ভয়ে মহিলাকে এক চড় মারতে মহিলা বললো,
– শোন তোর মতো অনেক বোকাচোদা দেখেছি। নে তুই তোর দু’হাজার টাকা। আমিও তোকে লাগাতে দেবো না।
হতভম্ব সায়ন। নিজের উপর যেন ঘৃণা হচ্ছে। না আজ থেকে সে বদলে যাবে। আর কোনদিন করবে না এমন। বাড়ি গেল সায়ন। দরজা খুলে দেখে কমলিকা ফোনে কার সাথে যেন হেসে হেসে কথা বলছে।
সায়ন রাতেও দরজার বাইরে আঁড়ি পেতে শুনলো। সারা রাত কমলিকা কার সাথে যেন কথা বলে। সায়ন ফোন চাইলে কমলিকা দেয় না তার ফোন। এখন ফোনটা একটুও হাতছাড়া করে না । সায়ন ভাবলো কমলিকার কাছে স্কুলের এক কলিগের সাথেই কিছু…
এক মাস বাদে কমলিকার আর মাত্র একমাস বাকি। সায়ন সব ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু কমলিকার ফোন চলছেই।
সায়ন মনে সাহস এনে বললো,
– কমলিকা কিছু কথা ছিল।
ফোন কানে দিয়েই কমলিকা হেসে বললো,
– বলো।
– ফোনটা রাখা যাবে?
-তুমি বলার হলে বলো।
– আমি তোমার সাথে খুব খারাপ করেছি। আমার অ্যাফেয়ার্স ছিল। আমি বেস্যার কাছেও গিয়েছিলাম কিন্তু কিচ্ছু করি নি। এখন আমি কিচ্ছু করি না। আমায় একটা বার ক্ষমা করতে পারবে? আমি শুধু ভাল বাবা হতে চাই।
কমলিকা বিজয়ের হাসি হেসে বললো,
– এখন তোমার খারাপ লাগছে না? আমি সারাদিন ফোনে কথা বলছি বলে।
– হ্যাঁ। সরি । ক্ষমা করে দাও একবার ।
– আমার ফোনটা চেয়েছিলে না তুমি? এই নাও
– না ঠিকাছে।
– লজ্জা পেতে হবে না। নাও
সায়ন ফোন নিয়ে দেখলো ফোনে কোন সিম নেই। কমলিকা আসলে বোঝাতে চেয়েছিল ভালবাসার অর্থ। গৌতম বুদ্ধও বলে গেছেন ভালবাসার অপর নাম স্যাক্রিফাইস।
এর মাঝেই হঠাৎ প্রবল প্রসব ব্যাথা কমলিকার । কিন্তু এখনও এক মাস বাকি ডেলিভারির । হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল দ্রুত। ও.টি র লালা আলোটা জ্বলে উঠলো। নিজের উপর রাগে দুঃখে সায়নের আত্মহত্যা করতে ইচ্ছা করছে যেন। অপেক্ষা আর অপেক্ষা ।
ওটি থেকে বেড়িয়ে ডক্টর বললো,
– সরি। সায়ন বাবু । বাচ্চাকে বাঁচাতে পেরেছি কিন্তু সরি কমলিকা দেবীকে বঁচাতে পারলাম না..
পাথর হয়ে গেল সব..সারা পৃথিবী..আসলে ভালবাসার পরিনতি কখনো ভালো হয় না। সে ৩ বছর হোক ষাঠ বছর হোক…মৃত্যু অনিবার্য। অবশ্য কমলিকার মেয়ে হয়েছে যেমনটা সে চেয়ছিল। মেয়ের নাম দিয়েছে, ‘#ভূমিকা’।👈
টাইপিং কিছুটা দীর্ঘ হওয়ায় কিছু ভুল হলে ক্ষমা করবেন🙏
আর এই পর্ব-২👈কেমন হলো জানাবেন l
সমাপ্ত।

প্রিয় পাঠক আপনারা যদি আমাদের (গল্প পোকা ডট কম ) ওয়েব সাইটের অ্যাপ্লিকেশনটি এখনো ডাউনলোড না করে থাকেন তাহলে নিচে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে এখনি গল্প পোকা মোবাইল অ্যাপসটি ডাউনলোড করুন:

👇👇👇👇👇👇

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.golpopoka.android

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here