হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি পাঠ-১৯

0
367

হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি পাঠ-১৯
#আরিশা অনুু
-দরজা খুলে দেখি দারোয়ান চাচা দাঁড়িয়ে আছে তাই চাচাকে বললাম কিছু বলবেন চাচা…?

-হ মা রোহান বাবা ফোন করছিল আমারে কইলো আপনে যেন তার ফোন খান ধরেন।রোহান বাবা অনেক খন থাইকা আপনারে ফোন দিতাছে কইলো তাই আমি আপনেরে কইতে ছুইটা আইলাম কথাগুলো বলে দারোয়ান চাচা থামল…!

-আচ্ছা চাচা আমি এখনি স্যারকে ফোন দিচ্ছি। তারপর দারোয়ান চাচা চলে গেল আর আমি বের হলাম ফোন খুঁজতে।ফোন কিচেনে ফেলে এসেছি আর কখন যে ফোনটা সাইলেন্ট হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি। ফোনটা হাতে নিয়ে তো আমার মাথা ঘুরে উঠল ৫১+ মিসকল উঠে আছে আজ আমি শেষ।তাড়াহুড়া করে রোহানকে ফোন দিলাম। ওপাশ থেকে সাথে সাথে ফোন রিসিভ করল যেন আমার ফোনের আশায় অধীর আগ্রহে বসে ছিল এতক্ষণ রোহান তারপর কথা বলতে শুরু করল ও……!!!

-অনন্যা তুমি ঠিক আছো তো?কি হয়েছে তোমার কোথায় ছিলে তুমি এতক্ষণ যানো কত টেনশন হচ্ছিল আমার? এই মেয়ে চুপ করে থাকলে কানের নিচে দুইটা থাপ্পড় লাগাবো কিন্তু এখন।আমায় টেনশন না দিলে শান্তি হয়না তোমার।বেয়াদপ মেয়ে কতবার বলেছি ফোন সবসময় কাছে রাখবা। বেঁচে গেছো এখন আমার হাতের কাছে নাই হাতের কাছে থাকলে থাপ্পড় দিয়ে তোমার সব দাঁত ফেলে দিতাম আমি এখন ভয়ার্ত কন্ঠে একনাগাড়ে কথাগুলো বলে থামল রোহান…..

-রোহানের কেয়ারিং গুলো বলে দেয় ও এখনো আমায় নিয়ে কতটা ভাবে।মুখে কখনো বলবেনা ভালোবাসি অথচ এক মুহুর্ত আমায় ছাড়া চলতে পারবেনা। আসলে অনুভূতি গুলো হারায়নি অভিমান নামক এক ধোয়াশা এসে ভর করেছে অনুভূতির উপর।এতখন মনে মনে ভাবছিলাম এগুলো তারপর আমি বললাম স্যার আমি বুঝতে পারিনি ফোন কখন সাইলেন্ট হয়ে গিয়েছিল তা।আর আমি ফোন কিচেনে রেখে খাবার রেডি করছিলাম টেবিলে কথাগুলো বলে থামল অনন্যা…..

……………

-হ্যালো হ্যালো স্যার হ্যা…… যাহ্ ফোন কেটে দিল আজব মানুষতো এখনো সেই আগের মত হিটলার ই রয়ে গেছো কথাটা বলে হাসলো অনন্যা।আরে আমি তো রেডি হব এসে জদি দেখে এখনো এই ড্রেস পরে আছি তাহলে নির্ঘাত খুন করে ফেলবে পাগলটা আমায়। তাই ভাবাভাবি বাদ দিয়ে রুমের দিকে এগোলাম আমি,,,

-আবার ফোন সাইলেন্ট ফোনের কি হাত পা গজাইছে যে একা একা সাইলেন্ট হয়ে যায় মেজাজ টাই খারাপ করে দিয়েছে এই মেয়ে। যেয়ে নি একবার বাসায় আজ মজা দেখাব তোমার।ফাজিল মেয়ে আমায় টেনশনে রাখা বার করবো আজ তোমায় আমি। ফোন রেখে একা একা অনন্যা কে বকে যাচ্ছে রোহান।একেতো এই জ্যামের মধ্যে গাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে তার উপর বাড়তি টেনশন মেজাজ টা দ্বিগুণ খারাপ করে দিয়েছে পাজি মেয়েটা…..!!!

-সারা গা থেকে মসলার গন্ধ বের হচ্ছে এখন আবার গোছল করা লাগবে তাই আলমারি থেকে শাড়িটা বের করলাম।শাড়ির ভাজ খুলতেই একটা গহনার বক্স চোখে পড়লো।আশ্চর্য শাড়ির ভেতরে এটা কেমন করে আসলো।ভয়ে ভয়ে বক্সটা খুললাম দেখি একটা চিরকুট রাখা আছে ভেতরে। শাড়ি আর গহনার বক্সটা রেখে চিরকুট টা খুললাম।চিরকুট টাতে লেখা আছে…….

***বউপাখি শাড়ির সাথে এটা পরবা কেমন******

(রোহান)

-পাগল টা পারেও বটে পাগলামি করতে।তারপর শাড়িটার ভাজ খুললাম।আঁচলটা নেটের তার উপর কালো সুতার ছোট ছোট ফুলের কাজ আর উপর নিচের পাড়টা কালো লেশ দিয়ে বাধানো।মূলত পুরো শাড়িটা কালো আর কমলা কালারের কম্বিনেশন তৈরি।খুব সুন্দর লাগছে শাড়িটা দেখতে।এরপর গয়নার বক্সটা খুললাম।চেইনের সাথে কালো পাথরের একটা সিম্পল পেন্ডেন , দুইটা কালো পাথরের কানের দুল আর দুইটা চুড়ি অসম্ভব সুন্দর লাগছে এগুলো চয়েস আছে পাগোলটার।তারপর ভাবনা চিন্তা বাদ দিয়ে শাওয়ার নিতে গেলাম……

-শাওয়ার নিয়ে এসে চুল মুছতে মুছতে ড্রেসিং এর সামনে যেতেই মিরোরে ঝুলানো তখনকার চিরকুট টা দেখে আবার হেসে ফেললাম।তারপর চুলটা মুছে ঝটপট রেডি হয়ে নিলাম।শুধু গহনা গুলো পরে নিলাম আর চুলটা সিঁথি করে ছেড়ে রাখলাম।সাজুগুজু বলতে এটুকুই।রেডি হয়ে সিঁড়ি পর্যন্ত যেতেই কলিংটা বেজে উঠলো। ওই মনে হয় রোহানরা চলে এসেছে।মামা-মামি আমায় এখানে দেখে কি রিয়েক্ট করবে কি জানি।তারপর ও ভয়ে ভয়ে যেয়ে দরজাটা খুললাম……

-আমাকে দেখেই মামির মুখে যেন আমাবস্যার অন্ধকার নেমে এল সাথে সাথে উনি বলে উঠলেন….

-এই অপয়া মেয়ে এখানে কি করছে? কোন সাহসে এবাড়িতে আবার ঢুকেছে কে ঢুকতে দিয়েছে একে? এই মেয়ে বেরিয়ে যাও এবাড়ির ত্রিসিমানাই যেনো আর কখনো তোমায় না দেখি কথাগুলো বলতে বলতে হাত ধরে টেনে বাইরে বের করে দরজা লাগিয়ে দিল মামি…..

-আহ্ মম কি করলে এটা তুমি।ও এবাড়িতে নিজে থেকে আসেনি রোহান ওকে এনেছে কথাটা বলে থামলো তৃধা……..

-কিহ্ রোহানের কি নাক লজ্জা নেই আবার এই বেয়াদপ মেয়েটাকে টেনে বাড়ি তুলেছে….

-আহ্ মম তুমি যা জানোনা তা নিয়ে কথা বলনাতো।শুনো আগে ঘটনা কি তারপর এক এক করে তৃধা ওর মা-বাবাকে সব ঘটনা খুলে বলতে শুরু করল….

-আরো একবার এবাড়ি থেকে বের করে দিল আমায় আর কত অপমান সহ্য করবো আমি?আর সত্যি সহ্য করতে পারছিনা আমি। ইচ্ছে করছে এখনি আত্মহত্যা করি।দুচোখ ভেঙে জল গড়িয়ে পড়ছে চিৎকার করে কাঁদতে মন চাইছে এখন।কেনো কেনো কেনো এমন হবে আমার সাথে বার বার বিনা অপরাধে সব শাস্তি আমায় কেনো পেতে হবে? একা একা রাস্তা দিয়ে আনমনে হেটে যেতে যেতে কথাগুলো ভেবে চলেছে অনন্যা।ব্যাগ ফোন সব ওবাড়িতে সোফার উপর পড়ে আছে তাই হেটে হেটে বাড়ি যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই আপাতত…..

-হাজার ভাবনা চিন্তার মধ্যেদিয়ে কখন যে রাস্তার মাঝখানে এসে পড়েছে সে খেয়াল অনন্যার নেই।যখন খেয়াল হল ওর গাড়িটা তখন খুব কাছে চলে এসেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক ধাক্কায় ছিটকে রাস্তার উপর পড়ে গেল অনন্যা….
.
.
.
.
.
Continue….
(ভুলত্রুটি গুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here