হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি পাঠ-২

0
727

হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি পাঠ-২

#আরিশা অনু

“””কোনো রকম চোখের জল টা আটকে রুহিকে বললাম তোমার বাবা আছে মা। এখন লক্ষি মেয়ের মত পড়ায় মন দাও তো সোনা মা আমার।

“””রুহি কোনো কথা বললো না আর চুপচাপ পড়ায় মন দিল।এই চার বছরে মেয়েটা চার হাজার বার ওর বাবার কথা জিঙ্গেস করেছে আমায়।আমি প্রতিবার ই এক উওর দিয়েছি ওকে…!!

“””আগে রিতিমত জেরা করতো বাবা কেনো আমাদের সাথে থাকেন?।বাবা আমায় আদর কেনো করেনা? আরো কত শত অভিযোগ বাবাকে নিয়ে তার…!

“””একদিন তো বাবার কাছে যাবো বলে এমন বায়না ধরেছিল যে খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল মেয়েটা।অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে খাইয়ে ছিলাম মেয়েটাকে।

“””বাবা বাবা বলে কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটা আমার ঘুমিয়ে পড়েছিল সেদিন।আমি ও সেদিন অনেক কেঁদেছিলাম রাতের আধারে।কাঁদা ছাড়া আর কোনো রাস্তা ছিলনা আমার কাছে সেদিন…!!!

“””আম্মু আম্মু এইটা বুঝতে পাইনা(রুহি)

“””রুহির ডাকে ভাবনার জগৎ ছেড়ে বের হলাম আমি।তারপর বললাম আমার সোনামা কোনটা বুঝতে পারেনা দেখিতো?

“””এইযে এই অংকটা বুঝিনা।(রুহি)

“””তারপর ওকে অংক টা বুঝিয়ে দিয়ে বললাম মামনি তুমি অংক কর আমি দেখে আসি তোমার নানু মনি কি করছে…!!!

“””ঠিক আছে যাও (রুহি)

“””আমি রুহিকে ড্রয়িং এ রেখে এগলাম কিচেনের দিকে।

“””আম্মু কি কর?

“””এইতো মা রান্না করি। তুই রুহিকে রেখে উঠে আসলি কেন কফি করে দেব এক কাপ।(আম্মু)

“””না আম্মু লাগবে না তোমায় একটু হেল্প করি আমি।( অনন্যা)

“””আমার কোনো হেল্প লাগবে না কই দেখি আমার দিকে তাকা তো মুখটা এমন শুকনো কেন লাগছে।কি হয়েছে সোনা বল আমায়।(আম্মু)

“”” রুহি আজ আবার ওর বাবার কথা জিজ্ঞেস করছিল,আমি কিছু বলতে পারিনি আম্মু।(অনন্যা)

“””মন খারাপ করিস না সোনা মা। তুই মন খারাপ করলে রুহিকে কে সামলাবে বল তো।(আম্মু)

“””আমি খুব ক্লান্ত আম্মু আর কত দিন মেয়েটাকে এভাবে মিথ্যা বলবো আমি।

“””আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বললো অনন্যা।

“””তারপর নিজেকে শান্ত করে নিজের রুমের দিকে এগলো অনন্যা।

“””রুমে এসে আমার আর রুহির সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুলো হাতের কাছে গুছিয়ে রাখলাম যাতে সকালে রেডি হতে সুবিধা হয়।

“””একটু পরে আম্মু খাবার খেতে ডাকলো তাই রুহিকে নিয়ে খেতে গেলাম।

“””আমার খাওয়ার কোনো ইচ্ছা নাই কিন্ত আমি না খেলে রুহি ও খেতে চাইনা তাই বাধ্য হয়ে অল্প একটু খেয়ে নিলাম।

“””তারপর খাওয়া শেষে সব কিছু গুছিয়ে আম্মু কে মেডিসিন দিয়ে রুমে আসলাম…!!

“””রুমে এসে দেখি রুহি এখনো ঘুমায় নি।

“””আম্মু তুমি এখনো ঘুমাও নি কেনো?

“””তোমায় ছাড়া আমার একদম ঘুম আসেনা আম্মু এটা জানোনা তুমি গাল ফুলিয়ে জবাব দিল রুহি।

“””ওরে আমার সোনা মা টা আসো তোমায় ঘুম পাড়িয়ে দি।

“””তারপর রুহিকে বুকে জড়িয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম। কিন্ত আমার চোখে কিছুতেই ঘুম ধরা দিচ্ছে না।তাই উঠে কিচেনে যেয়ে এককাপ কফি করে এনে বারান্দায় রাখা রকিং চেয়ার টাই এসে বসলাম।

“””কফি খেতে খেতে অতীতের চিন্তায় ডুব দিলাম…..!!!
.
.
.
.
“””রোহান একদম দুষ্টামি করবানা যাও টেবিলে যেয়ে বসো আমি এখনি খাবার দিচ্ছি।(অনন্যা)

“””না না না আমি এখানেই থাকবো তোমার সাথে তারপর একসাথে টেবিলে যাব।তারপর তুমি নিজে হাতে খাইয়ে দেবে আমায়।(রোহান)

“””এবার কিন্তু পাগলামি করছো তুমি।এভাবে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রাখলে আমি কাজ করবো কি করে প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা করো।(অনন্যা)

“””আমি কিচ্ছু বুঝি না আর বুঝতে ও চাইনা। আমি এভাবে তোমায় জড়িয়ে ধরে থাকবো ব্যাস আর কোনো কথা হবেনা না।(রোহান)

“””উফ্ তোমার সাথে কথা বলাই বেকার।দেখি সর তো আমি এগুলো টেবিলে রাখবো এখন।

“””তারপর খাবার গুলো টেবিলে এনে মহারাজা কে খেতে দিলাম।

“””কি হল বসে আছো কেনো খাও (অনন্যা)

“””কি কথা ছিল বিয়ের আগে প্রতিদিন সকালে আর রাতে তুমি নিজে হাতে খাইয়ে দিবা আমায় ভুলে গেছো?

“””অবশ্য তুমি ভুলে গেলেও আমার তাতে কিছু যায় আসে না। আমি তো আছিই মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য সো বাহানা অফ করে চুপচাপ খাইয়ে দাও আমায় (রোহান)

“””তোমাকে তো কিছু বলাই বেকার নাও হা কর বাচ্চা ছেলে একটা (অনন্যা)

“””উহু তো বলতে বলে কে তোমায়। আর শুনো আমি বাচ্চা না বাচ্চার বাবা হব খুব তাড়াতাড়ি।(রোহান)

“””রোহানের কথায় খানিকটা লজ্জা পেয়ে গেলাম এই লোকটার মুখে কিচ্ছু বাধেনা (অনন্যা)

“””হয়ছে অনু সোনা(রোহান অনন্যা কে আদর করে অনু ডাকে) তোমার আর লজ্জায় লাল টমেটো হওয়া লাগবে না (রোহান)

“””ফাজিল একটা যাও এখন।অফিসে পৌঁছে ফোন দিবা আমায়।(অনন্যা)

“””হুম দিব তার আগে আমার আদর টা কে দিবে শুনি…?(রোহান)

“””একদম দুষ্টামি করবানা যাও বলছি (অনন্যা)

“””এহ্ বললেই হলো তারপর অনুকে কাছে টেনে ওর নাকে নাক ঘসে দিয়ে কপালে আলতো করে একটা চুমু দিলাম।

“””পাগলি টা লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে তাই মুখটা উপরে তুলে বললাম…

“””থাক আর লজ্জা পেতে হবেনা সোনা বউ।আমি আসি এখন খেয়াল রাখবা নিজের কেমন।আমি অফিসে যেয়ে ফোন দেব তোমায়।(রোহান)

“””আমি জলভরা চোখে ওর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লাম । রোহার অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল। আর আমি ভাবতে থাকলাম এত সুখ সইবে তো আমার কপালে….?
.
.
.
Continue…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here