হৃদস্পর্শ পর্ব ১৯

হৃদস্পর্শ পর্ব ১৯

লিখা : জামিয়া পারভীন তানি

সাইমা প্রথম দেবরের গায়ে হলুদের জন্য কিচেনে গিয়ে রান্না করছে।
সাইমাকে এই বাড়িতে আসার পর থেকে কখনো রান্না করতে হয়নি। সজীব দের বাড়ির সব কাজের জন্য আলাদা আলাদা মানুষ আছে। ঘর পরিষ্কার করার জন্য দুজন মহিলা আছে, আর রাহেলা শুধু রান্না করে, গাড়ির ড্রাইভার শুধু বাজার করে আর গাড়ির দায়িত্ব পালন করে, আর দরজায় সব সময় দারোয়ান চাচা আছেই।

ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা সাইমার, এমন সময় সজীব সাইমা কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। সাইমা প্রথমে চমকিয়ে উঠলেও সজীবের গায়ের গন্ধ খুব বুঝতে পারে।

• “ কি হলো! আমি পুরো ঘেমে গেছি! না ধরলেই নয়। ”
• “ তোমার ঘামের গন্ধ আমাকে পাগল করে দেয় সাইমা! আজ তোমাকে এভাবে দেখে তোমার উপর প্রেমে পড়ার কাহিনী গুলো মনে পড়ে গেলো!”
• “ তারমানে!”
• “ যখন তোমার বন্ধু ছিলাম, তখন লুকিয়ে তোমার রান্না করা দেখতাম!”
• “ কিহহহহহ!”

সাইমা সজীবের দিকে ঘুরে সজীবের চুল ধরে টান দেয়। সজীব ব্যথায় কঁকিয়ে উঠে। সাইমার হাত থেকে বাঁচতে সাইমাকে কাতুকুতু দেওয়া শুরু করে। সাইমা সজীবের থেকে বাঁচার জন্য বলে উঠে,

• “ এইই! পায়েস পুড়ে যাবে। ”

সজীব ছেড়ে দেয়, একটা টুল নিয়ে বসে পড়ে। সাইমা যা করছে সব মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকে। সাইমা পায়েস রান্না করে, ওভেনে পুডিং বসিয়ে দেয়, পুডিং নামিয়ে কেক বসায়। নিজ হাতে মিষ্টি বানায়, তরমুজে ডিজাইন করে। সজীব তখন বলে,

• “ এতো কিছু কষ্ট করে করার কি দরকার? বাইরে থেকে আনিয়ে নিলেও তো পারতাম! ”
• “ তা পারতাম! অনেক আইটেম তো কিনিয়েও এনেছি। রান্না হচ্ছে শখ বুঝলে? তুমি তো নিজের বিয়েতে কোন অনুষ্ঠান করোনি! সজলের যেনো কোনো আফসোস না থাকে, সেইজন্য। তাছাড়া বড় বলতে আমিই তো বড় ভাবী। বড়দের কাছে ছোট দের এইটুকু চাওয়া থাকতেই পারে তাইনা বলো!”
• “ নিজের বিয়ের অনুষ্ঠান হয়নি বলে আফসোস করছো নাকি?”
• “ কি যে বলোনা! সজলের বিয়েতে আমি আমার সব শখ পূরণ করে নিবোনা!”
লিখা : জামিয়া পারভীন তানি
সজীব একটুখানি পায়েস নিয়ে সাইমার গালে মাখিয়ে দেয়, সাইমা কিছু বলার আগে গাল থেকে পায়েস খেয়ে নেয়। সাইমা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে, তখন সজীব বলে,

• “ ইয়ে মানে মিষ্টি ঠিক মতো হয়েছে কিনা দেখলাম! আহহহ! যা স্বাদ হয়েছেনা!”

এবার সাইমা সজীব কে ধাক্কা দিয়ে কিচেন থেকে বের করে দেয়, একা একা মিটিমিটি হাসতে থাকে।

°°°

সন্ধ্যার আগে থেকে সব মেহমান রা একে একে চলে আসে। সাইমা পার্লারে গিয়েছে সাজতে। ছোট দেওরের গায়ে হলুদ বলে কথা, অনেক মেহমান আসবে, এদের সামনে যাচ্ছেতাই হয়ে তো আর থাকা যায়না! অনেকেই সেজে আসবে, সাইমা না সাজলে আবার সজীব বউ বাদে অন্য মেয়েদের দিকে তাকাবে। পুরুষ মানুষের মন, কখন কোন দিকে যাবে। সাইমা এই ভয়ে সব সময় নিজে পরিপাটি থাকা পছন্দ করে।

বড় করে স্টেজ করা হয়েছে, প্রায়ই ৫০ রকমের খাবার সাজিয়েছে। সাইমা অবশ্য আগেই বলে রেখেছিলো, সজলকে শুধু ছেলেরাই হলুদ লাগাবে, আর বোন হিসেবে সুপ্তি আর ফুপি সুযোগ পাবে। কারণ নন মাহরাম মেয়েরা সজল এর কপাল ছুয়ে দিক এটা ইসলামে নেই।

সাইমা অবশেষে আসে, সজীব অবাক হয়ে সাইমার দিকে তাকিয়ে থাকে। এ যেনো উপর থেকে নেমে আসা কোনো হুরপরি। সজীবের হৃদয়ে ভালোবাসার ঝংকার তোলা রাজকন্যা। কাঁচা হলুদ শাড়ির সাথে ফুল হাতা ব্লাউজ পড়েছে, মাথায় লাল রঙ এর হিজাব। লাল হিজাবে লাল টুকটুকে সাইমাকে আরোও আকর্ষণীয় লাগছিলো। চোখে গাড় কাজল, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, হিজাবের সাথে ম্যাচিং ফুলের গয়না। সাইমাকে সজীবের কাছে অনেক আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সজীব যেনো সাইমার দিক থেকে চোখ ফেরাতেই পারছেনা।

সাইমা নিজেও সজীবের দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারছেনা। কাঁচা হলুদ পাঞ্জাবি তে সজীব কে দারুণ লাগছে। ফরসা গায়ের রঙ এর সাথে ম্যাচ করেছে পাঞ্জাবি টা। চুল গুলো স্পাইক করেছে, খোঁচা খোঁচা দাড়িতে সত্যিকারের পুরুষ লাগছে সাইমার কাছে। সজীবের গাড় কালো চোখের গভীরে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে সাইমার। একটু পর সুপ্তি হাতে তুড়ি মেরে বলে,

• “ শুধু বউকে দেখে হবে? একটু আমাদেরকে ও দেখো ভাইয়া! ”

সজীব এবার লাজুক হাসি দিয়ে খেয়াল করে, সুপ্তি সাইমা একই রকম করে সেজেছে, আর স্নেহাকে হলুদ শাড়ি পড়িয়ে দিয়েছে। সজীব স্নেহা কে কোলে নিয়ে বলে, আমার পুচকে রাজকন্যা কে তো খুব সুন্দর লাগছে। স্নেহা কি বুঝলো কে জানে! সজীবের সাথে হাসতে শুরু করে।
স্টেজের দিকে তাকিয়ে সাইমা ও অবাক হয়, দুই ভাই একই রকম সেজেছে। মুখের কিছুটা মিল আছে বিধায় দুজনকে অনেকটা একইরকম লাগছে।

গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে অনেক মজা হয়, সজলকে খাওয়ানোর সময় সুপ্তি সজলের মুখ চেপে ধরে আর সবার থেকে টাকা আদায় করে। অনেক অনেক মজা করে রাত ১২ টাই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ করে। বিশেষ করে সজলের বন্ধুরা সজলকে হলুদ দিয়ে রাঙিয়ে দেয়।

°°°

অনুষ্ঠান পর্ব শেষ করে রুমে আসে সুপ্তি, রেহান কে দুইদিন থেকে ফোন দিয়ে পাচ্ছে না। তাও বেশ কয়েকবার ফোন দেয়, রেহান ফোন ধরেনা দেখে মন সুইচড অফ করে দেয়। এরপর ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করে।

মনেরমধ্যে এক্টাই ভয় জেঁকে বসেছে, রেহান ওর সাথে প্রতারণা করলো না তো! সবার সাথে যতই আনন্দ করা যাক, ভালোবাসার মানুষ টা পাশে না থাকলে সব আনন্দ কান্নায় পরিণত হয়।

“ ভালো যদি নাইবা বাসবে! কেনো আপন করেছিলে?
প্রেমের মিথ্যে নেশায়, কেনো আমায় জড়ালে?
কোথায় হারিয়ে গেলে তুমি? করে দিয়ে পর!
কোথায় গিয়ে খুঁজবো তোমায়? কাঁদে আমার মন!
ফিরে এসে ভালোবেসে করে নাও আমায় আলিঙ্গন। ”

সুপ্তির ব্যথিত হৃদয় এর ব্যথা সুপ্তি ছাড়া কেউ জানে না! এতোটা কষ্ট হচ্ছে প্রিয় মানুষ টাকে হারিয়ে। খুব করে খুঁজতে ইচ্ছে করছে, ভালোবাসা পেতে ইচ্ছে করছে। অন্ততঃ ভিডিওকলে হলেও কথা বলতে পারতো রেহান। কিন্তু নাহহহ! রেহানের কোন খবর ই পাচ্ছেনা সুপ্তি।

চলবে…..

আমি আজ পর্যন্ত যতগুলো গল্প লিখেছি, সব গল্প একাধিক বার চুরি হয়েছে। আচ্ছা আমার কি কষ্ট লাগেনা? এতো চিন্তা করে একটা কাহিনী বানায়, আর সেটা চোরেরা চুরি করে নিজের নামে চালায় তখন। অনেকে হয়তো মনে করেন, লিখতে আর কি সময় লাগে? আমার প্রতিটি পর্ব দুই থেকে তিন ঘন্টা ব্যয় করে অনেক ভেবে চিনতে লিখি। বানান ভুল থাকলে সেটা পর্যন্ত কারেকশন করে দিই। এতো কিছু করে কেউ যদি নিজের লিখা অন্যের নামে দেখে তাহলে মাথা ঠিক থাকার কথা না। সেদিন স্ক্রিনশট দিলাম, তাই আমার অনেক কষ্ট হয়েছে, সবাইকে মেসেজে স্ক্রিনশট দিতে। তারপর ও অনেকেই খারাপ বিহেইভিয়ার করেছে। এটা নাকি আমার বাড়াবাড়ি ছিলো। আপনাদের অনেকেই আছে! গল্প না পেলে মেসেঞ্জারে এসে বলেন গল্প কেনো দিলেন না। এমন ভাবে বলেন যেনো আমি দিতে বাধ্য। আমার অসুখ হতে পারেনা, আমার মন খারাপ থাকতে পারেনা। আমি নিজ চিকিৎসার জন্য হসপিটাল না গিয়ে গল্প লিখি এটাই আপনাদের চাওয়া। অথচ আমি যেদিন লিখতে পারিনা, পোষ্ট দিয়ে জানিয়ে দিই দিতে পারবোনা। সেগুলো আপনাদের চোখে পড়েনা?

আমি শখ করে লিখতে গিয়ে অনেক কিছু শিখে গেলাম। আপনারা লিখা পেলে খুশি আর না পেলে অপমান পর্যন্ত করতে ছাড়েন না। আসলেই ভার্চুয়াল জগতের কেউ কখনো আপন হয়না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here