হৃদস্পর্শ পর্ব ৪ 

হৃদস্পর্শ পর্ব ৪

#লিখাজামিয়াপারভীন_তানি

নিজ স্ত্রীর মুখে পরপুরুষের নাম শুনলে চট করে মাথা গরম হওয়াটাই স্বাভাবিক। সজীব রেগে গিয়ে সাইমাকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে, ঠোঁট দুটো তে জোরে কামড় দেয়। ব্যথায় কঁকিয়ে উঠে সাইমা। মুখ সরিয়ে নিয়ে সজীব বলে,
__ “ এই মুখে যদি অন্য কারোও নাম নিয়েছো মুখ টা কাউকে দেখাতে পারবেনা। বুঝেছো কথাটা! ”

সাইমা রাগে মুখ ঘুরিয়ে নেয়, এতো অত্যাচার সহ্য করবে কিভাবে সে। সে তো নিজে থেকে বিয়ে করতে চায় নি। সব জেনেশুনে ই সজীব ওকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছিলো। আজ ইচ্ছে করে এমন করছে সে। দূরে সরে যেতে চাইলে সজীব সাইমাকে বেডে ফেলে দেয়, গাল এ কামড় বসিয়ে দেয়। সাইমা গালে হাত সজীবের দিকে তাকায়, ওর দুই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে।

সজীব সাইমার হাত টা গাল থেকে সরিয়ে দিয়ে ছোট্ট করে সরি বলে, এরপর ঠোঁট দিয়ে যেখানে কামড়িয়েছিল সেখানে আলতো করে চুমু দেয়, চোখের জল গুলো ঠোঁট দিয়ে চুষে নেয়। সজীব সাইমার পিঠে হাত নিয়ে যায়, চেইন খুলে ফেলে। খালি পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে সাইমা শিহরিত হয়। টান দিয়ে সাইমার কামড় সরিয়ে দেয়। মেদহীন পেটে চুমু দেয় অনেক, আস্তে করে নাভীতে কামড়ে দেয়। সাইমা কঁকিয়ে উঠে ব্যথায়। সাইমার ঠোঁটে, উন্মুক্ত বুকে চুমু দিয়ে সাইমাকে অস্থির করে তোলে। সাইমাকে পুরোটা নিজের করে নেয় সজীব ।

রাত ২ টা বেজে গিয়েছে, সজীব ঘুমে আচ্ছন্ন। সাইমার নিজেকে সজীবের বাহুডোর থেকে বিছিন্ন করে। ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার ছেড়ে দেয়, ফুঁপিয়ে কাঁদে অনেক্ষণ। এটা কি ভালোবাসা নাকি অত্যাচার। অত্যাচার ই তো, জোর করে ফিজিক্যাল রিলেশন অত্যাচার ছাড়া আর কি । কিভাবে সহ্য করবো এই অত্যাচার। নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করে চলেছে সাইমা। এর থেকে বোধ হয় মরে যাওয়া ই ভালো হবে। শাওয়ার বন্ধ করে, ফ্রেশ হয়ে নেয় আগে। ড্রেস চেঞ্জ করে রান্নাঘরে ঢুকে, ফল কাটা ছুরি টা ওখানে ই ছিলো।

°°°

__ “ সাইমাআয়ায়ায়ায়া ” বলে ঘুমের ঘোরে জোরে করে চিল্লিয়ে উঠেন সানিয়া হক, পাশে থেকে সানিয়ার স্বামী রবিউল হক ও উঠে বসেন।

সানিয়া হক পুরোই ঘেমে গিয়েছেন, রবিউল সানিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন,
__ “ এভাবে আর কতো দিন সাইমার কথা চিন্তা করে দুঃস্বপ্ন দেখবে বলো, মেয়েটার যা ক্ষতি করেছি আমরা তার জন্য আল্লাহ ও আমাদের ক্ষমা করবেন না। ”

__ “ ও ভালো নেই, ওর কোন বিপদ হয়েছে, মায়ের মন মিথ্যে বলছেনা। ”

__ “ চিন্তা করোনা! ভালোই আছে হয়তো! শুনেছি ঢাকায় আছে, চাকুরী ও করে নাকি। ”

__ “ মনের ভিতর হাহাকার করছে! যদি ওর বিপদ হয়! ওকে কি খুঁজে আনা যায় না?”

__ “ এখন ঘুমাও, সকালে ফোন দিয়ে জানার চেষ্টা করবো। ”

আর কোন কথা না বলে শুয়ে পড়েন সানিয়া হক। রবিউল এর ও মাথায় চিন্তা আসে, মেয়েটা ঠিক আছে তো? চিন্তা করতে করতে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যান।

°°°

সজীব সাইমার হাত ধরে চাকুটা কোনরকম ফেলে টেনে এক চড় বসিয়ে দেয় গালে।
– “ অভদ্র মেয়ে! আমার ঘুম না ভাঙলে তো রক্তারক্তি কান্ড ঘটিয়ে ফেলতে। ”
– “ ছাড়ুন আমাকে! আমি আপনাকে টলারেট করতে পারছিনা! ”
– “ সহ্য করতেই হবে, এতো সহজে ছাড়বো না! ”

সজীব কোলে তুলে নেয় সাইমাকে , কোলবালিশের মতো জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই। সাইমাও কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ে।

সকাল সকাল সজীব সাইমাকে উঠিয়ে দেয়, কপালে চুমু দিয়ে ওয়াশরুমে যায় সজীব। সাইমার খুব ঘৃণা লাগছে সব কিছু। তারপরও বিছানা ছেড়ে উঠে, চাকুরী তে যেতে হবে যে।

রান্নাঘরে চায়ের পানি চাপিয়ে দেয়, একটু আদা নিয়ে কুচি করে দিয়ে দেয়। প্রচন্ড মাথা ধরেছে, আদা চা খেলে ভালো লাগতো৷ সজীব হটাৎ করে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে,

__ “ অফিসে আজ যেওনা! ”
__ “ কেনো যাবোনা? ”

__ “ আমি নিষেধ করেছি তাই। ”

__ “ আপনার সব কথা ই কি শুনতে হবে? না শুনলে কি আর করবেন! দেখাতে পারেন গায়ের জোর! করেন যা খুশি। আমি আমার চাকুরী ছাড়বো না। ”

সজীব সাইমার সামনে ফোনের ক্যামেরা অন করে সেলফি মোডে নেয়। নিজের চেহেরা দেখে সাইমার নিজেরই লজ্জ্বা লাগছে। সজীব তখন সাইমা কে বলে,

__ “ এখন যদি ইচ্ছে করে, তোমার স্বামী তোমাকে কিভাবে আদর করেছে সবাইকে দেখাতে চাও, যাও তাহলে অফিসে। কিছুই বলবোনা আর। ”

একটা শয়তানি হাসি দিয়ে ঘরে গিয়ে বসে সজীব। সাইমার মাথা ব্যথা টা আরোও বেড়ে গেছে। অফিসে ফোন দিয়ে জনিয়ে দেয় যেতে পারবেনা। নাস্তা রেডি করে নিজে খেয়ে নেয়, একটা ওষুধ খেয়ে, চা খেয়ে শুয়ে পড়ে। সজীব ফোন দিয়ে কারোও সাথে কথা বলে, এরপর নাস্তা বানিয়ে খেয়ে নেয়। সাইমার পাশে এসে বসে,
__ “ খুব মাথা ব্যথা করছে বুঝি, এতো রেগে থেকোনা আর, তাহলে ব্যথা বেড়ে যাবে। ”

__ “ অফিসে যান, বিরক্ত করবেন না। ”

__ “ তা তো যাবো, কিন্তু তোমাকে ভরসা পাচ্ছি না। যদি রাতের মতো কিছু করো। ”

__ “ কিছুই করবোনা আমি, আপনি নিশ্চিন্তে যখন ইচ্ছে আমাকে ভোগ করতে পারেন। ”

__ “ সাইমাআয়ায়ায়া ” ধমকের সুরে বলে সজীব।

__ “ মিথ্যা বলেছি কি? ”

সজীব কথা না বাড়িয়ে বাড়িওয়ালি আন্টির সাথে কথা বলে, ফিরে এসে রেডি হয়। ঘরেএ মধ্যে পায়চারী করছে, মনে হয় কারোও জন্য ওয়েট করছে। সাইমা ঘুমিয়ে পড়ে, সজীব কখন গেছে নিজেও জানে না। ঘুম থেকে উঠে দেখে সুন্দরী মেয়ে রান্নাঘরে কিছু রান্না করছে। সাইমা একটু ঘাবড়ে যায়, ভয়ে ভয়েই বলে,

__ “ কে কে কে আপনি? ”

__ “ ভাবী আমি সুপ্তি, সজীব আমার বড় ভাইয়া। ”

__ “ ওহহহ, হটাৎ করে কখন আসলেন, কে দরজা খুলে দিলো? ”

__ “ ভাইয়া থাকতেই এসেছি ভাবী, তুমি তো অসুস্থ তাইইইই। ”

__ “ আসার কোন দরকার ছিলো না, নিজের খেয়াল রাখতে জানি! ”

__ “ শুনেছি ভাবী, ভাইয়া সব সময় তোমার কথা বলে। ”

__ “ তাই নাকি! কি বলে শুনি? ”

__ “ তুমি অনেক রাগী, অনেক ভালো, অনেক সুন্দরী। ”

__ “ আর তার নিজের ক্যারেকটার সম্পর্কে কিছু বলে না? ”

__ “ মানে! ”

__ “ এইযে তোমার ভাইয়ের ক্যারেকটার লেস, বাজে ছেলে একটা, এসব কিছু জানো না? ”

সুপ্তি হা হয়ে গেছে, নিজের ভাইয়ের সম্পর্কে খারাপ কথা কোন বোন সহ্য করতে পারেনা। চোখে পানি চলে আসে মেয়েটার। সাইমা রাগী গলায় বলে,
__ “ প্রথম এসেছো, তাও আবার আমি জানিনা, ঘরে গিয়ে বসো, বাকি রান্না আমি সারছি। ”

__ “ তোমার পাশেই থাকি না! ”

সাইমা কথা না বলে কাজ শেষ করে, সুপ্তির সাথে আর একটা কথাও বলে নি।

দুপুর দুইটার মধ্যেই সজীব চলে আসে, সুপ্তি দরজা খুলে দেয়।

__ “ কিরে মন খারাপ নাকি! ”

__ এক গাল মিষ্টি হাসি দিতে সুপ্তি বলে, “ না তো ভাইয়া, ভাবী তো অনেক ভালো, খুব গল্প করেছে আমার সাথে। এখন ওয়াশরুমে গিয়েছে তাই চুপচাপ বসে ছিলাম। ”

সাইমা ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসেই বলে,
__ “ মোটেও মিথ্যে বলোনা সুপ্তি, আমি তোমার সাথে মোটেও ভালো বিহেভ করিনি। যার ভাই খারাপ তার বোনের সাথে ভালো বিহেভ করা যায়না। ”

সজীব এবার খুব রেগে যায়, তাও শান্ত হয়ে বসে,
বোনকে আদর করে খাইয়ে দেয় , সাইমা নিজেই খেয়ে নেয়। সজীব খাওয়া শেষ এ সুপ্তি কে বলে,

__ “ কিছু মনে করিস না বোন, সব ঠিক হয়ে যাবে একদিন। ”

__ “ হুমম ”

সজীব গাড়ির ড্রাইভার কে ফোন দিয়ে ডাকে। সুপ্তি কে পাঠিয়ে দেয় বাসায়। ঘরে ফিরে এসেই সাইমাকে বলে,
__ “ অন্তত ওর সাথে বাজে বিহেভ না করলেও পারতে, কারণ অন্যায় আমি করেছি আমার বোন নয়। ”

__ “ আপনার সমস্যা হলে তালাক দিয়ে দিন। ”

__ “ কেনো? আরোও চৌদ্দ টা বিয়ে করবে তাই, বারবার স্বামী ছাড়বে আর বার বার বিয়ে করে নতুন নতুন স্বাদ পাবে তাই! বিয়ে ব্যবসা শুরু করেছো তাই না! ” রাগের মাথায় বাজে কথা গুলো বলতেও মুখে আটকায় নি সজীব এর।

সাইমা কানে হাত দিয়ে মেঝেতে বসে পড়ে, সে তো বিয়েই করতে চায় নি, তাও কেনো তার সাথে এমন করছে সজীব।

সজীব কিছুক্ষণ পর সাইমার পাশে গিয়ে বসে,
__ “ সরি! ”

__ “ ঠিকিই বলেছেন, সরির কিছু নেই। ”

__ “ এভাবে বলতে চাইনি আসলে আমি। ”

সাইমা মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকে। সজীব মনে মনে অস্থির হয়ে যায়, দরজা খুলে ই বাইরে চলে যায়। ১০ মিনিটের মধ্যে ফিরে আসে দুইটা আইসক্রিম নিয়ে।
__ “ নাও ধরো, খেয়ে মাথা ঠান্ডা করো।”

সাইমা আইসক্রিম নিয়ে সজীবের মুখে মেরে দেয়, সজীব রাগে ফুলে গেছে।

চলবে….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here